কাশীর অলি-গলি : ইতিহাস-সমাজ-সংস্কৃতি। পর্ব ৪৫। শোভন সরকার
গত পর্বে: গুপ্ত ও হর্ষবর্ধনের সময়ে বারাণসী সহ সারনাথ সমৃদ্ধ হয়ে উঠেছিল।
হর্ষবর্ধনের মৃত্যুর পর অষ্টম শতাব্দীতে পৌঁছে দেখি কনৌজকে ঘিরে তখন ভারতের তিনটি বড় বড় শক্তি — বাংলার পাল, রাজপুতানার গুর্জর-প্রতিহার এবং দাক্ষিণাত্যের রাষ্ট্রকূট বংশ — চরম দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়ে পড়েছে। ‘ত্রিশক্তি সংগ্রাম’ নামের এই যে ক্ষমতার লড়াই বহুদিন ধরে উত্তর ভারতকে জর্জরিত করে রেখেছিল, সেখানে মৃত্যু ছাড়া আর কারও ক্ষমতা দীর্ঘকাল স্থায়ী হয়নি।
এই অস্থির পরিস্থিতিতে বারাণসী কখনও পাল, কখনও বা প্রতিহার, কিংবা রাষ্ট্রকূটদের অধীনে যাওয়া আসা করতে থাকে। অষ্টম থেকে নবম শতাব্দীর প্রথম ভাগ অবধি এই টানাপোড়েন চলার পর দশম শতাব্দী পর্যন্ত বারাণসী প্রতিহারদেরই একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে থাকে।
ওদিকে সম্রাট হর্ষবর্ধনের পর থেকে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব সহ নানা কারণে সারনাথ বিহারের অবস্থার অবনতি হয়ে চলেছিল। অবশেষে একাদশ শতাব্দীর প্রথম দিকে পাল সম্রাট মহীপালের রাজত্বকালে ধুঁকতে থাকা বৌদ্ধ ধর্ম আবার যেন প্রাণ ফিরে পায়। তাঁর আমলে সারনাথ বিহারের প্রভূত সংস্কারকার্য সাধিত হয়। তাঁর পর সারনাথ সহ বারাণসীর অধিকার চলে যায় চেদীরাজ গাঙ্গেয়দেব কলচুরির হাতে। তিনি সিংহাসনে বসতে না বসতেই ১০৩৩ খ্রিস্টাব্দে তাঁর রাজত্বকালে ঘটে যায় এক অভূতপূর্ব দুর্ঘটনা।
অন্যান্য সব দিনের মতই বারাণসীতে সেদিনও ভোররাত থেকে ঘাটে-বাজারে লোকজন কেনাবেচায় ব্যস্ত ছিল। দিনরাত ঘাটে একের পর এক বড় বড় মালবোঝাই নৌকা এসে রোজই দাঁড়াচ্ছে, কিংবা সেখান থেকে জিনিসপত্র নিয়ে পাড়ি দিচ্ছে কত দূরের কত দেশে। কে আসছে আর কে যাচ্ছে তার হিসেব রাখার সাধ্যি কার! কিন্তু সেদিন ভোরের আলোয় কেউ লক্ষ্য করলে দেখতে পেত বেশ কিছু নৌকা গঙ্গায় ভাসতে ভাসতে ঘাটের দিকেই এগিয়ে আসছে। ঘাটের ব্যস্ত কোলাহলে দাঁড়িয়ে কেউ বুঝতে পারেনি এগুলি গঙ্গায় ভেসে বেড়ানো অন্য নৌকাগুলির মত বাণিজ্যতরী নয়, বরং রণতরীর সারি। সৈন্যদল তার উপর প্রস্তুত, অপেক্ষা করছে নৌকা তীরে ভিড়বে বলে। সারি সারি রণতরীর সামনের দিকে আক্রমণের ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে সুলতান মহমুদ গজনীর পুত্র সুলতান মাসুদ গজনীর সেনাপতি নিয়াল তিগিন। হিন্দুস্তানের এ প্রান্তে কখনোই আসা হয়নি তার — এ যে স্বর্গ! গঙ্গার উপরে ভাসতে ভাসতে সে চোখের সামনে দেখতে পেল যেন সোনা দিয়ে বাঁধানো এক নগর। লোভ তার চোখে ঝিলিক দিয়ে উঠল।
তরীগুলি ঘাটে ভিড়তেই সচকিত বারাণসীবাসীরা দেখল একদল বিদেশি সৈন্য বাজারে ঢুকে যথেচ্ছ লুটপাট চালাতে শুরু করেছে। চোখের সামনে মূল্যবান যা কিছু পাচ্ছে উঠিয়ে নিচ্ছে। এরকম অতর্কিত আক্রমণে নগরের প্রতিরক্ষা বাহিনী একেবারেই প্রস্তুত ছিল না। বেলা গড়িয়ে দুপুর হলে তারা যখন এই বিদেশি লুটেরাদের বিতাড়িত করল, দেখা গেল ততক্ষণে তিনখানা বাজারের বহু দোকানপাট ধ্বস্ত ও নিঃস্ব হয়ে পড়ে রয়েছে। অন্যদিকে লুটের পর প্রচুর ধনরত্ন নিয়ে নিয়ালতিগিন তৃপ্ত মনে তার ঘাঁটি লাহোরের পথ ধরেছে।
