রুরাল লাইফ ইন বেঙ্গল। কোলস্‌ওয়ার্দি গ্রান্ট। পর্ব ১৭। অনুবাদে অর্ণব রায়

গত পর্বের পর

এছাড়াও একজন প্ল্যান্টার কীভাবে তার সারাদিন কাটায়, কীভাবে বছরের এই সময় বা অন্য সময় অবসর যাপন করে,  আমি ইতিমধ্যেই নানা সুযোগে তোমাদের দেখিয়েছি, ভবিষ্যতে আরও দেখাব। সত্যিই, একজন প্ল্যান্টারের পদমর্যাদা বা সামাজিক অবস্থান দেখলে মনে হয় না তার থেকে বেশী দায়িত্ব আর কারোর ওপর ন্যস্ত আছে। অন্ততঃ আমার তো জানা নেই। যেখানে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের ভালোমন্দ একজন মানুষের ওপর নির্ভর করছে। ফলে এই মানুষটা এই এতবড় এলাকা ও সেখানকার এত এত মানুষের জন্য একইসাথে আশির্বাদ আর অভিশাপ, দুইই হয়ে দাঁড়ায়। এমন নয় যে লোকটা যাদু করে রাতারাতি পরিস্থিতি পালটে দিতে পারে বা মুহূর্তের মধ্যে সমস্ত মানুষের চরিত্র বদলে দিতে পারে। একজন প্ল্যান্টারের থেকে ভালো কেউ জানে না যে অনুকূল বৃষ্টিপাত, সঠিক সূর্যের আলো, ঠিকঠাক মাটি বেছে নেওয়া, আগাছা নিড়োনো কতোটা প্রয়োজন! একটা বীজের দানাকে সঠিকভাবে বড় করতে সবসময় কী পরিমান তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হয়! এর ওপর তার সমস্ত আশা নির্ভর করে থাকে। কিন্তু আশেপাশে যে এত মানুষ, তারা আর তাদের অশিক্ষিত মন কি একটা নীলের দানার থেকে বেশী নমনীয়? তাকে কি আরও সহজে নিজের বশে আনা যায়? এদেশে একজন ইউরোপীয়ানের উদ্দেশ্য দেশীয় মানুষদের মধ্যে  শিক্ষিত, চরিত্রবান বা আলোকপ্রাপ্ত মানুষ খুঁজে পাওয়া নয়, বরং এখানকার মানুষদের সেরকম তৈরি হতে সাহায্য করা। এমন নয় যে সে কিছু একটা করল আর তার আশেপাশের মানুষদের মধ্যে বিচারবুদ্ধি, সততা, সত্যবাদীতা এই সমস্ত চারিত্রিক সৎ গুন হুড়মুড় করে ঢুকে গেল, কিন্তু সে কড়া হয়ে, নিজে ক্রমাগত সম্মানজনক ও দয়ালু আচরণ করে, নিজের উন্নততর বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তার আশেপাশের হাজার হাজার মানুষের ওপর এমন প্রভাব বিস্তার করতে পারে যে তারা নিয়মকানুন কী জিনিস তা না বুঝলেও তার অপব্যবহার করতে সাহস পাবেনা। ক্রমে ‘সততাই মূলধন’ বা ‘প্রয়োজনই আবিস্কারের জনক’ ইত্যাদি আপ্তবাক্য বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতেও সক্ষম হবে। একজন নীল প্ল্যান্টার স্থানীয় দরিদ্র মানুষের মনের ওপর যেভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারে, সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ বা সরকার তার এক শতাংশও পারে না। এর প্রত্যক্ষ প্রমাণ আঠারো বছর আগে পাওয়া গেছিল। শুধুমাত্র ফ্যাক্টরির সাথে যারা সরাসরি যুক্ত তারাই নয়, এই জেলার একটা বড় অংশের মানুষ এর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল। আমি সম্প্রতি এর কিছু প্রামান্য দলিল চোখে দেখার সুযোগ পেয়েছি। একজন একক মানুষের সদিচ্ছা ও সরকারের সঠিক মানসিকতা কত পরিমান মানুষের ভালো করতে পারে, এই দলিলগুলো তার বাস্তব স্বীকৃতি। [1] একথা নিশ্চিতভাবেই বলা যেতে পারে যে এখানে কারও মনে যদি ভালো কাজ করার সদিচ্ছা থাকে, তাহলে তার সামনে ক্ষেত্র বিরাট, সেখানে সে প্রাণখুলে তার ইচ্ছাপূরণ করতে পারে ও তার উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগাতে পারে। কোথায় ও কীভাবে কাজে লাগাবে, সেটা খুঁজে বের করা কোনও সমস্যাই নয়। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তি ইত্যাদির কোনও রকম সাহায্য ছাড়া তার পদে থাকা মানুষের আসল দায়িত্ব কী, মানে এলাকার ভূস্বামী হিসেবে ও আশেপাশের সমস্ত দরিদ্র মানুষের ভালোমন্দের দায়িত্বে থাকার কারনে, সেটা তার কাছে অনেকটাই স্পষ্ট থাকে, এবং সেই দায়িত্ব তাকে স্বতঃস্ফুর্ত ভাবে পালন করতে হয়।

