চলে যেতে যেতে আহাম্মকের ক-অক্ষর। পর্ব ৪। দুর্লভ সূত্রধর

গত পর্বের পর

রাতের নৈঃশব্দ্যভাঙা নিজস্ব বিচিত্র শব্দাবলীর মাঝে বিছানায় বসে আহাম্মক অক্টোবরের শীতে অন্ত্রের মধ্যে তীব্র আলোড়নের আক্রমণের প্রেক্ষিতে  কর্নেলের প্রতিদিনের অন্তঃসংগ্রামকে নতুন করে দেখতে পায় যেন!

সহসা পায়ের কাফ্-মাসলে তীব্র খিঁচুনি অনুভব করে আহাম্মক। প্রথমে বাঁ-পায়ে। খিঁচ-ধরা জায়গাটা দু-হাতের বুড়ো আঙুল দিয়ে জোরে চেপে ধরার আগেই ডান পায়েও খিঁচুনিটা ছড়িয়ে যায়। তাড়াতাড়ি একটু স্বস্তির আশায় দুই পায়ের অবস্থান পরিবর্তন করে সে।

কুহুকে একবার ডাকবে নাকি?

আজকে কুহুর অমানুষিক পরিশ্রম গেছে। সকাল দশটা থেকে দুপুর রোদে পোস্ট অফিসে লাইন দিতে হয়েছে। কিছু টাকা পাওয়ার কথা ছিল, ওষুধ ফুরিয়েছে। এ টি এমে টাকা তোলার প্রক্রিয়াটা আর তাদের সড়গড় হয়নি। প্রায় চারঘন্টা লাইনে দাঁড়াবার পর কাউন্টারে গিয়ে শোনে আজ কেন, আগামী সোমবারের আগে টাকা তোলা যাবে না। আশ্চর্য এত বড়ো কথাটা কোথাও নো়টিশ আকারে সাঁটা নেই, কোথাও কোনো বিজ্ঞপ্তি নেই। এতক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে, কথাটা কেউ বলেনি!

কুহু থাকতে পারেনি, বলে ফেলেছে— ‘আমার টাকা, প্রয়োজনের সময় আমি তুলতে পারব না! কোথাও কোনো নোটিশ নেই কেন? তাহলে অন্তত চার ঘন্টা লাইনে দাঁড়াতাম না!’

কাউন্টারের ওপার থেকে উত্তর এসেছে— ‘জি়জ্ঞেস করলেই জানা যেত।’

এত বড়ো ঔদ্ধত্যপূর্ণ অযৌক্তিক অসভ্যতার পরেও পোস্ট অফিস ভর্তি মানুষজন গম্ভীর, একাকী, একক, নিশ্চুপ। কারও মুখে কোনো কথা নেই!

মানুষ কি কথা বলতে ভুলে গেছে?

প্রশ্ন করতে?

নাকি কর্নেলদের গৃহযুদ্ধবিধ্বস্ত শহরের মতো সামরিক শাসন চলছে?

 

মাসল-ক্র্যাম্পের ব্যথায় কঁকিয়ে ওঠার শব্দটা গিলে নিল আহাম্মক। কুহুকে ডাকার ব্যাপারটাও বাদ দিল।

এই সময়ে ইলেকট্রিক ইস্ত্রিটায় কয়েক পল্লা ভাঁজ করা নরম গামছা গরম করে সেঁক দিলে রক্ত চলাচল একটু স্বাভাবিক হয়ে খিঁচুনি কমতে পারে!

কিন্তু সে তো বিস্তর হাঙ্গামার ব্যাপার। মশারির ভেতরে ইস্ত্রি গরম করা চাড্ডিখানি ব্যাপার নয।

ব্যথা সহ্যসীমা অতিক্রম করার আগেই আহাম্মক সাবধানে মশারি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করে। হাঁটাহাঁটি করলে কোনো কোনো সময় একটু ব্যথা কমে, ধীরে ধীরে খিঁচুনিও কমে যায়।

কিন্তু বিছানায় বসেই মাটিতে পা দিয়ে তার ভরসা হয় না হাঁটতে পারবে বলে। তবু সর্বশক্তি এক করে খাটের বাজু চেপে ধরে, হাতড়ে হাতড়ে কোনো রকমে নাগাল পায় খাটের ছত্রির। দু-চারবার টলে গিয়ে অবশেষে ছত্রি আঁকড়ে সোজা হতে পারল আহাম্মক।

অসহ্য খিঁচুনি নিয়েই পাতড়ে পাতড়ে খাটের পাশেই ছেড়ে রাখা বাড়িতে পরার চটিটায় পা গলালো।। তারপর ছত্রি থেকে দেয়াল।

ঘরের বাইরে ডাইনিংয়ের আলো জ্বলছে।

ঘরের দরজার ঠিক গোড়ায় দেয়ালের গা-ঘেঁষে রাখা বহু পুরোনো বুড়ো সোফাটার কাঁধা ধরে ফেলল আহাম্মক। দেয়াল ধরে ধরে ডাইনিংয়ে পা রাখল। তার পর রাত্রিকালীন বিচিত্র ভ্রমণ।

পায়ের কাফ্-মাসলের টান সামান্য কমতে না কমতে ডান পায়ের বুড়ো আঙুলটা গেল বেঁকে, হাতের বুড়ো আঙুলেও বেগঁড়বাই। তারপর গোড়ালির অস্থিসন্ধিতে।

শব্দহীন যন্ত্রণা আর স্তব্ধ হয়ে আসা হাত-পায়ে স্বাভাবিকতা ফিরে আসার প্রতীক্ষায় আহাম্মক ধীরে ধীরে পায়চারি চালিয়ে গেল।

বড়ো চার্চের টওয়ার ঘড়িতে তিনটে বাজার সংকেত।

টানগুলোতে সামান্য স্বাভাবিকতা ফিরে আসায় বিছানায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হলো। তার আগে অভ্যাসবশেই ডাইনিং-সংলগ্ন বাথরুমে গেল আহাম্মক। বাড়িটা তৈরির সময় কুহুর সাজের জন্য বাথরুমে একটা ফ্যান আর একটা লম্বা আয়না লাগানো হয়েছিল।

কিন্তু কোনোকালেও কুহুর সাজের কোনো সুযোগ ঘটেনি। ভালো বডি পাউডার, মেকাপের ক্রিম, ফাউন্ডেশন, লোশন, ফেস পাউডার, কমপ্যাক্ট, ক্লিনজিং মিল্ক, ময়েশ্চারাইজার, ফেস ওয়াশ, নামি কোম্পানির লিপস্টিক, কাজল, আই লাইনার, মাশ্্কারা— ইত্যাকার সরঞ্জামের যা দাম, তা কুহু কোনোদিন কিনবার সাহস পায়নি। শুধু বডি পাউডার আর সোয়েটের টিপ পর্যন্ত তার দৌড়। তার জায়গায় বাড়ির প্রাণী-কটির, বিশেষ করে ছেলেদুটোর জন্য একটু ফল, একটু ভালো মাছ কেনাটাকে কুহু চিরকাল অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছে।

তাছাড়া ছেলেদের বড়ো করা, আহাম্মকের রোগের সঙ্গে লড়াই করা, সাংসারিক প্রাত্যহিক কাজকর্ম সমাধা করার পর কুহু সাজের কোনো সময় ছিলও না। সে-নিয়ে তার কোনো আক্ষেপও নেই।

 

আজ, এই রাতে বাথরুমে ঢুকেই দেয়ালে লটকানো লম্বা আয়নাটার দিকে নজর গেল।

তার মধ্যে আহাম্মক নিজে।

তার গলার শির বেরিয়ে এসেছে, ভুরু প্রায় দেখাই যাচ্ছে না। জামার ওপর দিয়ে ঠেলে বেরিয়েছে কণ্ঠার হাড়। পাজামা পরা সত্ত্বেও কাঠির মতো পা-দুটোর বাস্তবতা ঢাকা দেওয়া যায়নি!

এত যন্ত্রণার মধ্যেও আহাম্মকের হাসি পেল— যাক। তার ঘরে অন্তত একটা প্রমাণ সাইজের আয়না আছে।

 

কিন্তু সেই অন্ধের পৃথিবীতে কর্নেলের একটি আয়নাও নেই। আয়নার পরিবর্তে তিনি গালে হাত বুলিয়ে শেভ করেন।

যে প্যান্টটা তিনি পরেন সেটি এত প্রাচীন ও ব্যবহারজীর্ণ যে, সেটাকে ট্রাউজ়ারস বললে অত্যন্ত বেশি বলা হয়। প্যান্টটা পায়ে গলাবার পর সেটাকে দেখতে লাগে পায়ের ওপর চেপে বসা ঈষৎ লম্বা আণ্ডারওয়্যারের মতো, গোড়ালির দিকে একটা ফিতের সাহায্যে গিঁট দিয়ে আটকানো। এবং কোমরে সেই একই কাপড় দিয়ে গেরো দেওয়া— যা বুক বরাবর সোনালি বকলসের মধ্যে দিয়ে গেছে। কর্নেল বেল্ট ব্যবহার করেন না। কর্নেলের শার্টটার অবস্থাও তথৈবচ। সেটা ছিল পুরোনো ম্যানিলা কাগজসদৃশ বিবর্ণ রঙের, পিচবোর্ডের মতো শক্ত— যা একটি তামার বোতাম দিয়ে আটকানো হয়, বোতাম প্রায়-কলারহীন জামাটাকে ঘাড়ের সঙ্গে ধরে রাখে। কলারটা এতো ছেঁড়া হওয়ায় কর্নেল টাই পরার চেষ্টাও করেন না।

কর্নেল শুধু চান পেনশনটা পেলে তিনি আর তাঁর হাঁপানি রোগাক্রান্ত স্ত্রী একটু ভালো থাকতে পারবেন— এক পেয়ালা কফি, দু-বেলা দু-মুঠো খাবার, গালে হাত বুলিয়ে শেভ করার পরিবর্তে একটা আয়না— এবং একটা আস্ত প্যান্ট!

কর্নেলের সমস্ত প্রতিবেশে দীনতা আর মালিন্যের ছাপ।

রুগ্না স্ত্রীকে নিয়ে তিনি থাকেন সামরিক শাসনপীড়িত ছোট্টো মফস্বলের এক প্রান্তিক বসতিতে।

পামগাছের পাতা দিয়ে ছাওয়া ঘর, এখানে ওখানে দেয়ালের চুনকাম খসে গেছে। চারপাশের সারি সারি অপরিকল্পিত গাদাগাদি বাড়িঘরে সংকীর্ণ পথে তাঁকে চলাফেরা করতে হয়।

শীতের আবহে ঘ্যানঘ্যানে এক বৃষ্টিতাড়িত দিন।

সেদিন কর্নেল সাজগোজের ব্যর্থ চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। শহরের এক অন্ত্যেষ্টিতে যাবেন তিনি।

এক সংগীতশিল্পী মারা গিয়েছেন।

সংগীত।

কর্নেল বা তাঁর স্ত্রীর জীবনে যেন কোনো সংগীত নেই।

কর্নেলের স্ত্রী গান গেয়ে উঠতে গিয়েও থমকে যান— অগাস্টিনের মৃত্যুর যে এক বছরও পূর্তি হয়নি!

মার্কেজ মানুষের জীবনে গান ও সুরের ক্রমহ্রাসমানতাকে মৃত্যুর নীরবতার দিকে ঈঙ্গিত করেন না তো!

হয়তো। কেননা তাঁর মোরগটিকে দেখতে আসা পাড়ার বাচ্চাদের একজন মাউথ অর্গান বাজাতে শুরু করলে কর্নেল তাকে নিষেধ করে বলেছিলেন— ‘আজ বাজিও না, শহরে একজন মারা গিয়েছেন।’

এই শহরে কারও স্বাভাবিক বা বৈধ মৃত্যু ছাড়া অন্য কোনো সংগীত দূরস্থান— কোনো শোকসংগীত বা এলিজিও ভালো করে বা স্বাধীনভাবে শোনা যায় বলে মনে হয় না।

সন্দেহ জাগে আহাম্মকের।

এই মৃত্যু কর্নেলের কাছে সবিশেষ বিশেষ বলে প্রতিভাত হয়। স্ত্রীর জিজ্ঞাসার উত্তরে তিনি বলেন— ‘এই কবর দেওয়া তো একটা বিশেষ অনুষ্ঠানই বটে। কেননা বহু বছরের মধ্যে এই একটা স্বাভাবিক মৃত্যু দেখা গেল!’

এই একটি বাক্যই ক্ষমতার দাম্ভিক অত্যাচার এবং রাষ্ট্রের সার্বিক নিয়ন্ত্রণপ্রচেষ্টা, অসহিষ্ণুতা, পীড়ন ও সহিংসতার সীমাহীন কুশ্রীতাকে একেবারে উলঙ্গ করে দেয়।

এক নিরীহ সংগীতশিল্পীর শবযাত্রাও সোজাপথে যেতে পারে না। সেই পথে পুলিশ ব্যারাক। তার সামনে দিয়ে শবযাত্রা নিয়ে যাওয়ার নিয়ম নেই— এখানে সামরিক শাসন চলছে।

তবু… সেই বিশ শতকের তৃতীয় ভাগের কলম্বিয়ার রক্তক্ষয়ী তথাকথিত গৃহযুদ্ধের সর্বাঙ্গে ছিল একদল অসমসাহসী তরুণের আদর্শনিয়ন্ত্রিত গেরিলা লড়াই ও আত্মত্যাগের মহিমার ভাস্বরতা। তার গৌরবের উজ্জ্বল্যও কম ছিল না!

তখনও মানবিক বোধ বা সহমর্মিতার এবং শুশ্রূষার সমস্ত অবকাশ নিঃশেষিত হয়নি।

জীর্ণ পোশাকের কর্নেল শবযাত্রার উদ্দেশ্যে প্লাজ়ায় পৌঁছলে আবার গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়ে যায়। তাঁকে দেখে পুল বা বিলিয়ার্ড হলের মালিক তার দোকানের দরজায় দাঁড়িয়ে দু-হাত বাড়িয়ে তাঁকে আহ্বান করেন, বৃষ্টির কারণে ছাতা ধার দিতে চান। কর্নেল বৃষ্টির জলে ভরা প্লাজ়ার খানাখন্দ ডিঙ মেরে মেরে পার হচ্ছেন দেখে ছাতা মাথায় দাঁড়িয়ে সব পুরুষদের মতো সাদা শার্ট ও গলায় কালো টাই পরা একজন কর্নেলকে ‘দোস্ত’ বলে সম্বোধন করে নিজের ছাতার নিচে জায়গা দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ করেন। কর্নেল ধন্যবাদ জানিয়ে তার ছাতার তলায় দাঁড়ালেও ‘আমন্ত্রণটা তিনি মোটেও গ্রহণ করেননি।’ (মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (ভূমিকা ও অনুবাদ) : কর্নেলকে কেউ চিঠি লেখে না, প্যাপিরাস, কলকাতা ১৩৯৭ )

কিছুক্ষণ আগেই কর্নেল বাড়ির পুরোনো ট্রাঙ্কে কর্নেলের দলের জন্য যে টাকা তোলার জন্য যে লটারি খেলার আয়োজন করা হয়েছিল সেই লটারি থেকে তাঁর স্ত্রীর জেতা একটা বহু পুরোনো সুবিশাল ছাতা খঁুজে পেয়েছিলেন। এক বৃষ্টিভেজা দিনে সেই ছাতাটির নিচে বসে তিনি তাঁর স্ত্রী এবং তাঁদের আট বছর বয়সী ছেলে পুরো পার্টিটা উপভোগ করেছিলেন। এখন অগাস্টিন নেই, ছাতাটার  উজ্জ্বল সাটিনের কাপড় পোকায় কেটেছে। প্রাচীন ছাতাটিকে কর্নেলের সার্কাসের ভাঁড়েদের ছাতা বলে মনে হয়েছিল। ছাতাটি আসলে কর্নেলের গৃহস্থালির প্রতীক মাত্র, কেননা ঘরের সব কিছুরই ঐ দশা!

ছাতার আশ্রয় ছাড়াই বৃষ্টিভেজা রাস্তায় নামলেন কর্নেল।

শুভানুধ্যায়ীর ছাতার আমন্ত্রণ এড়িয়ে মৃত ব্যক্তির মা-কে শোক ও সহমর্মিতা জানানোর জন্য সরাসরি বাড়িটিতে প্রবেশ করলেন।

ঘরের মধ্যে শোক জ্ঞাপন করতে আসা মানুষজনের ভিড়, নানাবর্ণের বিচিত্র পুষ্পরাজির সমারোহ। সেই ভিড়াক্রান্ত জটলার মধ্যেও জরাজীর্ণ পোশাকের কর্নেল অবজ্ঞাত ছিলেন না।

কর্নেল সেই ঠাসাঠাসি ভিড় ঠেলে এগোবার চেষ্টা করছিলেন, পারছিলেন না। এই সময় কেউ একজন তাঁর পিঠে হাত রেখে, হতবাক মুখগুলো পেরিয়ে তাঁকে উদ্দিষ্টের দিকে এগিয়ে দিল। এরপর  শবযাত্রার ভিড়ে যখন কর্নেলের প্রাচীন, অভুক্ত ও অশক্ত শরীরটা বেসামাল হয়ে পড়ল তখন সেই হাতটিই তাঁকে জনজটলা থেকে সামনের দিকে অপেক্ষাকৃত ফাঁকা জায়গায় ঠেলে দিল।

মৃতের প্রতি শোক ও সান্ত্বনা জানিয়ে ভিড়ের স্রোতে সেই শোকগ্রস্ত বাড়ি থেকে বেরিয়ে  রাস্তায় পৌঁছে কর্নেল অনুভব করলেন— আগেকার মতোই ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি গায়ে সূচি-তীক্ষ্ম দাঁত বসাচ্ছে। এই জনপিণ্ডের হাঙ্গামায় কর্নেল অস্থিসন্ধিতে ব্যথা অনুভব করছিলেন, বৃষ্টিতে চোখের পাতায় বেদনার অস্বস্তি। এই সময়েই কেউ একজন তাঁর জামা পাকড়ে ধরে বলল ধরে বলল— ‘তাড়াতাড়ি করো বন্ধু, এতক্ষণ আমি তোমার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম।’

(ক্রমশ)

Leave a Reply