বারাণসীর ইতিহাসে এই দিনটিই সর্বপ্রথম তুর্কো-আফগান আক্রমণের জন্য চিহ্নিত হয়ে রইল।
নিয়াল তিগিনের এই অকস্মাৎ আক্রমণ ও প্রায় বিনা বাধায় ফিরে যাওয়া থেকে আমরা সেই সময়ের রাজশক্তির দুর্বলতা স্পষ্টই দেখতে পাই। সুলতান মহমুদ গজনী ততদিনে উত্তর ভারতের বহু অংশে নিজের ধ্বংসাত্মক চরিত্রের পরিচয় দিয়ে দিয়েছে। বারাণসী এই ধরনের আক্রমণ থেকে অনেকাংশেই নিরাপদ দূরত্বে ছিল। কিন্তু নিয়াল তিগিনের এই কয়েক ঘণ্টার আক্রমণ সেই নিরাপত্তার ধারণাকে এক প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।
এরই মধ্যে সেই একই বছর অর্থাৎ ১০৩৩ খ্রিস্টাব্দে মাহমুদ গজনীর ভাগিনেয় সৈয়দ সালার মাসুদ গাজী (গাজী মিয়াঁ) এক দল সৈন্য নিয়ে উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় প্রাধান্য স্থাপন করার উদ্দেশ্যে এগোতে থাকেন। কিন্তু ১০৩৪ খ্রিস্টাব্দে বাহরাইচের কাছে এসে এক স্থানীয় রাজার কাছে তিনি বাধাপ্রাপ্ত হন এবং যুদ্ধে প্রাণ হারান। যুদ্ধে পরাজয়ের পর তাঁরই দলের এক সেনাপতি মালিক আফজল আলভি সেখান থেকে একরকম পালিয়ে বারাণসীর সীমানায় এসে পৌঁছান। রাজঘাটের কাছে গহড়ওয়াল রাজা গোবিন্দচন্দ্রের সঙ্গে আলভির ভয়ংকর যুদ্ধ হয় এবং এই যুদ্ধে আলভি সহ প্রায় সমস্ত সৈন্য প্রাণ হারায়। কিন্তু আলভির সঙ্গে কেবল সৈন্য নয়, ছিল স্ত্রী-সন্তান সহ তাদের পরিবার ও আলভির অনুগামীরাও। তাদের নিরাপদ আশ্রয় দেওয়া হল বারাণসীর উত্তরের সীমানায়। ক্রমে সেখানে তাদের স্থায়ী বসতি গড়ে উঠল। আজও বর্তমান সেই এলাকাকে আমরা সালারপুরা এবং আলভিপুরা নামে চিনি। আরও বলে রাখি, বারাণসীতে প্রতি বছর যে গাজী মিয়াঁর বিবাহ অনুষ্ঠান হয় তার কেন্দ্রে থাকে বাহারাইচে নিহিত সালার মাসুদ গাজীকে ঘিরে কিংবদন্তি। এই বিবাহের কিছুটা বর্ণনা আমরা প্রথম অধ্যায়ে ইতিমধ্যে পেয়েছি।
কলচুরিদের রাজত্বের শেষদিকে উত্তর ভারতে যে চরম অরাজকতার চিহ্ন আমরা দেখি, একাদশ শতাব্দীর মধ্যভাগে তার থেকে বেরিয়ে আসার পথ দেখায় গহড়ওয়াল নামে এক বংশ। শতাব্দী শেষ হওয়ার আগেই কনৌজ থেকে বারাণসী পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা তাঁদের অধিকারে চলে আসে। এঁদের নাম গহড়ওয়াল কেন সেই বিষয়ে নানা মত। কেউ বলছেন এঁদের উৎপত্তি দক্ষিণের গাহাড় নামের স্থানে। আবার কেউ বলেন এঁরা রাষ্ট্রকূট বংশের শাখামাত্র। গহড়ওয়ালরা যেখান থেকেই আসুক, তাঁদের দৃঢ়হস্ত শাসনে বারাণসী আবার যে তার পুরোনো গৌরবে ঝলমল করে ওঠে সে বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই।
