কাশীর অলি-গলি : ইতিহাস-সমাজ-সংস্কৃতি। পর্ব ৪৪। শোভন সরকার
গত পর্বে: সারনাথের প্রত্নস্থল ঘুরে দেখার সাথে সাথে পেরোলাম কাশীর ইতিহাসে মৌর্য, শুঙ্গ ও কুষাণ যুগ।
কুষাণ সাম্রাজ্যের পতনের পর ‘ভারশিব’ নামে এক স্থানীয় বংশের রাজারা কাশীতে রাজত্ব করেন। তাঁরা শৈবধর্মে বিশ্বাস করতেন। সম্ভবত তাঁদের সময় থেকেই বারাণসীতে শিবের প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পায়। বৈদিক সময়ের যে রুদ্র-শিব আগে কেবল সাধু-সন্ন্যাসী, তাপস ও যোগীদের বৃত্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলেন, তৃতীয়-চতুর্থ শতাব্দীতে এসে তিনি হয়ে উঠলেন সকলের ‘মহেশ্বর’। শিবের সঙ্গীসাথী হয়ে উঠল আদিযুগের যক্ষেরা, শিবগণের মধ্যে আশ্রয় পেল কত স্থানীয় উপ ও অপদেবতারা। ডঃ মোতিচন্দ্র বলছেন, ‘কুষাণ যুগের কিছু মুদ্রা থেকে যেমন জানা যায়, কম করে হলেও খ্রিস্টীয় প্রথম শতাব্দীতে শৈবধর্ম বিকশিত হয়ে চলেছিল, কিন্তু তার উদ্যম ততটা জোরালো ছিল না। সম্ভবত পূর্ব উত্তর প্রদেশে ভারশিবদের সময় শৈবধর্মের শিকড় মাটি পায়, এবং গুপ্তযুগে তা সারা মধ্যদেশে ছড়িয়ে পড়ে।’
উত্তর ভারতের রাজনীতিতে ভারতের মাটি থেকেই উত্থান হয় গুপ্ত রাজবংশের। তাঁদের রাজত্বকালের প্রায় শুরুর দিক থেকেই বেনারস গুপ্তদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম উল্লেখযোগ্য তীর্থক্ষেত্র হিসেবে কাশী এই সময়ে নিজের জায়গা একরকম পোক্ত করে নেয়। শৈবধর্ম যে গুপ্তকালে বিশেষ বিস্তার লাভ করেছিল তার প্রমাণ পাই রাজঘাটে প্রাপ্ত মুদ্রা থেকে। জানা যায় কাশীতে এই সময় আটটি প্রধান শিবলিঙ্গ ছিল, যথা — হরিশ্চন্দ্রেশ্বর, আম্রাতকেশ্বর, জালেশ্বর, শ্রীপর্বতেশ্বর, মহালয়েশ্বর, কৃমিচণ্ডেশ্বর, কেদারেশ্বর ও অবিমুক্তেশ্বর।
গুপ্ত সম্রাটগণের বদান্যতা কেবল কোনো বিশেষ ধর্মের প্রতি ছিল না, বরং তাঁরা যে নানা ধর্মের প্রতি যথেষ্ট উন্মুক্তমনা ছিলেন, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তাঁদের পৃষ্ঠপোষকতায় শৈবধর্মের সাথে সাথে বৈষ্ণব ধর্মও এ যুগে উন্নতির শিখরে ওঠে। প্রধানত বৈষ্ণব ধর্মানুসারী হলেও দেখা যায় সাম্রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে বৌদ্ধদের জন্য গুপ্তরাজগণ প্রচুর দান-ধ্যান করেছেন। আজ সারনাথে গেলে আমরা যে সমস্ত স্থাপত্য, শিল্পকলা ও ভাস্কর্যের নিদর্শন দেখি তার অধিকাংশই গুপ্ত যুগের। বলা হয়, ‘গুপ্ত যুগই সারনাথের মূর্তি-শিল্পের উন্নতির শ্রেষ্ঠ কাল।’ কুষাণ যুগের চেয়ে মূর্তির আকার ছোট হলেও এর সূক্ষ্ম কারুকাজ, বৈচিত্র, উন্নত শিল্পরুচিবোধ এবং সৃজনশীলতা এই যুগকে অন্য সবার থেকে আলাদা করে দিয়েছে।