একবার ভাবো, এখানকার গৃহকর্তার মত পদে থাকা মানুষ শুধুমাত্র যে তার আশেপাশের বিপুল সংখ্যক মানুষের ভালোমন্দের জন্য দায়ী তা নয়, তার আচরণের মধ্যে দিয়ে তার মাতৃভূমির কী প্রতিচ্ছবি এই বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছোবে, তার দায়ও এঁনার। মূলনাথ আর তার আশেপাশের এলাকা, যাকে সব মিলিয়ে একটা জেলাও বলা যেতে পারে, সেখানে মোটামুটি ২০০,০৯২ জন মানুষ বাস করে। এর সাথে কাঠগাড়া এলাকার জনসংখ্যাও যোগ করতে হবে। তাতে সব মিলিয়ে সংখ্যাটা দু লক্ষ আশি হাজার হয়ে যায়। [2]

এবার ভাবো, তোমার কী মনে হয়, এই বিপুল সংখ্যক দরিদ্র মানুষ, এদের কি কোনও ধারণা আছে আমাদের মহামান্যা রাণী ভিক্টোরিয়া কে, গভর্নর জেনারেল কে, মহামান্য কোর্ট অফ ডিরেক্টরস, সুপ্রিম কাউন্সিল, প্রধান বিচারপতি, এমনকি  জেলার ম্যাজিস্ট্রেট কে, তা-ই কি এরা জানে? সান্ডারল্যান্ডের একজন খনি শ্রমিক কাবুলের আমীর সম্পর্কে বা খোলুম বা বলখ্‌-এর ওয়ালী (৬) সম্পর্কে যতটুকু জানে, তার চেয়ে বেশী একবর্ণও এরা জানে না।  হ্যাঁ, তারা হয়ত ম্যাজিস্ট্রেটের কথা শুনেছে, একজন লোক যে পঁয়ত্রিশ কি চল্লিশ মাইল দূরে জেলাসদরে থাকে, যে জেলার বিস্তার তিন হাজার বর্গমাইল। এই জেলায় যে লক্ষ লক্ষ লোক থাকে, ইনি তাদের দন্ডমুন্ডের কর্তা। আর তার যে সমস্ত প্রতিনিধিকে তারা চোখের সামনে দেখতে পায়, মানে দারোগা আর তার পুলিস গুন্ডার দল, যারা তাদের এলাকায় এলেই তারা ডাকাত পড়েছে বলে মনে করে, এদের দেখেশুনে তারা ম্যাজেস্ট্রিটকে সনি বিন (৭) বা রবিন হুড জাতীয় কোনও দানব ভেবে নেয়— যে দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের কাছ থেকে ব্ল্যাকমেলের  টাকা আদায় করতে লোক পাঠায়।

যাই হোক, আমার শুনে ভালো লাগল যে ইদানিং বেশ কিছু ম্যাজিস্ট্রেট শীতকালে লোকলস্কর নিয়ে তাঁর জেলাটা একবার পরিদর্শন করতে বেরোন। মূল উদ্দেশ্য, প্রজাদের সঙ্গে তাদের পরিচয় করানো ও প্রজাদের আস্থা অর্জন করা। সবই ভালো, কিন্তু ম্যাজেস্ট্রেট সাহেব যখন আসেন তার চারপাশে এত আমলা আর কর্মচারী ঘিরে থাকে, পেছন পেছন এত পুলিস আসে যে ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব কাছারিবাড়িতে বসে থাকেন আর সাধারণ মানুষ অনেক দূরে দাঁড়িয়ে থাকে। না, যদি সাধারণ মানুষদের কাজে লাগতে হয়, তাদের কাছে নিজের পরিচিতি বাড়াতে হয়, তাহলে তাদের মধ্যে থাকতে হবে, যেভাবে খ্রীস্টান মিশনারিরা থাকে, যেভাবে নীলের প্ল্যাণ্টাররা থাকে। এখানকার গরীব মানুষের যদি কোনও বড়মানুষের সাথে পরিচয় থেকে থাকে  তাহলে তা নীলকুঠির সাহেব। যে তাদের মধ্যেই বাস করে, তাকে ধরা-ছোঁয়া যায়, সে-ও তাদেরকে দেখে, তাদের সঙ্গে কথা বলে। নীলকুঠির সাহেবই একমাত্র ব্যাক্তি যার ঘোড়ার লোহার রেকাবের ছাপ কোনও ঘুস বা মূল্য ছাড়া তাদের ক্ষেতে প্রবেশ করে। তার কাছ থেকে সুবিচার পেতে গেলে কোনও আইনি প্রক্রিয়া বা বিশেষ সুবিধাবাদের দরকার পড়ে না। এই লোকটি তার অমায়িক কথাবার্তা আর দয়ালু কাজকর্মের মধ্যে দিয়ে আশেপাশের মানুষজনের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলে ও তাদের কৃতজ্ঞতা অর্জন করে। সে তার নিজের সঠিক আচরণ ও নিরপেক্ষ বিচার পদ্ধতির মাধ্যমে তার প্রজাদের অনেক দ্বন্দ্ব বিবাদের মিমাংসা করে দেয়। সত্যি কথাই, কিছু কিছু ক্ষেত্রে, যে বিষয়গুলি ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, জমিজমা সংক্রান্ত বিবাদ, পারিবারিক সম্পত্তির ভাগবাঁটোয়ারা নিয়ে মারদাঙ্গা, এ সমস্ত ব্যাপারে তার ভূমিকা একজন ম্যাজিস্ট্রেট বা বিচারকের চেয়ে কম কিছু নয়, আর অনেক ক্ষেত্রেই এর বিচার কোর্টে পয়সা খরচ করে যে বিচার পাওয়া যায়, তার থেকে কোনও অংশে খারাপ নয়।

আমার অভিজ্ঞতা এত বেশীও নয় যে আমি বলে দেব যে এই ছবিটা সর্বত্র দেখা যায়। তবে আমি বলতে পারি, এখানে এরকমই হয়। আরও দু একটা কারখানা আমি দেখতে গেছি, সেখানেও দেখেছি, হেডকোয়ার্টার্সে যারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আছে, তারা তাদের ভালোটুকু দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে। এরকমটা সব জায়গায় হতে পারে, এবং হওয়া উচিৎ। কিন্তু আমার ভাবলে খুব খারাপ লাগে, যেখানে, যেখানে মানুষের উন্নতি করার কথা, সামনে বিস্তৃত ক্ষেত্রে ভালোত্বের চাষ করার কথা সেখানে যে বিশ্বাস ও দায়িত্ব তার ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে তাকে কলঙ্কিত করে কী লাভ হচ্ছে! এতে করে বিদেশে নিজের দেশের অসম্মানও তো হচ্ছে।

এখানকার গৃহকর্তার নৈতিক কর্তব্য সম্পর্কে আমার বক্তৃতা এখানেই শেষ হল। এতক্ষণে তুমি ভালোই আন্দাজ করতে পারছো, সন্ধ্যে ঘনিয়ে এসেছে। আমি আবার হেঁটে হেঁটে অফিসের দিকে গেলাম। সেখানে এতক্ষণে মোমবাতি জ্বলে গেছে, মোমবাতির আলোয় ছাদের কারুকার্যগুলোকে একেবারে হাতের নাগালের মধ্যে মনে হচ্ছে। সামান্য বাঁকা পায়ের একটা লোক, হাতে একটা লম্বা লাঠি, কোমরে এক টুকরো কাপড় জড়ানো, কিছু চিঠির জন্য দাঁড়িয়ে আছে। হাতে পেলেই সে ছুটে পাঁচ মাইল দূরে বনগাঁ-র পোষ্ট অফিসের দিকে বেরিয়ে যাবে। সেখান থেকে ইষ্টার্ণ পোষ্ট রাতের বেলা অথবা সকাল হতে না হতে সে চিঠি নিয়ে কলকাতা চলে যাবে।

আজকের মত কাজকর্ম শেষ হল। এবার আমরা বাড়ির দিকে রওনা হলাম। সেখানে কয়লার উজ্জ্বল আগুনের পাশে আরামদায়ক ডিনার আমাদের স্বাগত জানাচ্ছে। এই আগুনের ব্যবস্থা এখানে নতুন সংযোজন। এই ব্যাপারটা একসময় এমনকি কলকাতার বাড়িগুলোতেও বিরল ছিল। কিন্তু এখন শহরের বাড়িগুলিতে ফায়ারপ্লেস থাকাটা আর কিছু নতুন ব্যাপার বলে গন্য হয় না। কিন্তু এই মফঃস্বলে যেখানে বছরের এই সময়ে তাপমাত্রা শহরের থেকে বেশ কয়েক ডিগ্রী শীতল, বাড়ি ঘরগুলোতেও কনকনে হাওয়া আসে, দেওয়ালগুলো স্যাঁৎসেঁতে, এখানে ফায়ারপ্লেস রাখাটা অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ডিনার শেষ হল। এই মূলনাথ বা অন্যত্র ডিনারের পরের সান্ধ্য আড্ডা কখন ভাঙবে সেটা পরিবেশ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। ছুটির মরশুমে শহরের বিভিন্ন বন্ধুবান্ধব সামান্যতম সুযোগের সদব্যবহার করে তাদের টেবিল-চেয়ারের কাজ ফেলে ছুট্টে এই মফঃস্বলে চলে আসে, হপ্তাখানেক বন্ধুদের সঙ্গে হাঁফ ছেড়ে বাঁচার জন্য। মূলনাথের আকর্ষণ কোনও সাধারণ আকর্ষণ নয়, আর এর অতিথি সৎকারের ক্ষমতাও সাধারণ নয়। আগেকার দিনে, আমি শুনেছি এই বাড়ির ছাদের তলায় একসাথে কুড়ি জন অতিথিকে আশ্রয় দেওয়া যেত ও ভালোভাবে তাদের যত্নআত্তি করা যেত। এরকম সময়ে, যখন একসাথে বিভিন্ন মানসিকতার মানুষের মনোরঞ্জন করতে হত, তখন বাড়ির বিলিয়ার্ড টেবিলটা বের করা হত। কিন্তু বাকী সময়ে এটার কথা কেউ ভাবতই না। কেননা বিলিয়ার্ড টেবিল তখন যে কোনও শহর অথবা মফঃস্বলের ভদ্রলোকের বাড়িতে দেখা যেত। আমার গৃহকর্তাকে ওই লাঠি বন্দুক ময়দান ছুটোছুটির খেলা এসব একেবারেই টানত না। ফলে মফঃস্বলের এই শান্ত সন্ধ্যাগুলো নানারকম গালগল্প করে অথবা লাইব্রেরীতে কাটত। আর আমার বিশ্বাস এত কিছুর মধ্যে ঐ ঠান্ডা আবহাওয়া আর কারখানায় বসন্ত কালের দিনের বেলাটা কাটানোই তোমাদের কাছে আকর্ষণীয় মনে হবে।

স্কুলের শিক্ষকের বাসস্থান

 