কান্যকুব্জ তথা কনৌজ গত কয়েক শতাব্দী ধরে উত্তর ভারতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে অবস্থান করছিল। সে কথা মাথায় রেখে গহড়ওয়াল রাজা চন্দ্রদেব কান্যকুব্জকে প্রশাসনিক কেন্দ্রে রাখলেও তাঁর নবপ্রতিষ্ঠিত রাজ্যের কার্যকারী রাজধানী হিসেবে তিনি বারাণসীকে বেছে নিলেন। পরবর্তী গহড়ওয়াল রাজাদের অধিকাংশই কনৌজে থেকেই রাজ্য পরিচালনা করলেও বারাণসী কখনোই গহড়ওয়ালদের কাছে নিজের গুরুত্ব হারায়নি।
রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতা বারাণসীর সমৃদ্ধির পক্ষে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। মহাজনপদ যুগের প্রায় দু’হাজার বছর পর বারাণসী আবার কোনো স্বাধীন রাজ্যের রাজধানী হিসেবে নির্বাচিত হল। অন্যদিকে এটাও ঠিক যে বারবার তুর্কো-আফগান আক্রমণে উত্তর ভারত তখন জর্জরিত। এই অবস্থায় সেখান থেকে সরে এসে নিজেদের সুরক্ষিত রাখার সামরিক সুবিধাও পাওয়া যায় বারাণসীতে রাজধানী স্থাপন করার মাধ্যমে। অনুমান করা হয়, বারাণসীর রাজঘাটে তাঁদের শাসনকেন্দ্র ছিল। পুরোনো কেল্লার সংস্কার করে তাঁরা সেখানে থেকে শুরুর দিকে তাঁদের রাজ্যপাট চালাতেন। প্রমাণ হিসেবে প্রত্নতাত্ত্বিক উৎখননের সময় এখানে গহড়ওয়ালদের বহুসংখ্যক তাম্রপত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলি গহড়ওয়ালদের শাসনের বিভিন্ন দিকের উপর আলোকপাত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
গহড়ওয়ালদের প্রায় দু’শো বছরের শাসনে বারাণসী সহ সারনাথের প্রভূত উন্নতি সাধন হয়। চন্দ্রদেবের পৌত্র গোবিন্দচন্দ্র ছিলেন অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একজন শাসক। সারনাথে পাওয়া রানি কুমারদেবীর প্রশস্তিলিপি থেকে রাজা ও রানির পূর্বজদের পরিচয় পেয়ে যাই। কট্টর হিন্দু হলেও রাজদম্পতির বৌদ্ধদের প্রতি যে বিশেষ অনুরাগ ছিল তা জানা যায় রানীর প্রশস্তিলিপি থেকে। এও জানা যায় যে গহড়ওয়াল রাজাগণ বিভিন্ন সময়ে তুর্কো-আফগানদের আক্রমণের সম্মুখীন হয়েছেন। রাজা গোবিন্দচন্দ্রের সময়ে বারাণসী অন্তত দুইবার তাদের আক্রমণের সম্মুখীন হলে তিনি প্রতিবার অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তা প্রতিহত করেন। তাঁর সময়ে বারাণসীতে হিন্দুদের প্রতিপত্তি পুনরায় বৃদ্ধি পায়।
দ্বাদশ শতাব্দীতে এসে গোবিন্দচন্দ্রের পৌত্র জয়চন্দ্রের সময়ে গহড়ওয়ালরা চন্দেল এবং চৌহানদের সাথে অন্তর্দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে। প্রসঙ্গত, এই সেই জয়চন্দ্র যাঁর কন্যা সংযুক্তা এবং পৃথ্বীরাজ চৌহানের প্রেমকাহিনি চাঁদ বরদাই রচিত ‘পৃথ্বীরাজ রাসো’র মাধ্যমে আমরা জেনেছি। সেখানে তাঁদের প্রেমই গহড়ওয়াল ও চৌহানদের অন্তর্দ্বন্দ্বের মূল কারণ। তবে এই রচনার বহুলাংশই যে কবির কল্পনাপ্রসূত সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ যাই হোক, ভারতীয় রাজাদের মধ্যে এই অন্তর্দ্বন্দ্বের মঞ্চে শীঘ্রই এক নতুন শক্তি যে পাকাপাকিভাবে নিজের জায়গা করে নিতে চলেছে সে বিষয়ে কেউই তখন অনুমান করতে পারেননি।
উত্তর ভারতের বিভিন্ন শক্তিগুলির নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব এবং তাদের দুর্বলতার সুযোগে ভারতের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রবেশ করেন মুইজুদ্দিন মুহম্মদ ঘোরী। সেই সময়ে আজমীর তথা দিল্লির রাজা পৃথ্বীরাজ চৌহানের বিরুদ্ধে মুইজুদ্দিন অগ্রসর হলে ১১৯১ খ্রিস্টাব্দে তরাইনের প্রান্তে ভীষণ যুদ্ধ হয়। অন্যান্য দেশীয় শক্তি চৌহানের বাহিনীতে যোগ দিলেও জয়চন্দ্র তাঁর ব্যক্তিগত শত্রুতার ঊর্ধ্বে উঠতে পারেননি এবং নিজেকে এর থেকে দূরে সরিয়ে রাখলেন। তা সত্ত্বেও পৃথ্বীর মিলিত বাহিনীর কাছে তরাইনের প্রথম যুদ্ধে মুইজুদ্দিন মুহম্মদ ঘোরী পরাজিত হয়ে পলায়ন করেন। কিন্তু অনতিকাল পরেই ১১৯২ খ্রিস্টাব্দে বিশাল শক্তি সংগ্রহ করে মুইজুদ্দিন আবার পৃথ্বীরাজকে আক্রমণ করেন তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে। এই যুদ্ধে পৃথ্বীরাজ নিহত হলে মুইজুদ্দিন দিল্লি দখল করে ফেলেন। কিন্তু তিনি কেবল দিল্লি জয়েই সন্তুষ্ট ছিলেন না। এবার তিনি নিজের সাম্রাজ্য আরও বিস্তার করার জন্য কনৌজের মত গুরুত্বপূর্ণ স্থান নিজের হস্তগত করতে উদ্যত হলেন। ১১৯৪ খ্রিস্টাব্দে মুইজুদ্দিন এবার জয়চন্দ্রকে আক্রমণ করে বসলেন।
ইতিহাসের কী পরিহাস, যে জয়চন্দ্র নিজের ব্যক্তিগত মর্যাদাকে প্রাধান্য দিয়ে পৃথ্বীরাজকে সহযোগিতা করতে অস্বীকার করলেন, এবং ‘অন্যের সমস্যা’ ভেবে মুইজুদ্দিনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখলেন, সেই সমস্যা স্বয়ং প্রকট হল তাঁর দুয়ারে! ফলস্বরূপ চন্দাওরের যুদ্ধে জয়চন্দ্র পরাজিত ও নিহত হলেন মুইজুদ্দিনের কাছে।
মোতিচন্দ্র লিখছেন, ‘নিজের সেনা এবং হস্তিবাহিনীর উপর অত্যন্ত গর্ব ছিল জয়চন্দ্রের। কিন্তু এই লড়াইতে এক তীরের আঘাতেই জয়চন্দ্র তাঁর উচ্চস্থান থেকে ভূপতিত হন। পরে বর্শার ফলায় তাঁর মাথা গেঁথে মুসলিম সেনাপতির সামনে আনা হয়। মিনহাজ-উস-সিরাজের ‘তবাকাত-এ-নাসিরী’ অনুসারে চন্দাওরের যুদ্ধে জয়চন্দ্রের সেনাবাহিনীতে তিনশো হাতি ছিল। … এই লড়াইয়ের পর মুসলিম সেনাদের অপার ধনসম্পদ এবং শ’খানেক হাতি লাভ হয়। এছাড়াও তুর্কি বাহিনী জয়চন্দ্রের অসনীর কেল্লার রত্নভাণ্ডার নিজেদের করায়ত্ত করে।’
এর সাথে সাথে মুইজুদ্দিন মুহম্মদ ঘোরীর সর্বাধিনায়ক, পরবর্তীতে ভারতে সুলতান রাজত্বের সূচনাকারী তথা দাস বংশের প্রতিষ্ঠাতা, কুতুবুদ্দিন আইবক বারাণসী আক্রমণ করেন। তাঁরা রাজঘাট কেল্লা ধ্বংস করেন, ধ্বংস করেন বহু সংখ্যক মন্দির ও মূর্তি। তারই সঙ্গে লুটপাট চালান অবাধে — প্রায় ১৪০০ উটের পিঠে সেইসব লুটের ধনরত্ন বোঝাই করে তাঁরা ফিরে যান।
রাজঘাট কেল্লা তো ধ্বংস হয়ে গেল। কী হল সেই কেল্লার বাসিন্দাদের? তাঁরা সেখান থেকে পালিয়ে এলেন বারাণসীর দক্ষিণ প্রান্তে। সেখানে বনজঙ্গল কেটে নিজেদের নতুন বসতি স্থাপন করলেন। সেই বসতিকে আমরা আজকে চিনি ‘গড়বাসী টোলা’ নামে — নামের মধ্যেই আস্ত ইতিহাস!
(ক্রমশ)
প্রথম অধ্যায় ‘কালভৈরবের সন্ধানে’ প্রথম পর্ব
দ্বিতীয় অধ্যায় ‘ঘাটে ঘাটে’ প্রথম পর্ব
তৃতীয় অধ্যায় ‘ফিরে দেখতে যাওয়া’ প্রথম পর্ব
