রুরাল লাইফ ইন বেঙ্গল। কোলস্‌ওয়ার্দি গ্রান্ট। পর্ব ৩৭। অনুবাদে অর্ণব রায়

গত পর্বের পর

প্রধান কর্মচারীদের বাসস্থান

৩০ শে এপ্রিল

 

যেমন প্রতিটি যুগের একজন করে নায়ক থাকে, প্রতিটি দেশের একজন দার্শনিক বা চিন্তাবীদ থাকে। তেমনি প্রত্যেক গ্রামে একটি করে নিজস্ব অদ্ভুত ‘চরিত্র’ থাকে। অন্যান্য গ্রামের মত মূলনাথেও সেরকম একটি চরিত্র রয়েছে। আর সে চরিত্রটি একটি ‘ভাঁড়’। প্রতিটি নাটকীয় কাব্যে যেমন কবির নিজস্ব একটি ভাঁড় থাকে, এই লোকটি মূলনাথের ভাঁড়। যদিও তার বাইরের আচার আচরণে ভাঁড়ামির কোনও লক্ষণ প্রকাশ পায় না। কিন্তু কোথাও না কোথাও তার নিজস্ব একটা রসিকতার রেশ থেকেই যায়। বা তাকে দেখেও সেরকম মনে হতে পারে। সে তার এই রসিক স্বভাব লুকিয়ে রাখে। ঠিক যেভাবে একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি তার পয়সার থলিটি গোপন পকেটে লুকিয়ে রাখে, যাতে প্রয়োজন পড়লে বের করে ব্যবহার করা যায়। আমাদের এই লোকটিকে যদি ওই রসিকতা বা মজার ব্যাপারটা সরিয়ে রেখে দেখা যায়, তাহলে সে আর পাঁচটা সাধারণ লোকের মতই, খাওয়া-পরা নিয়ে ব্যস্ত থাকা একজন মানুষ। যেটুকু জোগাড় করতেই আশেপাশের বেশিরভাগ মানুষের সব বুদ্ধি শক্তি খরচ হয়ে যায়, তাও সবটা জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়ে। লোকটি একজন মুসলমান। আর সর্বদা তার মুখ থেকে গলগল করে ইসলামি ঘোষণা বেরিয়ে আসছে— লা ইল্লা ইল্লাহ, মুহাম্মাদুর রসুল আল্লা! — আর এই কথাটা সে সর্বদা শেষ করে মাবুদ মাবুদ (ঈশ্বর ঈশ্বর) উচ্চারণ করে। এই কথাটা সে বারবার বলেই যায় বলেই যায়। মিঃ এফ— আর আমি যখন যেদিকেই যাই না কেন, লোকটা আমাদের পায়ে পায়ে চলে। তার আসার আগে দূর থেকে তার আল্লা মাবুদ আল্লা মাবুদ উচ্চারণ শোনা যায়। এসে থামে একেবারে আমাদের গায়ের কাছে। তারপর একটা বিশাল বড় আভূমি সেলাম। শরীর প্রায় মাটিতে নুয়ে পড়ে, হাত উঠে আসে মাথার কাছে। একেবারে সমর্পণ আর বিনয়ের সাক্ষাত প্রতিমূর্তি। যতক্ষণ না আমার বন্ধু মিঃ এফ তাকে কিছু বলতে বা প্রার্থণা করতে বা আশীর্বাদ করতে উৎসাহ দেবেন, সে ওইভাবেই দাঁড়িয়ে থাকবে। সে একখানি দরগা চায় (দরগা কথার আক্ষরিক অর্থ বসার বা বিশ্রাম নেবার জায়গা)। যেখানে বসে সে ঈশ্বরের নাম করতে পারবে আর সাহেবকে আশীর্বাদ করতে পারবে। তার বক্তব্য, “আমার বিবি চাই না, পয়সাকড়ি কিচ্ছু চাই না, আমি শুধু একখানি দরগা চাই, যেখানে আমি আল্লার এবাদত করতে পারব আর মালিকের জন্য প্রার্থণা করতে পারব!— আল্লা মাবুদ! ”  এই বলে, যেন তার মৃগী রোগ হয়েছে, দুই হাত জড়ো করে পুনরায় একেবারে স্থির বিনয়ের অবতার হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে।

আজ সকালে যখন ছবি আঁকতে বেরিয়েছি, খুব হালকা করে যেন আমার কানে এল, আল্লা মাবুদ! ও বাবা, যে শব্দ কানে যেতে না যেতে আমি দেখি সে লোক আমার পাশে দাঁড়িয়ে আছে আর তার সেই চিরপরিচিত সেলাম দিচ্ছে। সে বলল, “বাচ্চা, আমি খুব সমস্যায় পড়েছি। আমি খাবার জন্য রুটি পাচ্ছি না!”— “তাই না কি (আমি বললাম)! তা তুমি কাজ করতে পারো না?”— “না! (সে সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিল। তার বলার ভঙ্গীতে একটা বেশ একটা প্রফুল্ল ভাব। যেন সে তার এই অজ্ঞতা অক্ষমতাকে বেশ উপভোগ করছে),– না, আমি কাজ করতে পারি না। একমাত্র কাজ যেটা আমি জানি তা হল (এবার সে তার হাতের লাঠিটা নামিয়ে রাখল আর বেশ বক্তৃতা দেওয়ার ঢঙে গলা চড়িয়ে বলল)  লা ইল্লা ইল্লাহ, মুহাম্মাদুর রসুল আল্লা!— এই কাজটাই আমি একমাত্র পারি, ব্যাস!—  লা ইল্লা ইল্লাহ, মুহাম্মাদুর রসুল আল্লা! [1]” তারপর যথারীতি গলা চড়িয়ে মাবুদ মাবুদ ডাক! তুচ্ছ লোক, অলস লোক, সন্দেহ নেই। আমি তো পরে এটাও লক্ষ্য করেছি, সে তার এইসব কাজকারবার যাতায়াতের পথে যাকে পারে দেখিয়ে বেড়ায়। কিন্তু একথাও ঠিক, লোকটা পাগল বটে, কিন্তু সে কারোর ক্ষতি করতে পারে, একথা ভাবা যায় না। সে তার মত আনন্দ করে বেড়ায়।

এই বেচারা লোকটির ইতিহাস শুনলে এদেশের নিম্নবর্গের মানুষদের সমাজে নৈতিকতা বা অনৈতিকতার অস্তিত্ব সম্পর্কে অনেক কিছু জানা যায়। ঐ যে বলা হয় না, গরীব মানুষের মধ্যে নৈতিকতা ভরে ভরে আছে, তার কতদূর সত্যি, এর গল্প থেকে ভালো ভাবেই বোঝা যায়। এই লোকটাকে তার বিশ্বাসঘাতিনী স্ত্রী বিষ খাইয়েছিল। সে মহিলা এর চরম কর্তৃত্বের হাত থেকে রেহাই পেতে এতটাই উদগ্রীব ছিল যে সে একে ‘হেনবেন গাছের বিষাক্ত রস’ খাওয়ায়নি, খাইয়েছিল ধুতুরা, ‘যার প্রভাব আরও প্রাণঘাতী’ (১)। এই বিষের প্রভাবে লোকটি দুর্দান্ত পাগলে পরিণত হয় এবং যুক্তিবুদ্ধি তাকে পুরোপুরি ছেড়ে চলে যায়। এখন তার অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে। একসময় তো সে এমন হিংস্র আর বিপজ্জনক ছিল যে তাকে হাতে পায়ে বেড়ি পরিয়ে রাখতে হত। এখন সে একেবারেই বিপজ্জনক নয় আর তার মেজাজও অনেক শরিফ থাকে। সে আশেপাশের এলাকায় নিজের মনে সাধুর বেশে ঘুরে বেড়ায়। হিন্দু হোক বা তার ধর্মবিশ্বাসের লোক হোক, কারোর কাছ থেকে সাহায্য নিতেই তার মধ্যে উৎসাহের কোনও অভাব দেখা যায় না।

সুবুল্লা, মূলনাথ গ্রামের পাগল সাধক

 

ইতিমধ্যেই আমি যা যা বলেছি তা বাদে এই এপ্রিল মাসের দিকে মফস্বলের জীবনে বা একজন প্ল্যান্টারের কাজকর্মে এমন কিছুই নেই যা তোমাদের কাছে আকর্ষণীয় লাগতে পারে। তবে এখানে বলে রাখি, এই মাসেরই ১২ তারিখে বাংলার নতুন বছর শুরু হয়। আর যেহেতু এখানে সমস্ত হিসাবপত্র চুক্তি ইত্যাদি বাংলা বছর ধরে হয়, তাই বছরের শুরু মানে প্ল্যান্টারের কাছে নানারকম চিন্তা আর আশঙ্কা এসে জোটে। বিশেষ করে ইজারা নিয়ে বা জমিদারের কাছ থেকে জমি নেওয়া নিয়ে প্রতিবছর গন্ডগোল লেগেই থাকে। আর বেশ কিছু খরচাপাতিও হয়ে যায়।

পরের মে মাসটা পুরোটা ফসল বড় হওয়ার মাস। জ্বলন্ত রোদ্দুরে প্ল্যান্টারদের ঘোড়ার পিঠে চেপে চলাফেরা করা আরও কষ্টকর হয়ে পড়ে। কমেও যায়। সে লোক আরও সকাল সকাল উঠে পড়ে এবং কোথাও যাওয়ার থাকলে তাড়াতাড়ি রওনা দিয়ে দেয়। আর যদি বাইরে গিয়ে কোথাও আটকে পড়ে, তাহলে তাড়াতাড়ি ঘোড়া ছুটিয়ে যত দ্রুত সম্ভব রোদ্দুর থেকে বাড়ির ভেতরে এসে ঢুকে পড়ার চেষ্টা করে। মারাত্মক রোদ্দুরের হাত থেকে বাঁচার জন্য মফস্বলের লোকেরা বুদ্ধি খাটিয়ে একটা অসাধারণ জিনিস বানিয়েছে, শোলার টুপি। এই শোলার টুপি নানারকম হয়। প্ল্যান্টার কোথাও যেতে হলে তার মধ্যে থেকে সবচেয়ে পুরু আর সবচেয়ে চওড়াটা বেছে নেয়। তার ওপর রোদ্দুরের হাত থেকে ঘাড়ের সুরক্ষার জন্য সে টুপির পেছনে পর্দাও লাগায়। এই মফস্বলের জীবনে এই শোলার টুপি শুধু গুরুত্বপূর্ণ বা মূল্যবানই নয়, এই টুপি তাদের সর্বাঙ্গীন আকৃতি প্রকৃতিতে মফস্বল জীবনের বৈশিষ্ট্য এমনভাবে ধারণ করে আছে যে এই টুপির শুধুমাত্র উল্লেখ করে চলে গেলে চলবে না, বিস্তারে বর্ণনা করতে হবে।

শোলার টুপি

 

শোলা হ্যাট তৈরি হয় একধরণের জলজ উদ্ভিদ, ফুল শোলা, তার কান্ডের মজ্জা থেকে। এই গাছ এতটাই হালকা হয় যে এর থেকে তৈরি টুপি পুরো আধ ইঞ্চি চওড়া হয় আর রোদ থেকে বাঁচানোর কাজটাও খুব ভালোভাবেই করতে পারে। আলাদা করে বোঝার সুবিধের জন্য আমি এই টুপিগুলোকে তাদের আকার অনুযায়ী নামকরণ করব। প্রথমটি হল চাষাদের টুপি বা ফারমারস্‌ হ্যাট । যদিও অমর অক্ষয় ‘নেপিয়ার টুপি’ বাজারে চলে আসার পরে এই টুপিগুলিকে পুরোনো, বেমানান আর অস্বস্তিকর মনে হতে লেগেছে, ফলে বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। পরেরটি হল গ্রেট মাশরুম টুপি । এই টুপি মাথার মূল ভিতটাকে ঘিরে বৃত্তাকারে একফুট থেকে দেড়ফুট এলাকা জুড়ে থাকে। আর এই ধরণের অন্যান্য টুপির মতই এই টুপিরও ডবল ছাদ থাকে। আর মাথার ওপরের অংশে ছিদ্র করা থাকে যাতে টুপির ভেতরের অংশে হাওয়া বাতাস খেলতে পারে। তিন নম্বরটি হল লেসার মাশরুম টুপি বা ছোট মাশরুম টুপি। এই টুপি গ্রেট মাশরুম টুপির থেকে আলাদা কিছু নয়, শুধু আকারে ছোট আর গড়ন চ্যাপ্টা। এই ধরণের টুপিগুলো তাদের অদ্ভুত গড়নের জন্য উল্লেখযোগ্য সন্দেহ নেই, কিন্তু এখন আমি চার নম্বরে যে টুপিটার কথা বলব তার কোনও নাম হয় না, কিন্তু তার রুচিহীন বিকট চেহারার জন্য তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে চেনা যায়। পাঁচ নম্বরটি হল বার্ণ । এই টুপি ফারমারস্‌ হ্যাট বা চাষাদের টুপির থেকে আলাদা কিছু নয়। এর মাথার দিকটা ফুটো করা আর তার ওপরে মাশরুমের মত একখানা ছাদ চাপানো। ছয় নম্বরটি হল টোডস্‌টুল

বড় মাশরুম টুপি

ছোট মাশরুম টুপি

অনামা এক ধরণের টুপি

জকি টুপি

নেপিয়ার টুপি

 

এ টুপি এতই বিকট দেখতে যে এর সম্পর্কে কিছু বলতে যাওয়াই সুরূচির পরিচায়ক হবে না। তবে একথা অস্বীকার করার উপায় নেই, যে এই টুপি কিন্তু রোদের হাত থেকে সুরক্ষা দেওয়ার ব্যাপারে একেবারে এক নম্বর। এই সমস্ত টুপিগুলোই অবশ্য পুরোনো ধাঁচের। আধুনিক যে সমস্ত টুপি সবচেয়ে বেশী চলে বা সকলের মধ্যে সবচেয়ে বেশী সমাদৃত, সেটা হল বিখ্যাত নেপিয়ার টুপি। আমি যতদূর জানি, এই টুপি প্রথম এনেছিলেন আমাদের পরলোকগত বীর কম্যান্ডার ইন চিফ, স্যার চার্লস নেপিয়ার। এই টুপির রূচিপূর্ণ চেহারা, সুবিধেজনক আকার আর সমানুপাতিক গড়ন এই টুপিকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে। এই টুপি ধূসর বা বিবর্ণ রঙের ফেল্ট থেকে তৈরি হয় এর হেলমেটের মত গড়ন একে সকলের চোখের মণি করে তুলেছে। এই টুপি সেনাবাহিনীর অফিসাররা ব্যবহার করে (যাদের কাছে এই টুপি সত্যিই অমূল্য), এই টুপি সাধারণ মানুষও ব্যবহার করে। সম্প্রতি এই টুপির আরও উন্নতি ঘটেছে। এর ওপরের অংশের খানিকটা জায়গা খোলা রাখা হচ্ছে, হাওয়া বাতাস চলাচল করার জন্য। এতে করে টুপিটা মাথার দিকে অনেকটা উঁচু হয়ে গিয়ে খানিকটা হেলমেটের চেহারা নিচ্ছে। অন্যদিকে, একটা নীল বা সাদা মসলিনের স্কার্ফ বা পাগড়ির মত কাপড় এর নিচের অংশ ঘিরে লাগানো হচ্ছে রোদের হাত থেকে ঘাড়টাকে বাঁচানোর জন্য। প্ল্যান্টারের নেপিয়ার টুপি শোলা দিয়ে তৈরি। আর বাকী নেপিয়ারগুলির মতই কাপড় দিয়ে ঘেরা, তবে এক্ষেত্রে কাপড়টা সুতির। এতে করে টুপিটা দেখতে একটু কম সুন্দর হয় কিন্তু কাজের হয় বেশী। এর সামনে পেছনে দুদিকের বারান্দার মত অংশটা ছুঁচোলো হয় বেশী। আর এর পেছন দিকের বারান্দায়, আসল নেপিয়ারে যেখানে একটা স্কার্ফের শেষাংশ ঝোলে, এখানে একটা আলাদা করে পর্দা লাগানো হয়। যাতে করে ঘাড়ের ওপরের অংশটিকে আরও বেশী করে সুরক্ষা দেওয়া যায়। এটি মানবশরীরের এমন একটা অঙ্গ যেটির সূর্যালোকের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার সম্ভাবনা মাথার থেকেও বেশী। নয় নম্বরটি হল জকি টুপি। এ নেপিয়ার টুপিকেই আরও খানিকটা সংস্কার করে বানানো, আরও খানিকটা হাস্যকর করে বানানো। মূলতঃ মফস্বলের ব্যবহারের কথা মাথায় রেখেই। তবে এই টুপি সেনাবাহিনী বা নৌবাহিনীতেও একচেটিয়া ব্যবহার হচ্ছে। এর চারিদিকে একটা হালকা সাদা ঢাকনা পরানো থাকে। সেটা আবার সুতির কাপড় দিয়ে সেলাই করা। সেটা ঝোলে ঘাড়ের চারপাশ ঢেকে। যদিও রোদের মধ্যে অনেকক্ষণ থাকলে অন্যান্য টুপির মত সুরক্ষা দিতে অতটা দক্ষ নয়, তবে কাজ চালানোর জন্য যথেষ্ট। সবচেয়ে বড় কথা, এর একটা পরিচ্ছন্ন চেহারা আর আরামদায়ক ঢাকনা রয়েছে। সেই কারনেও আরও সেনাবাহিনীতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আর এক ধরণের টুপি আজকাল শহরে ও অন্যত্র ভদ্রলোকদের মধ্যে খুব জনপ্রিয় হয়েছে। তারা সকালের ভ্রমণ বা নানা কাজে দিক ওদিক যাওয়ার জন্য এই টুপি ব্যবহার করছেন। একটা ফেল্টের ‘ওয়াইড অ্যাওয়েক’ (২) টুপির মাথায় একটা সাদা দেশী পাগড়ি বা মসলিনের কাপড় মোটা করে জড়ানো হচ্ছে। তারপর তারই খানিকটা ভাঁজ করে টুপির ওপরের অংশ দিয়ে নীচের দিকে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। সেই অতিরিক্ত কাপড়ের অংশটা নেমে আসছে একেবারে ঘাড়ের পেছন পর্যন্ত। পুরো ব্যাপারটা ইউরোপীয় কালো টুপি আর প্রাচ্যদেশীয় পাগড়ির এক বিচ্ছিরি রুচিহীন জগাখিচুড়ি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্ল্যান্টারদের টুপি

টোডস্‌টুল টুপি

ওয়াইড অ্যাওয়েক টুপি

 

এইভাবে, মানে যেভাবে বললাম, একজন প্ল্যান্টার এখানকার খর রোদ থেকে নিজেকে রক্ষা করে। তার নানা জায়গায় ছুটে বেড়াবার কাজের সাথে এই পোশাক মানিয়েও যায়। কিন্তু একজন শ্রমিক বা চাষীর এরকমই সুরক্ষা দরকার। তা যদি সে তার তালপাতার ছাতার তলায় না পায় তাহলে তাকে মাথায় প্যাঁচের পর প্যাঁচ জড়িয়ে পাগড়ি বাঁধতে হয়। তার ওপরে সে পরে একখানা টোকা। প্লাওম্যান নামের ছবিতে আমি এরকম একটা লোককে দেখিয়েছি, খেয়াল করে দেখো। হয় সে এইসব পরে মাঠে কাজ করে অথবা মাঠের মাঝখানে যে খড়ের কুঁড়েঘর খাড়া করা হয়েছে, তার তলায় বসে আরামসে চাষের কাজ তদারক করে।

 

টীকা

১। দুটি এক্সপ্রেশনই শেক্সপীয়রের (১৫৬৪-১৬১৬)  হ্যামলেট (১৫৯৯ থেকে ১৬০১-এর মধ্যে কোনও সময় রচিত) থেকে নেওয়া। প্রথমটিতে হ্যামলেটের পিতার ভূত হ্যামলেটকে বলছে, কীভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছিল, দ্বিতীয় লাইনে বিষের প্রাণঘাতী প্রভাব সম্পর্কে বলা হচ্ছে।

২। ওয়াইড অ্যাওয়েক টুপিঃ এক ধরণের সামনে বারান্দা দেওয়া ফেল্টের টুপি। মূলতঃ গ্রামের দিকের ভদ্রলোকেরা ব্যবহার করতেন। এই টুপির ছবি রেমব্রান্টের (১৬০৬-১৬৬৯) ছবিতে পাওয়া যায়। বাউলার হ্যাটের মত এই টুপির বারান্দাটা ঢেউ খেলানো হয় না।

[1] আল্লার ওপরে কেউ নেই। মোহম্মদ তার নবী।

Author

Leave a Reply