কাশীর অলি-গলি : ইতিহাস-সমাজ-সংস্কৃতি। পর্ব ৩৬। শোভন সরকার
গত পর্বে: মীর ঘাট, ললিতা ঘাট, নেপালি মন্দির, কাশী করিডোর পেরিয়ে পৌঁছলাম মণিকর্ণিকা ঘাটে।
সৃষ্টির শুরুতে শিব এবং শক্তি সর্বপ্রথম পঞ্চক্রোশব্যাপী বিস্তৃত অবিমুক্তক্ষেত্র (কাশী) নির্মাণ করে সেখানেই বাস করতে শুরু করলেন। তারপর একবার তাঁদের বিশ্বজগৎ তৈরির ইচ্ছে হল, কিন্তু সেই কাজের ভার যদি অন্য কেউ নিত তাহলে তা বেশ হত। তাঁরা সৃষ্টি করলেন বিষ্ণুকে, তাঁকে তাঁদের মনোকামনা বলতেই বিষ্ণু কাজে নেমে পড়লেন। তাঁর সুদর্শন চক্র দিয়ে তিনি এক পুষ্করিণী খুঁড়লেন, জল ছাড়া তো সৃষ্টি হয় না। কঠোর পরিশ্রমে তাঁরই দেহনিসৃত ঘামে ভরে উঠল সেই চক্রপুষ্করিণী। এবার বিষ্ণু চক্রপুষ্করিণীর তীরে বসলেন কঠোর তপস্যায়। প্রায় পাঁচ লক্ষ বছর ধরে চলল বিষ্ণুর সেই তপস্যা।
তারপর একদিন বনবিহারে বেরিয়েছেন শিব-শক্তি। হঠাৎ তাঁদের চোখ পড়ল তপস্যারত বিষ্ণুর উপর। তাঁর তপস্যার তেজ দেখে সন্তুষ্ট হয়ে বললেন, ‘বর চাও।’
বিষ্ণু বললেন, ‘চিরকাল যেন প্রভুরই শরণে থাকতে পারি, কেবল এই বর দিন।’
বিষ্ণুর ভক্তিরসে সিঞ্চিত শিব গদগদ হয়ে এমন শিহরিত হয়ে উঠলেন যে তাঁর কান থেকে মণি খসে পড়ে গেল পুষ্করিণীর জলে। কর্ণ থেকে মণিচ্যুত হল বলে তখন থেকেই এই স্থানের নাম হল ‘মণিকর্ণিকা’।
এ হল স্কন্দপুরাণের কাশীখণ্ডে বর্ণিত আখ্যান। শিবপুরাণের আখ্যানটি এর থেকে সামান্য ভিন্ন। শিব ও শক্তি মিলে সৃষ্টি করলেন আদি পুরুষ ও প্রকৃতিকে। এই পুরুষই হলেন বিষ্ণু। শিব তাঁকে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টির নির্দেশ দিলেন। কিন্তু তপস্যার স্থান তো নেই। তখন শিব পঞ্চক্রোশব্যাপী ভূমি তৈরি করে দিলেন এবং তা ধারণ করে রাখলেন তাঁরই ত্রিশূলের অগ্রভাগে। বিষ্ণু সেখানে কঠোর তপস্যা শুরু করলে তাঁর দেহ থেকে ঘাম নির্গত হতে শুরু করল, তাতেই ভরে উঠল আশেপাশের শূন্যস্থান। এই আশ্চর্য দেখে চমকিত হলেন বিষ্ণু। আনন্দের আতিশয্যে এমন মাথা ঝাঁকালেন যে তাঁর কান থেকে খসে পড়ল তাঁর মণি — সেই স্থানই তখন ‘মণিকর্ণিকা’ হল।
আবার অনেকে এই নামের পেছনে অন্য একটি ঘটনা বলেন। কোনো একবার বিষ্ণুর তৈরি চক্রপুষ্করিণীতে শিব-পার্বতী স্নান করতে আসেন। স্নান করার সময় অসাবধানতায় শিবের মণি এবং পার্বতীর কানের দুল খুলে এতে পড়ে যায়, তাই ‘মণিকর্ণিকা’।
মণিকর্ণিকা ঘাটের নামের প্রসঙ্গে ডায়ানা ইক-এর মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ — ‘… প্রভূত নাগ ও যক্ষের নামের আদিতে ‘মণি’ শব্দটি জোড়া থাকে। মনে করা হয়, বিশেষ করে নাগ তথা সর্পকুল মণিমাণিক্যের রক্ষক। এর থেকে অনুমান করা যায় যে, মণিকর্ণিকার আদিযুগে এর সাথে নাগদের কোন সম্পর্ক থেকে থাকতে পারে।’
মণিকর্ণিকার নামের পেছনে কারণ যাই থাক, শৈব ও বৈষ্ণবদের কাছে এই স্থান সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। মণিকর্ণিকার আধ্যাত্মিক গুরুত্বের অন্যতম কারণ এখানে মুক্তি ও মোক্ষ লাভের তত্ত্ব। কাশীখণ্ডে শিবের কাছে বর চাইতে গিয়ে বিষ্ণু প্রার্থনা করেন যেন সমস্ত জীব কাশীতে মুক্তি লাভ করে। শিব খুশি মনে সেই প্রার্থনা স্বীকার করে বলেন, ‘আমি ছাড়া অন্য কারও এই অবিমুক্ত ক্ষেত্রের প্রাণীদের উপর অধিকার থাকবে না।’
বর্তমানে ‘মণিকর্ণিকা ঘাট’ বললেই আমাদের মনে কেবল শ্মশান ঘাটের কথাই উঠে আসে। অথচ প্রকৃতপক্ষে এই ঘাটের কেবল কিছু অংশই শ্মশান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এখানে শ্মশান ও চক্রপুষ্করিণী কুণ্ড ছাড়াও বেশ কয়েকটি মন্দির বর্তমান — তারকেশ্বর শিব, মণিকর্ণিকেশ্বর শিব, রত্নেশ্বর শিব, মণিকর্ণী দেবী প্রভৃতির। এর মধ্যে রত্নেশ্বর মন্দিরটি এক আশ্চর্য স্থাপত্যের নিদর্শন।
মন্দিরটি ঘাটের বেশ খানিকটা নিচের দিকে, গঙ্গার একেবারে কিনারে। বর্ষা ও তার পরবর্তী কয়েক মাস এই মন্দিরের গর্ভগৃহ সহ অনেকটা অংশ জলের তলায় ডুবে যায়। কাশীর অন্যান্য বিখ্যাত শিব মন্দিরের মত বিশাল আকার না হলেও এই মন্দিরটির অন্যতম বিশেষত্ব এর গায়ের সূক্ষ্ম কারুকার্য এবং মন্দিরটির স্থাপত্যে সমসাময়িক মুঘল প্রভাব থেকে সরে এসে স্তম্ভের ব্যবহার চোখে পড়ার মত।
আরও একটি বিস্ময়কর বিষয় হল এই মন্দিরটির এক দিকে ঝুঁকে থাকা — অনেকটা যেন ইটালিতে পিসার বিখ্যাত হেলানো মন্দির। বরং পিসার মন্দির যেখানে কেবল চার ডিগ্রি মত হেলে রয়েছে, এই মন্দিরটি সেখানে প্রায় নয় ডিগ্রি কোণে দাঁড়িয়ে রয়েছে। ঝুঁকে পড়ার কারণ খুঁজতে গিয়ে অনেকে গঙ্গার নরম মাটির ভিত্তিকে দায়ী করছেন। তবে এর পেছনে এক রোমাঞ্চকর কিংবদন্তি প্রচলিত রয়েছে।
রাজা মান সিংহ তখন কাশীতে এসে নানা ধরণের নির্মাণ ও সংস্কার কাজ চালাচ্ছেন। তাঁকে দেখে তাঁর এক ভৃত্যেরও খুব ইচ্ছে হল নিজের মা রত্না বাইয়ের নামে এক শিব মন্দির নির্মাণ করতে, মা-কে উৎসর্গ করতে। ভৃত্য হলেও তাঁর প্রতিপত্তি কম ছিল না। অত্যন্ত দ্রুত সেই অভূতপূর্ব নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হল। মুগ্ধ চোখে সেই ভৃত্য নবনির্মিত মন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে ভাবলেন, ‘মায়ের জন্য যথোপযুক্ত উপহার হয়েছে।’ অতঃপর মন্দিরের সামনে মা’কে এনে হাজির করলেন। অত্যন্ত আবেগমথিত স্বরে প্রণাম করতে করতে বললেন, ‘এই নে মা, তোর সমস্ত ঋণ শোধ করলাম।’ কেবল বুঝি বলারই অপেক্ষা — মুখের কথা শেষ হতে না হতেই দেখা গেল মন্দিরটি চোখের সামনে এক দিকে কাৎ হয়ে গেল!
মাতৃঋণ শোধ কি কখনও সম্ভব হয়? একদিকে ঝুঁকে পড়ে মন্দিরই তারই জবাব দিয়ে দিল। এই কারণেই মন্দিরটির আরও একটি নাম ‘মাতৃঋণ মন্দির’।

(This file is licensed under the Creative Commons Attribution-Share Alike 4.0 International license.)
অনেকে আবার বলেন যে এই মন্দিরটি গোয়ালিয়রের মহারানি বৈজাবাই তাঁর মায়ের স্মৃতিতে নির্মাণ করেন। তাঁর ক্ষেত্রেও মাতৃঋণ শোধের অহংকারই এই মন্দিরটির ঝুঁকে পড়ার কারণ হিসেবে কথিত আছে। অন্য এক কাহিনিতে বলা হচ্ছে রানি অহল্যাবাইয়ের এক পরিচারিকা রত্নাবাই নিজের নামে গঙ্গার ঘাটে এই শিবমন্দির স্থাপন করেন। তাঁর এই স্পর্ধা দেখে রানি শাপ দিলে এই মন্দিরটি ঝুঁকে পড়ে এক দিকে।
কিংবদন্তি যাই বলুক, নানা পুরোনো চিত্র ও নথিপত্র ঘাঁটলে দেখা যায় যে এই মন্দির নির্মাণের পরপরই ঝুঁকে পড়েনি। উদাহরণ হিসেবে ১৮৩২ সালে জেমস প্রিন্সেপের আঁকা মণিকর্ণিকা ঘাটের ছবির কথা উল্লেখ্য। এই ছবিতে রত্নেশ্বর মন্দিরটি খাড়া দাঁড়িয়ে রয়েছে চোখে পড়ে। আবার আনুমানিক ১৮৬৫ সালে স্যামুয়েল বোর্নের তোলা ছবিতেও এই মন্দিরের কোন বিকৃতি চোখে পড়ে না।
অতি সাম্প্রতিক কালে যখন মণিকর্ণিকা ঘাটে যাই দেখি প্রায় সমস্ত ঘাট পরিসর ওলট-পালট হয়ে রয়েছে, এখানে ওখানে ভাঙাচোরা ঘাটের অংশ পড়ে রয়েছে। জানতে পারি এই ঘাটের প্রভূত সংস্কার ও উন্নয়ন প্রক্রিয়া চলছে। ২০২৩ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে কাশী করিডোরের মতোই মণিকর্ণিকা ঘাটকে নানা আধুনিক সুবিধায় মুড়ে দেওয়ার প্রস্তাবনা রয়েছে। এগিয়ে চললাম, শুধু মনে মনে পুরোনো অনেক কিছু হারিয়ে যাওয়ার ভয় ক্ষণিকের জন্য চেপে বসল — নস্টালজিয়া-প্রিয় বাঙালির এই এক ‘দোষ’ বটে। যেতে যেতে উপলব্ধি করলাম কেন মণিকর্ণিকাকে কাশীর নাভি বলে মনে করা হয় — এখানেই তো সৃষ্টির আহ্বান, আর এখানেই বিনাশ; এখানেই প্রাণ-স্বরূপ জল, আবার এখানেই আত্মশুদ্ধির অগ্নি; এখানেই হরি, এখানেই হর। পুরাণে মণিকর্ণিকাই সৃষ্টির সর্বপ্রথম ভূমি, এখানেই বিষ্ণু কঠোর তপস্যা করে জীবনের উদযাপন করলেন, আর এই মণিকর্ণিকাই মৃত্যুপথযাত্রীদের পরম গন্তব্য — আপাত-পরস্পরবিরোধী দ্বিত্বের কী আশ্চর্য সমাগম হয়েছে এই ঘাটে!
মণিকর্ণিকা ঘাটের উত্তর দিকে সিন্ধিয়া ঘাট। কাছেই রয়েছে কাশীখণ্ডে বিশেষভাবে উল্লিখিত আত্মাবীরেশ্বর মহাদেব মন্দির। এক সময় অবধি এই মন্দিরের নামে সিন্ধিয়া ঘাটটি বীরেশ্বর ঘাট হিসেবে পরিচিত ছিল। পরে গোয়ালিয়রের মহারাজা দৌলতরাও সিন্ধিয়ার বিধবা স্ত্রী বৈজাবাই ১৮৩৫ সাল নাগাদ এই ঘাট বাঁধিয়ে দেন। প্রয়াত রাজার নামে তখন থেকে ঘাটটি সিন্ধিয়া ঘাট নামে পরিচিত হয়। তাছাড়া এই ঘাটের একাংশে দত্তাত্রেয় মন্দির থাকার জন্য অনেকে সেই অংশকে দত্তাত্রেয় ঘাট বলেও জানে।
সিন্ধিয়া ঘাটের গায়ে সঙ্কটা ঘাট। ১৮২৫ সাল নাগাদ নাগপুরের রাজার প্রতিনিধি ও সংস্কৃত পণ্ডিত বিশ্বম্ভর দয়ালের স্ত্রী এই ঘাট পাকা করিয়ে দেন। পরে ১৯২৩ সালে গুজরাটের বরোদা রাজ্যের মহারাজা তৃতীয় সায়াজিরাও গায়কোয়াড় পুনরায় এই ঘাটের সংস্কার ও নির্মাণ করেন। ঘাট থেকে খাড়া সিঁড়ি দিয়ে উঠে গলির ভিতর দিয়ে একটু এগোলেই পৌঁছে যাওয়া যায় গড়বাসী টোলায় সঙ্কটা দেবীর মন্দিরে। এই মন্দিরটিও বরোদার মহারাজার কীর্তি। পুরাণ মতে, সঙ্কটা দেবী হলেন বিকটা মাতৃকা। এক সময় ইনি ছিলেন এক প্রাচীনা লৌকিক দেবী। কোনো পুরুষ দেবতার সঙ্গ ছাড়াই এক ‘মাতৃকা’ দেবী। কোনো পুরুষ সঙ্গী ছাড়াই একা ‘মা’-কে হয়তো সমাজ মেনে নিতে পারেনি বলেই পরবর্তীতে ধীরে ধীরে এঁকে পৌরাণিক দেব-দেবীর স্রোতে সামিল করা হয়। এঁর প্রণাম মন্ত্রে দেবীকে মহিষাসুরমর্দিনী, পার্বতী, বা ভবানী বলে আহ্বান করা হচ্ছে দেখা যায়। কথিত আছে যে, বনবাসকালে ঋষি মার্কণ্ডেয়র উপদেশে পাণ্ডবেরাই আনন্দবনে (কাশীর অপর নাম) এই স্বয়ম্ভূ সঙ্কটা দেবীর প্রথম আরাধনা করেন।
গড়বাসী টোলার এ গলি ও গলি হেঁটে আরও একটু এগোলে সিদ্ধেশ্বরী মহল্লার সিদ্ধেশ্বরী মন্দিরে পৌঁছানো যায়। কাশীর সিদ্ধযোগীশ্বরপীঠের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই মন্দিরের ব্যাপারে না বললে কাশীর কথা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। খুব কাছাকাছি দূরত্বের মধ্যেই বীরেশ্বর শিব মন্দির, সঙ্কটা দেবীর মন্দির, চন্দ্রেশ্বর শিব মন্দির, বৃহস্পতীশ্বর শিব মন্দির, সিদ্ধেশ্বরী মন্দির প্রভৃতি অবস্থিত থাকার কারণে এই অংশকে সিদ্ধযোগীশ্বরপীঠ বলা হয়।
এই মন্দিরের প্রধানা দেবী হলেন সিদ্ধেশ্বরী। ইনি নবদুর্গার নবম দুর্গা, নবরাত্রির সময় নবম দিনে এঁর বিশেষ পূজা হয়। মন্দিরের পূজারী বললেন যে ইনি স্বয়ম্ভূ দেবী, অর্থাৎ নিজেই প্রকট হয়েছেন। দেবী সিদ্ধেশ্বরী আবার চৌষট্টি যোগিনীদের অন্যতমা। সেই অর্থে কাশীখণ্ড অনুসারে তিনি কাশীতে শিবের আগে থেকেই অবস্থান করছেন।