লেখকের টীকা

[1] এখানে যে দলিলটির কথা বলা হচ্ছে সেটি হল কমিশনারের সরকারকে দেওয়া জেনারেল পুলিস রিপোর্ট। সেখানে আশেপাশের এলাকার কী কী উন্নতি হয়েছে, তার এমন বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া আছে যে তার থেকে উদ্ধৃতি দেওয়ার লোভ সামলানো যাচ্ছে না। এই রিপোর্টে স্পষ্ট করে বলা হচ্ছে মেসার্স হিলস অ্যান্ড হোয়াইট-এর মালিকানাধীন কিছু নীল তৈরির কারখানার দায়িত্ব জনৈক মিঃ জে এফ—কে দেওয়ার পর থেকে নদীয়া জেলার কিছু বিশেষ অংশের কীভাবে প্রভূত উন্নতি হয়েছে। এই রিপোর্টে বলা হচ্ছেঃ—

“১৮- এর আগের পদাধিকারী ম্যাজিস্ট্রেট ব্যাক্তিগতভাবে আমাকে জানিয়েছেন যে যবে থেকে এই তরুণ ভদ্রলোকটিকে উনি এখন যেখানে আছেন, সেখানে বহাল করা হয়েছে, উনি তার ভদ্র ব্যবহার ও সৎ আচরণ দিয়ে আশেপাশের দেশীয় মানুষদের এমন প্রভাবিত করে দিয়েছেন যে এই আদালতে যেখানে আগে ভুরি ভুরি অভিযোগ আসত, সেসব একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। সত্যি বলতে কি, অশান্তি ও সমস্যার জায়গায় শান্তি এবং স্থিরতা এসেছে।

১৯- আগের কথাগুলো আমি আরও বললাম এইটা দেখানোর জন্য যে কোনও জায়গায় ইংরেজদের বসতি থাকা ও না থাকার মধ্যে সে দেশের ভালোমন্দের কতখানি তফাত হয়ে যায়। একজন একক মানুষের ভালো ব্যবহারের জন্য তার আশেপাশের সমস্ত মানুষের ওপর ভালো প্রভাব পড়ছে। সেই মানুষটিকে ও তার কার্যকলাপকে মহামান্য সরকারের নজরে আনতে পেরে আমার বিশেষ তৃপ্তি হচ্ছে।”

[2] মূলনাথে নিম্নলিখিত কারখানাগুলি রয়েছে—

মূলনাথ, বগাডাঙা, পিপলবেড়িয়া, ভবানীপুর, ছাতাপোঁতা, বোঁচাকালী, জয়পুর, বেনাপোল, দূর্গাপুর, গয়টা, দুমা, রুদ্রপুর, চন্দরিয়া, বড়গড়িয়া, হুগলি, পিঁপড়াগাছি, মীর্জাপুর।

মুসলমান – ১০৮৯৭৬                                                                 কাঠগড়া এলাকায় ছয়টা কারখানা রয়েছে

হিন্দু     –   ৯১১১৬                                                                         হিন্দু – ৩০, ০৭৮

—————————                                                               মুসলমান – ৪৩, ৪৬১

১০০০৯২                                                                            ———————————–

প্রতি বাড়িতে গড়ে পাঁচজনের কিছু বেশী সদস্য।                                           ৭৩, ৮৩৯

 

অনুবাদকের টীকা

পেকো বা শুসং চাঃ এগুলি চায়ের গ্রেড, রকম নয়। পেকো হল মাঝারি থেকে ছোট পাতার কালো চা। অন্যদিকে শুসং চা হল চা গাছের গোড়ার দিক থেকে পাওয়া একটু বড় কিন্তু কড়া পাতার চা।

খোলুম বা বলখ্‌-এর ওয়ালীঃ ওয়ালী হল শাসক বা গভর্নর জাতীয় পদ। খোলুম আর বলখ্‌ হল আফগানিস্থানের দুই শহর।

সনি বিনঃ ষোড়শ শতকের কুখ্যাত স্কটিশ দস্যু। শোনা যায় সে লুন্ঠনের উদ্ধেশ্যে যাদের মারত, তাদের মাংস ভক্ষন করত। রবিন হুডের সাথে একসঙ্গে এর নাম কেন উচ্চারিত হল, সেটা আশ্চর্যের।

Author

Leave a Reply