চলে যেতে যেতে আহাম্মকের ক-অক্ষর। পর্ব ৬। দুর্লভ সূত্রধর
স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব, ব্যক্তিস্বাধীনতা, মুক্তচিন্তা, মানবাধিকার, মনুষ্যত্ব, শিক্ষা, প্রগতি, রুচি, শিল্প, সংস্কৃতি, জাতিসত্তা— এমন-কী ন্যায়-অন্যায়, ভালো-মন্দ, আলো-অন্ধকার, দিন-রাত্রি, সাদা-কালো পর্যন্ত একাকার হয়ে যায়— ইত্যাকার শব্দসমূহ বোধশূন্য শঙ্কায় সন্ত্রস্ত হয়ে থাকে অভিধানাতীত এক অন্ধকার যুগেতিহাসের পাঠযোগ্যতাহীন ছেঁড়া পাতায়।
পাড়ার কলতলা থেকে ঈথার তরঙ্গে পর্যন্ত, এনালগ থেকে অপটিক্যাল ফাইবারের প্রযুক্তি সীমা পর্যন্ত, সরকারি সভা থেকে আইনসভার নাট্যশালা পর্যন্ত, ভুবনডাঙার মাঠ থেকে সুরুলের রাস্তা পর্যন্ত, টিভির পর্দা থেকে মেট্রোপলিসের আকাশ ঢেকে ফেলা জায়েন্ট স্ক্রিন পর্যন্ত— সবকিছুই দখল হয়ে যায়, আর তারই মধ্যস্থতায় সকলেই রাষ্ট্রীয় বা বলা যায় জনগণের বাপের খরচে সাজিয়ে বানিয়ে নিজেদের মনের কথা বলে যেতে থাকেন। প্রকৃত দেশপ্রেম নুয়ে পড়ে ঝুটা দেশভক্তির তরবারি, লাঠি আর শীতল নলের মুখে— উন্মত্ত জনহিংসক উন্মত্ততায় রক্তাক্ত হতে থাকে পথঘাট, শ্রমিক মহল্লা, বস্তি ও পাড়া-ঘরগুলি।।
আজকের দিনে কোনো এক ছ্যাঁচড়া ম্যাস্টর সেই যদি মহামহিম রবার স্ট্যাম্প থেকে ফ্যক্সিমিলি হতে চাওয়া, বাল্যনামের সঙ্গে জুড়ে থাকা পরিপূর্ণ শ্রীকৃষ্ণ বনে যাওয়া মাতব্বরকে, ‘হে রাম’ বলে গুলি খেয়ে ঢলে পড়া বাপুর শীর্ণকায় শরীরের থেকেও জীর্ণ এক কঙ্কালসার উত্তরাধিকারের দাবিদারের কাছে জিজ্ঞাসা করে বসে— ‘সেই যে, সেইদিন মধ্যরাত্রে সুপ্রচারিত সন্ত্রাসিত চিত্রনাট্য দেখেই আপনার হিম হয়ে এসেছিল হাড়— মস্তিস্কের কোষে জেগে উঠেছিল বিবেকদংশিত টিভি-বাইটের সংবিধানবহির্ভূত অনধিকারচর্চা— আজ, এই দেড় দশকের মধ্যে পুড়ে যাওয়া গ্রাম্য কুঁড়ের আগুনে কিংবা মহান ভারতের দিকে দিকে জ্বলে ওঠা, রাবণের চিতার মতো জ্বলতেই থাকা শিশুদের, অসহায় মানুষের, শুধুমাত্র ধর্মভিন্নতার কারণে, তথাকথিত অশরীরী ধর্মীয় আবেগের, দ্রোহী যুবাদের, মায়েদের, মেয়েদের শরীরবহ্নির হুতাশনে নিজের হিম হয়ে যাওয়া হাড় সেঁকে নিয়ে, — ছিন্নভিন্ন মানবতার রক্তের ছিটে লাগা দেওয়াল দেখে, রাতের অন্ধকারে ভেঙে দেওয়া রুটিরুজির শেষ আশ্রয়ের বিপন্নতার ক্রন্দন শুনে এতদিনে আপনার মজ্জাসুদ্ধু হাড় কি একটু গরম হয়েছে স্যার! আজও কী মধ্যরাতে জেগে আছেন স্যার? আর কত দশক লাগবে আপনাদের হাড় এবং সরীসৃপের মতো ঠাণ্ডা রক্ত একটু আধটু গরম হতে!’
মধ্যরাত পেরিয়ে যায় প্যাঁচাটার ডাকে। রাস্তার সীমিত আলো. আহাম্মক স্পষ্টই বুঝতে পারে— কর্নেলদের প্রতিরোধী জেদের কাছে চিরকাল হেরে যায় লাতিন আমেরিকাসহ সমগ্র পৃথিবীর রক্তাক্ত মানচিত্রের কলঙ্কিত ইতিহাস-প্রহৃত ক্ষমতার দম্ভ।
আহা! আহাম্মকের সংগ্রহে একটা লড়াকু লড়াকু মোরগ নেই, নেই অগাস্টিনের মতো পুষে রাখা চিরন্তন, নাছোড় এক গেরিলা স্বপ্ন।
সামরিকশাসিত শহরে প্রতিবেশী ও মানুষজনের কাছে কপর্দকহীন কর্নেলের মর্যাদা, সম্মান, বন্ধুতার শেষ পর্যন্ত একটা গ্রাহ্যতা ছিল। সেই গ্রাহ্যতার দায়েই কাগজে মোড়ানো ঘরের সুন্দর ঘড়িটা যে তিনি বেচতে চান— এই সত্যটা অগাস্টিনের কমরেডদের কাছে তাঁকে নিজের দীনতার কথা বলতে বাধা দেয়। ঘড়িটা অগাস্টিন যে দর্জিশালায় কাজ করত, সেই দর্জিশালার মালিক আলভারোকে দিলে সে অন্তত চল্লিশ পেসো দিয়ে নিশ্চয়ই কিনে নিত। কেননা অগাস্টিনের সেলাই কলটাও আগ্রহভরে আলভারোই কিনে নিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দীনতা আড়াল করা কাগজে মোড়নো ঘড়িটা নিয়ে আবার বাড়িতে ফিরে আসতে হয় কর্নেলকে।
মার্কেজ প্রায় ধ্রুবপদের মতো কর্নেলের চোখ দিয়ে বিশ্বাসহন্তা সাবাসের বার বার হিসাব-বহির্ভূত কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা দেখান। সাবাসের বহুমূত্র রোগের চিকিৎসা করতে আসা ডাক্তারের ভাষ্যও সাবাসের চরিত্রকে চিনিয়ে দেয়— ‘ওকে গুলি করে না মারলে ও মরবে না,’ কর্নেলের দিকে ফিরে ডাক্তার বললে। ‘বড়োলোকদের খতম করার পক্ষে বহুমূত্র হলো বেজায় ঢিমে ব্যাপার।’ (অনুবাদ : তদেব)
কর্নেল নিশ্চয়ই সমস্ত বিশ্বাসনীয় প্রমিতি বিনষ্টকারী, ‘প্রতিরোধবিরোধী দালাল’ ডন সাবাসের ছাতার তলায় যেতে অস্বস্তি বোধ করেছিলেন, ডন সাবাস তাঁর শরীর স্পর্শ করায় তাঁর স্নায়ুতন্ত্র হয়েছিল সংকুচিত!
দিন দুই আগেই বিকেলবেলায় রোদ পড়ে এলে প্রতিদিনের মতো কুহু তাকে নিয়ে রাস্তায় হাঁটতে বেরিয়েছিল— ডাক্তারের কড়া নির্দেশ— শুয়ে শুয়ে অসহায় মৃত্যুকে দীর্ঘায়িত করতে প্রতিদিন হাঁটতেই হবে! ফেরার সময় প্রতিদিনই কুহু অল্পসল্প প্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহ করে নেবার জন্য বাজারে এক পাক দেয়।
বিকেলের বাজার। ফাঁকা ফাঁকা।
বাজারের বাইরে কোণায়, কালীমন্দিরের দেয়াল ঘেঁষে এক ফুচকাওয়ালা। তারপর টোটো স্ট্যান্ড। তার মাঝে খানিকটা জায়গা করে নিয়ে একটা টোটোতে মাইক বেঁধে পথসভা চলছে।
বক্তার ফ্যাঁসফ্যাঁসে গলা। কথাগুলো ঠিক বোঝা যায় না। কৌতূহলী হয়ে এগিয়ে যায় আহাম্মক। কাছাকাছি রাস্তার অপর পারে একেবারে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বোঝে শহীদ ভগৎ সিংয়ের স্মরণে কোনো কর্মসূচি।
টোটোর গায়ে একটা ছোটো ফ্লেক্সে কোনো একটা গণসংগঠনের নাম। কিন্তু পাঁচ-ছটা মুখ সেই একই— অন্য পাঁচটা সংগঠনের মতো। সংযোজন নেই, বিয়োজন আছে!
টোটোর পাশে খান পাঁচ-ছয় প্লাস্টিকের চেয়ার পাতা। তারই একটায় ভগৎ সিংয়ের একটা ছোটোমাপের বাঁধানো ফটো। বাকি চেয়ারগুলোয় যে-কজন বসে সকলেই চেনামুখ। বক্তাও। অল্প বয়স। যুব সংগঠন থেকে সদ্য-উত্তীর্ণ হওয়া কোনো কমরেড।
মাথার বনেটে চোঙ-লাগানো টোটোটার পেছনে ফুচকাওয়ালার সামনে বৈকালিক ভিড়। কিন্তু কী আশ্চর্য, এই সভার আহাম্মক ভিন্ন অন্য কোনো শ্রোতা নেই। রাস্তার এপারে সে ছাড়া আর কেউ দাঁড়িয়ে নেই। ফুচকাপ্রেমীদের থেকে চেয়ারে লোকের সংখ্যা হাস্যকরভাবে কম। বাজারের ব্যস্ততম রাস্তা দিয়ে ভরা বিকেলে প্রচুর লোক যাতায়াত করছে কিন্তু একজনও সভা দেখে দাঁড়াচ্ছে না। বস্তুত ফিরেও তাকাচ্ছে না। বক্তা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ থেকে ভারতীয় স্বৈরাচারে ঢুকবার চেষ্টায় বার-দশেক সাম্রাজ্যবাদ শব্দটিই বলে ফেলছেন। বোঝা যায়— একেবারেই তৈরি হয়ে আসেননি। আহাম্মকের মনে হলো— এখন সম্ভবত তৈরি করবার জন্য কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থাও আর অবশিষ্ট নেই।
কুহু বাজারের জিনিস কিনে ফিরে আসতে আসতে আহাম্মক দুজন বক্তার সময়কে পার করে দিল। দ্বিতীয়জন কী বললেন তা আহাম্মকেরও বোধগম্য হলো না। সে নিজের মাথায় দুটো টোকা দিয়ে পরখ করল। অসুখে তার বোধ লুপ্ত হয়ে গেল নাকি!
কুহু ফিরে এসে চেয়ারাসীন পাঁচ-ছয় মুখ দেখে বিস্ময়ে ফেটে পড়ল— ‘তুমি এখনও দাঁড়িয়ে আছ! কেউ তোমাকে বসতে বলেনি!’
কুহুর উত্তেজনায় আহাম্মকের রোগক্লিষ্ট মুখে ফুটে উঠল এক চিলতে হাসি— ‘তুমি এমন আশা করছিলে নাকি? কেউ এখনও কথাই বলেনি। আমাকে যে চেনে এমন লক্ষণ এখনও প্রকাশ পায়নি?’
— ‘এই মনোভাব নিয়ে এরা মানুষকে কাছে টানবে?’ — তিক্ত কুহুর স্বর।
এবার আহাম্মক সত্যি হেসে ফেলেছিল— ‘মানুষকে এরা কাছে টানবে কেন, এরা আশা করছে মানুষই নিজের গরজে পিল পিল করে কাছে আসবে।’
ততক্ষণে দ্বিতীয় বক্তা সাম্রাজ্যবাদ শেষ করেছেন।
কুহু এবার টানতে টানতে তাকে নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা দিয়েছিল। ওর মান-অপমান বোধটা এখনও বড্ড বেশি। ব্যক্তিগত মান-অপমানের সঙ্গে নির্বিকার কর্তব্যবোধের সাম্বন্ধিক ছেদরেখাটার অস্তিত্ব কুহু এত অভিজ্ঞতার পরেও এখনও স্বীকার করতে চায় না!
আহাম্মক মশারির মধ্যেই একটু নড়েচড়ে বসে।
সহিংসতা!
তার কত যে রূপ হতে পারে— সেটা আহাম্মক ভিন্ন আর কেই-বা কতটা জানে!
বস্তুত অগাস্টিনের কথা ভেবেই অনাহারের সঙ্গে অনাপোষ লড়ইয়ে অবতীর্ণ হতে পেরেছিলেন কর্নেল।
কিন্তু আহাম্মক সে সুখও দাবি করতে পারে না। যেদিন সরকারি বেসরকারি শ্রমিক কর্মচারিদের একুশটা ট্রেড ইউনিয়ন ও সংগঠনের ডাকা ধর্মঘটের দিন একদিনের মাইনে কাটা বা চাকরিতে একদিনের ছেদ বা সাসপেনশনের হুমকির সামনে মাথা নত করে তার পুত্র অফিসে গিয়ে ধর্মঘটভাঙা দালালে পরিণত হলো— তখনই আহাম্মকের জীবনব্যাপী গর্বিত সৌধের চূড়া থেকে সোনার কলস খসে পড়েছিল।
নিজের পুত্রকেও সেদিন সহিংস বলে মনে হয়েছিল।
এই অদ্ভুত রাতে মাসল-ক্র্যাম্পের ব্যথা নিয়ে বিছানায় ফিরে মোবাইল হাঁটকাতে গিয়ে হাতে ঠেকল মোটা বইটা। এটা শরদিন্দু অমনিবাসের ঐতিহাসিক গল্প সংকলনের কাপড়ে বাঁধাই করা খণ্ডটা। বহুবার পড়ার পরেও কুহু আবার এটা পড়ছে। সংসারের কাজে দিন রাত্রি দিলেও নানা ধরনের বই পড়াটা কুহু ছাড়েনি। দুপুরে বা রাত্রে— যখনই কাজের ফাঁকে সে সময় পায় তখনই বা রাত্রে বিছানায় গা এলাবার আগে বই পড়াটা তার দস্তুর।
এই সংসারের কথা ভেবে এবং এমন এক বেকারির দেশে দুজনে চাকরি করা উচিত নয় মনে করে কুহু বিয়ের তিন মাস পরেই চাকরি ছেড়েছিল, কিন্তু কোনোদিন পড়াশোনা ছাড়েনি। তা-ও তার মামাতো ভাই আর তার বউ— দুজনেই চাকরি করত বলে বাড়ি বয়ে এসে শুনিয়ে গিয়েছিল— ‘তোমার পড়াশোনা করে কী লাভ হলো বউদি?’
কুহুর মুখচোখে কিঞ্চিৎ রক্তাভা, এমন কুৎসিত ও নির্বোধের মতো কথা সে যেন ইহজীবনে শোনেনি। তখনই বহুদিন বাদে নিজের প্রথম শ্রেণিতে স্নাতকোত্তরের পূর্বজন্মের স্মৃতির মধ্যে প্রবেশ করেছিল কুহু। তাদের বাড়িতে আগত অতিথির এমত স্পর্ধার খুব কটু ও আক্রমণাত্মক উত্তর দেওয়া কঠিন ছিল বলেই কুহু শুধু ঠাণ্ডা গলায় বলেছিল— ‘কোন লাভের কথা বলছ তোমরা। তোমাদের কে বলল যে আমি তোমাদের হিসেবমতো লাভের জন্য পড়াশোনা করেছি? আমি যে লাভের জন্য পড়েছি সে লাভ আমার যথেষ্ট হয়েছে— জগৎ ও জীবনকে চিনতে শিখেছি। এই যেমন এখন তোমাদের লাভের হিসেব-কষা ভেতরটাকেও দিব্যি পড়তে পারছি!’
এই তীব্র চপেটাঘাতের পরেও ওরা স্বামী-স্ত্রী দাঁত বার করে হাসছিল!
এটাই সবচেয়ে বড়ো বিড়ম্বনা— কোনো কথা বলে শ্রোতাকে আবার তার মানে বলে দেওয়া! এরা চিরকাল মেড ইজি বা মানে বই দেখেই পড়েছে। মানে না করে দিলে কোনো কথা বোঝানোও ভারি মুশকিল। এরা আবার দুজনেই শিক্ষক। ছাত্রছাত্রীদেও নিশ্চয়ই মানে বই দেখেই পড়ায়। বাড়ি আবার টিউশনও করে চুটিয়ে। টাকার আহ্লাদে ভরো ভরো সংসার। এরাই নাকি সমাজ নির্মাণের কারিগর!
কাকে দিয়েছ রাজার পার্ট!
ওরা থাকতে থাকতেই ওদের বছর পনেরোর মেয়েও কুহুকে বলে ফেলল— ‘জেম্মা, তোমার এত পড়াশোনা করে কী লাভ হলো?’
কুহু এবার আর বলেছিল— ‘এই প্রশ্নের উত্তর তোর বাবা-মাকে আজ সকালেই দিয়েছি। ওদের কাছ থেকেই জেনে নিস।’
এতদিন পরেও এই রাত্রিকালে একা একাই আহাম্মকের হাসি পেল।
নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে বিশ্বাসঘাতক খুড়ো বিভীষণের সঙ্গে লক্ষ্মণকে আস্ফালন করতে দেখে ইন্দ্রজিতের কিংবা অন্যায়ভাবে বালিকে বধ করবার সময় রামচন্দ্র যেসব ধর্মবাক্যের দোহাই দিয়েছিলেন তা শুনে বালির ঠোঁটের কোণেও নিশ্চয়ই সূক্ষ্ম হাসির রেখা দেখা দিয়েছিল— আজকে আহাম্মকের এই অকারণ হাসিটা সম্ভবত সেই একই গোত্রের।
আজ মনে হলো— হাসির আড়ালে ওদের ঐ জিজ্ঞাসাও ছিল সহিংসতারই আর-এক রূপ। নিজেদের টাকা-পয়সার বাহুল্য, প্রয়োজনের অতিরিক্ত বস্তুসম্পদে ঠাসাঠাসি বাড়িঘর, প্রয়োজনের অতিরিক্ত দামি দামি ফার্নিচারে ভরা ঘরদোর, দামি দামি পারফিউম সজ্জিত ড্রেসিং রুম। পোশাকে-আশাকে প্রদর্শিত ঠাটবাট, সিংহ-বসানো গেট, গ্যারেজে শোভমান হাওয়া গাড়ি— এত সবের পাশাপাশি কুহুদের এই বাহুল্যবর্জিত নির্মেদ সংসার ওদের অন্তর্গত হিংসাকে উসকে দিয়েছে। এক্তিয়ার-বহির্ভূত আঘাতের মধ্যে দিয়ে এক ধরনের ধর্ষকাম প্রবণতা এই ধরনের সহিংসতার জন্ম দেয়।
(ক্রমশ)