সিদ্ধেশ্বরী দেবীর গর্ভগৃহের ঠিক বিপরীতে একই মন্দির প্রাঙ্গণে আছেন দশমহাবিদ্যার নবম দেবী মাতঙ্গী। রয়েছে চন্দ্রেশ্বর মহাদেব। কথিত আছে যে, চন্দ্রদেব ক্রমক্ষয়ের অভিশাপে দণ্ডিত হলে তিনি কাশীতে এসে মহাদেবের তপস্যা শুরু করেন এবং তাঁর কাছে বর লাভ করেন। চন্দ্রদেব এখানেই তাঁর তপস্যার জন্য চন্দ্রেশ্বর শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেন। শিবলিঙ্গে যাতে অবিরাম জলাভিষেক করা সম্ভব হয় তাই তিনি এখানে খনন করলেন অমৃতোদ কূপ বা চন্দ্রেশ্বর কূপ। সবাই বলে, এই কূপের আশ্চর্য গুণ। তীর্থযাত্রীরা কাশীতে এসে এই কূপের জলে একবার হলেও উঁকি দিয়ে নিজের প্রতিচ্ছবি খোঁজার চেষ্টা করেন। যদি প্রতিচ্ছবি না পড়ে তাহলে আগামী ছয় মাসের মধ্যে সেই ব্যক্তির মৃত্যু অবধারিত। একটা সময় এমনও হয়েছে যে তীর্থযাত্রীদের কেউ যখন নিজের প্রতিচ্ছবি দেখতে পেলেন না, তিনি আর বাড়ি ফিরে যাননি, থেকে গিয়েছেন শিবের শহরে মৃত্যুবরণ করতে।
এই প্রসঙ্গে আমার মনে পড়ে গেল, দণ্ডপাণি ভৈরব মন্দিরের কালকূপের কথা — অনেকটা যেন একই রকম বৈশিষ্ট্য সেই কূপেরও। কাশীর অলিতে গলিতে এরকম কত রহস্য ছড়িয়ে আছে তার হিসেব করা আমার পক্ষে দুঃসাধ্য। অনেক রহস্যই নানা রকম পৌরাণিক গাথা বা কিংবদন্তির রঙিন ব্যাখ্যায় ঢাকা থাকে, অথচ তার পেছনে উদ্দেশ্য হয়তো ভিন্ন। যেমন চন্দ্রেশ্বর কূপের কথাই ধরা যাক। কূপের জলে প্রতিচ্ছবি না পড়লে মৃত্যু হয় কী না সেই প্রসঙ্গে যাচ্ছি না — কিন্তু যদি জানতে পারি যে এই ধরণের প্রায় চোখের আড়ালে থেকে যাওয়া মন্দিরে যাতে উপাসকেরা নিয়মিত যাতায়াত করে তারই বন্দোবস্ত করছে এরূপ প্রচলিত বিশ্বাস, তাহলে অবাক হব কী?
অনেক খুঁজেও জানতে পারিনি যে কে এই মন্দিরগুলির কারিগর, কে এই সমস্ত অপূর্ব দেবীমূর্তির শিল্পী? অবশ্য শিল্পীকে ক’জনই বা মনে রাখে, শিল্পীর শিল্পেই তিনি বেঁচে থাকেন। আবার মাঝে মাঝে খুব জানতে ইচ্ছে করে ঠিক কে ছিলেন তিনি যাঁকে ঘিরে চন্দ্রদেবের মত এরূপ কিংবদন্তি আজ প্রতিষ্ঠিত বিশ্বাসে পরিণত হয়েছে? আমার সীমিত জ্ঞানে এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর হয়তো অধরাই রয়ে যাবে।
(ক্রমশ)
প্রথম অধ্যায় ‘কালভৈরবের সন্ধানে’ প্রথম পর্ব
দ্বিতীয় অধ্যায় ‘ঘাটে ঘাটে’ প্রথম পর্ব
Disclaimer
The views and opinions expressed in this series are solely those of the author and do not represent the views, policies, or positions of any organisation, institution or society of any kind or the government. The content of this series is written in the author’s personal capacity and does not reflect any official information or stance.
