মেদিনীপুর লোকাল। পর্ব ১৮। বাড়িওয়ালা: দ্বিতীয় পর্ব। লিখছেন আদিত্য ঢালী

সুস্বাদু খাবার না খেলেই মনটা বিগড়ে থাকে। সুস্বাদের সাথে মন ভালো রাখার একটা সমানুপাতিক সম্পর্ক আছে। ভালো খাবারের কথা শুনলেই মন যেমন হাওয়ায় ভেসে বেড়াতে শুরু করে তেমনি ভালো খাবার দেখলেই আমাদের অজ্ঞাতেই জিভ ভিজে যায়। আমরা যারা মিলেনিয়াল, আমরা যারা সোহাগী তাদের যেন কথায় কথায় ভালো খাবার মানেই বাইরের খাবারের কথা মনে হয়। এদিকে ঘরের খাবারে মন ভরে না। ঘরের লোক আজীবন রেঁধে খাওয়ালেও মন কিছুতেই ভরে না। খুঁত আমাদের ধরতেই হবে। বলা ভালো আমিও কিন্তু এই দলের সদস্য ছিলাম। ছিলাম বলছি এই কারনেই কারন এখন আর নেই। এখন বাড়ির খাবার খাওয়ার জন্য জেন তেন প্রকারনে সুদূর ১৫০ কিলোমিটার দূর থেকেও প্রতি ছুটিতে আসা চাই। যত বাড়ির বাইরে গিয়েছি বাড়ির টান তত বেড়েছে। বিগত চার বছরে বাড়ির স্মৃতিকে আকড়েই বেঁচে থাকার রসদ জোগাড় করে গিয়েছি। আর তার সাথে ছিল পাহাড় প্রমাণ এক আশা। কবে ফিরব বাড়িতে? বাড়ির বাইরে থাকতে গিয়ে বাড়ির প্রেমে পরে যাওয়া। নতুন কিছু নয় হয়ত। তবে আমাদের সকলেরই কম বেশি এই অভিজ্ঞতা হয়েছে। আর অভিজ্ঞতা থেকেই তো প্রেম আরও প্রকট হয়।

ছোটোবেলায় বাড়ির পাশেই ছিল মস্ত বড়ো সিনেমাহল। সিনেমাহলের চারধারে ছিল বিভিন্ন ধরনের খাবারের দোকান। সকাল থেকে রাত অবধি পাওয়া যেত হরেকরকম খাবার। এক দৌড়ে কোনোদিন দুপুরে ছুটেছি আলুরদম আনতে তো কোনোদিন কাকার লেজুর হয়েছি হোটেলের খাবার খাওয়ার জন্য। প্রতিবার মনে হয়েছে আহা! বাড়ির থেকে ভালো। কারখানার কর্মীদের জন্য ছিল দুটো মস্ত বড়ো হোস্টেল। আমরা যারা বাইরের লোক ছিলাম তারাও মাঝে মাঝে যেতাম খেতে। পাতলা ডালের জল দিয়ে ভাত মেখে খেতে সে যে কী মায়াময় লাগত তখন বলে বোঝানো যাবে না। এদিকে বাড়ির ঘন ডাল মুখে রুচত না। তখন কে আর জানত এই বাড়ির খাবার খাওয়ার জন্যই একসময় হন্যে হয়ে সারা সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে। মাঝে মাঝে না খেয়েও থাকতে হবে।

প্রায় একবছরের উপর যখন হোটেলের খাবার খেয়ে তিতিবিরক্ত তখন ঠিক করেই নিয়েছিলাম আর পারা যাবে না এবারে রান্না করতেই হবে। শুরুর দিকে হোটেলের খাবার মন্দ ছিল না। বেশ কয়েকপদ সাজিয়ে খেতে বসতে বেশ লাগত। কিন্তু যত দিন যেতে লাগল তত জেন একঘেয়ে হতে লাগল। খাবারের মানও যেন দিন দিন বেশ কমতে লাগল। তারমধ্যে হাতে সময় থাকত মাত্র তিরিশ মিনিট। এই সময়ের মধ্যে কাউন্টার থেকে উঠে বাথরুমে গিয়ে ধুলো ময়লা মাখা হাত মুখকে সাবান দিয়ে রগড়ে পরিষ্কার করতেই চলে যেত অনেকক্ষণ। এরপর সিড়ি দিয়ে নীচে নেমে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে খেতে গিয়ে বসে খেয়ে দেয়ে আবার ফিরে এসে কাউন্টারে ঢুকতে হতো ঐ তিরিশ মিনিটের মধ্যেই। খাওয়ার পর একটু রিল্যাক্স হওয়ারও সু্যোগ নেই। সকালে সেরম কিছু খাওয়া হতো না। কাজেই খিদে থাকত চুড়ান্ত। পেট ভরে খেতাম। খাওয়ার পর মনে হতো একটু যদি বিশ্রাম নেওয়া যেত মন্দ হতো না। কিন্তু উপায় কই? ধীরে সুস্থে হেঁটে আসারও উপায় থাকত না। এত তাড়া থাকত। কোনোদিন যদি মিনিট পাঁচেকও দেড়ি হতো সাথে সাথে ফোন চলে আসত কখন আসছি সেটা জানার জন্য। এমত অবস্থায় ভিড়ের ঠেলায় এমনও অনেক দিন যেত যেদিন খেতে যাওয়ার সৌভাগ্যটুকুও হতো না। এদিকে রাতেরবেলাতেও খাবার জুটত না। ওই ম্যাগি, পাউরুটি না হলে গোটা কয়েক বিস্কুট লেখা থাকত কপালে। গরম ভাত খেতে খুব ইচ্ছে করত। শীতকাল হলে গোল গোল করে বেগুন ভাজা, ঘি আর গরম ভাত। কিন্তু জুটত না। আমার ঘরের ঠিক নীচেই ছিল একটি কুঁড়ে ঘর। তাদের রান্নাঘরটি ছিল বাইরের দালানে। আমার জানালার একদম নীচে। রোজ রাতে তারা রান্না করত। খুব বেশি কিছু না হয়ত ডাল একটা তরকারি বা হয়ত বেগুন বা আলু ভাজা। আমি উপর থেকে দেখতাম। লোভ হত ঐ একটুকু গরম খাবারের জন্য। কিন্তু অপেক্ষা করে থাকতে হত সপ্তাহান্তের জন্য। কবে বাড়ি ফিরব আর বাড়ি একটু গরম ভাত খাব। একদিন দুপুরে খেতে যেতে পারলাম না ভিড়ের ঠেলায়। নিজের ঘরে যখন ফিরলাম তখন প্রায় সন্ধ্যে সাড়ে ছয়টা। ঘরে এসে দেখি কোনো খাবার নেই শুধু চারটে বিস্কুট অবশিষ্ট আছে। বাইরে বেড়িয়ে যে কিছু কিনে আনব সে উপায়ও নেই। তুমুল বৃষ্টি শুরু হয়েছে। সেই রাতে কপালে জুটেছিল ঐ চারটে বিস্কুট আর জল। সেদিনই ঠিক করলাম রান্নার ব্যবস্থা করব। অন্তত চালে ডালে ফুটিয়ে খাব। যাই হয়ে যাক না কেন। ইউটিউব দেখে একটা রাইস কুকার কিনব বলে ঠিক করলাম। তাতে যেমন ভাত, খিচুরি ইত্যাদি করা যায় তেমনি আবার দু-চার রকমের তরকারি করে নেওয়া যায়। যেমন ভাবা তেমনি কাজ। অনলাইনে অর্ডার করলাম। দুদিন পর ডেলিভারি।

সেদিন সকাল থেকেই আকাশে মেঘ করেছিল। কিন্তু বৃষ্টি হয়নি। দুপুরে এসে আমায় ডেলিভারি দিয়ে গেল। কাজ শেষ হতেই গেলাম বাজারে। প্রথমেই কিনলাম এক কেজি বাসমতি রাইস। খাব যখন ঠিক করেছি প্রথমবার একটু ভালো ভাবেই হোক। প্রথমদিনের মেনু আগে ঠেকেই ঠিক করে রেখেছি। গরম বাসমতি চালের ভাত, ডাল আর আলুর তরকারি। চালের সাথে ডাল নিলাম। সাথে নিলাম ছোট ৫০০ গ্রাম বোতলের সর্ষের তেল, ৫০ গ্রামের ঘিয়ের বোতল, হলুদ গুঁড়ো, নুন, চিনি, জিরের গুঁড়ো। সব্জির দোকানে গিয়ে নিলাম আলু আর পেঁয়াজ। ঘরে ফিরলাম। বৃষ্টি নামল। হাত মুখ ধুয়ে খানিক বিশ্রাম নিয়ে রান্না করতে বসলাম। আগে ডাল ধুয়ে এনে বসিয়ে দিলাম। পরিমাণ মত নুন আর চিনি আর কাঁচালঙ্কা দিয়ে ঢাকনা চাপা দিয়ে রাখলাম। বেশিক্ষণ লাগল না ডাল হয়ে গেল। চেখে দেখলাম নুন ঝাল মিষ্টি সব ঠিক মতই হয়েছে। আর বেশ ঘনও হয়েছে ডাল। ডাল যখন হচ্ছিল তখনই আলু পেঁয়াজ কেটে রেখেছিলাম। রাইস কুকারে ভালো করে তেল দিয়ে আলু আর পেঁয়াজটা আগে ভেজে নিলাম। ভালোই ভাজা হল। এবারে অল্প জল দিয়ে লঙ্কা নুন মিষ্টি দিয়ে কিছুক্ষণ চাপা দিয়ে রাখলাম। এবারে ঢাকনা তুলে অল্প হলুদ গুঁড়ো অল্প জিরে গুঁড়ো দিয়ে ভালো করে সাঁতলিয়ে আবার ঢাকনা দিয়ে রাখলাম। নামানোর আগে ঘি ছড়িয়ে দিলাম। ভালোই গন্ধ বেড়িয়েছে দেখলাম। আলুগুলোও ভালো সিদ্ধ হয়েছে আর তরকারিতে রঙও ধরেছে ভালো। নামিয়ে নিলাম। এবারে ভাত বসলাম। প্রথমবারে চালের সাথে জলের অনুপাতে একটু ভুল হয়ে গিয়েছিল। পুনরায় জল দিতে হল। ভাতও হল। বাসমতি চালের গন্ধে সারা ঘর ম ম করছে। সব হয়ে যাওয়ার পরে বাসন সব ধুয়ে খেতে বসলাম। প্রথমবার নিজের হাতের রান্না করা খাবার। পরম তৃপ্তি করে খেলাম। রাতে ভালো ঘুম হল। সকালে অফিস যাওয়ার আগেও আলু সিদ্ধ দিয়ে গরম ভাত খেয়ে গেলাম। রাতে সেদিন ছিল খিচুরি আর আলু ভাজা। এর মাঝেই বাড়িওয়ালা এসে বাইরে থেকে ঘুরে গেছে। আমি আন্দাজ করেছিলাম যে কী এনেছি সেটা দেখতে উনি আসবেই। এসেছেও। কিছু বলেনি। আমিও কিছু বলিনি। ঝড়ের আগে যেমন সব কিছু থম মেরে থাকে এদিকের পরিবেশও যেন সেরমই ইঙ্গিত দিচ্ছে। কিন্তু আমার মনে ফুর্তি আছে। দিব্য রান্না করছি খাচ্ছি অনেকদিন বাদে একটু যেন আরাম পাচ্ছি। মনের আরাম। প্রাণের আরাম। ঠিকও করে নিয়েছি দিন দুয়েক বাদে একদিন চিকেন ট্রাই করব। আগে থেকে রেসিপি দেখে বানানোর কৌশলও ঠিক করে নিয়েছি। কিন্তু ওই যে বললাম ঝড় ওঠার পূর্বাভাস ছিল। সন্ধ্যেবেলা অফিস থেকে ফিরে সবে ব্যাগটা রেখেছি আমার বাড়িওয়ালা এসে হাজির। মুখটা রামগরুরের ছানার মতো। আজীবন যেন কেউ হাসতে মানা করেছে। ঘরে এসে যা বলল তার সারমর্ম এই আগামী হপ্তা দুয়েকের মধ্যে আমায় ঘর ছেড়ে দিতে হবে ওনার নাকি বাড়ির কাজ চলছে। সম্পূর্ণ একা পাড়াগাঁয়ে থাকি। নিজের বলতে কেউ নেই এখানে। বাড়ির মালিক যা বলবে তা শোনা ছাড়া আর কোনো উপায় আছে বলে সেই মুহূর্তে আমার মনে হলো না। মাথা নেড়ে সম্মতি জানালাম। পরেরদিন অফিসে গিয়ে বলতে যিনি বাড়িটা ঠিক করে দিয়েছিলেন তিনি বললেন উনি একবার কথা বলবেন। এদিকে আমিও অন্য বাড়ির জন্য সবাইকে বলে রাখলাম। বাড়ি পাওয়াও গেল একটা। প্রথম দেখে পছন্দ হলো। একটু ময়লা ঠিকই কিন্তু পরিষ্কার করে নিলে অসুবিধে হবে বলে মনে হয় না। ঘরের মধ্যে বাথরুম ও রান্না করার জায়গা আছে। এখানেই আসব ঠিক করে নিলাম। দুদিন হয়ে গেল সেই ভদ্রলোক কিছু জানালো না। আমি সেই মাসের ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে জানিয়ে দিলাম পরশু বাড়ি ছেড়ে দেব। একটা ভ্যান ঠিক করলাম। সকালবেলা সমস্ত কিছু গুছিয়ে ভ্যানে করে পাড়ি দিলাম নতুন বাড়িতে। বাড়িওয়ালা যাওয়ার সময় কাছেও আসেনি কিছু বলেও নি। আমিও কিছু বলিনি। একটা ঝাঁটা ছিল সেটা আর নিলাম না।

নতুন বাড়িতে এলাম। হার্ডওয়ারের দোকান থেকে ফিনাইল, অ্যাসিড বাথরুম পরিষ্কার করার ব্রাশ, ঘর মোছার স্ট্যান্ড সব কিনে আনলাম। রগড়ে রগড়ে মুছলাম। কিন্তু সেই দাগ থেকেই গেল। উঠল না। বিজ্ঞাপনেও ঠিকই বলে কুছ দাগ আচ্ছে কে লিয়ে হোতা হ্যায়। সব দাগ না। ক্লান্ত হয়ে অফিসে এলাম। ঠিক করলাম সন্ধ্যেবেলা ফিরে আবার ট্রাই করব। সন্ধ্যেবেলা ফিরলাম। সারা ঘরে জলে জলাকার করে ফিনাইল, অ্যাসিড, সার্ফ সব দিয়ে পরিষ্কার করার চেষ্টা করলাম। কিন্তু কিছুতেই মেঝের দাগ আর তার স্যাতস্যাতে ভাব কাটানো গেল না। ঘর জলময় হয়ে রইল। একটা ভাসন্ত দ্বীপের মত আমি খাটের উপর বসে রইলাম। দুদিন থাকার পরেই মনে হল এ বাড়িতে থাকা যাবে না। এদিকে এই স্যাঁতস্যাঁতে ঘরে একদিন আলুসেদ্ধ ভাত খেয়েছিলাম। তারপর থেকে আর রান্না করতেও ইচ্ছে করেনি। যতদিন না অবধি একটা ঠিকঠাক থাকার মতো বাড়ি পাচ্ছি ততদিন বাড়ি থেকে যাতায়াত করব। রোজ সকাল সাড়ে পাঁচটায় উঠে ছটা দশের ট্রেন ধরে যেতাম আবার বিকেল পাঁচটা পয়তাল্লিশের ট্রেন ধরে ফিরতে ফিরতে প্রায় রাত নটা বেজে যেত। এরকম ভাবে প্রায় একমাস চলার পর একটা বাড়ির সন্ধান পেলাম। পেয়িং গেস্ট টাইপের। খাবার দাবারও পাওয়া যাবে। কিছুটা নিশ্চিন্তি। কিন্তু মুশকিল হলো অফিস থেকে প্রায় কুড়ি কিলোমিটার দূরে বাড়িটি। স্টেশনের কাছে। উপায় নেই আর কোনো। রোজ রোজ আট ঘন্টা যাতায়তের থেকে দুঘন্টা যাতায়ত অনেক ভালো ও স্বাস্থ্যকর। কাজেই নিয়ে নিলাম। ঠিক ঠাক সেটেল ও করে গেলাম। রোজ সকালে সাড়ে আটটার বাস ধরে অফিস আবার সাড়ে পাঁচটার বাস ধরে ফেরা। সকালে খেয়ে যাই আবার রাতে এসে খাই। খাবার যা দেয় তাতে কোনো রকমে চলে যায়। শুধু আলুগুলো ঠিকঠাক ভাজা হয় না, তারপর আলু ফুলকপির তরকারির মধ্যে চারটে পটল গুঁজে দেওয়া থাকে, আবার ডিমের ঝোলকে ঝোলের থেকে জল বললে বোধহয় সঠিক বলা হয়। শুধু তার রংটা আলাদা হলুদ আর লঙ্কাগুড়োর জন্য আর কটা পেঁয়াজ কুচিয়ে দেওয়া। কিছু না পাওয়ার থেকে এইটুকুতে চলে যায় সেটাই অনেক। মানিয়ে নেওয়া ছাড়া উপায় রইল না আর। সুবিধা বলতে যেটা ছিল সেটা হলো স্টেশন ও বাজার সংলগ্ন হওয়াতে খাবার দাবারের কিছু দোকান আছে। অন্তত মুড়ি চপ চাইলেই পাওয়া যায়। যদিও খুব বেশিদিন লাগেনি মানিয়ে নিতে। বলা বাহুল্য মেনে নিতে। রোজকার এই যাতায়তের চক্করে পুরোনো কথা ভুলেই গিয়েছিলাম। হঠাৎ একদিন দেখা সেই ভদ্রলোকের সাথে যিনি আমার প্রথম বাড়িটি ঠিক করে দিয়েছিলেন। সেই বাড়িটি যার বাড়িওয়ালা আমায় দেখে কথা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। সেই বাড়ি যেখানে আমি নিজে হাতে রেঁধে একটু সুখাদ্য খাওয়া শুরু করেছিলাম, সেই বাড়িওয়ালা যিনি আমায় হঠাৎ এসে উঠে যেতে বলেছিলেন। ভদ্রলোকের সাথে দেখা হওয়াতে প্রথমে উনি একটু সংকোচ বোধ করছিলেন। আমি ওনাকে ধাতস্থ করার পর উনি যা বললেন তার সারমর্ম করলে দাঁড়ায়- উনি খুব দুঃখিত কারণ ওনার ঠিক করা বাড়িটি আমাকে এক বছরের মধ্যেই ছেড়ে দিতে হলো। যদিও উনি প্রথমেই বলেছিলেন কমপক্ষে তিন বছর এখানে আমি থাকব তাও আমায় উঠে যেতে হল বলে উনি খুব দুঃখিত। বাড়িওয়ালা বাড়ি ছেড়ে দিতে বলেছে এটা আমি ওনাকে বলার পর উনি গিয়েছিলেন কথা বলতে কিন্তু বাড়িওয়ালা আমার সম্বন্ধে যা বলেছে তা শোনার পর উনি লজ্জায় আর আমার সাথে দেখা করতে পারেননি। আমি ভাবলাম হয়ত আমার নামে কোনো নিন্দে করেছে। কিন্তু নিন্দে করার মত কোনো কাজ আমি তো সেরম করিনি। মাঝে মাঝে বৃষ্টির দিনে একটু আমেজ নিতে বা প্রচণ্ড শীতের হাত থেকে বাঁচতে আমি গুলজারের কবিতা বা কোনো গজলের সাথে একটু মদ্যপান করেছিলাম আর মাঝে মাঝে নেশা যখন একটু চড়ত তখন সিগারেটের ধোঁয়া ছেড়ে ছেড়ে হেঁড়ে গলায় কখনও তারাপদ রায় কখনও জয়দেব বসুর কবিতা পড়েছিলাম বই থেকে। কিন্তু গলার জোর এতটাও বেশি ছিল না যে নীচের ঘর অবধি পৌছাবে! তাহলে? উনি খানিক আমতা আমতা করে বললেন “আসলে বাড়িওয়ালা আপনাকে বাড়ি ছেড়ে দিতে বলেছিলেন কারণ আপনি নখ কেটে জমিয়ে রেখেছিলেন, তাতে ওনার ঘর অপরিষ্কার হয়ে যাচ্ছিল তাই”। আমি প্রথমে হতভম্ব হয়ে যাই। তারপর মাথা শান্ত করে ভাবার চেষ্টা করি। হাতের নখ তো আমি অর্ধেকের বেশি দাত দিয়েই কেটে ফেলি। কোনোদিন হয়ত বাড়ি থেকে নখ কেটে আসতে ভুলে যাওয়ায় পায়ের নখ কেটে থাকতে পারি। দোতলা থেকে কোথায় ফেলব না বুঝে হয়ত সাইডে রেখে দিয়েছিলাম পরেরদিন ফেলব এই ভেবে। এর জন্য এত বড় শাস্তি!

+ posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *