চলে যেতে যেতে আহাম্মকের ক-অক্ষর। পর্ব ১৮। দুর্লভ সূত্রধর

গত পর্বের পর

আমাদের সেই নির্ভার স্বপ্নকালে একসঙ্গে বেশ কয়েকটি লগুড়াঘাত ঘটল।

 

বড়দি, মেজদি, ছোড়দি, ন-দি, বিনদি, ফুলদি, কুটিদি বা সুদির বিয়ের সময় যা হয়নি, প্রথমবার সেই স্বপ্নভঙ্গের সূচনা হলো সেজদির বিয়েকে কেন্দ্র করে।

 

বড়দি আর মেজদির বিয়ে হয়ে গিয়েছিল সহজেই।

ছোড়দি, ফুলদি আর ন-দিও স্বনির্বাচিত পাত্রে বিয়ে করেছিলেন। বাবা আর মা সংস্কারমুক্ত হওয়ায় সেই অত বছর আগেও এই বিয়ে নিয়ে অন্তত আমাদের বাড়িতে তেমন কোনো কোনো আলোড়ন তৈরি হয়নি। কাকার মধ্যযুগীয় ব্র্যান্ডেড প্রগতিপন্থার নিমরাজি-আপত্তি সত্ত্বেও স্বনির্বাচিত পাত্রের সঙ্গে তাঁদের বিয়ে দিয়েছিলেন বাবা নিজেই, বেশ অনুষ্ঠান করে ।

সুদিদিসহ এই দিদিদের গায়ের রঙ ছিল ফর্সা— তাঁরা দেখতে ছিলেন সুশ্রী— বঙ্গীয় প্রগতিশীলতার অর্থসীমাকে একেবার অতিক্রম করে যেভাবে বাঙালির বিপ্লবীয়ানা কিংবা শিক্ষা ও রুচির বড়াইয়ের পরিসমাপ্তি ঘটে— এই ধরনের বিবাহের আয়োজনে— দিদিদের বিয়ের ক্ষেত্রেও সেটাই ঘটেছিল। কেননা বিয়ের বাজারের দরদস্তুর অনুযায়ী তাঁরা সকলেই  ছিলেন চলনসই।

গোল বাঁধল সেজদির বিয়ে নিয়ে।

সেজদি ছিল ঈষৎ পৃথুলা, রঙ ছিল কালো। কিন্তু বাঙালি মেয়েদের লম্বত্বের নিরিখে ছিল বেশ দীর্ঘাঙ্গী। ফলে স্থূলত্ব সেজদির চেহারায় মানানসই ছিল।

 

তবু সেজদিকে সব দিক থেকে আমি ও আমরা অসামান্যা বলেই জানতাম।

সেজদি শহরের প্রত্যন্তে মাঠের পাড়ার একেবারে পূর্বপ্রান্তে, যেখানে শহরটা শেষ হচ্ছে সেখানে একটা প্রাইমারি স্কুল অরগানাইজ করেছিল।

মাঠেরপাড়া পল্লীটিতে সেই জনগোষ্ঠীর বাস যারা একেবারেই প্রান্তিক মানুষ— জাতিগত ও অর্থনৈতিকভাবে।

একেবারেই চর্যাপদের কবি ঢেণ্ঢণপাদের ভাষায়— ‘টালত মোর ঘর নাহি পড়বেষী। / হাড়ীত ভাত নাঁহি নিতি আবেশী॥’ সেখানে ‘পড়বেষী’রা সর্বদাই বিনা কারণে পরস্পর বিবাদমান থাকত। সেখানকার অধিকাংশ মানুষ পরের বাড়িতে বাজে বা খাজা কাজ করেন। ময়লা পরিষ্কার করেন, পুরুষেরা পথের পাশে বসে জুতো সেলাইয়ের কাজ করেন। পরিবারের সমর্থ পুরুষেরা, মেয়েরা শুকর পালন করেন— একেবারে দেশি শুকর। আর বাচ্চাগুলো ধুলো কাদা মেখে আড়ে বহরে বড়ো হতে থাকে। পাড়ার নারীপুরুষ নির্বিশেষে সকলেই দেশি মদ খেয়ে দিনের প্রায় অধিকাংশ সময় হল্লা মচিয়ে রাখতেন।

বাচ্চাগুলোও বড়ো হওয়ার আগেই মদ জাগ-দেওয়া ও তা পান করায় দড় হয়ে উঠত। মারামারি, গালাগালি, নারী-পুরুষের কলহে পল্লীটি জেগে থাকত প্রায় সারা রাত।

শহরের ভদ্দরলোকেরা পাড়াটিকে এড়িয়ে চলতেন। সন্ধের পর চুরি-ছিনতাইজানির ভয়ে এদিক মাড়াতেন না কেউই।

বিগত চৌদ্দ প্রজন্মে এই পাড়ার কোনো ছেলেমেয়ে স্কুলে যায়নি বা পড়াশোনার ধারেকাছে ঘেঁষেনি।

 

সেজদিদের কলেজটা ছিল ঐ মাঠেরপাড়ার পূর্বপ্রান্তের কাছাকাছি।

কলেজ পাশ করার পর সেজদি সরাসরি শহরের একমাত্র টিচার্স ট্রেনিং স্কুলে ভর্তি হয়ে গিয়েছিল।

সেখান থেকে পাশ করে বেরোবার পর কয়েকজন বান্ধবীকে সঙ্গে নিয়ে ঐ পল্লীতে স্কুল বানাবার জন্য উঠে-পড়ে লেগে গেল।

কাজটা কতটা কঠিন ছিল তা বোঝা সহজ নয়।

ঐ পল্লীর প্রায় কেন্দ্রস্থলে একটা পুরোনো পরিত্যক্ত সরকারি ডিপ টিউবওয়েলের পরিত্যক্ত ঘর ছিল। ঘরের ভেতরের যন্ত্রপাতি বা জানালা দরজাগুলো কবেই উধাও হয়ে গেছে! এর মেশিনঘরের লোহালক্কর-বেচা পয়সায় কেনা কত দিশি মদ পাড়ার মাতব্বরদের পেটে সেঁধিয়েছে তার কোনো হিসেব নেই!

সেই ঘরটাকে আগাছার জঙ্গলের গ্রাস থেকে উদ্ধার করে স্কুল পেতে বসল সেজদিরা।

প্রথমেই দুটো প্রধান বাধার সম্মুখীন হতে হলো সেজদিদের।

প্রথমত মাঠেরপাড়ার মাতব্বরেরা প্রথম ধাক্কায় সেজদিদের অনুপ্রবেশকারী বলে ধরে নিয়ে বেঁকে বসলেন। এই পাড়ার অনেক ঘরেই মদের ভাটি আছে, কিন্তু সমস্ত পাড়া খুঁজলে একটাও বই পাওয়া যাবে না। স্কুল প্রতিষ্ঠার সুফল বোঝাতে বোঝাতে সেজদিরা গলদঘর্ম। দ্বিতীয়ত কেউই স্কুলে বাচ্চা পাঠাতে রাজি নয়। কেননা মোটামুটি চোখ ফুটবার পর থেকেই রেল প্ল্যাটফর্ম থেকে শুরু করে মাঠঘাটে পর্যন্ত ঘোরাঘুরি করে এপাড়ার শিশু থেকে বালক, কিশোর থেকে যুবকেরা ফাইফরমাশ খেটে হোক, মোট বয়ে হোক, কি চুরি-ছ্যাঁচরামো করে হোক পয়সা রোজগার করে, বিড়ি-সিগারেট থেকে শুরু করে মদ-গাঁজা খেয়ে বাকি পয়সা ঘরে নিয়ে আসে।

কেউ কেউ শহরের ভদ্দরলোকেদের মদ্যস্রোতের পালে চাটের গোপন হাওয়া পৌছে দেবার কাজে শুয়োরের মাংস সাপ্লাই দেয়।

মাঠের পাড়ার মেয়েদের বিয়ে হয়ে যায় দশ-এগারো বছর বয়সে। একাধিক পুরুষ ও নারীসঙ্গে মজে থাকে পাড়ার দিন আর রাত্রির অন্ধকার উল্লসিত প্রহরগুলি।

ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠালে পরিবারের সবাই মিলে সেঁচে তোলা সেই রোজগার বন্ধ! আনন্দ-পাঁকে নিমজ্জিত জীবনে সাত্ত্বিকতার আগ্রাসনের আশঙ্কা!

 

 

বহুদিনের চেষ্টায় সেজদিরা ঘরে ঘরে বার বার হানা দিয়ে একটু একটু করে আস্থা অর্জন করেছিল। কয়েক বছরে দুটি-চারটি করে বেশ গণনীয়-সংখ্যক ছেলেমেয়েকে স্কুলে নিয়ে আসতে পেরেছিল। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি— যারা একদিন স্কুল করা নিয়ে চশমা নাকের দিদিমণিদের পদে পদে বাধা দিয়েছিল তারাই পুরোনো পাম্প ঘরটার ঈষৎ উঁচু মাটির পৈঠার ওপর বাঁশ-টিন দিয়ে নতুন একটা ঘর বানিয়ে দিয়েছিল।

কিন্তু বাধা ছিল অন্তহীন। সরকারি ডিপ টিউবওয়েলের জায়গায় স্কুল হওয়ায় কে যেন কোথায় রিপোর্ট করে দিল— সরকারি জমি বেআইনিভাবে দখল করা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা ছিল এই যে, তখনও পর্যন্ত সম্পূর্ণ নিজেদের উদ্যোগে চলা এই স্কুলের জন্য সেজদিরা বাড়ি থেকে, নিজেদের কষ্টার্জিত ট্যুইশনের রোজগার থেকে এবং চেয়ে-চিন্তে, চাঁদা তুলে স্কুলটা চালাচ্ছিল।

এতকাল ডিপ টিউবওয়েলটা অচল হয়ে পড়েছিল, এই সেন্টারের কর্মীরা বছরের পর বছর কোনো কাজ না-করেই বেতন পেয়ে যাচ্ছিলেন, তখন কোনো দখলদারির অভিযোগ ওঠেনি।

সেজদিরা স্কুলটাকে মোটামুটি একটা ভদ্রস্থ রূপ দিতেই সকলের টনকের এরিয়াল নড়ে গেল। মুখ্যত পাশের ভদ্রপাড়ার বাবুভাইয়াদের। মাঠেরপাড়ায় স্কুল!— এমন সৃষ্টিছাড়া কথা কে কবে শুনেছে!

কিন্তু গ্রাম-ঘেরা এই শহরটির সামন্ততান্ত্রিক ও কায়েমি স্বার্থের টনক নড়তে বড্ড দেরি হয়ে গিয়েছিল। ততদিনে মাঠেরপাড়ার লোকেদের মধ্যে স্কুল ঘিরে স্বপ্নসিদ্ধ কৌতূহলের জন্ম হয়েছে। ফলে স্কুল তুলে দেওয়ার চেষ্টা অত সহজে সফল হলো না।

নাকে রুমাল চাপা দিয়ে  সরকারি অফিসাররা ব্যাপারটা দেখতে এলেন।

অফিসারেরা জিজ্ঞাসাবাদ করে, সব জেনে একেবারে তাজ্জব হয়ে গেলেন। সরকারের অননুমোদিত একটি স্কুল শুধুমাত্র নিজের জোরে এমন একটি পল্লীতে চলতে পারে তা তাঁরা কল্পনাও করতে পারেননি। যখন টিনের চালার বেড়ার ঘরের অনুভূমে আটকানো ছবি ও কবিতার পোস্টারে বর্ণমালা শিক্ষা, সাধারণ সামাজিক স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা সম্বন্ধে নির্দেশক নীতির প্রদর্শন কিংবা ভারতের ইতিহাসের ছবিসহ কাঠামোর বর্ণনা দেখতে পেলেন— তখন তাঁদের মুখে আর কথা সরল না।

নিজেদের ইস্কুল উঠে যাবার খবরে অদূরে দাঁড়িয়ে থাকা শঙ্কাক্লিষ্ট শিশুদের মুখগুলি তাঁদের প্রায় তাড়া করে মাঠের পাড়ার বাইরে— বড়ো রাস্তায় বা রাজ্য সড়কে ফিরিয়ে নিয়ে এলো।

সরকারি অফিসাররা ফিরে গিয়ে কী রিপোর্ট দিলেন জানা নেই— দিন সাতেকের মধ্যেই একটা চিঠি পেল সেজদি। তাতে জেলা প্রাইমারি শিক্ষা অধিকর্তার অফিস থেকে মাঠপাড়া প্রাইমারি স্কুলের সরকারি অনুমোদন-সংক্রান্ত পূর্বতন আবেদনের সপক্ষে কয়েকটি অতিরিক্ত তথ্য জানতে চাওয়া হলো।

বছর-দুয়েক আগেই সেজদি অনুমোদনের আবেদন জানিয়ে অফিসে হাঁটা-হাঁটি করছিল, কিন্তু কোথাও কোনো আশ্বাস পায়নি।

সেজদিদের স্কুলের আবেদন নিয়ে বুলুদা, আমাদের বুলু গুহ ঐ দু-বছর খুব দৌড়োদৌড়ি করেছিল।

পার্টির দৈনন্দিন কাজ ছাড়া বুলুদা গায়ে পড়ে লোকের এসব কাজ করে দিতেন।

এবার সেজদিদের কাছ থেকে সব কাগজপত্র সংগ্রহ করে একেবারে ঝাঁপিয়ে পড়লেন।

প্রায় বছর ঘুরে গেল, কাগজ আর প্রমাণ দেওয়ার শেষ হয় না। শেষ পর্যন্ত উনিশ শো সত্তরের দশকের শেষ দিকে— তখন রাজ্যে রাজনৈতিক পটের বহুলাংশে পরিবর্তন হয়েছে, তখন বুলু গুহর চেষ্টায় আর সেজদিদের লাগাতার লেগে থাকার ফলে মাঠের পাড়া প্রাইমারি স্কুল অনুমোদন পেল।

 

কিছুদিনের এরিয়ারসহ সেজদিরা সেই সময়ের প্রাইমারির স্কেল অনুযায়ী সরকারি বেতন পেতে শুরু করল।

 

আমাদের পরিবারে সেজদির বিপুল অবদান ও প্রভাব ছিল।

বাড়ির সমস্ত কাজেই সেজদির ভূমিকা ছিল অনন্য। আমাদের জামাকাপড়ও বরাবর সেজদিই কেচে দিত। সেই সময় এসবের ঔচিত্য বিষয়ে আমার মনে কোনো প্রশ্ন দেখা দেয়নি। আমাদের বইখাতা জোগাড় করা, তাতে মলাট লাগানো, ছোটোদের পড়তে বসানো, দেখাশুনো করা, আগলে রাখা, নিত্যি ছিঁড়ে ফেলা আমাদের জামায় বোতাম লাগানো থেকে ইস্ত্রি করে দেওয়া— সবেতেই সেজদির ভূমিকা ছিল। ছোটোদের জ্বরজ্বারিতে সেজদিকেই সেবাযত্ন করতে আর রাত জাগতে দেখেছি।

গায়ের রঙ আর সৌন্দর্যের তথাকথিত অভাবের কারণে সেজদির বিয়ে আর হয় না। পাত্রপক্ষ আসে, একথালা করে মিষ্টি সাঁটায় আর ‘পরে জানাচ্ছি’ বলে কেটে পড়ে।

এইভাবে বয়স বাড়ছিল কিন্তু সেজদির বিয়েটাই হচ্ছিল না।

পাড়া-প্রতিবেশীরা মাকে বলতেন— ‘এরেই বলে অতি বড়ো ঘরন্তি না পায় ঘর!’

 

সেজদির চাকরি পাকা হয়ে যাবার পর পরই ম্যাজিকের মতো সেজদির বিয়ে ঠিক হয়ে গেল। এটা যে রৌপ্যচক্রের ম্যাজিক তাতে কোনো সন্দেহ ছিল না।

ছেলে সরকারি চাকুরে, মধ্যস্থ কেরানি, বয়সটা সেজদির সঙ্গে মানানসই রকমের বেশি।

বিয়ে ঠিক হবার পর থেকে বাবাকে বেশ ক্লিষ্টমুখে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেল।

এমনিতেই বাবা দিনরাত পরিশ্রম করে এত বড়ো পরিবারের এতগুলো মুখে অন্ন তুলে দেওয়ার জন্য অর্থ উপার্জন করতেন— সংসারের বাকি দায়িত্ব ছিল মায়ের ওপর, মায়ের বকলমা নিয়েছিল সেজদি।

সব বোনের, ন-দি, ফুলদি—মায় ছোড়দির বিয়েও হয়ে গিয়েছিল। পড়ে ছিল শুধু সেজদি। সেই সেজদির বিয়ের কথা পাকা হওয়ায় বাড়িতে, পাড়া-প্রতিবেশীদের মধ্যে  আনন্দের হিল্লোল বয়ে যাচ্ছিল— শুধু বাবার মুখই অন্ধকার।

আহাম্মকদের জ্বালা অনেক।

সে-সময় বড়দাদা দন্ডকারণ্যে রামচন্দ্রের মতো দশ বছর নয়, পঞ্চবটী খুঁজে পেয়ে সীতার সঙ্গে আজীবন কাটানোর প্রকল্পে, আর মেজদা, ছোড়দা— সকলেই উচ্চশিক্ষায় ব্যস্ত। সেজদারও দূরের শহরে পোস্ট গ্র্যাজুয়েটের শেষ বছর। আমি আর্টস। আমিই শুধু বাড়িতে আছি। সদ্য সেজদির চাকরিটা হওয়া সত্ত্বেও সকলের বাইরে পড়ার খরচা জোগাতে গিয়ে বাড়ির আর্থিক পরিস্থিতি বেশ টাইট। বাজার করার জন্য মা যে পয়সা আমাকে দিতেন তাতেই কুলিয়ে বাজার করার ক্ষেত্রে আমার প্রতিভা বিকশিত হয়েছিল। বাড়ির হালটা আমাকে বুঝতেই হয়েছিল।

দিন কয়েকের মধ্যেই বাবার দুশ্চিন্তার কারণ কর্ণগোচর হলো— ছেলেপক্ষকে দিতে হবে বউভাতের খরচ, অর্থাৎ নগদ।

টাকার অঙ্কটা , মেয়ের বিচারে বেশ বড়ো।

উপায়ান্ত না দেখে কালো মেয়ের ‘কন্যাদায়গ্রস্ত’ পিতা হিসেবে বাবা এই নগদ দিতে রাজি হয়েছিলেন। একদিকে দোকানের তহবিল থেকে টাকা দেওয়ার ব্যাপারে কাকার প্রবল আপত্তি ও বাধা, অন্যদিকে পণ দিতে হবে ভেবে বাবার ভেতরটা একেবারে পুড়ে যাচ্ছিল।

তার কারণটা শুধু টাকা বা টাকার অঙ্ক নয়— নিজের মেয়েকে পণ দিয়ে বিয়ে দিতে হবে— এই অবমাননাটা তাঁর পক্ষে অন্তর থেকে মেনে নেওয়া কঠিন ছিল।

কিন্তু বাবাকে মানতে হয়েছিল!

(ক্রমশ)

Leave a Reply