কাশীর অলি-গলি : ইতিহাস-সমাজ-সংস্কৃতি। পর্ব ৫৩। শোভন সরকার

গত পর্বে: মারাঠারা বেনারসে নানাভাবে নিজেদের কীর্তি রেখে গেলেন। এদিকে অল্প সময়ের মধ্যেই ব্রিটিশরা বেনারসে জাঁকিয়ে বসল।  

জেলার ম্যাজিস্ট্রেট তথা জজসাহেব স্যামুয়েল ডেভিস সেদিন সকাল সকাল পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে হাতির পিঠে করে বিহার সেরে নিজের বাংলোর পথ ধরেছিলেন। ফুরফুরে হাওয়া, নরম রোদ আর শীতের আমেজে সকালটা বেশ ভালোভাবেই শুরু হয়েছিল। কিন্তু তা বদলে গেল মুহুর্তেই। মাঝসমুদ্রের আলো ঝলমলে দিনে যখন দিগন্তে হঠাৎ গাঢ় কালির মতো মেঘ জমে আসে, মন চমকে ওঠে। ডেভিস সাহেবের মনটাও হঠাৎ শঙ্কায় কেঁপে উঠল সামনের দৃশ্য দেখে। মেঘ নয়, এক দল সৈন্য। সশস্ত্র। জন দু’শো তো হবেই। সৈন্যদলের সামনের দিকে যিনি রয়েছেন তিনি ডেভিস সাহেবের চেনা। লখনৌয়ের প্রাক্তন নবাব ওয়াজির আলী। ইনি যে কিছু একটা বড়সড় কাণ্ডের ছক কষছেন, তার আঁচ সাহেব আগেই পেয়েছিলেন। তখন গভর্নর জেনারেল বা বড় লাটের রাজনৈতিক প্রতিনিধি জর্জ ফ্রেডরিক চেরি বেনারসে রেসিডেন্ট হিসেবে নিযুক্ত। ডেভিস সাহেব তাঁর ভয়ের কথা চেরি সাহেবকে ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন। কিন্তু তাঁর যেন বিশেষ ভাবান্তর হয়নি। একই সংবাদ ডেভিস সাহেব ক্যালকাটাতে সরকারি দপ্তরেও সময়মতো জানিয়ে দিয়েছিলেন। প্রস্তাব দিয়েছিলেন যাতে বেনারসে ওয়াজির আলীর ঘনিষ্ঠ রইস মুসলমানদের অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হয়। 

আজ এত সৈন্য নিয়ে তো চেরি সাহেবের বাংলোর দিকেই এগিয়ে চলেছেন তাঁরা। হাতির পাশ দিয়ে ওয়াজির আলী খানিকটা যেন তাড়াহুড়ো করেই তাঁর দলবল নিয়ে এগিয়ে গেলেন। যাওয়ার সময় তিনি কেবল তাঁকে মুচকি হেসে আদাব জানালেন। 

ডেভিস সাহেবের কি একটা মনে পড়তেই সকালের ফুরফুরে মেজাজ আগুন ধরা শুকনো তুলোর মতো হঠাৎ করে উবে গেল। চেরি সাহেব তাঁর বাংলোয় আজ নবাবের সাথে প্রাতঃরাশ করবেন খবর পেয়েছিলেন। কিন্তু এত সশস্ত্র লোক কেন সাথে? 

তিনি নিজের বাংলোয় ফিরতেই দেখলেন কোতোয়াল তাঁর অপেক্ষা করছেন। মুখে দুশ্চিন্তার কাজল। তিনি জানালেন ওয়াজির আলী নাকি আশেপাশের জেলা থেকে সশস্ত্র লোকজন জড়ো করতে লোক পাঠিয়েছিলেন। সামনে নিশ্চয়ই ভীষণ কোনো বিপদ অপেক্ষা করছে। আচ্ছা, চেরি সাহেবের কী অবস্থা? তাঁকে এক্ষুনি খবর দেওয়া দরকার। 

তিনি হরকরা পাঠালেন চেরি সাহেবের বাংলোয়। 

সময় জিনিসটা বেশ অদ্ভুত — কখনও বেগে ছুটে এক মুহূর্তে নিঃশেষ হয়ে যায়, আবার কখনও তৃষ্ণার্ত পথিকের কাছে দীর্ঘ দুপুরের মতো থমকে দাঁড়িয়ে থাকে। ডেভিস সাহেবের সময় যেন আর এগোয় না। হরকরা তো ফেরত এলো না। তবে তিনি যা ভাবছেন তাই কি সত্যি হল? 

ডেভিস সাহেব ওয়াজির আলীকে কখনোই খুব একটা বিশ্বাস করতে পারেননি। এই তো বছর এক-দুই আগের ঘটনা। ১৭৯৭ সালের সেপ্টেম্বরের এক বিকেল। অবধের নবাব আসফউদ্দৌলার মৃত্যু হল। এরই ঘণ্টা ছয়েকের মধ্যে নবাবের জ্যেষ্ঠ পুত্র মির্জা ওয়াজির আলীকে অবধের মসনদে অভিষিক্ত করা হল। কোম্পানীর তরফ থেকে তাঁর সম্মানে ক্যালকাটা ফোর্ট উইলিয়ামে তোপও দাগা হল। 

মাত্র সতের বছর বয়স নতুন নবাবের। কিশোর বয়সের জেদ ও নির্ভীকতা তাঁর মধ্যে ভরপুর; চরিত্রের নৃশংসতা আর লাম্পট্য নিয়ে ইংরেজদের মধ্যে অনেক অভিযোগ শোনা যেতে লাগল প্রায়ই। ইংরেজ কর্তারা এঁর কাছ থেকে যেমনতর আনুগত্য আশা করেছিলেন, তাঁর কাজেকর্মে তেমন কোনো লক্ষণ দেখা গেল না। বরং বড় লাট স্যর জন শোরকে তিনি স্পষ্ট ভাষায় লিখলেন, ‘কোম্পানি আর আমার — উভয়ের কল্যাণের জন্য আপনি যে সিদ্ধান্ত উপযুক্ত মনে করেন, তাতে আমার সম্মতি থাকবে। তবে আমি আশা করি যে আমার সম্পত্তি, আমার ক্ষমতা এবং কর্তৃত্ব থাকবে কেবল আমার হাতেই।’ 

শোর সাহেব প্রমাদ গুনলেন — ‘এঁকে মসনদে রাখা মানে তো কোম্পানির বিপদ, দেশের সর্বনাশ, ইংরেজ আধিপত্যের অবসান।’ অতএব তাঁকে মসনদ থেকে সরানো প্রয়োজন। এবার তাঁরা কোনো শক্তপোক্ত অজুহাত খুঁজতে লাগলেন। পেয়েও গেলেন। 

অবধের অন্দরমহলে কান পাতলে কানাঘুষো শোনা গেল। নবাব ওয়াজির আলী নাকি প্রয়াত নবাবের নিজের সন্তান নয়! নিঃসন্তান হওয়ায় তিনি নাকি এক গর্ভবতী রমণীকে আশ্রয় দিয়ে তার পুত্রকে দত্তক নেন। সরাসরি রক্তের সম্পর্ক না থাকলে তো কেউ মসনদের প্রকৃত দাবিদার হতে পারে না, এ কথা সবার জানা। কিন্তু ওয়াজিরকে সরালে কে বসবে মসনদে? 

আছেন তো একজন! সাদৎ আলী খান — সুজাউদ্দৌলার পুত্র, আসফউদ্দৌলার ভাই। অর্থাৎ আসফউদ্দৌলার মৃত্যুর পর কার্যত তিনি ছিলেন অবধের মসনদের অন্যতম দাবিদার। তিনি বারবার বহু অজুহাতে ইংরেজদের কাছে মসনদে আসীন হওয়ার দাবিও পেশ করে আসছিলেন। প্রথমে আমল না দিলেও ওয়াজির আলীর রকম সকম দেখে স্যর জন শোর সাদৎ আলীকেই মসনদে বসানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। তিনি যে ইংরেজদের সঙ্গে সব রকম সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক তা বারবার তাঁর দাবিতে স্পষ্ট করেছিলেন। কোম্পানি তো এমন নবাবকেই চায়। 

সাদৎ আলী তখন বেনারসে ছিলেন। শোর সাহেব এক চুক্তিপত্র তৈরি করে বেনারসে চেরি সাহেবের কাছে পৌঁছে দিলেন। চেরি ও ডেভিস সাহেবের উপস্থিতিতে ১৭৯৮ সালের ১৩ জানুয়ারি সাদৎ আলী ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির চুক্তিপত্রে সই করলেন। এরপর তিনি লখনৌ পৌঁছালে ২১শে জানুয়ারি ওয়াজির আলীকে সরিয়ে অবধের মসনদে বসলেন সাদৎ আলী খান। 

মাত্র মাস চারেক মসনদে থাকার পর এক রকম জোর করে ওয়াজির আলীকে ক্ষমতাচ্যুত করা হল। তবে তিনি বাধা দিলেন না। সাদৎ আলী তাঁর খরচা বাবদ প্রতি বছর দেড় লাখ টাকা পেনশন দেবেন বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছেন। ঠিক হল লখনৌ থেকে দূরে তাঁকে বেনারসে রাখা হবে। শোর সাহেব চেরি সাহেবকে সতর্ক দূরত্ব বজায় রেখে তাঁর কার্যকলাপের উপর নজর রাখতে বললেন। ওয়াজির আলীর জায়গা হল শহরের বাইরে মাধোদাসের বাগানবাড়িতে। ডেভিস সাহেবের মনে পড়ল আজকে ১৭৯৯ সালে দাঁড়িয়ে ঠিক বছর সতেরো আগে রাজা চেত সিং-এর সাথে লড়াইয়ের সময় বড় লাট ওয়ারেন হেস্টিংস তো এই মাধোদাসের বাগানবাড়িতেই আশ্রয় নিয়েছিলেন। কোথা থেকে অকারণে কোনো এক ভয়ের ছায়া এসে তাঁর মনকে গাঢ় করে ফেলতে লাগল। 

এদিকে ওয়াজির আলী বেনারসে এসে নিজের ঠাটবাটে কোনো কমতি রাখলেন না — যেন তিনি এখনও নবাব। যখনই বেরোতেন, সঙ্গে থাকত পদাতিক সৈন্য, সামনে বাদ্যি-বাজনা। সত্যি কথা বলতে গেলে, সাধারণ মানুষ দূর থেকে দেখে বুঝতেও পারেনি যে তিনি অবধের নবাবত্ব হারিয়েছেন।

চেরি সাহেব এরই মধ্যে বেনারসের মহারাজা উদিত নারায়ণ সিংকে সাবধান করে দিয়েছেন যাতে তিনি ওয়াজির আলীর সাথে কোনোরূপ সখ্য না করেন। দু’জনেই তো নিজেদের ক্ষমতা হারিয়েছেন ইংরেজদের কাছে, তাঁরা হাত মেলালে যে কোম্পানির পক্ষে ভাল হবে না, তা চেরি সাহেব জানতেন। তবে যতই এড়িয়ে চলুন না কেন, মহারাজা একবার মেলায় ঘুরতে গেলে তাঁর সাথে হঠাৎ করে ওয়াজিরের দেখা হয়ে গেল। তাঁর ব্যবহার ও সৌজন্যে মহারাজা মনে মনে খুশিই হলেন। এরপর আরও কয়েকবার তাঁদের দু’জনের সাক্ষাৎ হয় ঠিকই, তবে রাজার মনে ভয় রয়ে যায়। তিনি ওয়াজিরকে এড়িয়েই চলতে থাকেন। খবর পেয়ে সেবার চেরি ও ডেভিস সাহেব তখন খুশিই হয়েছিলেন, নেটিভদের একজোট হতে দেওয়া চলবে না।  

লখনৌতে যে ওয়াজির আলীর এতো অপমান হল, তিনি তার কোনো প্রতিশোধ নেবেন না, এমন উদার তো তিনি নন। বাইরে থেকে তাঁর আচার-ব্যবহারে বিশেষ আপত্তিকর কিছু না থাকলেও ডেভিস সাহেবের সন্দেহ হতে লাগল। স্থানীয় মানুষজনের সাথে তাঁর প্রায়ই কথাবার্তা হতো। তিনি খোঁজ পেলেন ওয়াজির আলী তলে তলে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের চেষ্টা চালাচ্ছেন, উপনিবেশের বিভিন্ন প্রান্তে ইংরেজদের বিরুদ্ধে যাঁরা লড়াই করছেন তাঁদের সাথে যোগাযোগ করছেন। এমনকি স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সহযোগে আফগান রাজা জামান শাহকে উত্তর ভারত দখলের রাস্তা খুলে দিতে চাইছেন। 

ডেভিস সাহেব একটুও অপেক্ষা না করে উপর মহলে জানালে নতুন বড় লাট লর্ড ওয়েলেসলি ওয়াজির আলীকে ক্যালকাটায় সরানোর নির্দেশ দেন। চেরি সাহেবের কাছে এই খবর পেয়ে ওয়াজির আলী খেপে উঠলেন। ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনা মাঝপথে বিগড়ে গেলে কার মাথাই বা ঠিক থাকে, ডেভিস সাহেবের মনে হল। এরপর উনিশ বছরের এই প্রাক্তন নবাব বড় লাটের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নানা রকম ভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন, কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। 

অবশেষে এই গতকাল ১৩ তারিখ ওয়াজির আলী চেরি সাহেবকে চিঠি পাঠিয়ে জানালেন যে তিনি ১৬ তারিখ ক্যালকাটা রওয়ানা হওয়ার জন্য তৈরি। তবে যাবার আগে, ১৪ তারিখে উনি তাঁর সাথে শেষ বারের মতো সৌজন্যমূলক প্রাতঃরাশ করতে চান। চেরি সাহেব বেশ নিশ্চিন্ত হয়েছিলেন, ঝামেলা বিদেয় হবে। কিন্তু আজ সকালে ডেভিস সাহেব যা দেখলেন, আর কোতোয়ালের মুখে যা শুনলেন, তাতে তিনি কিছুতেই নিশ্চিন্ত হতে পারছেন না। 

তিনি সময় দেখলেন। হরকরার এতক্ষণ চলে আসা উচিত ছিল। হঠাৎ দূর থেকে কিছু গোলমালের শব্দ কানে এলো তাঁর। চোখ ছোট ছোট করে দেখলেন একদল ঘোড়সওয়ার বন্দুক হাতে দ্রুত ঠিক তাঁর বাংলোর দিকেই এগিয়ে আসছে! আছেন ওয়াজির আলী নিজেও! দেখলেন তাঁর পাহারাদারেরা উন্মত্ত দলটিকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করতেই তাদের গুলিতে ওরা লুটিয়ে পড়ল।

আর সময় নেই। মৃত্যু আজ তাঁর দরজায়। মরতে ভয় নেই, কিন্তু তাঁর পরিবার? স্ত্রীকে চিৎকার করে ডাকলেন। দুই সন্তান আর আয়াদের নিয়ে তক্ষুণি ছাদে চলে যেতে বললেন। বন্দুক চাই তাঁর। কিন্তু এ কী, লোকজন তো তাঁর বাংলোর দরজায় আর বন্দুক ওদিকেই রাখা! হঠাৎ উপরের ঘরে রাখা তাঁর বর্শার কথা মাথায় এলো। বন্দুক ছেড়ে তিনি তাই নিয়েই ছাদে চলে এলেন। ছাদের কোনো রেলিং নেই। নীচ থেকে একের পর এক গুলি ছোঁড়া হচ্ছে। স্ত্রী-সহ সবাইকে ছাদের মাঝখানে এসে মাথা নিচু করে বসতে বললেন। ছাদে ওঠার প্যাঁচানো খাড়া সিঁড়ি, বেশ সরু। একবারে কেবল একজনই উপরে চড়তে পারে। মাথার উপরে ঢাকনার মতো দরজা খুলে তবেই ছাদে চড়া সম্ভব। ডেভিস সাহেব সেই সিঁড়ির দরজা খুলে দিয়ে তার মুখে বর্শা বাগিয়ে বসে রইলেন। 

কিছুক্ষণ পর একজনকে উপরে উঠে আসতে দেখা গেল। বিন্দুমাত্র দ্বিধা না করে সাহেব তাকে দিলেন বর্শার খোঁচা। আর্তনাদ করে রক্তাক্ত অবস্থায় সে ধরাশায়ী হল। সঙ্গে সঙ্গে নীচ থেকে একের পর এক গুলি ছোঁড়া হল। কোনোমতে আড়ালে সরে ডেভিস সাহেব আত্মরক্ষা করলেন। উদ্বিগ্ন পরিবার তখন কেঁদে চলেছে তারস্বরে। সান্ত্বনা দেওয়ার উপায় নেই। একটু পর আবার আরও একজনকে উপরে আসতে দেখা গেল। সাহেব তার দিকে বর্শা চালাতেই সে বর্শার ফলা চেপে ধরে প্রচণ্ড টানাটানি শুরু করল। কিন্তু নীচে সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে বিশেষ সুবিধা হল না, হার মেনে আহত হয়ে নেমে গেল সে। একটু পর নীচ থেকে প্রচণ্ড ভাঙচুরের শব্দ শোনা গেল। ভীষণ নারকীয় সে পরিস্থিতি। বেঁচে থাকার জন্য আজ এই ছাদ আর হাতের বর্শাই সম্বল। 

এভাবে কতক্ষণ চলল সাহেবের মনে নেই। এক-দেড় ঘণ্টার বেশি তো হবেই। এখন আর কোনো সাড়া আসছে না নীচ থেকে। সবাই কি ফিরে গেল তবে? এ যাত্রায় কি তাঁরা বেঁচে গেলেন? নিশ্চিন্ত হবেন কিনা ভাবছেন, এমন সময় তিনি হঠাৎ নীচ থেকে অনেকগুলো পায়ের শব্দ শুনতে পেলেন। বর্শাখানা আবার শক্ত করে হাতে চেপে ধরলেন। সিঁড়ির দরজার মুখে একখানা মাথা দেখা যেতেই তিনি বর্শা ছুঁড়তে গেলেন। কিন্তু না। এবার তিনি থামলেন, এ মুখ তাঁর চেনা — তাঁরই এক বৃদ্ধ দেশি চাকর। জানা গেল ওয়াজির আলীর দলবল চলে গেছে। বিশ্বাস হল না সাহেবের। হতেই পারে ওরা তাঁর চাকর-বাকরদের হাত করেছে। তিনি নামতে রাজি হলেন না, চাকরদের উপরেও আসতে দিলেন না। 

অতঃপর পুলিশ তাদের সেপাইদল নিয়ে উপস্থিত হলে তাদের ভরসায় ডেভিস সাহেব খানিকটা নিশ্চিন্ত হয়ে নীচে নামলেন। তাঁর বাংলোর চারিদিকে পুলিশ পাহারা বসল। দূর থেকে তখনও ওয়াজির আলীর নাকাড়ার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। খবর পেলেন যে তাঁরা বেশ কিছু ইউরোপীয় বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে দিয়েছেন। 

যাই হোক, বেলা এগারোটা নাগাদ আরও কিছু ইংরেজ ঘোড়সওয়ার এসে উপস্থিত হল ডেভিস সাহেবের বাংলোয়। তাঁদের কাছে তিনি জানতে পারলেন যে চেরি সাহেব ওয়াজির আলীর হাতে নিহত হয়েছেন। 

(ক্রমশ)

প্রথম অধ্যায় ‘কালভৈরবের সন্ধানে’ প্রথম পর্ব

দ্বিতীয় অধ্যায় ‘ঘাটে ঘাটে’ প্রথম পর্ব

তৃতীয় অধ্যায় ‘ফিরে দেখতে যাওয়া’ প্রথম পর্ব

Disclaimer
The views and opinions expressed in this series are solely those of the author and do not represent the views, policies, or positions of any organisation, institution or society of any kind or the government. The content of this series is written in the author’s personal capacity and does not reflect any official information or stance.

Leave a Reply