গুপ্ত যুগের যে সমস্ত মূর্তি সারনাথে উদ্ধার করা হয়েছে তার মধ্যে শ্রেষ্ঠতম হল ধর্মচক্র-প্রবর্তনরত এক বুদ্ধমূর্তি। বৃন্দাবন ভট্টাচার্য মনে করেন যে এই ধরনের ধর্মচক্র-প্রবর্তনমুদ্রা সহ বুদ্ধমূর্তি প্রথম সারনাথেই নির্মিত হয় এবং একে আদর্শ করে পরবর্তীতে নানা স্থানে বুদ্ধমূর্তি নির্মাণ করা হয়েছে। পাঁচ ফুট তিন ইঞ্চি এই ভাস্কর্যে বুদ্ধ ধ্যানমুদ্রায় বসে আছেন। হাত দুটি ধর্মচক্রমুদ্রায় বুকের কাছে রাখা। মাথার চুল সুলক্ষণবিধি অনুসারে ‘দক্ষিণাবর্ত’ (অর্থাৎ, ডান দিক পাক খাওয়া) গুচ্ছে সাজানো। মাথার পেছনে আলোকবৃত্ত, তাতে বাহুল্যবর্জিত, সুমার্জিত ও সুললিত নকশা করা রয়েছে। বুদ্ধের দুই হাতের কনুইয়ের কাছে দু’টি ‘লিওগ্রিফ’, তার সামান্য উপরের দিকে মকর চিহ্ন খোদাই করা। নীচের দিকে দেখি, ধর্মচক্রকে মাঝখানে রেখে মোট সাতজন মানুষ এবং দু’টি হরিণ বসে রয়েছে। বুদ্ধমূর্তিটির মুখের ভাব কী সৌম্য ও শান্ত যে সে দিকে চেয়ে থাকলে মন আপনি নিস্তরঙ্গ হয়ে যায়, ভালো হয়ে যায়।
আবার, ভারত কলা ভবনে গেলে গুপ্তযুগে নির্মিত একটি গোবর্ধনধারী কৃষ্ণের মূর্তি আমরা দেখতে পাই। বাকারিয়া কুণ্ড থেকে উদ্ধার করা এই মূর্তিটির কিছু অংশ ভাঙা, তবুও মূর্তিটি যে এক সময় অপার বিস্ময়ের উৎস ছিল, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই। গুপ্ত সম্রাটগণ পরম বৈষ্ণব ছিলেন, এ মূর্তি তারই সাক্ষ্য দেয়। এছাড়া, সম্রাট কুমারগুপ্ত কার্তিকের উপাসক ছিলেন। এ কথা আমরা নিশ্চিত হতে পারি রাজঘাটে পাওয়া বেশ কিছু মুদ্রা এবং বর্তমানে ভারত কলা ভবনে রাখা এক অভূতপূর্ব কার্তিকের বাল্যমূর্তি থেকে।
মূর্তি ছাড়াও রাজঘাট ও আশেপাশের এলাকা থেকে গুপ্তযুগের প্রচুর মুদ্রা পাওয়া গেছে। বিশেষজ্ঞরা মুদ্রাগুলিকে ব্যবহারের ভিত্তিতে বেশ কয়েকটি শ্রেণীতে ভাগ করেন — ব্যবসায়ীদের মুদ্রা, রাজকর্মচারীদের মুদ্রা, মন্দিরের মুদ্রা এবং বিদেশিদের অনুমতিমুদ্রা। গুপ্তকালে যে বেনারসের ঘাটগুলিতে ব্যবসা-বাণিজ্য রমরমিয়ে ও অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে চলত এবং এখানে বিদেশিদের যাতায়াত ছিল — এই সমস্ত মুদ্রা তারই প্রমাণ। নিয়মবিধি ভঙ্গ করার জন্য জরিমানা বা অন্যান্য শাস্তির বিধান দেওয়া হত। মুদ্রাগুলি তৈরি করার জন্য নির্দিষ্ট রাজস্মারক সম্বলিত ছাঁচ ব্যবহার করা হত যাতে যে কেউ তার নকল করতে না পারে।
গুপ্তকালে শৈব, বৈষ্ণব বা বৌদ্ধ ধর্ম যেমন বেনারস ও সারনাথে নিজেদের অস্তিত্বকে সুদৃঢ় করেছে, জৈন ধর্মও সেদিক থেকে একেবারেই পিছিয়ে ছিল না। অবশ্য গুপ্তযুগের আগে দীর্ঘদিন ধরেই বেনারসে জৈনধর্মের এক সমৃদ্ধ পরম্পরা চলে আসছিল। চব্বিশজন তীর্থঙ্করের মধ্যে চারজনের জন্ম বেনারসেই — সপ্তম তীর্থঙ্কর সুপার্শ্বনাথ ভদৈনীতে, অষ্টম তীর্থঙ্কর চন্দ্রপ্রভু চন্দ্রপুরী (বা চন্দ্রাবতী) গ্রামে, একাদশ তীর্থঙ্কর শ্রেয়াংশনাথ সারনাথে, এবং খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম শতাব্দীতে তেইশতম তীর্থঙ্কর পার্শ্বনাথ বেনারসের ভেলুপুরায় জন্মগ্রহণ করেন। আবার চব্বিশতম এবং অন্তিম তীর্থঙ্কর মহাবীর বেনারসে আসেন খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে জৈন ধর্মের প্রচারে। স্বাভাবিকভাবেই বেনারস জৈনদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক তীর্থক্ষেত্র হয়ে ওঠে। গুপ্ত সম্রাটেরা এমনিতেই সর্বধর্ম সহিষ্ণু ছিলেন। জৈন ধর্মও তাঁদের বদান্যতা লাভে বঞ্চিত হয়নি।
গুপ্ত সাম্রাজ্যের পতনের পর বিভিন্ন স্থানীয় শক্তি ক্ষমতা অর্জন করে। গুপ্তদের বংশধরেরা টুকরো টুকরো ভাবে এখানে ওখানে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিল নিজেদের পুরোনো মর্যাদা ফিরে পাওয়ার জন্য। এছাড়া সমকালীন কিছু লিপি থেকে কয়েকজন মৌখরী বংশের রাজার নাম পাওয়া যায়। বারাণসী তখন এই মৌখরীদেরই অধীনস্থ ছিল। মৌখরী রাজা গ্রহবর্মণের সঙ্গে থানেশ্বরের হর্ষবর্ধনের বোন রাজ্যশ্রীর বিয়ে হয়।
এই প্রসঙ্গে মনে পড়ে গেল আমার কিশোর বয়সের স্মৃতি। স্কুলে পড়ার সময় হর্ষবর্ধনের শুরুর জীবনের নাটকীয় ঘটনাবলীর কথা ইতিহাস ক্লাসে আমাদের মণিকা ম্যাম শুনিয়েছিলেন। সেই সব কাহিনি শুনতে শুনতে মনে আমার আশ্চর্য রকমের রোমাঞ্চ হত। রোমাঞ্চিত হওয়ার মতই সে ইতিহাস — মূল আলোচনায় ফেরার আগে সংক্ষেপে বলি।
মালোয়ার গুপ্তবংশীয় রাজা দেবগুপ্ত রাজ্যশ্রীর স্বামী গ্রহবর্মণকে হত্যা করে তাঁর অসহায় স্ত্রীকে শিকলে বন্দী বানিয়ে নিয়ে যান। হর্ষবর্ধনের দাদা রাজ্যবর্ধন পরপর মাতা ও পিতার মৃত্যুর ধাক্কা সামলে তখন সবে থানেশ্বরের রাজা হিসেবে সিংহাসনে বসেছেন। ঠিক সেই সময়ে বোন রাজ্যশ্রীর বিপদে তিনি সবকিছু ফেলে মালোয়া আক্রমণ করে বিদ্রোহী রাজাকে পরাজিত করেন। সবই ঠিক চলছিল, রাজ্যশ্রীকে উদ্ধার কেবল কিছু সময়ের অপেক্ষা। তিনি কান্যকুব্জে বন্দিনী ছিলেন। সেখানে যাওয়ার পথে তাঁর সাথে দেখা হল গৌড় তথা বঙ্গদেশের গুপ্তবংশীয় রাজা শশাঙ্কের। শশাঙ্ক সদ্যযুবক রাজ্যবর্ধনকে মিষ্টি হেসে মৈত্রী প্রস্তাব দিলে তিনি সরল মনে সানন্দে তাঁকে গ্রহণ করে নেন। কিন্তু রাজ্যবর্ধন তখনও জানতেন না শশাঙ্ক প্রকৃতপক্ষে ছিলেন নিহত মালোয়ারাজের পরম মিত্র, জানতেন না শশাঙ্কের মনে মিত্রতা নয় বরং ছিল প্রতিশোধস্পৃহা আর উচ্চাকাঙ্ক্ষার নেশা। যখন জানলেন ততক্ষণে অনেক দেরী হয়ে গেছে। শশাঙ্ক রাতের অন্ধকারে থানেশ্বরের নিরস্ত্র মহারাজাকে আঘাত হানলেন গোপনে। কে জানে, হয়তো সেই মুহুর্তে তাঁর বুকে বিঁধে থাকা ছুরির আঘাতের চেয়ে বিশ্বাসঘাতকতার ব্যথা তাঁকে বেশি কষ্ট দিয়েছিল! যাই হোক, এই ঘটনার পর বারাণসী সহ উত্তর ভারতের এক বড়সড় অংশ শশাঙ্কের করায়ত্ত হল। তবে তা দীর্ঘায়ু হল না।
রাজ্যবর্ধন যখন নিহত হলেন, তখন তাঁর ছোট ভাই হর্ষবর্ধন কেবল ষোলো বছরের এক কিশোর মাত্র। প্রবল অনিচ্ছা সত্ত্বেও সেনাপতি সিংহনাদের উৎসাহে হর্ষ থানেশ্বরের ভার নিলেন। সামনে তাঁর দু’টি লক্ষ্য — এক, বোন রাজ্যশ্রীকে উদ্ধার, এবং দুই, রাজ্যবর্ধনের হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া। ঠিক এরপর থেকেই হর্ষবর্ধন আমার মনে দাগ কাটতে শুরু করে। আমি নিজে তখন স্কুলে পড়ি, আমার চেয়ে সামান্য বেশি বয়সের একটি ছেলেকে এত বড় দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিতে হল দেখে উত্তেজিত হয়ে পড়তাম। পারবে তো হর্ষবর্ধন?
জানা গেল, বোন রাজ্যশ্রী কান্যকুব্জের কারাগার থেকে পালিয়ে বিন্ধ্যাচলের বনে আশ্রয় নিয়েছেন। সমস্ত বিন্ধ্যাচল অরণ্য চষে বেড়ানোর পর অবশেষে হর্ষ যখন রাজ্যশ্রীকে খুঁজে পেলেন, দেখলেন তিনি দাঁড়িয়ে আছেন জ্বলন্ত এক চিতার গগনচুম্বী শিখার সামনে — তিনি আত্মবলি দিতে প্রস্তুত!
রাজ্যশ্রীকে উদ্ধারের পর হর্ষবর্ধন শশাঙ্ককে পরাজিত করে গৌড় অবধি তাঁর সাম্রাজ্য বিস্তার করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই হর্ষবর্ধন উত্তর ভারতের এক বিশাল এলাকা তাঁর সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করে নিলেন। বলা বাহুল্য, আমাদের আলোচ্য বারাণসীও তাঁর নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।
হর্ষবর্ধনের পূর্বপুরুষেরা ছিলেন সূর্যের উপাসক। কিন্তু তিনি নিজে ছিলেন পরম শৈব। সর্বধর্মের প্রতি সহনশীল হলেও মহারাজাধিরাজ হর্ষবর্ধন বৌদ্ধধর্মের প্রতি বিশেষ অনুরাগী ছিলেন। অবশ্য তা সত্ত্বেও সারনাথে তাঁর পৃষ্ঠপোষকতার প্রমাণ অত্যন্ত সামান্য।
হর্ষবর্ধনের সময়ে চীনের ভূপর্যটক হিউয়েন সাং অনেকটা সময় হর্ষবর্ধনের রাজ্যে কাটান। যদিও তাঁর বর্ণনা অনেক ক্ষেত্রেই স্মৃতিনির্ভর, এবং স্বাভাবিকভাবেই সামান্য অতিরঞ্জিত, তবুও তাঁর লেখা থেকে আমরা সমসাময়িক বিভিন্ন স্থান বা শাসকের বিষয়ে সম্যক ধারণা করতে পারি। সত্য়ি বলতে গেলে বাণভট্টের ‘হর্ষচরিত’ ছাড়া তাঁর লেখা থেকেই আমরা হর্ষবর্ধনের ব্যাপারে অনেক খুঁটিনাটি জানতে পারি। হিউয়েন সাং বারাণসী শহর এবং সারনাথে আসেন। তাঁর দেখা বারাণসী সেই সময় এক সমৃদ্ধ শহর ছিল — শিক্ষা-দীক্ষা তো বটেই, ধন-সম্পদের দিক থেকেও এখানকার লোকজন বেশ এগিয়ে ছিল। হিউয়েন সাং লক্ষ্য করেন সব মিলিয়ে বারাণসী জেলায় বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী নিতান্ত কম ছিল না — প্রায় তিরিশটি বিহার ও তিন হাজারেরও বেশি ভিক্ষুর হিসেব দেন তিনি। অন্যদিকে, শহরে হিন্দুরা সংখ্যায় ছিল আনুমানিক দশ হাজারের বেশি এবং তাদের শতাধিক মন্দির। তিনি একটি মন্দিরে প্রায় একশো ফুট উঁচু কাঁসার মূর্তির কথা উল্লেখ করেন।
সারনাথ সম্বন্ধে তিনি যা লিখছেন তার থেকে কিছু অংশ এরকম —
‘বরণা নদীর উত্তর-পূর্বে দশ লি (প্রায় পাঁচ কিলোমিটার) দূরে লুয়ে (মৃগদাব) সঙ্ঘারাম অবস্থিত। এটি আট ভাগে বিভক্ত এবং প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। এখানে হীনযান সম্মিতীয় মতের পনেরোশো ভিক্ষু বাস করেন। প্রাচীর বেষ্টনের মধ্যে দু’শো ফিট উঁচু একটি বিহার আছে। এর ভিত্তি ও সিঁড়িগুলি পাথরের তৈরি, কিন্তু উপরের অংশ ইটের। এই বিহারের মধ্যে ধর্মচক্রপ্রবর্তন মুদ্রায় অবস্থিত তামার তৈরি একটি বুদ্ধমূর্তি আছে। বিহারের দক্ষিণ-পশ্চিমে রাজা অশোকের নির্মিত একটি পাথরের স্তূপ আছে। ভিত্তি মাটির নীচে থাকলেও এটি প্রায় একশো ফুট উঁচু। এখানে সত্তর ফুট উঁচু একটি পাথরের স্তম্ভ আছে। স্তম্ভের পাথর স্ফটিকের মতো উজ্জ্বল…। এই স্থানে তথাগত সংবুদ্ধ হয়ে ধর্মচক্র-প্রবর্তন করতে আরম্ভ করেন।’
৬৪৭ খ্রিস্টাব্দে হর্ষবর্ধনের মৃত্যুর পর তাঁর বিশাল সাম্রাজ্য আবার অন্ধকারে তলিয়ে যায়।
(ক্রমশ)
প্রথম অধ্যায় ‘কালভৈরবের সন্ধানে’ প্রথম পর্ব
দ্বিতীয় অধ্যায় ‘ঘাটে ঘাটে’ প্রথম পর্ব
তৃতীয় অধ্যায় ‘ফিরে দেখতে যাওয়া’ প্রথম পর্ব
