চলে যেতে যেতে আহাম্মকের ক-অক্ষর। পর্ব ৯। দুর্লভ সূত্রধর

গত পর্বের পর

লেনিন পার্টি ও পার্টি নেতৃত্বের গঠন ও অনুশীলনের ব্যাপারে মার্কসকেই বহুলাংশে ব্যাখ্যা ও বিকশিত করেছিলেন। বিশ্বে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের প্রথম রূপকার লেনিন বিপ্লবী পার্টি ও পার্টি সংগঠন গড়ে তোলা প্রসঙ্গে তাঁর রচনার প্রথমেই ডগম্যাটিজম ও ফ্রিডম অব ক্রিটিসিজম বিষয়ে আলোচনা আছে। শুধু তাই-ই নয়—এই-সংক্রান্ত আলোচনার শুরুতেই  কার্ল মার্কস ও ফ্রেডারিক এঙ্গেলস কর্তৃক ছদ্ম সমাজতন্ত্রী বলে নিন্দিত সত্ত্বেও জার্মান ধাঁচের সমাজতান্ত্রিক কর্মী ও দার্শনিক ফের্দিনান্দ লাসালে-এর মার্কসকে লেখা একটি চিঠির অংশবিশেষ উদ্ধৃত করা হয়েছে— ‘… দলীয় সংগ্রাম…  … একটি দলকে শক্তি ও প্রাণশক্তি জোগায়। … একটি দলের দুর্বলতার সর্বোত্তম প্রমাণ হলো তার বিক্ষিপ্ততা এবং সুস্পষ্ট মতপার্থক্যকে অস্পষ্ট করে দেওয়া। … একটি দল আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে আরও শক্তিশালী হয়।’ (কার্ল মার্কসকে লেখা লাসালের একটি চিঠি থেকে, তারিখ ২৪ জুন, ১৮৫২ ॥ হোয়াট ইজ টু বি ডান? বার্নিং কোশ্চেনস অব আওয়ার মুভমেন্ট, মার্টিন লরেন্স লিমিটেড, লন্ডন ১৯৩০)

কিন্তু এক্ষেত্রে প্রত্যেকটি সভার শেষে সবাই চা-বিস্কুট এবং বহুলাংশে একতরফা কিছু কথা গলাধঃকরণ করে বাস, ট্রেন ধরতে ছুটতেন পড়িমড়ি করে। বছর কয়েক এই রীতি চলেছিল। এর ফলে জেলায় পার্টির প্রাণশক্তির স্বতস্ফূর্ততা বহুলাংশে ক্ষয় পেয়েছিল বলে মনে হয়।

এমন অভিযোগও ছিল যে, সেই সময়েই জেলা বহু প্রবীণ নেতা ও সাধারণ পার্টিকর্মী গতানুগতিকতার অবসাদে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন, কেউ কেউ জেলা দপ্তরে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন।

বস্তুত ছাত্র ও যুব রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করার পর থেকে এই নেতা আর দীর্ঘকাল মাঠঘাটের রাজনীতিতে ছিলেন না। কলকাতায় চলে গিয়েছিলেন। সেক্ষেত্রে জেলা বা মফস্বলের গ্রামগঞ্জের রাজনীতির প্যাটার্নটির সঙ্গে তাঁর কোনো ফলিত যোগাযোগ ছিল বলে মনে হয় না। মুখ্যত ছিলেন দলের রাজ্য কমিটির অভ্যন্তরীণ কাজে ব্যস্ত। এতকাল পরে কেন তাঁকেই এমন একটা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল— তা বোঝা কঠিন।

কিন্তু বামপন্থী রাজনীতিতে, কমিউনিস্ট পার্টির মতো রেজিমেন্টেড পার্টির ক্ষেত্রে নেতৃত্ব গড়ে তোলার, নেতা ‘হয়ে ওঠার’ প্রক্রিয়া সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কিছু নির্দেশক নীতি আছে। ফলিত রাজনীতিতে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন তাত্ত্বিকেরা বহু আগেই বিভিন্ন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এই সব নীতি প্রণয়ন করে গেছেন।

সেই সব নীতি ও তার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ সংগঠন, কর্মী ও নেতৃত্বের ভূমিকা বিষয়ে সবিস্তার হলেও জটিল নয়।

নেতৃত্ব গড়ে তোলার প্রশ্নে ১৯৪৩ সালের জুন মাসে চিনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির জন্য মাও সে-তুং একটি প্রস্তাব রচনা করেছিলেন। এই রচনায় মাও নেতৃত্ব গড়ে তোলার জন্য দুটি আবশ্যিক পদ্ধতি অনুসরণ করার কথা বলেছিলেন। তার প্রথমটিই হলো সাধারণের সঙ্গে বিশেষের সমন্বয় করা ; দ্বিতীয়টি হলো সাধারণের সঙ্গে নেতৃত্বের সমন্বয় করা। (সাম কোশ্চেনস কনসার্নিং মেথডস অব লিডারশিপ, সিলেক্টেড ওয়ার্কস অব মাও সে-তুং, তৃতীয় খণ্ড, ফরেন ল্যাঙ্গুয়েজ প্রেস , পিকিং ১৯৬৫)

এই দুটি প্রক্রিয়া নিয়ে মাও ঐ প্রবন্ধে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

লেনিন তো পার্টি নেতৃত্বকে ‘ভ্যানগার্ড অব দি পিপল’ বা জনগণের অগ্রগামী অংশ আখ্যা দিয়েছিলেন। তিনি নেতৃত্বকে পেশাদার বিপ্লবী হওয়ার ওপর জোর দিয়েছিলেন। পেশাদার বিপ্লবী শব্দদ্বয়ে শুধুমাত্র পার্টির সর্বক্ষণের কর্মী বোঝায় না। পার্টির সর্বক্ষণের কর্মী হিসেবে পার্টিকেন্দ্র বা পার্টি অফিসের সঙ্গে অচ্ছেদ্য সম্পর্কও বোঝায় না। সর্বক্ষণ পার্টি অফিস আগলে রেখে পার্টির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বা রণনীতি ও রণকৌশলের নামে রাজা মন্ত্রী নৌকা গজের সঙ্গে ঘোড়ার আড়াই চালে আজ্ঞাবহ বোড়েদের ব্যবহার করার কর্ম অনুশীলন করাটাকে পেশাদার বিপ্লবী হয়ে ওঠা বলা যায় না।

‘হোয়াট ইজ টু বি ডান’, অর্থাৎ ‘কী করতে হবে’ এবং ‘ওয়ান স্টেপ ফরোয়ার্ড, টু স্টেপস ব্যাকওয়ার্ড’ ‘এক পা আগে দুই পা পিছে ॥ আমাদের পার্টির মধ্যেকার সংকট’ রচনায় লেনিন বিপ্লবী পার্টি ও পার্টির পেশাদার নেতৃত্ব গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন। এই রচনায় তিনি পার্টি নেতৃত্বে বুদ্ধিজীবী ও শ্রমিক শ্রেণীর যূথতার প্রয়োজনীয়তা ব্যক্ত করেছেন। এই দুই শ্রেণী থেকে আসা পেশাদার বিপ্লবীদের সহযোগেই যথার্থ শক্তিশালী পার্টিনেতৃত্ব গড়ে ওঠা সম্ভব বলে লেনিন মনে করতেন।

 

কিন্তু দীর্ঘকাল ধরে সাধারণের সঙ্গে সমন্বয়ের অনুশীলন না-করা রাজ্যকেন্দ্রের অতি বড়ো েনতাকে গোটা একটি জেলার সংগঠন দেখাশোনার ভার দিলে যা হওয়া সম্ভব ছিল তাই-ই হয়েছিল— ভাঙন, অবসন্নতা ও ক্ষরণের ফাটলগুলি আরও চওড়া হয়েছিল— পাঠহীন ধ্বস্ত সাধারণ সদস্যদের বিরক্তির বোধ সংগঠনের মানুষগুলোকেও হয়তো খানিকটা বিমুখ করে তুলেছিল।

আমাদের এই জনপদের ভাঙা পার্টি অফিসের একটি সাধারণ কমিটি মিটিংয়েও নজরদারির জন্যও মাঝে মাঝে এই ধরনের নেতারা এসে হাজির হতেন। এসেই যে সুরে তাঁরা বুলু গুহকে লাল চায়ের অর্ডার করতেন তাতে মনে হতো বুলুদা দলের সর্বক্ষণের কর্মী নন, নেহাৎই পয়সা দিয়ে রাখা পরিচারক! সবটা না-জানলেও এটুকু অনুমান করা যেত যে, কোনো সভায় নেতারা উপস্থিত থাকা মানে অন্য সকলের মতামত প্রকাশের ওপর এক অদৃশ্য ভীতির বাতাবরণ সৃষ্টি হওয়া। তাঁদের সৌজন্যে কারও কারও অদ্ভুত দ্রুতগতিতে উত্থান ঘটেছিল।

একটা সময় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সব বিষয়কেই গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতা বলে চালিয়ে দেওয়ার চল প্রায় মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়েছিল। অথচ বিষয়টি কোনোকালেই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার মতো অতটা তরল বা সহজ ব্যাপার ছিল না। পার্টির অন্দরে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কার্যকর করার ব্যাপারে গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতার নীতি সারা বিশ্বের কমিউনিস্ট আন্দোলনে চিরকালই একটি বহু আলোচিত বিষয়।

কার্ল মার্কস নিজে শ্রমিক শ্রেণীর গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বরাবর গুরুত্ব আরোপ করে এসেছেন। তিনি মনে করতেন— শ্রমিকশ্রেণীর নেতৃত্বকে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হতে হবে। এবং প্রতিটি কাজের জন্য তাঁর জবাবদিহির সুযোগ ও পরিবেশ থাকতে হবে। কার্ল মার্কসের মনোগত মতামত সম্ভবত ছিল এই যে, নেতা বলেই গড় শ্রমিকদের বেতনের থেকে নেতাদের বেতন বেশি হওয়া উচিত নয়।

রুশ বিপ্লবোত্তরকালে এবং সোভিয়েত পুনর্গঠনের সময় শৃঙ্খলাবদ্ধ পার্টি-পরিচালনার স্বার্থে ভ্লাদিমির লেনিন গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতার ধারণাটির সম্ভবত জন্ম দেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৪৯ সালে চিনের বিপ্লব সংগঠিত হওয়ার পর মাও সে-তুংয়ের নেতৃত্বাধীন চিনা কমিউনিস্ট পার্টিও চিনের সমাজ পুনর্গঠনের জন্য একটি বৈপ্লবিক কৌশল হিসেবে গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতার নীতিকে অনুসরণ করেছিল।

লেনিন গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতা বলতে ‘আলোচনার স্বাধীনতা ও কাজের ঐক্য’কে বুঝিয়েছিলেন।— সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে পার্টির অভ্যন্তরে প্রতিটি বিষয় নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা করার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রত্যেক পার্টি সদস্যের আছে। কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর সেই সিদ্ধান্ত মতামত নির্বিশেষে সকলের। সেই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়নের কাজে সকল পার্টি সদস্যকে একশো শতাংশ উদ্যম নিয়ে অংশগ্রহণ করতে হবে। অর্থাৎ মতামত ব্যক্তিগত কিন্তু প্রতিটি সিদ্ধান্ত সামূহিক— সকলের। সামূহিক সিদ্ধান্তকে ব্যক্তিগত উদ্যোগের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দিয়ে কার্যকরী করা প্রতিটি পার্টি সদস্যের  কর্তব্য।

অন্যদিকে চিনা কমিউনিস্ট পার্টি এবং মাও সে-তুং বিপ্লবোত্তর চিনের রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক পুনর্গঠনের বাস্তবতা-অনুযায়ী গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতাকে ‘জনগণের গণতান্ত্রিক একনায়কতন্ত্র’ বলে মনে করেছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে মাও সে-তুং গণতন্ত্র ও কেন্দ্রীকরণের মধ্যে টানাপোড়েনের অন্বেষণ করেছিলেন।

লিউ শাউ চি তো আরও এগিয়ে আন্তঃপার্টি সংগ্রামকে একটি জীবন্ত পার্টির লক্ষণ বলে মনে করেছেন।

বৃহত্তর অর্থে বামপন্থীদের পক্ষে দৈনন্দিন আত্মানুশীলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। এবং বিরুদ্ধ মতের ব্যাপারে সংগঠনের অভ্যন্তরে ভীতি ও অসহিষ্ণুতার পরিবর্তে প্রশ্ন উত্থাপন ও তার সমাধানের প্রক্রিয়ার অনুশীলনে উৎসাহদান ও সক্রিয়তা সংগঠনকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান।

এই সংগ্রাম কীভাবে হতে পারে সে-বিষয়ে লিউ শাউ চি অত্যন্ত গভীর তাত্ত্বিক আলোচনা করেছেন।

লিউ শাউ চি বামপন্থা ও বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের অনুশীলনে নেতৃত্বের মধ্যে বিপ্লবী চেতনা, সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং জনগণের সাথে গভীর যোগাযোগের সমন্বয় থাকা অপরিহার্য বলে মনে করতেন। ‘অন দি পার্টি’ রচনায় তিনি পার্টি সংগঠনের নানাদিক নিয়ে আলোচনা করেছিলেন।

পার্টির নেতৃত্ব গঠন এবং ভালো কর্মী ও নেতা হয়ে ওঠার বিষয়ে লিউ শাউ চি ১৯৩৯ সালে ইয়েনানের মার্কসবাদ-লেনিনবাদ ইনস্টিটিউটে যে ঐতিহাসিক বক্তৃতা দিয়েছিলেন সেখানে এবং অন্যান্য রচনায় তিনি আত্মনুশীলন, প্রত্যক্ষ সংগ্রামে অংশগ্রহণ, তাত্ত্বিক অধ্যয়নের সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেছিলেন।

 

পৃথিবীর সর্বত্র প্রকৃত বামপন্থী দলগুলি গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতার চর্চা করে এসেছে। সর্বত্রই উপদলীয় কোন্দল বা দলাদলি রোধ করার জন্য পার্টির অভ্যন্তরে এই ধারণার বস্তুগত অনুশীলনের কার্যকারিতা বারংবার পরীক্ষিত হয়েছে।

কিন্তু খুব বেদনাবহ হলেও একথা সত্য যে, দেশে দেশে কার্যক্ষেত্রে  বামপন্থায় গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতার নীতির চর্চায় গুরুতর তাত্ত্বিক ঘাটতি থেকে গিয়েছে। সেসব ক্ষেত্রে পার্টির অভ্যন্তরে না রক্ষিত হয়েছে গণতান্ত্রিক অধিকার না মূল্য পেয়েছে কেন্দ্রিকতার ধারণাগত বাস্তবতা!

বহু ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতাকে অবাধ গণতন্ত্র বা নিছক সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত হিসেবে মনে করে পার্টি-শৃঙ্খলার ধারণাটিকে পদদলিত করে গণতন্ত্রের চর্চায় বামপন্থার সাংগঠনিক বিনষ্টির কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

আবার কেন্দ্রিকতাকে আঁকড়ে ধরে পদাধিকারের জোরে পার্টির অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করা হয়েছে। ফলে ক্রমেই সাধারণ মানুষের দাবি-দাওয়া ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা ও শক্তি হারিয়েছে বামপন্থী সংগঠনগুলি। এবং এমন অভিযোগও ওঠে যে, দলের ভেতরে শাসনতন্ত্র কায়েম করার জন্য গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতাকে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে নানান কৌশলসর্বস্বতা সাংগঠনিক ক্ষয়কে তরান্বিত করেছে— ক্রমেই বামপন্থাকে অসহায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গোষ্ঠীতে পরিণত করেছে।

এর বিপরীত দিকটাও পয়সার অপর পিঠের মতো বিপরীতের সত্যকে তুলে ধরেছে। পদাধিকারী নেতৃত্বের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের পরিসরে কত ভুল নির্বাচন এবং ভ্রান্ত প্রত্যাখ্যান পরবর্তী সময়ে সংগঠনে যোগ্যের উদ্্বর্তনের পক্ষে বাধা ও ক্ষতিকারক বলে প্রমাণিত হয়েছে।

সেই ক্ষতি ক্রমেই সংশোধনের অযোগ্য, অপূরণীয় এবং দীর্ঘস্থায়ী ক্ষয়ের, বঞ্চনার পরম্পরা জন্ম দিয়েছে এবং পূর্বসূরীদের সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত সুকৃতি বিনষ্টিপ্রাপ্ত হয়েছে, পুঁজিবাদী ভাবধারার আক্রমণ প্রতিহত করে এগিয়ে যাবার সক্ষমতাও হারিয়েছে!

(ক্রমশ)

Author

Leave a Reply