কাগজের নৌকো। পর্ব ২৪। ধারাবাহিক উপন্যাস। লিখছেন সায়ন্তন ঠাকুর

বসে আছি বাসরাস্তার ধারে একটা ছোট চা-গুমটির ভিতর। কাঁচা বাঁশের জোড়া বেঞ্চ মুখোমুখি পাতা। খর চৈত মাসের রোদ্দুরে ঝলসে যাচ্ছে চারপাশ। সকাল মাত্র এগারোটা বাজে, এরমধ্যেই আকাশের রঙ কেমন ফ্যাকাশে। রাঢ় বাঙলার ধুলো উড়ছে গরম বাতাসে। দু একট ভিড় ঠাসা বাস,সাঁইথিয়া থেকে আনা ময়ুরাক্ষী নদীর ধূ ধূ চরের বালি বোঝাই লরি মাঝেমাঝেই সশব্দে পার হয়ে যাচ্ছে এই ক্ষুদ্র জনপদ। গাঁয়ের নাম কোটাসুর। সেই কোন সকালে বহরমপুর স্ট্যান্ড থেকে উঠে বসেছিলাম বাসে। ‘মা তাঁরা সুপার এক্সপেস’! পেল্লায় ভিড় বাসে। মুর্শিদাবাদের সদর শহর বহরমপুর থেকে যে রাস্তাটা গঙ্গা পার হয়ে বাঁদিকে ঢুকে পড়েছে সেটা ধরে খানিকদূর এগোলেই শুরু হয়ে যাবে রাঢ়দেশ। পিচ রাস্তার দুপাশে লাল কাঁকড় আর বাবলা গাছের সারি। ছেলে বিয়োনো পোয়াতির মতো রক্তশূন্য মাঠ। এসব জায়গার জমি জল পায় না তেমন। মোটা চাল, আলু, আঁখ, খেসারির ডাল অল্প সর্ষে-ফসল বলতে এই। এবার এদিকে খরা। তেতে ফাল হয়ে আছে জমি। শুধু বিবাগী বাতাস কেঁদে মরছে নিজের মনে। কী যেন আছে এই বাতাসের ঝাপটে। মনে হয়,কেউ কোথাও নেই,কারোর সঙ্গে দেখা হওয়ার ছিল না, শুধু একলা হেঁটে যেতে হবে অনেকটা পথ। দু’পা এগোলেই ভাঙা ইঁট বের করা শিব মন্দির। প্রায় সব গাঁয়ের মুখে লোহার মরচে ধরা ত্রিশূল পোঁতা কালী নাহলে মাটির ছোট ছোট ঘোড়া সাজানো শীতলার থান। ধম্ম ঠাকুরও আছেন।

 

সেসব পার হয়ে এসে নামলাম কোটাসুরে। আমাকে নামিয়ে দিয়ে রাস্তাটা সোজা চলে গেল সাঁইথিয়া হয়ে সিউড়ির দিকে। আরেকটা রাস্তা ডানদিকে বাঁক নিয়ে বীরচন্দ্রপুর হয়ে তারাপীঠ। বীরচন্দ্রপুর, নিত্যানন্দ প্রভুর পাট,জন্মস্থান। ভারী প্রাচীন জনপদ এই কোটাসুর। সেই মহাভারতের একচক্রা গ্রাম। পাণ্ডবদের অজ্ঞাতবাসের সময় ভীম নাকি এখানেই বধ করেছিলেন বক রাক্ষসকে। আঁখের গুড় দিয়ে ফোটানো চায়ের গেলাস হাতে নিয়ে এসব কথাই ভাবছিলাম। কোথায় যাব তেমন ঠিক নেই কিছুই। ইচ্ছে, দিনমানে ঘুরে বিকেলে সাঁইথিয়া থেকে কলকাতা ফেরার ট্রেন ধরব নাহলে আরেকটা বাস ধরে চলে যাব মল্লারপুরের দিকে। অনেক বছর আগে এক অবধূতের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল,তাঁর ডেরা ওই মল্লারপুরের কাছে এক শ্মশানে। দিন দুয়েক কাটানো যাবে সেখানে। চা দোকানিকে একটা বিস্কুট চাইলাম। ময়লা বয়াম থেকে লাল-হলুদ রঙা একটা বিচিত্র বিস্কুট বের করে দিতে দিতে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তা বাবু যাবিন কুনঠি ?’

–দেখি, মল্লারপুরের বাস পাব এখান থেকে ?

–মল্লারপুর ? বাসটো পাবেন লাই, হুই সাঁইথে থিকা পাবেন!

‘মল্লারপুরে কারঠে যাবি বটে  তু?’, একটা ভারী গলার আওয়াজ শুনে চোখ ফেরালাম। বেঞ্চের একপাশে বসে আছে একজন মাঝবয়সী মানুষ। ধুলোয় খসখসে শরীর। মুখে দাড়ি গোঁফের জঙ্গল। মাথার জটা পাকিয়ে কাঁধ অবধি নেমেছে। পরনের রক্তাম্বর কোনও এককালে টকটকে লাল ছিল বোঝা যায়। এখন ময়লা তেলচিটে। খালি পা। শুধু চোখ দুটো ভারী অদ্ভুত, কেমন যেন প্রাণহীন। মরা মরা ঘোলাটে। একটু অবাক হয়েই শুধোলাম, ‘আপনি ?’

লোকটি কিছু বলার আগেই চা দোকানি নিজেই বলে উঠল, ‘উর কুথা ধরবেন লাই বাবু, মাতার ঠিক লাই উয়ার।’

–চোপ! শালো! মুর মাতার ঠিক লাই ?! কুন শতেক খোয়ারির ব্যাটা বুলে শুনি!

‘বেইরে যা,ভাগ শালো দুকান থিকে!’, চা দোকানিও গর্জে ওঠে। দু চারটে লোক জুটে যায়। সব চাষাভুষো মানুষ। মাছ ধরার নীল জাল কাঁধে দু একজনও রয়েছে ভিড়ে। লোকটাও চিৎকার করতে থাকে,’বাঁকুকে তু চিনিস লাই! মুর মাতার ঠিক লাই ? মুর মাতার ঠিক লাই ?’

তারপর হঠাৎ আমার দিকে ফিরে জিজ্ঞাসা করে, ‘কুন অবদুতের ডিরায় যাবিক শুনি ? দীনু মহাআজ ?’

কথাটা শুনেই চমকে উঠলাম। লোকটা জানল কী করে! আশ্চর্য তো! মনের ভিতর কে যেন টিকটিক করে উঠল। বারবার এমন সব আশ্চর্য মানুষজনের সঙ্গে দেখা হয়ে যায় আমার । ঘরে ফেরার রাস্তা আর সোজা থাকে না তখন। উদাসী বাতাসের মতোই এলোমেলো হয়ে যায় ঘর সাকিন। তারপর পকেটে টান ধরে, এক চাকরি থেকে বেরিয়ে আরেক চাকরি খুঁজতে হয়। ধারদেনা আর অভাবের সমুদ্র স্রোতে উথালপাতাল হয় দিন এবং রাত্রি। তবুও ছাড়তে পারি না এইসব নেশা। কে যেন তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায়। কানে কানে বলে যায়, কী বিচিত্র এই জীবন,দেখবে না তুমি ?  দেখবে না ?

 

তাড়াতাড়ি চায়ের দোকানে দাম মিটিয়ে বাইরে বেরিয়ে এলাম। দোকানি তখনও তারস্বরে চিৎকার করে যেতে থাকে। ছোটখাটো ভিড় জমে উঠেছে দোকানে ততক্ষণে। গাঁ গঞ্জে এই ঝগড়া একপ্রকারের আমোদ বিশেষ। নিস্তরঙ্গ ঘটনাহীন জীবনের চাখনা! একটা মনিহারী দোকান, পান সিগারেটের গুমটি, মুদিখানার দোকান, মোবাইল ফোনশপ ছাড়িয়ে বাঁকু নিজের মনে হেঁটে যেতে থাকে। হা হা বাতাসে পাক খেয়ে উড়ছে শুকনো পাতা। ভেসে বেড়াচ্ছে লাল ধুলো। দূরে মাঠের সীমানা। রোদ গলে গলে পড়ছে দিকচক্রবালরেখার ওপর। লি লি করে কাঁপছে দূরের গাছপালা। সমস্ত সবুজ রঙ যেন শুষে নিয়েছে সেই ছোটবেলার গল্পে পড়া ডাইনী বুড়ি। সাদা শনের মতো বিবর্ণ তার চুল ঢেকে ফেলছে চরাচর।

পা চালিয়ে একটু দ্রুত এলাম বাঁকুর কাছে। পিছন থেকেই গলা তুলে ডাকলাম, ‘শুনছেন ?’

কোনও উত্তর না দিয়েই হেঁটেই চলেছে সে। আবার একবার ডাকলাম, ‘ও দাদা,শুনছেন ?’

ঘুরে তাকাল বাঁকু। চোখদুটো ঘোলাটে,যেন কিছুই দেখছে না। লাল ধুলো সারা শরীরে। বেলা প্রায় দ্বিপ্রহর। ওর নিজেরই ছায়া লুটোপুটি খাচ্ছে ফুটিফাটা নগ্ন পায়ের তলায়। পিছনে চালচিত্রের মতো এক আকাশ কঠিন চৈত্র মাস। একপলক দেখে আমার কেন জানি না হঠাৎ মনে হল, এক প্রাচীন নটসম্রাটের সামনে আমি দাঁড়িয়ে আছি। যে নট আমাদের সংসার খেলার মধ্যে শুধু ভেসে আছে কোন অলৌকিক উপায়ে। ভেসে আছে কিন্তু আমার মতো আমাদের সব্বার মতো ডুবে যাচ্ছে না।

 

‘কী বুলছিস তু ? মুর পোঁদে পোঁদে আসছিস কেনে ?’, রুক্ষ্ম কঠিন গলায় আমাকে হেঁকে ওঠে বাঁকু।

–আজ্ঞে,একটু কথা ছিল!

–কী,কী কুথা ? দীনু মহাআজের নাম বুললাম ক্যামনে ?

আবার চমকে উঠলাম নিজের মনেই। মুখে বললাম, ‘হ্যাঁ,মানে,আপনি…’

কথা শেষ করতে না দিয়েই বলে ওঠে বাঁকু, ‘চল্‌ মুর সনে!’

–কোথায় ?

–এত যদি ভয় তুর,মাগীর আঁচলের তলে শুগা না ক্যানে! পতে নামিছে! হঃ

 

হাঁটতে থাকি দুজনে। রোদ্দুরে গায়ে জ্বালা ধরে। চামড়া খসখস করতে থাকে। কেউ কোনও কথা বলি না। দুপাশে ঝিমধরা মাঠ। মাঝে মাঝে দু চারঘর খোড়ো চালের মেটে বাড়ি। গাছ গাছালি ঘিরে আছে। তারাও যেন ধুঁকছে এই ঠা ঠা রোদ্দুরে। একটা বুড়ো অশ্বত্থ গাছ মাঠের মাঝখানে পুরনো দিনের একান্নবর্তী পরিবারের মতো ঝুড়ি নামিয়ে দাঁড়িয়ে আছে একাকী। কিছু সজল ছায়া তৈরি করেছে এই খর দ্বিপ্রহরে। সরু ক্যানেলের ওপর নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো পার হয়ে এলাম আমরা। ঘোলা কাদামাখা জলে হাত জাল দিয়ে মাছ ধরছে একজন লোক। বাঁকু হেঁকে বলে ওঠে, ‘ও হারাণ, চাট্টি মাছ দিবিনে ? অতিথ আইছে যি!’

লোকটি মুখ তুলে হেসে শুধোয়, ‘কে এলি গ তুমার ঘরে বাবা ?’

–পতের অতিথ রি!

সারা গায়ে কাদাজল মেখে ওপরে উঠে আসে হারাণ। আমাকে দেখে দুহাত জোড় করে কপালে ঠেকিয়ে বলে, ‘পেন্নাম বাবু!’

আমিও প্রতি নমস্কার করি হাত তুলে। বাঁকুর দিকে তাকিয়ে হারাণ জিজ্ঞেস করে, ‘তা মাচ লেবা কীসে ?’

ধুতির গেঁজ থেকে একটা দোমড়ানো প্লাস্টিকের প্যাকেট বের করে বলে, ‘ইতে ভরি দ্যা’

হারাণ নীচে নেমে একটা ছোট হাঁড়ি থেকে কিছু পাঁচমেশালি কুচো মাছ প্লাস্টিকে ভরে নিয়ে আসে। একটু হেসে প্যাকেটটা হাতে নিতে নিতে বাঁকু বলে ওঠে, ‘ঘরে পুরান কালা তেঁতুল আছে,টক রাঁধব!’

 

হারাণের সঙ্গে একটু কথা বলে আবার এগিয়ে চলি আমরা। একটা সিগারেট বের করে ধরাই আমি। বাঁকুর দিকে এগিয়ে দি একটা। আড়চোখে আমার দিকে চেয়ে গেঁজ থেকে দেশলাই বের করে চলতেই চলতেই অদ্ভুত কায়দায় সিগারেট ধরিয়ে নেয়। একটা লম্বা ধোঁয়া ছেড়ে আমাকে জিজ্ঞেস করে, ‘তুর ঘর ইদিকে তো লয়! কুথা ? কলকেতায় ?’

–হু

–দীনু মহাআজকে চিনলি ক্যামনে ?

–ওই একদিন তোমার মতোই আলাপ হয়ে গেছিল!

–ইসব ভালা পত লয়। যার তার লেগে ঘুইরে মরিস ক্যান ?

একটু থেকে সটান আমার চোখে চোখ রেখে প্রশ্ন করে, ‘কীসের লিগে এত তনছিট তুর ? ঘরে তো সবাই আছেক তুর! কার লিগা চোখে ওমন ছায়া ?’

কী বলি আর! এসব কথার কোনও উত্তর হয় না। চুপ করে থাকি। ফের বলে ওঠে বাঁকু, ‘ঘর যা! কিছুই মিলবে না তুর! হয়রান সার হবেক!’

 

পায়ে পায়ে বাঁকুর ঘরে এসে যখন পৌঁছাই। ভন্যি দুপুর। গাঁ গঞ্জ লোকালয় ছাড়িয়ে একটেরে মেটে ঘর। চালের খড় পচে গেছে এখানে সেখানে। সামনে উদোম মাঠ। একটু দূরে একটা টলটলে পুকুর। ভরা চৈতেও বেশ জল। ত্রিসীমানায় জনমনিষ্যি নেই। দাওয়ার পাশেই এক প্রকাণ্ড মহানিম গাছ। নিম পাতার ঝিরিঝিরি বাতাস আর ছায়ায় শরীরটা জুড়িয়ে যায়। সারা উঠোন ঘেঁটু ফুলে ভরা। মাঝখানে একটা মাটির থান। হাত দুয়েক উঁচু হবে। ওপরে ত্রিশূল পোঁতা। জিজ্ঞেস করি, ‘এই তোমার সাধন পীঠ ?’

মাটির আখা সাজাতে সাজাতে বাঁকু হেসে বলে, ‘ওই বিটিকে লিয়েই দিন রাতটো কাটে রে মুর!’

 

দুপুরে বাঁকুই রান্নাবান্না করে। মোটা চালের ভাত,কী একটা বুনো ফল সেদ্ধ, টকটক স্বাদ। লবণ দিয়ে মেখে গরম ভাতের সঙ্গে বেশ লাগল। আর সেই পাঁচমেশালি কুচো মাছের চোখা তেঁতুল দিয়ে চটচটি টক। খাওয়ার আগে পুকুরের জলে নেয়ে এলাম। আহ! কী ঠাণ্ডা জল! বাঁকু শুকনো শালপাতায় ভাত,মাছ সাজিয়ে উঠোনের থানে রেখে একটা সস্তার ধূপ জ্বালিয়ে অনেকক্ষণ ধরে নিবেদন করল। অদ্ভুত দৃশ্য সে এক! খালি গা, লাল ধুতি কোমরে জড়ানো,টপটপ করে সারা গা থেকে জল ঝরে পড়ছে,বাবু হয়ে চোখ বন্ধ করে বসে রয়েছে বাঁকু। দামাল বাতাস ছুটে বেড়াচ্ছে সারা উঠোনে। কচি নিমপাতা খসে পড়ছে সারা শরীরে। বেলা পড়ে আসছে তখন। জেগে উঠছে কুহকিনী মধুমাস। মাঠে প্রান্তরে কী এক অপূর্ব আলো খসে পড়ছে কোন্‌ সুদূর হতে যেন। অবাক হয়ে ভাবি আমি, চৈত্রের এই দিনান্তে, জনশূন্য প্রান্তরে,এক ক্ষ্যাপাটে মানুষ তার ইষ্টদেবীকে রান্না করে ভোগ নিবেদন করছে কোন্‌ এক প্রাণের তাগিদে ! একেই কি পূজা বলে তবে ?

 

সে রাতটা বাঁকুর ঘরেই কাটে। কত কথা হয় দাওয়ায় বসে। সারারাত প্রায়। সমস্ত দিনের উষ্ণতা শেষে সব কাজ সাঙ্গ করে সেই চিরচঞ্চলা বালিকা তখন তাঁর স্নেহের হাতটি বুলিয়ে দিচ্ছেন সমগ্র চরাচরে। যেন মায়া নিদ্রায় ভুলিয়ে রাখছেন হা-ক্লান্ত জগতকে। তাঁরই ইশারায় বয়ে চলেছে মৃদুমন্দ মলয় বাতাস! বাঁকুকে জিজ্ঞেস করি, ‘এই যে লোকে তোমাকে মাথা খারাপ বলে, গাল দেয়, সত্যি করে বলো তো,কী পেয়েছো তুমি ? পেয়েছো সেই তাঁকে ?’

কিছুই বলে না বাঁকু। মুচকি মুচকি হাসে। গাঁজার ছিলিম হাত বদল হয় আমাদের। অনেকক্ষণ চুপ করে থেকে বলে ওঠে, ‘কী পাবু বুল দ্যাখি! এই মাঠ ঘাট হুই মহানিম গাছটো হুই মুর বিটির থান, কত পাখ পাখালি আসেক, সাঁঝ লাগার আইগে একঝাঁক বক নামে পুকুরটোতে,কী সাদা পেখনা উয়াদের, আলো পইড়ে ঝকমক করে, বাবার ফুল ঘেঁটু আলা করে থাইকে মুর উঠান…কী চাইবি বল ক্যানে!’

চুপ করে বসে থাকি আমি। খানিক পর নিজেই বিড়বিড় করে বলে বাঁকু, ‘কিচ্ছুটো চাই লাই! যেন বারবারেক ইখানটোতেই ফিইরে আসতে পারিক! ফিইরে আসতে পারিক!’

 

পরদিন ভোরে রওনা দি আমি। পিছনে পড়ে থাকে বাঁকু,ঘর দুয়ার,গাছ গাছালি, টলটলে পুকুর, কালীর থান, নিমপাতা ছাওয়া তার মায়ার সংসার!  সেখানে আমার ঠাঁই নাই। বাঁকুর মতো আমার ফিরে আসারও কোনও সুতা নাই! আমার পথ এগিয়ে চলেছে সামনে, সবার থেকে দূরে,অনেক দূরে।

 

সায়ন্তন ঠাকুর
লেখক | + posts

জন্ম পৌষ মাসে, রাঢ়বাংলার এক অখ্যাত মফস্বলে। সায়ন্তন মূলত মূলত গদ্য লেখেন। প্রকাশিত বইপত্তর-- নয়নপথগামী(উপন্যাস), শাকম্ভরী(উপন্যাস), বাসাংসি জীর্ণানি(গল্প সংকলন)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed