কাশীর অলি-গলি : ইতিহাস-সমাজ-সংস্কৃতি। পর্ব ১৭। শোভন সরকার

গত পর্বে: কাশীর ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে তুলসীদাস যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা অস্বীকার করার উপায় নেই। কাশীর অন্যতম এক জনপ্রিয় লীলা-দৃশ্য ‘নাগনাথৈয়া’। সে এক দেখার মত উৎসব বটে। 

 

আমাদের ‘অন্নদামঙ্গল’-এর কবি ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর বেনারসের গুণগান করে বলছেন —

পুণ্যভূমি বারাণসী        বেষ্টিত বরুণা অসি,

যাহে গঙ্গা আসিয়া মিলিত।

আনন্দকানন নাম       কেবল কৈবল্য ধাম

শিবের ত্রিশূলোপরি স্থিত।। 

কাশীতে শিবের প্রভাব অনস্বীকার্য, শিব ছাড়া কাশীর প্রসঙ্গ অসম্পূর্ণ থেকেই যায়। কিন্তু প্রশ্ন আসে, বরাবরই শিব-প্রধান ছিল কি এই শহর? বেনারসের অন্যতম পুরাতাত্মিক সংগ্রহালয় কাশী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ভারত কলা ভবন’ গিয়ে কিন্তু অন্য ছবি দেখা যায় — বেনারস ও তার সংলগ্ন এলাকা থেকে যত মূর্তি বা প্রত্নতাত্মিক নমুনা পাওয়া গেছে, তার মধ্যে দেখি শিবের আধিপত্য বড়োই কম, বরং অন্যান্য বৈদিক দেবদেবীর মধ্যে প্রাধান্য পাচ্ছে বেশ কতকগুলি সূর্যমূর্তি বা চিহ্ন। শৈব উপাসনা যে এই শহরের দীর্ঘ ইতিহাসে অপেক্ষাকৃত নবীন, তা আজকের বেনারসে দাঁড়িয়ে কল্পনা করতে বেশ বেগ পেতে হয়। 

উত্তর ভারতে সূর্য উপাসনা বহুদিন ধরেই হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে গুরুত্ব পেয়ে আসছে। খ্রীষ্টিয় চতুর্থ শতাব্দী থেকে ত্রয়োদশ শতাব্দী অবধি সূর্য উপাসনার প্রবণতা মধ্য গগণে ছিল। ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বরের সঙ্গে সঙ্গেই উচ্চারিত হত সূর্যদেবের নাম। এমনকী কিছু একাদশ ও দ্বাদশ শতাব্দীর ভাস্কর্যে ব্রহ্মা-বিষ্ণুর স্থানে সূর্যদেব বেশি গুরুত্ব পেয়েছে, আবার কোন কোন ক্ষেত্রে শিবের সঙ্গে তিনি মিলে গিয়ে হয়েছেন মার্তণ্ড-ভৈরব, বা বিষ্ণুর সাথে মিলে সূর্য-নারায়ণ। 

সময়ের সাথে সাথে সূর্য বা অগ্নির মত বৈদিক দেবতার গুরুত্ব কমে আসে, পরিবর্তে পথ করে নেয় নানা ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বরের মত পৌরাণিক দেবতা। নবতর পুরাণগুলিতেও বদল এল — শিব প্রধান থেকে প্রধানতর হয়ে উঠল। যেমন, বামন পুরাণে শুরুর দিকে দেখি সূর্যদেব শিবের অন্য রূপ ভৈরবকে পাপমুক্তির দিশা নির্দেশ করছেন, কিন্তু পরে দেখা গেল সেই শিবই আদিত্যের (সূর্য) সাথে লড়াই করছেন, বিজিত হচ্ছেন, মিশে যাচ্ছেন সূর্য পরিচয়ের সাথে। কাশীতে আদিত্য উপাসনার কেন্দ্রে রয়েছে আমাদের আলোচনার লোলার্ক কুণ্ড। তবে এখানে ‘লোলার্ক বাবা’ বলে যাঁকে পুজো করা হয়, তিনি ঠিক শিব না আদিত্য? সাধারণ মানুষ বহুকাল ধরেই শিবজ্ঞানে লোলার্ক বাবার পুজো করে আসছে। 

মানুষের বিশ্বাস, কোন এক সময়ে এই স্থানে সূর্যদেবের রথের চাকা পড়েছিল, তাতেই এই কুণ্ডের উৎপত্তি। তবে সূর্যদেব বা আদিত্য কীভাবে কাশীতে ‘লোলার্ক’ বলে পরিচিত হলেন তার নেপথ্যে ভিন্ন ভিন্ন কিছু উপাখ্যান পাই — প্রত্যেকটি উপাখ্যানেই সূর্য তথা অর্কদেব ‘কম্পমান’ বা ‘লোল’ (লোল+অর্ক অর্থাৎ লোলার্ক) হয়ে পড়েন এবং কাশীতে আশ্রয় নেন। 

স্কন্দপুরাণের কাশীখণ্ডে রাজা দিবোদাসের উপাখ্যানে দেখি যে একবার ব্রহ্মার সৃষ্টি সংকটের সম্মুখীন হয়। তখন ব্রহ্মার অনুরোধে রাজর্ষি রিপুঞ্জয় রাজা দিবোদাস নামে কাশীর শাসনভার গ্রহণ করেন। কিন্তু একটি শর্তে — কাশী থেকে সমস্ত দেবদেবীকে নিজের নিজের জায়গায় ফিরে যেতে হবে, কাশীতে থাকা চলবেনা, তাঁর কোন কাজে কোন দেবতার নাক গলানো চলবে না। ব্রহ্মা সেই শর্তে রাজি হয়ে সমস্ত দেবদেবীকে কাশী থেকে চলে যেতে বললেন। স্বয়ং শিবকেও সস্ত্রীক কাশী ছাড়তে হল। কিন্তু শিবের মন টেকে না কাশী ছাড়া। কী উপায়? শিব এক কৌশল অবলম্বন করলেন। 

তিনি ডেকে পাঠালেন চৌষট্টি যোগিনীদের — তাদের ভার দিলেন দিবোদাসের ত্রুটি খুঁজে বের করতে। সেই দোষ-ত্রুটির সূত্রেই দিবোদাসকে কাশী থেকে বিতাড়িত করতে পারলে শিবের কাশী প্রবেশে আর কোন বাধা রইবে না। যোগিনীরা কাশীতে এসে তাদের সমস্ত মায়া ও কলাবিদ্যা প্রয়োগ করেও সফল হল না। ফিরে গিয়ে শিবের রোষের সম্মুখীন কে-ই বা হতে চায়? তাই সেই বিড়ম্বনা এড়ানো ছাড়াও কাশীর রূপে মোহিত হয়ে তারা রয়ে গেল কাশীতেই।*

এদিকে চৌষট্টি যোগিনীরা যখন কাশী থেকে আর ফিরে এল না, শিব হতাশ হলেন। তিনি এবার তাঁর কার্যোদ্ধারের জন্য অর্কদেবকে আদেশ দিলেন। অর্কদেব কাশীর রূপ ও গুণে মোহিত হয়ে পড়লেন। উত্তেজনায় রোমাঞ্চিত হল তাঁর শরীর, ভক্তি-প্রেমরসে কম্পিত বা ‘লোল’ হয়ে পড়ল তাঁর দেহ — হয়ে উঠলেন ‘লোলার্ক’। কিন্তু এদিকে যোগিনীদের মত বহু চেষ্টার পরেও তিনি ব্যর্থ হলেন শিবের কার্যোদ্ধারে। তাই তিনিও কাশী ছেড়ে আর ফিরলেন না, বারোটি অংশে দ্বাদশ আদিত্য হিসেবে কাশীর বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিলেন। এগুলোর মধ্যে ‘লোলার্কাদিত্য’ সর্বপ্রধান এবং সাংস্কৃতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

অন্যদিকে ‘বামন পুরাণ’-এ সূর্য ‘লোলার্ক’ হয়ে উঠলেন কাশীর প্রতি প্রেম-মোহে নয়, বরং ভয়ে। সেখানে দেখি বিদ্যুৎকেশ নামে এক রাক্ষসের পুত্র সুকেশ বাল্যকাল থেকেই ধর্মভীরু এবং এক শিবভক্ত। শিবকে তুষ্ট করে বরও পেল সুকেশ। সুকেশের সাফল্যে, তেজের বৃদ্ধিতে সূর্যদেব ঈর্ষান্বিত হয়ে জ্বালিয়ে দিলেন সুকেশের রাজ্য, ছুঁড়ে দিলেন তা পৃথিবীর দিকে। কিন্তু নিজের ভক্তের এরূপ দুর্দশা দেখে রেগে গিয়ে স্বয়ং শিব সূর্যকে ছুঁড়ে ফেললেন তাঁর রথ থেকে। ভয়ভীত, জ্বলন্ত সূর্য তখন এসে পড়লেন কাশীতে, শিবের শহরে। অসি-গঙ্গার সঙ্গমে স্নান করে তিনি শিবের তেজে জ্বলে যাওয়া ‘লোলিত’ বা কম্পিত শরীরকে প্রশমিত করলেন। সেই ভীত ও কম্পমান সূর্যের নাম তখন হল ‘লোলার্ক’। 

নামের পেছনের কাহিনি যাই হোক না কেন, কাশীতে ‘লোলার্ক’ নাম অত্যন্ত মাহাত্ম্যপূর্ণ। লোলার্কের প্রার্থনায় শিবের বরে অসি সঙ্গমের কাছে তাঁর স্নান করার স্থান হয়ে উঠল রোগহর ও সন্তানপ্রদায়ী ‘লোলার্ক কুণ্ড’। 

কুণ্ডটি হলদেটে বেলে পাথরের তৈরি পাকা দেওয়ালে ঘেরা, চতুষ্কোণ আকারের — উত্তর-দক্ষিণে প্রায় চল্লিশ ফুট দীর্ঘ, এবং পূর্ব-পশ্চিমে প্রায় কুড়ি ফুট দীর্ঘ। কুণ্ডের তিনদিক দিয়ে সিঁড়ি বানানো রয়েছে, প্রায় পঞ্চাশ-ষাটটি ধাপ পেরিয়ে অন্ততঃ পঞ্চাশ ফুট গভীরে নেমে গেলে তবেই কুণ্ডের জলের কাছে পৌঁছানো যায়। পূর্বদিকে সিঁড়ি নেই, রয়েছে দেওয়াল, মাঝখানে ফাঁকা অংশ, সেখানে কুণ্ড-সংলগ্ন কূপটি দেখা যায়। এই কূপই এই কুণ্ড ও গঙ্গার মধ্যে সংযোগ রক্ষা করে। কুণ্ডের জলের কাছাকাছি সিঁড়ির একটি ধাপে কুলুঙ্গির মধ্যে রয়েছে সূর্যের মুখ, এঁকেই উপাসকেরা লোলার্কাদিত্য হিসেবে ভক্তি করে থাকে। কুণ্ডের উত্তর-পশ্চিম কোণে রয়েছে এক গণেশ — কেউ কেউ বলেন এইটিই হল অর্ক বিনায়ক, কাশীর ছাপ্পান্ন বিনায়কদের মধ্যে অন্যতম। এখন যে গণেশ ‘অর্ক-বিনায়ক’ হিসেবে পূজিত হয় তার মন্দির সামান্য দূরত্বেই গঙ্গার ঘাটে অবস্থিত।   

বন্ধু শেখরের বাড়ি কুচবিহারে। এই লোলার্ক কুণ্ড এবং কোচ রাজাদের মধ্যে সংযোগের কথা ওর কাছেই প্রথম জানতে পারি। এই কুণ্ড পরিসর বাঁধিয়ে দেওয়ার কৃতিত্ব কোচরাজা লক্ষ্মীনারায়ণকে দেওয়া হয়। শেখর এই প্রসঙ্গে এক জনশ্রুতির সন্ধান দিল। 

রাজা লক্ষ্মীনারায়ণ ষোড়শ শতকে কোন এক সময় কাশীক্ষেত্রে আসেন। তিনি তখন কুষ্ঠরোগে বড়োই কষ্ট পাচ্ছিলেন। শৈবধর্মে বিশ্বাসী রাজা তাঁর কুষ্ঠরোগের নিরাময়ের জন্য বিশ্বেশ্বরের শরণ নিতেই এখানে আসেন। একদিন পথে চলতে চলতে রাজা শৌচক্রিয়ার জন্য এক স্থানে দাঁড়ান এবং ভৃত্যকে দিয়ে কাছেরই এক কুণ্ড থেকে জল আনিয়ে নেন। বলা বাহুল্য, এটিই হল আমাদের আলোচনার লোলার্ক কুণ্ড। সেখান থেকে আনা জলে শৌচক্রিয়া সারতে গিয়ে রাজা লক্ষ্য করেন যে যেখানে সেই জল স্পর্শ করছে তৎক্ষণাৎ সেখানে কুষ্ঠ সেরে উঠছে। বিস্মিত হয়ে রাজা ভৃত্যকে সেই জলের উৎসের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন। ভৃত্য ভাবল কাঁচা কুণ্ড থেকে ঘোলা জল আনার জন্য রাজা বুঝি ক্রুদ্ধ হয়েছেন। ভয়ে ভয়ে সে সব কথা খুলে বলল। রাজা সেই মুহুর্তে সেখানে গিয়ে কুণ্ডের জলে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। আশ্চর্য হয়ে রাজা দেখলেন তাঁর শরীরে কোথাও কুষ্ঠের কোন চিহ্নমাত্র নেই। এর পর রাজা স্বাভাবিক ভাবেই অত্যন্ত খুশি হয়ে পাথরে বাঁধিয়ে দিলেন এই কুণ্ড, প্রতিষ্ঠা করলেন লোলার্কেশ্বর মহাদেবের। বলা হয়, প্রথমে তিনি কুণ্ডটিকে সোনায় বাঁধিয়ে দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তা হয়ে ওঠেনি। শেখর বলল যে, রাজা সিঁড়ির প্রতিটি ধাপের নিচে একটি করে স্বর্ণমুদ্রা প্রোথিত করে দেন। আবার মন্দিরের পূজারীরা বলেন যে কুণ্ডের ভিতরে কোথাও রাজার নামাঙ্কিত এক স্বর্ণফলক রয়েছে, যদিও সেটা আজও কেউ নাকি খুঁজে পায়নি। 

পরবর্তীতে অষ্টাদশ শতকে ইন্দোরের রানী অহল্যাবাই হোলকার এই কুণ্ডের প্রভূত সংস্কার করেন। ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুতে সম্ভ্রান্ত-বংশীয় মারাঠা অমৃত রাও পেশোয়া এবং তারপর কুচবিহারের রাজা শিবেন্দ্রনারায়ণ ১৮৪৩ সালে এই কুণ্ডের পুনরায় সংস্কার সাধন করেন। কুণ্ডের দেওয়ালে আজও কুচবিহারের রাজার পৃষ্ঠপোষকতার স্মারক হিসেবে এক শ্বেত পাথরের ফলকে ‘কুচবিহার স্টেট’ উৎকীর্ণ রয়েছে দেখা যায়।     

প্রতি বছর ভাদ্র মাসের শুক্লা ষষ্ঠীতে এই কুণ্ড পরিসরে লোলার্ক ছঠ বা ষষ্ঠী স্নান ও সেই উপলক্ষ্যে বিরাট মেলা হয়। লাখে লাখে মানুষ দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসে হয় সন্তান কামনায় বা চর্মরোগ দূর করতে। কে. চন্দ্রমৌলী তাঁর বইতে এই প্রসঙ্গে প্রচলিত একটি উপাখ্যান তুলে ধরছেন — কোন একবার কাশীর এক জলাশয়ে স্বর্গের অপ্সরা ঘৃতাচীকে স্নানরত অবস্থায় দেখে সূর্যদেব উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং তাঁর রেতঃস্খলন হয় এই কুণ্ডের জলে। তারই ফলে বিশ্বাস করা হয় যে যদি কোন বন্ধ্যা নারী এই কুণ্ডের জলে স্নান করেন তবে তিনিও সন্তানবতী হতে পারেন লোলার্কের কৃপায়।

লোলার্ক ষষ্ঠী ব্রত পালনের রীতিনীতিতে বহুকাল ধরে চলে আসা লৌকিক আচারের প্রভাব দেখা যায়। এই সমস্ত দেশজ লোকাচার আমাদের সামাজিক, ভৌগোলিক, অর্থনৈতিক সহ নানা দিকের ক্রমবিবর্তনের সাক্ষ্য ধরে রাখে। তাই যে কোন দেশীয় লোকাচার, ব্রতপালন প্রভৃতি বিষয়ে আমার আগ্রহ  প্রবল। লোলার্ক ষষ্ঠীর আচারবিধি স্বাভাবিকভাবেই আমার আগ্রহের বিষয় হয়ে ওঠে। এবার সেই নিয়ে বলার পালা।

 


* বাঙালিটোলার কাছে রয়েছে ‘চৌষট্টি ঘাট’। ঘাটের উঁচু উঁচু সিঁড়ি বেয়ে উঠে এগিয়ে গেলে পাওয়া যায় ‘মা চৌষট্টি দেবী’র মন্দির। এখানে ছোট্ট পরিসরের মন্দিরের ভিতরে মুখোমুখি দুইটি মন্দির রয়েছে — বাঁ দিকে মহিষাসুরমর্দিনী রূপে ‘চৌষট্টি দেবী’ এবং ডানদিকে ভদ্রকালীর পূজা হয়। মন্দিরের পুরোহিতরা বললেন যে স্বপ্নাদিষ্ট হয়ে যশোরের মহারাজা প্রতাপাদিত্য গুহরায় ষোড়শ শতকে চৌষট্টি ঘাটে এই ভদ্রকালীর বিগ্রহ স্থাপন করেন। সঙ্গে চৌষট্টি ঘাটের নির্মাণ। বর্তমানে, কাশীখণ্ডে উল্লিখিত এই চৌষট্টি জন যোগিনীর পুজো আলাদা আলাদা ভাবে কোথায় হয় তা খুঁজে পাওয়া মুশকিল। বিশেষজ্ঞরা বলেন, হয় এই যোগিনীরা বিভিন্ন শক্তি-উপাসনায় লীন হয়ে গেছে বা বর্তমানে সম্পূর্ণ লুপ্ত হয়ে গেছে। কেদারনাথ সুকুল এবং ডায়না ইক কাশীর তিনটি যোগিনী মন্দিরের কথা উল্লেখ করেছেন — মীর ঘাটে ‘বরাহী’, লক্ষ্মী কুণ্ডের ‘ময়ূরী’ এবং কামাচ্ছার ‘কামাখ্যা’। তবে বর্তমানে কাশীতে এই চৌষট্টি দেবীর মন্দিরই হল একমাত্র মন্দির যা চৌষট্টি যোগিনীদের নাম আজও বহন করছে, যদিও আলাদা করে তাদের কোন বিগ্রহ দেখা যায়না।

(ক্রমশ)

পরবর্তী পর্ব

প্রথম অধ্যায়ের প্রথম পর্ব

দ্বিতীয় অধ্যায়ের প্রথম পর্ব

Disclaimer
The views and opinions expressed in this series are solely those of the author and do not represent the views, policies, or positions of any organisation, institution or society of any kind or the government. The content of this series is written in the author’s personal capacity and does not reflect any official information or stance.

Author

Leave a Reply