পরিবেশকর্মী হত্যা : একটি আলেখ্য। পর্ব ১৬। লিখছেন অনির্বাণ সিসিফাস ভট্টাচার্য

0

(গত পর্বের পর)

‘প্রথম বিশ্ব’ ও পরিবেশ-কর্মী আক্রমণ-হত্যা

২০১৯ সালে বুদাপেস্ট পার্লামেন্টের বাইরে রোমানিয়ার বৃক্ষচ্ছেদন-বিরোধী পোস্টার, প্রতিবাদ (ছবিসূত্র – বিবিসি)

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের হিসেব বলছে গোটা দেশে ৫ লক্ষ হেক্টর ভার্জিন এবং ওল্ড-গ্রোথ অরণ্য ছড়িয়ে আছে। দেশের ৭ শতাংশের ওপর অরণ্যে গাছেদের বয়স ১২০ বছরেরও বেশি। ইউরোপের ‘ন্যাচুরা টু থাউজ্যান্ড’ প্রোজেক্টের সংরক্ষিত এলাকার মধ্যে এই দেশের ৫৯৭টি অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত, পরিমাণ ৬,৩৬২ বর্গ কিলোমিটার। ২০২১-এ ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের তালিকায় ঢুকে গেছে কার্পেথিয়ান পাহাড়ের বিচ গাছের অরণ্য, যা ইউরোপের বেশ কিছু দেশের সঙ্গে ছড়িয়ে আছে এদেশেও। ভালুক, লিঙ্কস, বিরল কিছু বনবিড়াল, নেকড়ের বসবাস। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সবচেয়ে বেশি প্রাইমারি ফরেস্ট এই দেশেই, যা গোটা ইউরোপের নিরিখে দুই-তৃতীয়াংশ। পূর্ব ও দক্ষিণ কার্পেথিয়ানের ফার-স্প্রুস-বিচ গাছের প্রাচীন এবং নতুন বৃক্ষ মিলিয়ে ওল্ড-গ্রোথ ফরেস্টের এক চোখধাঁধানো সহাবস্থান। হ্যাঁ, রোমানিয়ার কথা বলছি। ট্রানসালভিনিয়া প্রাসাদের ফোকলোরের চেয়েও কঠিনতম, অবিশ্বাস্য এক রোমানিয়া। ২০১৪ থেকে ধরলে দেশের ফরেস্ট রেঞ্জার ও অন্যান্য পরিবেশকর্মীদের ওপর হয়ে গেছে সাড়ে ছশ’র ওপর আক্রমণের ঘটনা, যার ভেতর হত্যা ছ’টি। গ্রিনপিসের হিসেব বলছে, দিনে অন্তত ৬২টি করে অবৈধ গাছকাটার ঘটনা ঘটছে রোমানিয়ায়। বৃক্ষচ্ছেদন হচ্ছে প্রতি ঘণ্টায় ৩ হেক্টর করে, এখনও পর্যন্ত অবৈধভাবে কাটা কাঠের নিরিখে যার পরিমাণ বছরে ২০ মিলিয়ন কিউবিক মিটার। গ্লোবাল ফরেস্ট ওয়াচের হিসেবে ২০১০-এ দেশের ৩২ শতাংশ জুড়ে থাকা ৬.৩২ মিলিয়ন হেক্টর প্রাকৃতিক অরণ্য ২০২৩-এ হারিয়েছে অন্তত ১৭.৯ কিলোহেক্টর। দেখা যাচ্ছে কোম্পানিগুলি তাদের বৃক্ষচ্ছেদনের সাইটগুলি সম্পর্কে তথ্য না দিয়ে পুরোপরি ধোঁয়াশা তৈরি করছে – দেখা গেছে রোমানিয়ান কার্পেথিয়ান অরণ্যের মাত্র ২.৪ শতাংশ বা ১,৭০০ বর্গ কিলোমিটার অঞ্চল অবৈধ গাছকাটা থেকে সংরক্ষিত, বাকিটুকুতে খুল্লামখুল্লা লুটপাট।

রোমানিয়ার মাগুরি পার্বত্য অঞ্চলের বৃক্ষচ্ছেদন (ছবিসূত্র – মোঙ্গাবে)

