কাশীর অলি-গলি : ইতিহাস-সমাজ-সংস্কৃতি। পর্ব ৪৩। শোভন সরকার

গত পর্বে: সারনাথ নামটির ব্যাখ্যা রয়েছে বেশ কিছু। মিউজিয়ামে গিয়ে চোখে পড়ল সিংহস্তম্ভ। 

গৌতম বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণের পর ঠিক কবে থেকে সারনাথে বৌদ্ধবিহার গড়ে ওঠে সে বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায় না। বুদ্ধ জীবিত থাকাকালীন বা তাঁর দেহত্যাগের অব্যবহিত পরেই এখানে বৌদ্ধবিহার গড়ে উঠেছিল বলে কোনো প্রমাণ নেই। ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের গবেষণায় কার্বন-ডেটিং পদ্ধতিতে এখানকার বসবাসের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে অশোকের সময়ের প্রায় এক শতক পূর্বে আনুমানিক ৩৯৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে। তবে তা আদৌ বৌদ্ধবিহার ছিল কী না তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। বুদ্ধদেবের সারনাথ পরিত্যাগ এবং পরিনির্বাণের পর থেকে মাঝের কয়েকশো বছরের ইতিহাস আমাদের কাছে অস্পষ্ট। ৩৯৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সত্যিই যদি এখানে বৌদ্ধ বিহার গড়ে উঠে থাকে, তবে আমার মনের কল্পনাপটে ভেসে ওঠে একদল ভিক্ষুর ছবি যারা বুদ্ধের নির্বাণ লাভের কয়েকশো বছর পর ধর্মচক্রপ্রবর্তনের স্থানটি খুঁজে বের করে এবং সেখানে তাদের বিহার গড়ে তোলে।   

সারনাথে বৌদ্ধবিহারের অস্তিত্বের গ্রহণযোগ্য যেসব প্রমাণ পাওয়া যায় তা সম্রাট অশোকের সময়কাল থেকে। তাঁর সুবিশাল সাম্রাজ্যে বুদ্ধদেবের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত প্রধান প্রধান স্থানে তিনি অসংখ্য ফলক ও স্তম্ভ নির্মাণ করিয়ে বৌদ্ধধর্ম প্রচারে উদ্যোগী হয়েছিলেন। গৌতম বুদ্ধ ছাড়া যেমন বৌদ্ধ ধর্মের সূত্রপাত ভাবা যায় না, তেমনি সম্রাট অশোককে ছাড়া বৌদ্ধ ধর্মের ব্যাপক বিস্তার নিয়ে ভাবা যায় না। 

‘অশোকাবদান’ গ্রন্থ থেকে জানা যায় যে বৌদ্ধ ভিক্ষু উপগুপ্তের সাথে সম্রাট অশোক বেরিয়ে পড়েছিলেন তীর্থযাত্রায়। বুদ্ধের জীবনের সাথে সম্পর্কিত জানা ও অজানা বত্রিশটি স্থানে তিনি ভ্রমণ করেন এবং প্রতিটি স্থানে দান-ধ্যান, চৈত্য নির্মাণ, এবং ফলক-স্তম্ভাদি স্থাপন করে সেই স্থানের মাহাত্ম্য চিহ্নিত করে দেন। 

অশোকাবদানে অবশ্য অশোকের সারনাথে আসার কথা উল্লেখ নেই। কিন্তু সারনাথে প্রাপ্ত অশোকস্তম্ভ এবং উৎকীর্ণ লিপি থেকে অধিকাংশ সারনাথ বিশেষজ্ঞই নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করেন যে অশোক এখানে এসেছিলেন। এর থেকে আরও নিশ্চিত হওয়া যায় যে এখানে এক আবাসিক বৌদ্ধবিহার ছিল এবং এতে বহু সংখ্যক ভিক্ষু-ভিক্ষুণী থাকতেন। 

অশোকস্তম্ভের দক্ষিণের দিকে একটু এগোলে ইটে ঘেরা এক বিশাল বৃত্তাকার ধ্বংসাবশেষ দেখতে পাওয়া যায়। এটিও ছিল সম্রাট অশোকের নির্মিত একটি স্তূপ। এক সময় একে জগৎ সিং স্তূপ বলা হত। কেন তা বলা হত সেকথায় যথাসময়ে আসছি। বর্তমানে একে আমরা ধর্মরাজিকা স্তূপ নামে জানি। 

মনে করা হয়, গৌতম বুদ্ধের পরিনির্বাণের পর তাঁর দেহাবশেষকে আটটি ভাগে ভাগ করে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে স্তূপ নির্মাণ করে সেগুলিকে সংরক্ষণ করা হয়। সম্রাট অশোক এই আটটির মধ্যে সাতটি স্তূপ থেকে সেই দেহাবশেষগুলি উদ্ধার করেন। তারপর সেগুলিকে আবার ভাগ করে বিভিন্ন স্থানে রেখে চুরাশি হাজার স্তূপ নির্মাণ করেন। ধর্মরাজিকা স্তূপ হল তাদেরই একটি। 

সম্রাট অশোকের সময়ে নির্মিত মূল স্তূপটির ব্যাস ছিল প্রায় পনেরো মিটার। পরে কুষাণ যুগে এই স্তূপের উপর ইটের আরও এক স্তর বাড়ানো হয়। এরও পরে বেশ কয়েকবার এই স্তূপের সংস্কার ও উপরে নতুন আবরণ দেওয়া চলে প্রায় দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত।

সারনাথের আরও একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিহ্ন হল ধামেক স্তূপ। ১০২৬ খ্রিস্টাব্দের এক লিপিতে একে বলা হচ্ছে ধর্মচক্র স্তূপ। বেলনাকৃতির এই নিরেট স্তূপটিই সম্ভবত গৌতম বুদ্ধের প্রথম ধর্মোপদেশের স্থান। কুবেরনাথ সুকুল বলছেন, এটি প্রকৃতপক্ষে গৌতম বুদ্ধের প্রথম পঞ্চশিষ্যকে ধর্মান্তরিত করার স্থানকে চিহ্নিত করে নির্মিত। আবার, অন্য এক মতে, এই স্থানে সিদ্ধার্থ গৌতম বুদ্ধ আশ্বাসবাণী করেন যে তাঁর পরবর্তী বুদ্ধ হবেন মৈত্রেয়। 

স্তূপটির মূল ভিত্তির ব্যাস প্রায় ঊনত্রিশ মিটার, এবং উচ্চতা প্রায় তেতাল্লিশ মিটার। এর নিচের অংশ পাথর দিয়ে তৈরি। পাথরের টুকরোগুলি লোহার কীলক দিয়ে বেশ পোক্তভাবে জুড়ে দেওয়া। নীচের অংশে স্তূপটির চারিদিকে রয়েছে আটটি কুলুঙ্গি। আগে এই কুলুঙ্গিগুলিতে বুদ্ধের মূর্তি ছিল — আটটির মধ্যে আমরা তিনটির সন্ধান পাই। একটি গৌতম বুদ্ধের সম্বোধির মূর্তি, দ্বিতীয়টি ধর্মচক্র প্রবর্তনের, এবং তৃতীয়টি বোধিসত্ত্ব অবলোকিতেশ্বরের মূর্তি। তবে এই স্তূপের দেখবার মত বিষয় হল এর গায়ে পাথরের উপর খোদাই করা সুচারু কারুকার্য — ফুল-পাতা, পাখি, মানুষ, জ্যামিতিক নকশা ইত্যাদি। কাজের ধরন দেখে ঐতিহাসিকেরা এগুলিকে গুপ্ত যুগের অবদান বলে নিশ্চিত হয়েছেন। প্রত্নতাত্ত্বিক ক্যানিংহ্যাম ১৮৩৫ সালে এই স্তূপের উপর থেকে ভিত্তি অবধি একটি লম্বা সুরঙ্গ খনন করে একটি ব্রাহ্মীলিপি উদ্ধার করেন। তাঁর এই খনন থেকে স্পষ্ট হয় যে বর্তমানে দৃশ্যমান এই স্তূপটি সম্রাট অশোকের সময়ে তৈরি প্রাচীনতর এক স্তূপের উপর নানা সময়ে সংস্কার বা পরিবর্ধন করে নির্মিত হয়েছে। সোজা ভাবে বললে, সম্রাট অশোকের সময়ে এখানে ইটের একটি স্তূপ তৈরি হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে তার উপর বিভিন্ন স্তরের প্রলেপ পড়ে, আকার বড় হয়, এবং গুপ্তযুগে নকশা কেটে একে আরও সুন্দর করা হয়। 

সারনাথের স্তূপের কথা বলতে গেলে চৌখণ্ডী স্তূপকে বাদ দিয়ে এগোনো যায় না। ধামেক স্তূপ থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দক্ষিণে রয়েছে গুপ্তযুগে নির্মিত এই স্তূপ। মনে করা হয় যে গৌতম বুদ্ধ বোধি লাভের পর গয়া থেকে সারনাথ আসার পথে ঠিক এই স্থানেই তাঁর প্রথম পাঁচ শিষ্যের সাথে সাক্ষাৎ হয়। স্তূপটি তিনটি চারকোনা বেদীর উপর অবস্থিত। এখানে খননের সময় প্রত্নতত্ত্ববিদ ওরটেল দু’টি ‘লিওগ্রিফ’ (সিংহের দেহ এবং গ্রিফিনের মত মাথা ও ডানা সহ এক কাল্পনিক প্রাণী) খচিত প্রস্তরখণ্ড খুঁজে পান। স্তূপটির চূড়ায় যে অষ্টভুজাকৃতির বুরুজ চোখে পড়ে তা ১৫৮৮ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট আকবর পিতা হুমায়ুনের সারনাথ ভ্রমণের স্মৃতিতে নির্মাণ করান। বুরুজটির গায়ে ফারসি ভাষায় এক লিপি পাওয়া যায়। এতে বলা হচ্ছে, ‘সপ্তমহাদেশের সম্রাট স্বর্গবাসী হুমায়ুন একদা এখানে এসে উপবেশন করে সূর্যের তেজ বৃদ্ধি করেছিলেন। এই স্মৃতিতে তাঁর পুত্র এবং দীন ভৃত্য আকবর গগনচুম্বী একটি বুরুজ নির্মাণ করতে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। ৯৯৬ হিজরিতে এই বুরুজটি নির্মিত হল।’ 

ইটের তৈরি ঢিপির উপর নির্মিত বুরুজটি সহ চৌখণ্ডী স্তূপের উচ্চতা প্রায় পঁচিশ মিটার। যদিও আমার নিজের সৌভাগ্য হয়নি, তবে প্রত্নতাত্ত্বিকদের লেখা পড়ে জানতে পারি এই স্তূপের উপরে উঠলে চারিদিকের চমৎকার দৃশ্য দেখা যায়। তাঁরা বলছেন যে এখান থেকে দক্ষিণ দিকে তাকালে এক সময় পঞ্চগঙ্গা ঘাটের বেণীমাধব মন্দিরের সুউচ্চ মিনার দু’টি চোখে পড়ত। 

মৌর্যযুগের পর শুঙ্গ ও কাণ্ব বংশের রাজারা মগধের সিংহাসন অধিকার করে কাশীকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করেন। তাঁরা ছিলেন ব্রাহ্মণ্য ধর্মের অনুসারী। তাঁরা বৌদ্ধ ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতায় এতটুকুও উৎসাহী ছিলেন না। বরং শুঙ্গ যুগে কাশীতে ব্রাহ্মণ্য ধর্ম তার হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়। জানা যায়, রাজা পুষ্যমিত্র শুঙ্গ বৈদিক রীতি মেনে দুইবার অশ্বমেধ যজ্ঞ করেন।

শুঙ্গ যুগ প্রসঙ্গে আরও একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হল কাশী ও গ্রীস সংযোগের প্রশ্ন। রাজঘাট উৎখননে গ্রীক দেবদেবীর চিহ্ন সম্বলিত বেশ কিছু মুদ্রা পাওয়া যায়, অথচ এই ধরনের মুদ্রা উত্তর প্রদেশ বা বিহারের অন্য কোথাও পাওয়া যায়নি। কাশীর সঙ্গে গ্রীসের ঠিক কী সম্পর্ক ছিল সে বিষয়ে বহুদিন পর্যন্ত ধাঁধা রয়ে গিয়েছিল। ঐতিহাসিক ও গবেষকরা অনুমান করেন যে শুঙ্গ যুগে ডিমিট্রিয়াসের নেতৃত্বে গ্রীক সৈন্যরা ভারতবর্ষে প্রবেশ করে পাটালিপুত্র পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছিল। সম্ভবত তখনই গ্রীক সৈন্য তাদের যাতায়াতের পথে গঙ্গা পেরোনোর সময় রাজঘাটে ডেরা ফেলেছিল।

পরবর্তীতে সাতবাহন এবং কুষাণ বংশের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী রাজারা ক্ষমতায় আসেন। কাশীর উপর সাতবাহন বংশের প্রভাবের প্রমাণ খুবই কম পাওয়া গেলেও কুষাণদের প্রভাব স্পষ্ট।

মধ্য এশিয়া থেকে উঠে আসা কুষাণ বংশের শ্রেষ্ঠতম শাসক কণিষ্কের আমলে আবার বৌদ্ধ ধর্মের উত্থানে জোয়ার আসে। বিভিন্ন ধর্মচর্চা ও বিশ্বাস, বিশেষ করে বৌদ্ধ ধর্মের প্রতি তিনি সহানুভূতিশীল ছিলেন। তাঁর সময়েই কুষাণ সাম্রাজ্য সর্বাধিক বিস্তার লাভ করে। সারনাথে প্রাপ্ত লিপি থেকে জানা যায় যে কণিষ্কের রাজ্যাধিকারের তৃতীয় বর্ষ পূর্ণ হওয়ার আগেই কাশী তাঁর অধিকারে চলে আসে। তাঁর পৃষ্ঠপোষকতাতেই বৌদ্ধধর্ম চীন দেশে পাড়ি দেয়। 

কুষাণ যুগের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান ভাস্কর্য শিল্প। এই সময়ের মূর্তি নির্মাণের বিশেষ ধরনকে আমরা ‘গান্ধার শৈলী’ বলে জানি। ভারতবর্ষের উত্তর-পশ্চিমে গান্ধার প্রদেশে তৈরি পাথরের মূর্তিগুলি আশ্চর্য রকমভাবে মানুষের সহজ ও স্বাভাবিক অভিব্যক্তি ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়। গান্ধার মূর্তিশৈলী উত্তর ভারতে এসে ধীরে ধীরে মথুরার নিজস্ব ঘরানাকে প্রভাবিত করে। পরবর্তীতে মথুরা থেকে সারনাথে আসা মূর্তিকাররা তাঁদের জ্ঞান ও সৃজনশীলতা দিয়ে সূচনা করেন সারনাথ শিল্পশৈলীর। সারনাথ জাদুঘরে গেলে আমরা মথুরা ও সারনাথ শৈলীর বেশ কিছু মূর্তি দেখতে পাই। তবে সমস্ত সংগ্রহের মধ্যে যেখানি সবার নজর কাড়ে তা হল প্রায় সাড়ে নয় ফুট উচ্চতার একটি বুদ্ধমূর্তি। শিল্পীর দক্ষতা এবং মূর্তির চেহারার স্বাভাবিক নমনীয়তা দেখে শিল্পবোদ্ধারা আজও বিস্মিত হন। 

কুষাণ যুগে কাশীতে বৌদ্ধধর্ম প্রাধান্য পেলেও প্রত্নতাত্ত্বিক উৎখননে অন্যান্য ধর্মেরও অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়। ডঃ মোতিচন্দ্র বলছেন, ‘ভারত কলা ভবনে কুষাণ যুগ বা তার পূর্বের বলরাম বা কোনো নাগমূর্তি আছে — এগুলো রাজঘাট থেকে পাওয়া গেছে। আবার এখানেই পাওয়া কুষাণ যুগে নির্মিত এক স্তম্ভশীর্ষে যক্ষমূর্তি দেখা গেছে। … রাজঘাটে পাওয়া কুষাণ যুগের জিনিসপত্র দেখে মনে হতে পারে খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীতে শৈবধর্মের বিশেষ কোনো প্রচার ছিল না। কিন্তু এর মানে এই নয় যে বেনারসে শৈবধর্ম ছিলই না। আসল ব্যাপার হল যে, শৈবধর্ম তপস্যাপ্রধান। মনে হয় না যে এই সময়ে শৈবধর্মের কোনো সঙ্ঘ ছিল বা মূর্তিকলা নিয়ে বিশেষ আগ্রহ। হয়তো সেই জন্যেই বেনারসে শৈবধর্মের বহু পুরোনো অবশেষ খুব কম পাওয়া যায়।’ 

কুষাণ যুগে ব্যবসা-বাণিজ্যের দিক থেকে কাশী যে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল তা রাজঘাটে প্রাপ্ত মুদ্রা ও সীলমোহর থেকে সহজেই অনুমান করা যায়। জানা যায় তৎকালীন সমাজে ব্যবসায়ীদের গুরুত্ব ও তাদের শ্রেণীবিন্যাসের কথা।

(ক্রমশ)

প্রথম অধ্যায় কালভৈরবের সন্ধানে প্রথম পর্ব

দ্বিতীয় অধ্যায় ঘাটে ঘাটে প্রথম পর্ব

তৃতীয় অধ্যায় ফিরে দেখতে যাওয়া প্রথম পর্ব

Disclaimer
The views and opinions expressed in this series are solely those of the author and do not represent the views, policies, or positions of any organisation, institution or society of any kind or the government. The content of this series is written in the author’s personal capacity and does not reflect any official information or stance.

Author

Leave a Reply