এবং বৃক্ষরক্ষক? ২০১৯-এর মোট ১৬টি আক্রমণের মধ্যে দুটি আক্রমণ ফেটাল। মারামুরু অঞ্চলের কিছু অবৈধ গাছকাটার খবর পেয়ে তদন্তে গেছিলেন বছর তিরিশের রেঞ্জার লিভিউ পপ। অক্টোবরে অরণ্যের ভেতর দেহ খুঁজে পাওয়া যায় তিন সন্তানের পিতা লিভিউয়ের। তার একমাস আগে সেপ্টেম্বরে উত্তর-পূর্ব রোমানিয়ার পাসকানি অরণ্যের একটি কুখ্যাত লগিং সাইটে তদন্তকালীন বছর পঞ্চাশের রেঞ্জার রাদাকু গরসিওআইয়ার শরীরে পাওয়া মারণ-কুঠারের চিহ্ন। প্রায় হত্যার চেষ্টা থেকে অলৌকিক বেঁচে ফেরার গল্পও কম নয়। প্রেক্ষাপট ২০২১-এর সেপ্টেম্বর, রোমানিয়ার বুকোভিনার বছর কুড়ি ধরে ক্রমাগত বৃক্ষচ্ছেদনে কুখ্যাত হয়ে যাওয়া অথচ ছবির মতো সুন্দর সুকিয়াভা কান্টির পানাসি অঞ্চলের কার্পেথিয়ান অরণ্য। বৃক্ষচ্ছেদন নিয়ে একটি তথ্যচিত্র শুটিং-এ ব্যস্ত ছিলেন ছবির নির্দেশক ও ‘সোসাইটি অফ এনভায়রনমেন্টাল জার্নালিজম’-এর একজিকিউটিভ ডিরেক্টর মিহাই ড্রাগোলিয়া। সঙ্গে অন্যতম সহকর্মী রাদু মোকানু এবং একসময়ের লগার থেকে পরে সক্রিয় পরিবেশ-কর্মী হয়ে যাওয়া ‘এজেন্ট গ্রিন’ পরিবেশ-সংস্থার অন্যতম সদস্য টিবেরিউ বোসুতার। শ্যুটিং চলাকালীন হঠাৎ দশ-বারোজন লগারের দাপট। ৮,০০০ ইউরো মূল্যের ক্যামেরা, অন্যান্য যন্ত্র শেষ এবং লগিংয়ের মুহূর্ত তুলে নেওয়া একগুচ্ছ প্রমাণ নষ্ট। পাশাপাশি অতর্কিত আক্রমণ এবং ক্রমাগত আঘাতে মারাত্মক আহত হলেন টিবেরিউ, সাময়িক স্মৃতিবিলোপ হয় রাদু মোকানুর। কোনওক্রমে পাশেই একটি নিচু খাদে ঝাঁপ দিয়ে কোনওক্রমে বেঁচে এমার্জেন্সি নম্বরে ফোন করতে পেরেছিলেন তথ্যচিত্র-নির্দেশক মিহাই। সেখান থেকেই রেহাই। এবং গ্যাব্রিয়েল পন। ‘এজেন্ট গ্রিন’-এর প্রতিষ্ঠাতা-প্রেসিডেন্ট, দেশের পরিবেশ-আন্দোলনের অন্যতম মুখ তরুণ পরিবেশকর্মী গ্যাব্রিয়েলের ওপর নেমে এসেছে একাধিক আঘাত। তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনার প্রেক্ষাপট ২০১৫ সালের মে মাসে হুনেডোয়ারা কান্টির রেটেজাট পাহাড়ের রাউল আল্ব ভ্যালি। একটি মাইক্রো-হাইড্রো প্রোজেক্টের জন্য একাধিক ইল্লিগাল লগিংয়ে অংশ নেওয়া একটি দলের ছবি তুলতে যাওয়ার সময় ছ’জন লগারের আক্রমণ – গ্যাব্রিয়েলের পাঁজর, মাথা সহ একাধিক অংশে বীভৎস শারীরিক আঘাত – গোপন ক্যামেরায় যার বেশ কিছু ফুটেজে দুষ্কৃতীদের সুস্পষ্ট অবয়ব থাকা সত্ত্বেও ছ’জনের ভেতর মাত্র একজনকে স্থানীয় কোর্টে ওঠানো হয় এবং আশ্চর্যজনক মুক্তি দেওয়া হয়, যার পাল্টা আবেদনে গ্যাব্রিয়েলকে ইউরোপিয়ান কোর্ট অফ হিউম্যান রাইটস পর্যন্ত যেতে হচ্ছে। ২০২০-র অক্টোবরে ইউরোপীয় ‘ন্যাচুরা টু থাউজ্যান্ড’-এর আওতায় থাকা দেশের বেশ কিছু এলাকায় বৃক্ষ সংরক্ষণের ওপর একটি সমীক্ষা করতে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য টমাস ওয়ালজকে নিয়ে গ্যাব্রিয়েল একটি ফিল্ড মিশন করেছিলেন। দেখা গেছিল দেশের মোট ৩.১৩ মিলিয়ন হেক্টর অর্থাৎ ৪৮ শতাংশ অরণ্যের মালিকানা থাকা খোদ রাষ্ট্রায়ত্ত ফরেস্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা ‘রোমসিলভা’-র বিরুদ্ধেই ডোমোগ্লেড-ভ্যালিয়া সেরনেই ন্যাশনাল পার্কে রাষ্ট্র-অধিকৃত একটি অঞ্চলে দেদার বৃক্ষচ্ছেদন চালানোর অভিযোগ উঠেছে, যেখানে বুখারেস্ট হাইকোর্ট সেবছরেই সমস্ত রকম লগিং পারমিট দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। রোমানিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি কাঠ চালান হওয়া অস্ট্রিয়ার এইচ এস টিম্বার কোম্পানির গুদাম পর্যন্ত যাওয়া দেশের ন্যাশনাল পার্কের একাধিক লগিং-ট্রাক নজরে এসেছিল তাঁদের। সেবছরই এজেন্ট গ্রিনের সঙ্গে জার্মানির ইউরো ন্যাচার বা ব্রিটিশ ক্লায়েন্ট আর্থ-এর মতো পরিবেশসংস্থার একাধিক রিপোর্টে রোমসিলভা-র বিরুদ্ধেই খোদ পরিবেশ-ধ্বংসের রিপোর্ট আসে। পাশাপাশি ন্যাচুরা টু থাউজ্যান্ড-এর অন্তর্গত বাজাউ কাউন্টির পেন্টেলিউ পার্বত্য অঞ্চলের ১,৫০০ হেক্টর অরণ্যের দেদার বৃক্ষচ্ছেদনে অভিযুক্ত দেশের মোট ৫০,০০০ হেক্টর অরণ্যের মালিকানা থাকা বৃহত্তম বেসরকারি ফরেস্ট-ওনার সুইডিশ কোম্পানি আইকেইএ-র সঙ্গে চোরাগোপ্তা সমঝোতা চলেছে রোমানিয়ায় কাজ করা তিন বৃহত্তম উডপ্রোসেসিং কোম্পানি অস্ট্রিয়া-জাত ক্রনোস্প্যান, এইচ এস টিম্বার ও এগার-এর সঙ্গে। এজেন্ট গ্রিনের রিপোর্ট বলছে, দেশের ‘ন্যাচুরা টু থাউজ্যান্ড’-এর অন্তর্ভুক্ত সাইট থেকে একাধিক গাছের কাঠ চলে যাচ্ছে এই তিনটি কোম্পানির গুদামে। ২০১৭-য় এইচ এস টিম্বার তার ফরেস্ট স্টিওয়ার্ডশিপ কাউন্সিল বা এফএসসি শংসাপত্রের অধিকার হারানোর পর আইকেইএ-র পক্ষ থেকে তাদের প্রোডাকশন চেইনে এইচ এস টিম্বারের কাঠ না নেওয়ার সবরকম প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও প্লট টুইস্টে দেখা যাচ্ছে আইকেইএ তার নিজের এলাকার গাছের কাঠ সরবরাহ করছে এইচ এস টিম্বারকেই। অন্যদিকে আইকেইএ-র ‘রিজেনারেশন আর্জেন্সি’ পলিসিতে ‘ন্যাচুরা টু থাউজ্যান্ড’-এর অরণ্যের ১২০ থেকে ১৮০ বছরের ওল্ড গ্রোথ ফরেস্টের বৃক্ষছেদনে রিপোর্ট এসেছে একাধিক, খোদ কোম্পানির ফরেস্ট ম্যানেজমেন্ট পলিসির রিপোর্টেই এই ওল্ড-গ্রোথ ফরেস্ট লগিং-এর প্রমাণ সুস্পষ্ট। পরিবেশকর্মীরা বলছেন, এই ১২০ বছর কাটঅফ সংখ্যা। কারণ বয়স একশ কুড়ি পেরোলে বেশ কিছু বৃক্ষ তার কমার্শিয়াল মূল্য হারায়, অথচ প্রাকৃতিকভাবে এই ১২০ বছরের ঠিক পরেই বায়োডাইভারসিটি ভ্যালু ক্রমশ শীর্ষে ওঠে এই ওল্ড-গ্রোথ অরণ্যের। সেই সময়টাই দেওয়া হচ্ছে না রোমানিয়ায়। ২০২০ সালে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে রোমানিয়া সরকারকে কার্যত ধমকানো হলেও বৃক্ষচ্ছেদনের সে ট্র্যাডিশন সমানে চলছে।

ডোমোগ্লেড ন্যাশনাল পার্কের ইল্লিগাল লগিং এবং পরিবেশকর্মী গ্যাব্রিয়েল পন (ছবিসূত্র – আলজাজিরা)

রাশিয়া। ২০১২-র বিতর্কিত ফরেন এজেন্ট আইনের ফলে দেশের একাধিক পরিবেশ সংস্থাকে হাত-পা বেঁধে দেওয়া হল। আইনে সুস্পষ্টভাবে প্রাণী ও উদ্ভিদ সংরক্ষণ সংক্রান্ত কাজে নিযুক্ত সংস্থাদের বাদ দেওয়ার উল্লেখ থাকলেও তার প্রমাণ বাস্তবে নেই। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের হিসেবে ফরেন এজেন্টস ল-এর তালিকার মোট ১৫৮টি সংস্থার মধ্যে পড়ছে ২৯টি পরিবেশ সংস্থা, ২০১৭ পর্যন্ত একটি রিপোর্টে দেখা গেছে এই ২৯-এর ভেতর ১৪টি সংস্থা ফরেন এজেন্টস ল’র পর কার্যত অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে। আশ্চর্য এটাই ২০১৭ সাল ছিল রাশিয়ার ‘ইয়ার অফ ইকোলজি’। পাশাপাশি পরিবেশ-কর্মী আক্রমণের ঘটনাও জ্বলজ্বল করছে। ২০১৭-র ২৮ ডিসেম্বর দক্ষিণ রাশিয়ার ক্রাস্নোদার শহরের কাছে ব্ল্যাক সি অঞ্চলের একটি প্রাইভেট কোম্পানির নেতৃত্বে লাক্সারি ম্যানসন তৈরির জন্য দেদার বৃক্ষচ্ছেদন চলছিল, এবং ফুটেজ ক্যামেরাবন্দি করে ফেরার পথে এক সহকর্মীর বাড়িতে ওঠে ‘ইকোলজিকাল ওয়াচ ইন দ্য নর্থ ককেশাস’ পরিবেশ-সংস্থার কোঅর্ডিনেটর, দেশের পরিবেশ-আন্দোলনের অন্যতম সক্রিয় মুখ আন্দ্রেই রুদোমাখা সহ চার সদস্যের একটি দল। বাড়িতে ঢোকার ঠিক আগে গাড়ির ভেতরেই আকস্মিক আক্রমণ, মাথায় একাধিক প্রায়-প্রাণঘাতী আঘাতে মারাত্মক আহত হলেন রুদোমাখা নিজে। এর ঠিক দুসপ্তাহ পরেই ইকোলজিকাল ওয়াচকে ফরেন এজেন্ট আইনের তালিকা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়, যদিও তাতে পরিবেশকর্মীর শরীরের বেশ কিছু দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতর কোনও সুরাহা হয়নি।

বৃক্ষ, বৃক্ষচ্ছেদন থেকে পরিবেশকর্মী আক্রমণ-হত্যার বিশ্বজনীন ছবি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন লাইফ ম্যাগাজিনের একাধিক দিকপাল ছবির স্রষ্টা মার্কিন চিত্রসাংবাদিক উইলিয়াম ইউজিন স্মিথ। ১৯৭০-এ বন্ধু কাজুহিকো মোতোমুরার পরামর্শে জাপানের কিয়ুশু দ্বীপের কুখ্যাত মিনামাতায় মার্কারি বিষক্রিয়া-ট্রাজেডি কভার করতে গেলেন ভাবী স্ত্রী, চিত্রগ্রাহক এইলিনের সঙ্গে, এবং সেখানেই তিন মাসের পরিকল্পনা করে শেষমেশ রেখে এলেন তিন বছরের দীর্ঘ কাজ, শেষ কাজ। ১৯৭১ থেকে ১৯৭৩ পর্যন্ত মিনামাতা ট্র্যাজেডির অন্যতম হটস্পট কোমামুতো পারফেকচারে খোদ এক ভিক্টিমের পরিবারেই ঘর ভাড়া নিয়ে থেকে গেলেন। একটা ঘর, পাঁচের দশকের মাঝামাঝি সময়ে ভয়ঙ্কর মিথাইল-মার্কারি বিষক্রিয়ায় দেশের প্রথম শনাক্ত হওয়া রোগী এবং পরে নিহত একটি পাঁচ বছরের শিশুর খিলখিল হাসি মিলিয়ে ক্রমশ নিস্তেজ হয়ে যাওয়ার লেগ্যাসি – এবং সেই পরিবারের সঙ্গে একাত্ম হয়ে যাওয়া নির্ভীক চিত্রসাংবাদিক দম্পতি। তুললেন ‘টোমোকো অ্যান্ড দ্য মাদার ইন দ্য বার্থ’ সহ অসংখ্য দিকপাল ছবি ও ফটো-এসে। এবং শেষমেশ ১৯৭২-এর ৭ জানুয়ারি। টোকিওর কাছে ইচিহারা শহরের গোই অঞ্চলের ঘাতক চিসো কেমিকাল কোম্পানির ইউনিয়ন নেতার সঙ্গে প্রতিবাদী ভিক্টিমদের একটি আলোচনার মূল দাবি ছিল কোম্পানির ইউনিয়ন নেতাদের দিয়ে টোকিও অফিসের দেহরক্ষী করার আশ্চর্য সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা। প্রতিবাদীদের সঙ্গে অপেক্ষারত ছিলেন সস্ত্রীক চুয়ান্ন বছরের চিত্রসাংবাদিক। ফ্যাক্টরির কর্মী, ইউনিয়ন সদস্যরা মিলে ছ’জনের সম্মিলিত ভাড়াটে সেনা আক্রমণ ইউজিনের ওপর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় একাধিক শারীরিক আক্রমণ, চিত্রগ্রহণের বিভিন্ন পর্যায়ের ক্ষত, একাধিক বিমানদুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফেরা – সব মিলিয়ে স্ত্রী এইলিনের ভাষায় ‘হি ওয়াজ আ বডি ফুল অফ পেইন’-এ সেদিনের চিসো গুন্ডাদের আক্রমণ – আঙুল থেকে ক্রমশ মাথা পর্যন্ত স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়, বাকি জীবন প্রায়ান্ধ হয়ে জীবন কাটাতে হল স্মিথকে, ১৯৭৮-এর ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকে স্মিথের চলে যাওয়ার যা অন্যতম ট্রিগার ছিল।

ওপরে উইলিয়াম ইউজিন স্মিথ, নিচে স্মিথের তোলা ছবিতে চিসো কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে শেষ দিনের ট্রায়ালে মিনামাতা ট্রাজেডিতে নিহত পরিজনদের ছবিসহ প্রতিবাদীরা (ছবিসূত্র – ম্যাগনাম ফটোজ)

মনে পড়ছে স্পেনের ডোনোস্টিয়া ওরফে সান সেবাস্টিয়ানের তরুণী গ্ল্যাডিস ডেল এস্টেল ফেরেনো-র কথা। মনে পড়ছে স্প্যানিশ গৃহযুদ্ধের রিফিউজি পরিবারের মেয়ে গ্ল্যাডিসের জীবনযুদ্ধ, বামপন্থী লেগ্যাসি, পরিবেশবোধ এবং একটি স্থানীয় কোম্পানির হয়ে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং-এর আপাত শান্ত জীবনে আকস্মিক এক ১৯৭৯ এবং স্তব্ধতা। এলাকার সুপরিচিত বারদেনেস নেচার রিজার্ভের ৪২,৫০০ হেক্টরের আশ্চর্যময়তার গা ঘেঁষে অযৌক্তিক অবস্থান ছিল ১৯৫১-র ফ্র্যাঙ্কো শাসনের সময় থেকে শুরু হওয়া ২,২২২ হেক্টরের ন্যাটো ফায়ারিং রেঞ্জের। রিজার্ভের জীববৈচিত্র এবং স্থানীয় ১৯টি মিউনিসিপ্যালিটির বাসিন্দাদের যথেষ্ট শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি সত্ত্বেও এই ফায়ারিং রেঞ্জে প্র্যাকটিস বন্ধ হয়নি। এই ঘটনায় লাগাতার প্রতিরোধ ছিল। পাশাপাশি, এই সময়ই স্পেনের ন্যাশনাল এনার্জি পলিসি বাস্ক সমুদ্র-উপকূল ও টিউডেলা মিউনিসিপ্যালিটিতে লেমোনিজ নিউক্ল্যার পাওয়ার প্ল্যান্টের দুটি শাখা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল। স্থানীয় ‘এগিয়া ইকোলজিস্ট গ্রুপ’ এবং ‘ইউস্কাডিয়া (বাস্ক) অ্যান্টি-নিউক্লিয়ার কমিটি’-র অন্যতম সদস্য বছর তেইশের গ্ল্যাডিস গর্জে উঠলেন। স্থানীয়দের সঙ্গে সাইকেল র‍্যালি করে প্রতিরোধের সঙ্গে চলে এল ১৯৭৯-র ৩ জুন। মাসদুয়েক আগেই মার্কিন থ্রি মাইল আইল্যান্ডের ভয়ঙ্কর পারমাণবিক দুর্ঘটনার স্মৃতি। আন্তর্জাতিক নিউক্লিয়ার বিরোধী দিবসকে মাথায় রেখে নিউক্লিয়ার-বিরোধী কমিটি ৩ জুন শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধ ডাকল – ইস্যু ফায়ারিং রেঞ্জ বন্ধের দাবি এবং টিউডেলায় নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট তৈরির বিরোধিতা। বারদেনাস রিজার্ভ সংলগ্ন ১৯টি মিউনিসিপ্যালিটির বৃহত্তম টিউডেলায় প্রতিরোধ শেষ হবার মুখে বেশ কয়েকজন প্রতিবাদী ঠিক করলেন এব্রো নদীর ব্রিজের ওপর শান্তিপূর্ণ গণ-অবস্থান বিক্ষোভ করবেন। এবং ঠিক এখানেই একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর কথায় এক সিভিক গার্ডের পক্ষ থেকে গ্ল্যাডিসের দিকে অসম্মানজনক বিদ্রুপ এবং গ্ল্যাডিসের পাল্টা শাসানি – যার পরিণতি তরুণীর পাঁজরে রাইফেলের আঘাত এবং মাথায় মারণ-গুলি। আশ্চর্য এটাই, ঘাতক সেই গার্ড ‘অনিচ্ছাকৃত হত্যা’র কারণে ১৮ মাসের কারাদন্ডের শাস্তি পেয়েছিল, যে জেল খাটার কোনও প্রত্যক্ষ, কোনও সরকারি রিপোর্ট নেই। এভাবেই পার পেয়ে গিয়ে বছর দশেক পরে স্পেনের তদানীন্তন সরকারের কাছে সেই সিভিক গার্ড সামগ্রিক কেরিয়ারের ‘ইমপেকেবল বিহেভিয়ার’-এর পুরস্কার হিসেবে পেয়েছিল ‘হোয়াইট ক্রস অফ মিলিটারি মেরিট’ সম্মান। গ্ল্যাডিস যা দেখতে পেলেন না তার মধ্যে পরে ঠিক এক বছর পর টিউডেলার পাস্কো দেল প্রাদোয় হত্যার স্পটে এক বিশাল শোভাযাত্রা, সিভিক গার্ড এবং নিউক্লিয়ার বিরোধী স্লোগান এবং একটি স্মারক মনোলিথ স্থাপন, যেখানে লেখা – ‘গ্ল্যাডিস ডেল এস্টেল – মার্ডার্ড ইন টিউডেলা ফর ডিফেন্ডিং দ্য সান, ওয়াটার অ্যান্ড ফ্রিডম – উই ডু নট ফরগেট’। আশ্চর্য ক্রোধে সিভিক গার্ডের পক্ষ থেকে সেই মনোলিথকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। গ্ল্যাডিস দেখতে পাননি, তিন বছর পরেই ১৯৮২-র একটি মোরেটোরিয়ামে নতুন কোনও নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট খোলার সিদ্ধান্ত বাতিল করে সরকার।

প্রতিবাদী সাইকেল র‍্যালিতে গ্ল্যাডিস এস্টেলের শেষ ছবি (ছবিসূত্র – কারাক্রাক ওয়েবসাইট)

স্পেনের সান সেবাস্টিয়ানে গ্ল্যাডিস এস্টেলের ফিউনারেল (ছবিসূত্র – উইকিমিডিয়া কমন্স)

স্পেনের টিউডেলা থেকে নিউজিল্যান্ডের মরুরোয়া অ্যাটল। নিউক্লিয়ার ড্রাগনের অন্য ছবি। দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়ান দ্বীপ মার্শাল আইল্যান্ডের অন্তর্গত রঙ্গেলাপ অ্যাটল, যা তুয়ামোতু আর্কিপেলাগোর অন্তর্গত। ১৯৬৬ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত ফরাসি সরকারের নিউক্লিয়ার অস্ত্র পরীক্ষার সাইটের বিরুদ্ধে একাধিক প্রতিরোধ লেগেই ছিল, যার অন্যতম হোতা গ্রিনপিস। এবং এই গ্রিনপিসের নেতৃত্বে একটি ইভাক্যুয়েশন প্রশান্ত মহাসাগরীয় রঙ্গেলাপ অ্যাটলের দ্বীপবাসীদের। ১৯৫৪-র ১ মার্চ মার্কিন সরকার ১৫ মেগাটনের হাইড্রোজেন বোমা ‘ব্র্যাভো’ পরীক্ষা করে, যা চার ঘন্টার মধ্যেই চলে আসে রঙ্গেলাপের আকাশে। ১৯৪৫-এর বিকিনি অ্যাটলের পরীক্ষার আগে বিকিনি ও এনেওয়েটাক দ্বীপের বাসিন্দাদের সম্পূর্ণ ইভাক্যুয়েশন করা হলেও ‘ব্র্যাভো’র ক্ষেত্রে ভুলে যাওয়া হল রঙ্গেলাপকে। ১৯৫৭-য় মার্কিন সরকার থেকে চিহ্নিত রঙ্গেলাপের ‘সেফ হ্যাবিটাট’-এ নারীদের মিসক্যারেজের ঘটনা অবিশ্বাস্য চলতে থাকল। ১৯৭৯-র ফেব্রুয়ারির ‘দ্য বুলেটিন অফ দ্য অ্যাটমিক সায়েন্টিস্ট’-এর একটি রিপোর্ট অনুযায়ী অ্যাটলের মাটিতে, জলের পাইপে, বাড়ির ছাদে লেগে ছিল দেড় ইঞ্চি পুরু সাদা ছাইয়ের স্তর, তেজস্ক্রিয়তার পরিমাণ প্রায়-মারণ ১৭৫ রেম – এবং টুইস্ট – ১৯৫৭ সালে ব্রুকহ্যাভেন ন্যাশনাল ল্যাবোরেটরির একটি রিপোর্টে রঙ্গেলাপ ‘বসবাসের পক্ষ নিরাপদ’-এর ‘অশ্বত্থামা হত’-র পর ছোট্ট করে ‘ইতি গজ’ জুড়ে দেওয়া হল, বলা হল – ‘দ্য হ্যাবিটেশন অফ দিজ পিপল অন দিজ আইল্যান্ড উইল অ্যাফর্ড মোস্ট ভ্যালুয়েবল ইকোলোজিকাল রেডিয়েশন ডেটা অন হিউম্যান বিয়িংস’ – অর্থাৎ মানবশরীরে মার্কিন তেজস্ক্রিয় পরীক্ষার জন্য আসলে হয়তো ‘গিনিপিগ’ ছিল রঙ্গেলাপের ও স্থানীয় বেশ কিছু অ্যাটলের বাসিন্দারা। দীর্ঘ বছর ধরে মিসক্যারেজ, থাইরয়েড টিউমারের নিরন্তর লেগ্যাসি এবং বাসিন্দাদের একাধিক অনুরোধের পরেও মার্কিন সরকার থেকে মার্শালীয়দের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়নি। এবং তখনই গ্রিনপিস। ১৯৮৫-র ১৭ মে গ্রিনপিসের ‘রেইনবো ওয়ারিয়র’ জাহাজের দশ দিনের ক্লান্তিহীন তিনটি ট্রিপে ১৮০ কিলোমিটার দূরে কাওয়াজালেন অ্যাটলের মেজাতো ও ইবাইয়ে দ্বীপে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ৩০০-র ওপর রঙ্গেলাপ-বাসিন্দা এবং ১০০ টনের ওপর বাসস্থান তৈরির সরঞ্জাম। ১৭ মে জাহাজকর্মীদের মার্শালীয় লোকগীতিতে, চোখের জলে, কৃতজ্ঞতায় ভরিয়ে দিয়েছিলেন বাসিন্দারা। এবং এইসমস্ত মুহূর্তের, ছবির সাক্ষী টিম রেইনবো-র অন্যতম যোদ্ধা, পর্তুগীজ-জাত ডাচ চিত্রসাংবাদিক ফার্নান্দো পেরেরা।

ওপরে ফার্নান্দো পেরেরার ক্যামেরায় রঙ্গেলাপ ইভাক্যুয়েশন এবং নিচে ইভাক্যুয়েশনের পরে একটি মুহূর্তে ফার্নান্দো নিজে (ছবিসূত্র – গ্রিনপিস)

দুমাস পর রেইনবো’র নতুন মিশন মরুরোয়া অ্যাটলের ফরাসি নিউক্লিয়ার টেস্টিংয়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ। নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড থেকে মরুরোয়া – রেইনবো’র নেতৃত্বে প্রতিবাদী ভেঞ্চারের ঠিক আগেই ১৯৮৫-র ১০ জুলাইয়ের ট্রাজেডি। ক্যাপ্টেন পিট উইলকক্স সহ গ্রিনপিসের ‘রেইনবো ওয়ারিয়র’-এর একাধিক কর্মী ঘুমে আচ্ছন্ন। ফার্নান্দো পেরেরা সহ সামান্য কয়েকজন হালকাচ্ছলে কথায় ব্যস্ত। হঠাৎ পরপর দুটি বিস্ফোরণ। রাত এগারোটা আটত্রিশের প্রথম বিস্ফোরণের পর নিচের তলায় ক্যানন ক্যামেরা উদ্ধার করতে ছুটলেন ফার্নান্দো, ঠিক তখনই এগারোটা পঁয়তাল্লিশে দ্বিতীয় আক্রমণ এবং আকস্মিক জলের স্রোত। জাহাজের বাকি সদস্যরা বেঁচে গেলেও নিউক্লিয়ার দূষণ বিরোধী ছবি আর তোলা হয়নি ৩৫ পেরনো ফার্নান্দো পেরেরার। প্রথমে অস্বীকার, এবং কুখ্যাত এই ‘অপারেশন স্যাটানিক’ অন্তর্ঘাতের সুস্পষ্ট দায় এসে যায় ফরাসি সিক্রেট সার্ভিসের ওপর, যার নেতৃত্বে এবং পরিকল্পনায় খোদ ফরাসি সরকার। মাত্র দুজন এজেন্টকে ট্রায়াল পর্যন্ত ওঠানো গেছিল, ১০ বছর ও ৭ বছরের প্রাথমিক ভার্ডিক্ট থেকে আশ্চর্য মুক্তি চলে এসে মাত্র দুবছরের মধ্যেই। গ্রিনপিসের নিউজিল্যান্ড অফিসে ঢুকে যাওয়া সেক্রেট এজেন্টের গুপ্তচর এবং ইঞ্জিন রুমের বাইরের দেওয়াল ও প্রপেলারে প্লাস্টিকে ঢাকা লিমপেট মাইন বিস্ফোরক রেখে দেওয়ার দুই প্রত্যক্ষ মাস্টারমাইন্ড এখনও বেপাত্তা। টুকরো হয়ে যাওয়া বীভৎস রেইনবো-র অধিকাংশ অংশের একসময় মাতুয়ারি উপসাগর অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠে ‘রেস্ট ইন পিস’, যা পরবর্তীকালে সামুদ্রিক প্রাণীদের কাছে জ্বলন্ত কৃত্রিম রিফ হিসেবে থেকে গেছে।

বিস্ফোরণের পর অকল্যান্ডে বোমায় ধ্বংসপ্রাপ্ত রেইনবো ওয়ারিয়র (ছবিসূত্র – গ্রিনপিস)

হত্যার সঙ্গে রহস্য-মৃত্যু, যোগাযোগে সক্রিয় পরিবেশ-আন্দোলন এবং সোচ্চার কণ্ঠ। ব্রেন্ডা হিন এবং ক্যারেন সিল্কউড। ব্রেন্ডার কথায় আসি। দক্ষিণ পশ্চিম তাসমানিয়ার ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড মাউন্টেন রেঞ্জ সংলগ্ন হিমবাহ গলা জলা দিয়ে পরিপূর্ণ লেক পেডার মহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সিনিক স্পট, অসামান্য কোয়ার্টজাইট সৈকতের এক বিরল নিদর্শন। সেই ১০ বর্গ কিলোমিটারের পেডার লেককে ১০০ মিলিয়ন ডলারের হাইড্রো পাওয়ার প্রোজেক্টের জন্য তিন তিনটে বাঁধ দিয়ে প্লাবিত করে ২৪০ বর্গ কিলোমিটারের বীভৎস ইম্পাউন্ডমেন্টে পরিণত করার আশ্চর্য নিষ্ঠুর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল স্থানীয় সরকার। হুয়োন নদীর ওপর স্কটস পিক ড্যাম, সার্পেন্টাইন নদীর ওপর সার্পেন্টাইন ড্যাম এবং এডগার লেকের ওপর এডগার ড্যাম – তাসমানিয়ার হাইড্রো ইলেকট্রিক কমিশনের সিদ্ধান্তের প্রবল প্রতিরোধে নামলেন তখনও পর্যন্ত কট্টর ক্রিশ্চান, কনসার্ট পিয়ানিস্ট, শান্ত-স্বভাবের ব্রিটেন-জাত তাসমানিয়ান বছর বাষট্টির ব্রেন্ডা হিন। ছাতা হিসেবে দাঁড়ালেন লেক পেডার অ্যাকশন কমিটির অন্যান্যরা। ১৯৭২-এ ক্যানবেরায় অস্ট্রেলীয় পার্লামেন্ট ভবনের ছাদ থেকে ‘সেভ পেডার ক্যাম্পেন’ ওড়ানোর ভাবনায় অ্যাডভেঞ্চারাস অথচ শেষমেশ ট্র্যাজিক এক বিমানযাত্রার সিদ্ধান্ত নিলেন, সঙ্গী অ্যাকশন কমিটির অন্যতম সদস্য ম্যাক্স প্রাইস। বাহাত্তরের ৮ সেপ্টেম্বর হোবার্টের কেম্ব্রিজ এয়ারপোর্ট থেকে দুজনের ছোট্ট ১৯৩০ টাইগার মথ বিমান ছেড়ে দিল, যার একসময় ফ্লিন্ডার্স দ্বীপ থেকে জ্বালানি নেওয়ার কথা ছিল – কেম্ব্রিজ থেকে ওড়ার একঘণ্টার মধ্যে সমস্ত যোগাযোগ শেষ। এইটুকুতে মনে হওয়া স্রেফ সাধারণ একটি বিমান-দুর্ঘটনার ভেতর রয়েছে অজস্র টুইস্ট। বিমান ছাড়ার আগের দিন বিমানের হ্যাঙ্গার ইচ্ছাকৃত ভেঙে দেওয়া, সেফটি ইকুপমেন্ট খুলে নিয়ে জ্বালানি ড্রামের পাশে রেখে দেওয়ার সাবোটেজ এবং বিমান ছাড়ার কিছুক্ষণ আগে ব্রেন্ডার ফোনে আসা একটি বিদ্রুপ-কণ্ঠ – ‘মিসেস হিন, হাউ উড ইউ লাইক টু গো ফর আ সুইম?’

ম্যাক্স প্রাইসের সঙ্গে ব্রেন্ডা হিন এবং তাঁদের ‘টাইগার মথ’ বিমান (ছবিসূত্র – দ্য মার্কারি)

লেক পেডারের কোয়ার্টজাইট বিচে ব্রেন্ডা হিন (ছবিসূত্র – দ্য মার্কারি)

কোনওরকম ধ্বংসাবশেষ খুঁজে না পাওয়ার রহস্যের ভেতর স্কট মিল্কউডের নেতৃত্বে তদন্ত, তাঁর বই ও তথ্যচিত্র ‘হোয়াটেভার হ্যাপেন্ড টু ব্রেন্ডা হিন’-এ উঠে আসা একাধিক প্রশ্ন। স্কটের পক্ষ থেকে সঠিক তথ্য সরবরাহকারীকে ১ লক্ষ ডলার দেওয়ার দাবি জানালে প্রায় শ’দেড়েক ফোন কল ও রিপোর্ট আসে, যার অধিকাংশই স্কটের মতে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। ব্রেন্ডার বিমান দেখতে পাওয়ার শেষ সাক্ষী এমন অনেক তাসমানিয়ানের কাছেই নাকি বাইট নিতে পৌঁছয়নি সরকারের সার্চ টিম। একটি সার্চার এয়ারক্র্যাফট থেকে নিচে সমুদ্রে সুস্পষ্ট বিমান ধ্বংসাবশেষ দেখার পরেও সেই বিমানকে স্পটে নামতে নিষেধাজ্ঞা এবং প্রায় ৩ ঘণ্টা পরে পুলিশি বোটের দায়সারা রিসার্চ – সামগ্রিকভাবে ব্রেন্ডা হিনের মৃত্যু রহস্য খুঁজে পেতে সার্চ টিমকে কিছুটা ধীরে চলো নীতি মেনে চলার রাষ্ট্রীয় আদেশের একাধিক প্রমাণ এসে যায় স্কটের কাছে। নাহ, শেষমেশ ব্রেন্ডা-প্রাইসের টাইগার-মথের ঠিক কী হয়েছিল, তা জানা যায়নি, তবে প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, কয়েকমাস আগেই ব্রেন্ডাকে লক্ষ্য করে তাসমানিয়ার প্রো-ড্যাম এক প্রভাবশালীর মুখ থেকে শোনা গেছিল দ্বাদশ শতকে নিহত যাজক আর্চবিশপ অফ ক্যান্টারবেরি টমাস বেকেট সম্পর্কে দ্বিতীয় হেনরির সেই কথাগুলো – ‘হু উইল রিড অফ মি দিজ ট্রাবলসাম প্রিস্ট?’। না বললেই চলে, লেক পেডারকে ভাসিয়ে দিতে এরপর আর কোনও বড়সড় প্রতিবাদী কণ্ঠের সামনে পড়তে হয়নি কর্তৃপক্ষকে। এবং ভেসে যা বর্তমানে দাঁড়িয়েছে, তার সরকারি নাম এখনও লেক পেডার থাকলেও প্রতিবাদী, পরিবেশকর্মীদের চোখে তা স্রেফ হুয়োন-সার্পেন্টাইন ইম্পাউন্ডমেন্ট।

ওপরে ১৯৭২ সালের প্লাবনের আগের লেক পেডার (ছবিসূত্র – দ্য মার্কারি), নিচে বর্তমান লেক পেডার ওরফে হুয়োন-সার্পেন্টাইন ইম্পাউন্ডমেন্ট (ছবিসূত্র – উইকিমিডিয়া কমন্স)

এবং, স্মৃতিতে ক্যারেন সিল্কউড। টেক্সাস থেকে ওকলাহোমায় এসে স্বামীর আর্থিক দেউলিয়াপনা এবং বিশ্বাসহন্তার প্রতি বিরক্ত হয়ে স্বামী-সন্তান ছেড়ে ক্যারেন থাকতেন ওকলাহোমার ক্রিসেন্টের ফ্ল্যাটে, পেশায় ছিলেন নিউক্লিয়ার ফুয়েল রড বানানো কের-ম্যাকগি নিউক্লিয়ার কর্পোরেশনের কর্মী। এবং এখানেই তেজস্ক্রিয় কন্টামিনেশন এবং কোম্পানির বিরুদ্ধে একাধিক তেজস্ত্রিয়-নিরাপত্তাব্যবস্থার ফাঁকের অভিযোগ, ক্যারেনের পৌষ্টিক নালী, ফুসফুলে স্বাভাবিক চেয়ে দ্বিগুণ প্লুটোনিয়াম। কোথায় পাওয়া যায়নি এই প্লুটোনিয়াম? কারখানা-ফেরত ক্যারেনের বাথরুম, কিচেন এবং ফ্রিজে রাখা বোলোনা স্যান্ডউইচ। প্ল্যান্টের ইউনিয়ন কমিটির নেত্রী ক্যারেন মার্কিন অ্যাটমিক এনার্জি কমিশনের কাছে কোম্পানিবিরোধী সাক্ষ্য পর্যন্ত দিয়েছিলেন। এবং শেষমেশ ১৯৭৪-এর ১৩ নভেম্বর। ওকলাহোমার হাব ক্যাফেতে কোম্পানি ইউনিয়ন কর্মীদের সঙ্গে মিটিং সেরে কের-ম্যাকগি’র বিরুদ্ধে একাধিক তথ্য-কাগজ ভর্তি ফাইল নিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ডেভিড বার্নহ্যামের সঙ্গে দেখা করবেন বলে উঠলেন তাঁর হোন্ডা সিভিক গাড়িতে। স্টেট হাইওয়ে-৭৪ লাগোয়া একটি কংক্রিট কালভার্টে ধাক্কা লেগে রাস্তা থেকে ছিটকে যায় আটাশ ছোঁয়া ক্যারেন সিল্কউডের শরীর। অটোপসি রিপোর্টে শরীরে সেডেটিভ এবং অ্যালকোহল। এবং এর বিপরীতে আরও অনেক আশ্চর্য। তদন্ত রিপোর্টে ধরা পড়া ক্যারেনের গাড়ির পেছনের একটি পরিষ্কার তোবড়ানো ক্ষত, অর্থাৎ দ্বিতীয় কোনও গাড়ির ধাক্কায় ক্যারেনের গাড়ির রাস্তার বাইরে ছিটকে দেওয়ার প্রমাণ, দুর্ঘটনার মিনিট কয়েকের মধ্যেই অকুস্থলে চলে যাওয়া কের-ম্যাকগির একাধিক কর্মী এবং গাড়ি থেকে উধাও কোম্পানি-বিরোধী মোটা ফাইল। ক্যারেনের পরিবারের পক্ষ থেকে কের ম্যাকগি’র বিরুদ্ধে ওকলাহোমার ইতিহাসের দীর্ঘতম ট্রায়াল শুরু হয় ’৭৫-এ। কী কী দাবি করেনি কের-ম্যাকগি? বলা হয় ক্যারেনের দুর্ঘটনা স্রেফ ট্রাঙ্কুইলাইজার-জনিত ঘুমিয়ে পড়া থেকে। দাবি করা হয়, কর্মী থাকাকালীন নিজেই ইচ্ছে করে পেইন রিলিফের জন্য প্লুটোনিয়াম পেলেট কারখানা থেকে চুরি করে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যেতেন ক্যারেন। নাহ, ক্যারেন-হত্যার সুরাহা হয়নি, তবে তেজস্ক্রিয়-কন্টামিনেশনের অভিযোগ থেকে বাঁচতে পারেনি কের-ম্যাকগি। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরে আদালতের বাইরে সেটলমেন্টে ক্যারেনের পরিবারকে ১.৩৮ মিলিয়ন ডলার দিতে হয়েছিল কোম্পানিকে। এবং শেষ ধাক্কা আসে ১৯৭৫-এই। ক্রেতা ওয়েস্টিংহাউজ কোম্পানি কের-ম্যাকগির ফুয়েল রডের গুণমান নিয়ে অভিযোগ করে চুক্তির নবীকরণ করেনি – যার পরিণতিতে কের-ম্যাকগির কারখানা ক্যারেন সিল্কউডের সঙ্গে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে একবারেই। অবশ্য নিউক্লিয়ার-বিরোধী আন্দোলনে ক্যারেনের মুখ থেকে গেছে একইরকম, মনে পড়ছে মাইক নিকোলাস পরিচালিত ছবি ‘সিল্কউড’ (১৯৮৩) এবং ক্যারেনের ভূমিকায় অবিশ্বাস্য মেরিল স্ট্রিপ। মনে পড়ছে ১৯৭৮-এর নভেম্বরে বোস্টনে আয়োজিত ক্যারেন সিল্কউড মেমোরিয়াল র‍্যালি এবং একাধিক ইভেন্ট। নিউক্লিয়ার-বিরোধী একরাশ সমুদ্রগর্জনের সামনে তাঁর বক্তব্যে নোবেলজয়ী জীববিজ্ঞানী জর্জ ওয়াল্ড বলেছিলেন – ‘নিউক্লিয়ার পাওয়ার অ্যান্ড উইপন্স আর দ্য মোস্ট লাইফ-থ্রেটনিং থিং দ্যাট হ্যাজ এভার কাম আপ ইন দ্য হিস্ট্রি অফ দ্য প্ল্যানেট …’

ক্যারেন সিল্কউড (ছবিসূত্র – ওকলাহোমান)

একেবারে সদ্য ও টাটকা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার সাউথ রিভার ফরেস্ট বা উইলাউনি ফরেস্টে আটলান্টা সরকারের নেতৃত্বে একটি ৮৫ একরের পুলিশ ট্রেনিং ফেসিলিটি নির্মাণ এবং সেইসংক্রান্ত পরিবেশগত এবং অরণ্য ধ্বংসের শঙ্কায় ‘স্টপ কপ সিটি’ পোস্টারের লাগাতার গণ-আন্দোলন। এখানেই ২০২৩-এর ১৮ জানুয়ারি জর্জিয়া স্টেট পেট্রল ট্রুপারের গুলিতে নিহত হন বছর ছাব্বিশের ম্যানুয়েল এস্তেবান পাজ টেরান ওরফে ‘টর্টুগিটা’। বডি ক্যামেরা ফুটেজ না থাকায় পুলিশের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে টর্টুগিটার থেকে প্রাথমিক উসকানি ও গুলি চালানোর কথা বলা হলেও পরবর্তীকালের একটি অডিও ফুটেজে সুস্পষ্ট পুলিশি সাবোতেজ এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে বসে থাকা অবস্থায় টর্টুগিটা-র ফেটাল গানশট পাওয়ার জ্বলন্ত প্রমাণ আসে। অটোপসিতে ধরা পড়ে প্রতিবাদীর শরীর ঢোকা ৫৭টি বুলেট। এইসমস্তই ‘প্রথম বিশ্ব’ এবং তার তথাকথিত কোট আনকোটের পোশাকে ঢাকা পরিবেশ-ঘাতক লেগ্যাসি। হয়তো আরও অনেক কিছু আছে। হয়তো খবর আসেনি। হয়তো চেপে দেওয়া হয়েছে। হয়তো আবার ল্যাজারাসের মতো উঠে এসেছে অন্য কোনও মানুষ, গোষ্ঠী, ভাবনা। ভালোবেসেছে গাছ, পাখি, অরণ্য, শিশু। ২০২১ থেকে ২০৩০-এর মধ্যে রাষ্ট্রসংঘের ‘ডিকেড অন ইকোসিস্টেম রেস্টোরেশন’ পালনকে সামনে রেখে পুরনো লেক পেডারকে ফিরিয়ে আনার দাবিতে নতুন করে সোচ্চার হয়েছেন লেক পেডার রেস্টোরেশন কমিটির পক্ষ থেকে ব্রেন্ডা হিনের উত্তরসূরিরা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নিয়ার-ফেটাল মর্টার ফায়ারে আহত হয়ে কোনওক্রমে বেঁচে ফিরে প্রায় দুবছর ধরে অসম্ভব যন্ত্রণায় ছটফট করতেন ইউজিন স্মিথ। ১৯৪৬-এর এক সকালে দেখলেন তাঁর নিজের দুই শিশুপুত্র-কন্যা প্যাট্রিক ও জুয়ানিতা হাত ধরে বাগানের দিকে হাঁটছে। ব্যথায় ক্যামেরা ধরতে পারছেন না স্মিথ। তবু, তুললেন কেরিয়ারের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ছবি – ‘আ ওয়াক ইন দ্য প্যারাডাইস’। স্মিথ লিখছেন – ‘আমি ছোটদের অনুসরণ করতে করতে একরাশ দীর্ঘ বৃক্ষের তলায় চলে এলাম। কত ছোট ছোট জিনিস দেখে ওরা আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে উঠছিল। ওদের দেখতে দেখতে আমার হঠাৎ মনে হল, সব কিছু সত্ত্বেও, সমস্ত যুদ্ধ, দিনের সমস্ত কষ্ট সত্ত্বেও, জীবনের গান কিন্তু এখনও গাওয়া যায়, বেঁচে থাকার সাহসে এগিয়ে চলাই যায়’। যেন রাস্কিন বন্ডের সেই প্রজাপতির মতো, যে যুদ্ধ পেরিয়েও একইরকম সুন্দর থাকবে। যেমন, নতুন ‘রেইনবো ওয়ারিয়র’ ’৮৫-র বীভৎস স্মৃতি পেরিয়ে পরিবেশ-আন্দোলনে এখনও অবিচল। তার মননে, আত্মায় উত্তর আমেরিকার ক্রি ইন্ডিয়ানদের সেই ভবিষ্যৎবাণী – ‘হোয়েন দ্য ওয়ার্ল্ড ইজ সিক অ্যান্ড ডায়িং, দ্য পিপল উইল রাইজ আপ লাইক ওয়ারিয়র্স অফ দ্য রেইনবো …’। মনে পড়ছে, ঘাতককে পুরস্কৃত করার আশ্চর্যের মাঝে সান সেবাস্টিয়ানের এগিয়া-র ক্রিসচিনা ইনিয়া পার্কের বিষণ্ণ, আলো-আঁধারি রাস্তাগুলোর কথা। মাঝে মাঝে বন্ধুদের সঙ্গে সেই পার্ক পরিষ্কার করতেন গ্ল্যাডিস এস্টেল। গ্ল্যাডিস-হত্যার পর বন্ধুরা ক্রিসচিনা ইনিয়া পার্কের নাম বদলে গ্ল্যাডিস ইনিয়া পার্ক রাখতে বলেন। সরকার ইতিহাস সংরক্ষণের অজুহাত দিয়ে দাবি মানেনি। তবে ক্রিসচিনা পার্কের সঙ্গে নিচে একটি ট্রেনলাইনের সঙ্গে সমান্তরালে থাকা ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকা প্রমেনেডের সংযোগকারী একটি রাস্তার নাম রাখা হয়েছে গ্ল্যাডিস ডেল এস্টেট প্যাসেজ। কী আশ্চর্যভাবে মিশে গেলেন লোরকা-গ্ল্যাডিস! গ্ল্যাডিস কি লোরকা পড়তেন? নিচে ট্রেনের শব্দ, ওপরে ড্রিম সিক্যুয়েন্সে একটা পয়েন্ট ব্ল্যাক রেঞ্জে দাঁড়ানো ঘাতক-পৃথিবী, রাতের স্পেনের রাস্তা, কবিতা, পরিবেশবাদ, সমাজতন্ত্র …

 

‘অনলি ইউ অ্যান্ড আই আর লেফট

প্রিপেয়ার ইওর স্কেলিটন ফর দ্য এয়ার

উই আর দ্য অনলি ওয়ান্স হু রিমেইন।

 

প্রিপেয়ার ইওর স্কেলিটন

হারি, লাভ, হারি, উই হ্যাভ গট টু লুক

ফর আওয়ার স্লিপলেস প্রোফাইল …’

 

ওপরে ক্রিসচিনা ইনিয়া পার্ক ও ফেদেরিকো লোরকা প্রমেনেডের যোগাযোগকারী রাস্তা এবং গ্ল্যাডিস এস্টেলের নাম লেখা নীল প্লেক (ছবিসূত্র – আর্গিয়া), নীচে ইউজিন স্মিথের তোলা ছবি ‘আ ওয়াক টু দ্য প্যারাডাইস গার্ডেন’ (ছবিসূত্র – আইকনিক ফটোজ)

 

ঋণস্বীকার

১. Assemble the truth: Old-growth forest destruction in the Romanian Carpathians. April 10, 2024. Greenpeace International.

২. Avila, Urko Apaoloza. They killed the daughter of the sun. March 27, 2019. Argia.

৩. Bondici, Maia. How illegal logging is threatening Romania’s unique virgin forests. May 31, 2022. Euronews.

৪. Cabmody, Deidre. Blinded in beating, photographer still presses a crusade. April 9, 1974. New York Times.

৫. Caruso, Carmelo. Attack on Romanian film crew reveals dangers of environmental beat. October 8, 2021. Voice of America.

৬. Dumitrescu, Radu. Romanian environmental activist takes assault case to Human Rights Court after local judges pardon attackers. December 21, 2023. Romania Insider.

৭. Edwards, Rachel. Lake Pedder protesters Brenda Hean, Max Price left Hobart in a Tiger Moth biplane bound for Canberra. They were never seen again. October 18, 2020. ABC Radio Hobart.

৮. Ellis, Glenn. ‘Timber mafia’ threatens the future of Romanis’s ancient forests. November 26, 2020. Al Jazeera.

৯. Friedlander, Jill. Anti-nuclear power protesters rally in memory of Silkwood. November 20, 1978. The Harvard Crimson.

১০. Gabriel Paun HRD, Environmental rights defender. Frontlinedefenders.org.

১১. Genova, Alexandra. W. Eugene Smith’s warning to the world. April 15, 2009. Magnum.

১২. Goldberg, Shoshana K. Remembering Tortuguita, indigenous queer and non-binary environmental activist and forest defender. March 21, 2023. Human Rights Campaign.

১৩. IKEA furniture destroys some of Europe’s last remaining ancient forests. April 10, 2024. Greenpeace International.

১৪. Hypocrisy! IKEA’s cynical destruction of Romania’s old-growth forests. August 2021. Agent Green.

১৫. Johnson, Giff. Micronesia: America’s ‘strategic trust’. The Bulletin of the Atomic Scientists. February, 1979.

১৬. Latson, Jennifer. The nuclear-safety activist whose mysterious death inspired a movie. Time. November 13, 2014.

১৭. Lobanov, Vladislav. Leading environmentalists violently attacked in Russia. January 12, 2018. Human Rights Watch.

১৮. Lorca, Federico Garcia (Trans by Simon, Greg & White, Steven F). Poet in New York. January 31, 2002. Penguin Group.

১৯. Marks, Kathy. How Tasmania’s lady of the lake was silenced. November 15, 2008. Independent.

২০. Martinez-Alier, Joan. Women environmental defenders killed around the world. December 12, 2023. Elgaronline.

২১. McGrath, Stephen. Romania forest murder as battle over logging turns violent. October 21, 2019. BBC.

২২. Nation: poisoned by plutonium. March 19, 1979. Time.

২৩. Norman, Greg. Romania struggles to turn the tide of illegal logging. December 4, 2015. Mongabay.

২৪. Rodina, Mihaela & Lordachescu, Lonut. Romania’s forests under mounting threat—along with rangers. November 18, 2019. Phys.org.

২৫. Rongelap: the exodus project. Greenpeace.

২৬. Russia: ‘year of ecology’ a sham. November 21, 2017. Human Rights Watch.

২৭. Smith, W. Eugene & Smith, Aileen M. Minamata: Words and Photographs by W. Eugene Smith and Aileen M. Smith. 1975. Holt, Rinehart & Winston, New Yok.

২৮. The bombing of the Rainbow Warrior. Greenpeace.

 

(ক্রমশ)

Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *