অভিমানভূম। পর্ব ৯। ঈশ্বর বা ইতিহাস। লিখছেন শুভদীপ চক্রবর্তী

সবাই ছেড়েছে নাই যার কেহ

তুমি আছ তার আছে তব কেহ

নিরাশ্রয় জন পথ যার যেও

সেও আছে তব ভবনে

 

একা হওয়া মানে, নিজের সঙ্গে কথা বলা আনমনে। যখন মেঘ ছুঁয়ে যায় জানালা। আর ফোঁটা ফোঁটা বৃষ্টিরা আড্ডা জমাতে আসে বন্ধ কাঁচের ওপার থেকে।

“মন খারাপ?”

“কই? তেমন কিছু না তো!”

বলতেই ভেসে যায় মেঘ আবার। কোথায় তার ঠিকানা এবার? কোথায় বসানো খেলাঘর? সেখানে আসে ক্যাবলা ছেলে সেই? দুরন্ত বালিকার আনসান প্রশ্নে নিজের নামটাই ভুলে মারে যে! অচেনা বালিকার কথা রাখতে, সারাটা জীবন ঘুরে মরে তারপর ফাঁকা খাতা নিয়ে একটা। কোথায় হারায় সেইসব ছেলেরা? অজানা দ্বীপ? তেপান্তর? সঙ্গে সঙ্গে বাতাস আসে দমকা। কানের কাছে খিলখিলিয়ে বলে যায়, কথা রাখতে হারিয়ে গেলে, ভরা শ্রাবণে তাদের খোঁজ করতে নেই আর। ছেলের নামের ছিরি দেখো না! ফুসমন্তর! হারানো এদের কপালের শিরায় শিরায় খোদাই করে লেখা থাকে!

হারিয়েছে বৃষ্টিও। শ্রাবণের শেষ দিক প্রায়। গত কয়েকদিন বৃষ্টি ভাগলবা হওয়ায়, চারপাশের গরমটা বেড়ে গেছে আবার বেশ খানিকটা। যদিও স্কুলফেরত ছেলেমেয়ের দলকে দেখে সেটা বোঝার উপায় নেই একদমই। কলকল করে ফুটছে সবসময়। রেডিও স্টেশন থেকে বেরিয়ে কলেজের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তাদের কেউ কেউ হাঁক দিয়ে যায় উঁচু গলায়। “কোথায় চইল্যে?” উত্তর শোনার আগেই আরও জোর চাপ প্যাডেলে। জারুলের ওপারে নিমেষে ভ্যানিশ হইচই!

কিন্তু বেলাও যে ভ্যানিশ হয়ে আসছে! গরম হাওয়াটা মরে গিয়ে কেমন একটা হালকা মিঠে গন্ধ ভেসে আসছে রাস্তা পেরিয়ে ওপাশের জঙ্গলটা থেকে। রাত বাড়তে থাকলে নাকি এই গন্ধও বাড়তে থাকবে। নেশা এমনই গন্ধের, সাপখোপও এসে নাকি নাক ঘষে যায় মাঝেমধ্যে খানিক! জঙ্গলের লাগোয়া বাড়ির উঠোনে খলখল হাসির আওয়াজ। লাল প্লাস্টিকের ফুটবলটায় লাথি মেরেই তার পিছনে দৌড়োচ্ছে নিচু চালের বাড়িটার ঝুঁটি বাঁধা বাচ্চা দু’টো। চা’য়ের দোকানে বেশ জমজমাট ভিড়। আর পেটের ভিতর, মাথার উপর মানুষ ভরে নিয়ে বাসটা ধুলো উড়িয়ে চলে যেতেই, অঞ্জনদা’র দেখা পাওয়া গেল অবশেষে। অনেক দেরী হয়ে গেছে। পাকবিড়রা যাব!

এ এক অদ্ভুত সমাপতন। ধর্ম ধর্ম করে এতকিছু হচ্ছে চারপাশে। হয়েই চলেছে কত কত যুগ ধরে। অথচ এখানে যেন সেই সবকিছু অন্য কোনও পৃথিবীর ঘটনা। শুনেছিলাম, মানভূমে একসময় জৈন ধর্মের প্রভাব ছিল ব্যাপক। তাই বর্তমান পুরুলিয়া জেলার বেশ কিছু জায়গায় নিদর্শন ছড়িয়ে আছে তার। পাকবিড়রাও সেরকম একটা গ্রাম। কাঁকড় মাখা লাল মাটির পথে ধুলো উড়িয়ে চলেছে বাইক। পিছনে বসে চশমাটা তুলে দিলাম কপালের উপর। বেশ কয়েক কিলোমিটারের রাস্তা। পাকবিড়রা গ্রাম থেকে পুঞ্চা ব্লক বা বাজার অবধি এই এতটা দূরত্ব প্রায় দিনই পায়ে হেঁটেই যাতায়াত করেন বেশ কিছু মানুষ! ঈশ্বর মাহাত্ম্য থেকে অনেকদূরে সেইসব চলাচল। এত অবধি গিয়েই রাস্তার একটা ফাটলে পড়ে ঝাঁকুনি খেয়ে ওঠে দু’চাকা। যেন বলতে চায়, কী হয় মাঝেমধ্যে? ধর্মস্থানের কথাতেও, সেই মানুষের কথাই উঠে আসে! পৌঁছনোর বেশ আগে থেকেই মন্দিরগুলোর মাথা দেখা যাচ্ছে। অদ্ভুত একটা স্থাপত্য। তবে অবাক হওয়ার বাকি বোধহয় আরও!

‘পুরুলিয়ার জাদুঘর’। একটা গ্রামের নামের সঙ্গে যদি বিশেষণ জুড়ে যায় এমন, তবে তার ব্যাপারে তো আলাদা করে ইচ্ছা জাগাই স্বাভাবিক। গিয়ে বুঝলাম তার কারণটা। ওই যে দূর থেকে দেখতে পাওয়া মন্দিরগুলো, তাদের আসল নাম ‘দেউল’। পুরুলিয়া যে একসময় বেশ গুরুত্বপূর্ণ জৈন তীর্থভূমি ছিল, সেই ইতিহাস লেখা হয়েছে বেশ অনেক জায়গাতেই। কিন্তু ইতিহাসকে বাঁচিয়ে রাখার যে ন্যূনতম চেষ্টা এই দেশে দেখা যায়, রাঢ়বঙ্গের এইসব অঞ্চলে তারও দেখা মেলে ছিঁটেফোঁটা মাত্র। নইলে একসময়ের অন্যতম প্রধান জৈন তীর্থক্ষেত্র ছিল যে পাকবিড়রা, তার বর্তমান অবস্থা এমন হয়? সাকুল্যে অবশিষ্ট আছে তিনটে মাত্র দেউল আর। তবে প্রাকৃতিক কারণে যে নষ্ট হয়েছে সব, সেটা মানতে পারা কষ্টকর। কারণ, বাকীগুলোও কি তাহলে আর থাকতো অবশিষ্ট? চোখে পড়ে জাতীয় পুরাতত্ত্ব বিভাগের একটা দায়সারা সাইনবোর্ড। কিন্তু তাতে যে ‘গুরুত্ব’ দেওয়ার কথা লেখা আছে, তা ওই দফতরের লোকেরাই বিশ্বাস করলে, নিদেনপক্ষে প্রাথমিকস্তরের কিছু সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হত নিশ্চই। নইলে মানুষের লোভ থেকে ধর্মও যে নিস্তার পায় না, তা খালি চোখেই বেশ বোঝা যাচ্ছে!

মন্দির চত্বরের পাশে বড় মাঠ একটা। সেখানে ফুটবল নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করছে যারা, তারা চোখ টেনে নিতে বাধ্য। মানভূমের মেয়েরা! দূর থেকেই বোঝা যাচ্ছে বেশ তাদের ঘামে ভেজা জার্সি। এবড়োখেবড়ো মাঠ। অথচ পা থেকে নড়তে দিচ্ছে না বল! এই নাছোড়বান্দা জেদের সামান্যও যদি এই ইতিহাসগুলো ধরে রাখতে আমরা দেখাতে পারতাম…

কত পুরনো হবে এই সব দেউল? কোনও সিমেন্ট নেই। শুধু পাথরগুলো একের উপর এক বসানো যেন। কী ভাবে বসানো হল এগুলো? কী জানি। এই সব বিজ্ঞান আশ্চর্যই করে। পরে খুঁজতে গিয়ে দেখেছি, দেউলগুলো কম করে হলেও পাঁচশো বছরেরও বেশি প্রাচীন! পাঁচশো বছরেরও পুরনো ইতিহাস পড়ে আছে এমন অবহেলায়; রুক্ষতায়! পাথরগুলোর গায়ে আলতো হাত ছুঁয়ে দিলেই, হু হু হাওয়া আসে একটা। জুতোটা খুলে রাখা আছে খানিক দূরে একটা গাছের নীচে। কোনও ভয় নেই। কেউ নেবে না। দেউলগুলোর ভিতরটা অন্ধকার। আর সেই অন্ধকারের থেকেও কালো পাথরে তৈরি যেন দেউলগুলোর ভিতরে রাখা জৈন তীর্থঙ্করদের মূর্তি। যেন শূন্যতার ভিতরের ঢেউ। কতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকি কে জানে। ঘোর কাটে অঞ্জনদার ডাকে, “বাইরের বড় মূর্তিটা দেখলে?”

বাইরে বেরিয়ে পিছন দিকে গিয়েই চমকে গেলাম আরও। এই মূর্তিও কি অতটাই পুরনো? কী করে সম্ভব! প্রায় সাত ফুটেরও বেশি লম্বা একটা মূর্তি। বস্ত্রহীন। দিগম্বর। খোলা আকাশের নীচে রাখা। রোদ-জলের দৈনন্দিন আঘাত সয়েও একটুও টাল খায়নি কৃষ্ণবর্ণ। একটুও ক্ষয় ধরেনি শরীরে। অদ্ভুত একটা জ্যোতি যেন কালো পাথরের শরীরে। জানা গেল, জৈন তীর্থঙ্কর শীতলনাথের মূর্তি এটা। কেউ আবার বলে মূর্তিটা হতে পারে জৈন দেবতা মহাবাহুবলি কিংবা পদমপ্রভুরও। এদিক ওদিক ছড়ানো কলস, সতীস্তম্ভ বা চৈত্য— জৈনধর্মের নিদর্শন সব। ছড়ানো-ছিটানো পাথরের গায়ে মিনিয়েচার ফর্ম্যাটের মূর্তি অসংখ্য কিংবা ভগ্ন পায়ের আদল। এমনই একটা জায়গা, যেখান থেকে বেরনো যায় না সহজে। পুরাতন টেনে ধরে বসিয়ে রাখে ধুলোয়। যেন শিস দিয়ে বলতে চায়, এত এত বছরের ইতিহাস, এত অসংখ্য অবজ্ঞার পর এই এক ঘন্টাতেই জেনে ফেলবে হে!

এক ঘন্টা কেন, সেরকম মন না থাকলে তো সারা জীবনেও জেনে ওঠা যায় না পাশের মানুষটাকে। আর এত জলজ্যান্ত ইতিহাসের কথা! তবে এটা দেখেও আশ্চর্য লাগে যে, এখানকার মানুষদের গা লাগোয়া হয়েই এমন ঐতিহ্যময় ইতিহাস ছড়িয়ে থাকতেও আশেপাশের অধিকাংশ মানুষই কী অসম্ভব নির্লিপ্ত! প্রথম প্রথম ব্যাপারটা দেখে একটু গায়ে লাগলেও, পরে সামান্য ধারণা হয়তো করতে পারি আদত বাস্তবতাটুকু। বুঝতে পারি যে, তাদের চারপাশের সঙ্গেই এত বেশি মিলেমিশে গেছে এই সবকিছু, আলাদা করে এর কারণ বা ঐতিহ্য খোঁজার প্রয়োজন হয়নি তাই হয়তো এদের আর। দু’বেলা দু’মুঠো অন্ন জোগাড় করে তারপর ঢোল সহরতে কেটে গেছে দিনগুজরান। এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্ম। এসব এদের বাড়ির উঠোনের মতোই তাই। বাড়ির লোককে অতিথিদের মতো আদরযত্ন করাটাই তো বরং চোখে লাগার মতো…

এরমধ্যেই ইউনিসেফের প্রোজেক্টের চাপে প্রায়ই লোকজন নিয়ে ছুটতে হয় বিভিন্ন ক্যাম্পেইন বা ফিল্ড প্রোগ্রামের জন্য। দেখা হয়ে যায় মানবাজার-পুঞ্চা ব্লকের নানা প্রান্ত। কখনও কখনও জেলারই অন্য আরও কোনও ব্লকেও। মোটামুটি দশজন মতো বসে পড়তে পারবে, এরকম একটা গাড়ি ভাড়া করতেই হল অগত্যা। গাড়ির মালিক কাম চালক, মলয়দা। মলয় মুখার্জি। গাড়ির নাম্বার প্লেটটা ছিল উড়িষ্যার। বাংলা, কুড়মালি, উড়িয়া, এমনকি সাঁওতালিও বলতে পারা লোকটা ট্রিপ শেষ হয়ে গেলে, মাঝেমাঝেই কিছু না বলে উড়ান দিত এদিক-ওদিক। “আপনি বসে থাকেন, একটা হেবি জায়গা দেখিয়ে আনি…” সেরকমই একদিন ক্যাম্পেইন থেকে ফিরে সবে খালি হয়েছে গাড়ি, হঠাৎ মলয়দার দৈববাণী, “চলেন, বুধপুর দেখিয়ে আনি আপনাকে!”

কোনও উপলক্ষ ছাড়া তার আগে বুধপুরে যাওয়ার সময় হয়নি সেইভাবে। উৎসবের সময় এত বেশি ভিড় থাকে যে, সেইসময় ভগবান হোক অথবা প্রাচীন ঐতিহ্য— কারুর কাছেই ঠিকঠাক পৌঁছানো যায় বলে মনে হয় না। বেশ চড়া রোদের একটা বিকেলে তাই প্রায় প্রথম দেখার মতোই পৌঁছে যাওয়া সেখানে। খুব বেশিক্ষণের রাস্তা নয়। কিন্তু, প্রাচীন মন্দিরের কাছাকাছি আসতেই নতুন করে আশ্চর্য হতে হল খুব। আচমকাই মনে হল, খুব প্রাচীন কোনও গ্রামের আলাদা গন্ধ থাকে কোনও? থাকলে সেই গন্ধ হয়তো এই বুধপুর বা পাকবিড়রার সঙ্গে মেলে। পরে একটু বইপত্র ঘাঁটাঘাঁটি করে দেখেছি, একসময় ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে বেশ নাম ছিল এই গোটা অঞ্চলটারই। কংসাবতী নদী দিয়ে ভেসে আসত বড়বড় ব্যবসায়ীদের অলৌকিক জলযান। যতদূর মনে হয়, স্থলপথে আসতে গেলে ডাকাত বা লুটেরাদের হাতে পড়ার ভয় ছিল সেই সময় খুব বেশি। সেই তুলনায় জলপথে যাতায়াত ছিল অনেকটাই সহজ এবং সুরক্ষিত। মন্দিরের সামনে মলয়দার গাড়ি থেকে নেমে পাথর দিয়ে তৈরি পুরো স্ট্রাকচারটা দেখেই অবাক হলাম খুব। কত শতাব্দী পুরনো মন্দির হবে কে জানে!

খানিকটা অপ্রাসঙ্গিক মনে হলেও, এই সব জৈন তীর্থস্থানে কীভাবে হিন্দু ধর্মের ছোঁয়া লাগল সেই নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে জমা হয়েছে বহু মতবাদ। এক্ষেত্রে অনেকেই বিষয়টাকে সংখ্যাগুরু ধর্মের আগ্রাসী মনোভাব দিয়ে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করলেও, ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়েছে, এটা আসলে আগ্রাসী মনোভাবের থেকেও বেশি বরং সম্পৃক্ত হয়ে যাওয়া স্থানীয় মানুষ বা লোকাচারের সঙ্গে— যেখানে দেবতাকে নিজের মনের মতো মানিয়ে নিচ্ছে মানুষ। সম্পূর্ণ পাথরে খোদাই করে তৈরি করা শিবলিঙ্গ। বেশ বড় গণেশের মূর্তি। এবং, মাটি থেকে হাতির শুঁড় তুলে থাকা অদ্ভুত পাথরের মূর্তি একটা। এসব আচমকা ইতিহাস দেখলে, অচেনা অজানা সৃষ্টিকর্তাদের কাছে নতজানু হয়ে যাই মনে মনে। সেই সব শিল্পীদের কাছে, যাঁরা এই একলা প্রান্তে বসে শুধু ভগবানকে রূপ দেওয়ার জন্য পার করে দিয়েছিলেন কত মুহূর্তের পর মুহূর্ত!

এসব ভাবনা ঘিরে ধরলে, আচমকাই চুপচাপ পেয়ে বসে কেমন। সারাক্ষণ কথা বলে যাওয়া মলয়দাও চুপ করে গিয়ে সিগারেট ধরায় দূরে গাছতলায়। মনে মনে দেখতে চেষ্টা করি একটা পুরনো সময়। বণিকেরা নোঙর করছেন তাদের নাও। উঠে আসছেন কংসাবতী নদীর পারে বাঁধানো সিঁড়ি বেয়ে। সংলগ্ন গ্রামগুলোতে তুঙ্গে বিকিকিনির পসরা। কোনও এক যুবক ভাস্কর বাড়িতে অপেক্ষা করে থাকা মেয়েটার কথা ভুলে একমনে খোদাই করে চলেছে কোনও ভগবানের মূর্তি। বাড়ি ফিরতে দেরী হয়ে যাচ্ছে তার। কোনও এক গোধূলি আলোয় বাড়ি ফিরলে তারপর ছলছল করে উঠছে কিশোরী বধূর মুখ। “ভগবান না সতীন?” হাঃ হাঃ হেসে ওঠে ভাস্কর। আঙুলে তার নতুন শিল্প এখন। জাগিয়ে তোলার শিল্প। সারা সন্ধে তারপর ভীষণ সোহাগ গন্ধে ভাসে তাদের ঘর…

“চলুন, টুশ্যামাটাও দেখিয়ে আনি আপনাকে?” এক ঝটকায় ভেঙে যায় ইতিহাস। মলয়দা ডাকছে। বাধ্য হয়ে বলতেই হয়, “আজ আর নয়; ওটা আরেকদিন যাবো বরং!” নিজেকে মনে মনে বলি, সব আশ্চর্যের কাছে এইভাবে চলে যেতে নেই একদিনেই! গাড়িতে উঠলে মলয়দা একটা সিগারেট এগিয়ে দেয় আমাকেও। সন্ধের অন্ধকার নামছে ধীরে। খানিকটা চলার পরেও চুপ করে জানালা দিয়ে তাকিয়ে থাকতে দেখে জোরে জোরে হেসে এবার বলেই ফেলে, “আপনি একটু কবি আছেন বটে!”

তবে কথায় যে বলে, ‘হাতের লক্ষ্মী পায়ে ঠেলতে নেই’, সেই কথা হাড়ে হাড়ে বোঝা গেল ফিরে আসার পরেই। সেই যে চলে এলাম, তারপর খুব তাড়াতাড়ি টুশ্যামা যাওয়া হল না আর। বর্ষা পেরিয়ে, পার হয়ে গেল পুজোও। শীতের আগের সময়টা দৌড়ঝাঁপ করে কেটে গেল দিল্লি কখনও মুম্বই। তবে বুঝতে পারি, ইদানীং কোনও শহরে গেলে, অসুবিধা হয় বড়। শব্দগুলো বড় বেশি লাগে কানে এসে। মনে মনে ভাবি, আবার কবে ফিরব নিজের সত্যি কাজের জায়গায়?

আবার ফিরে আসতে আসতে শীত। পুরুলিয়ার সঙ্গে মানানো-গোছানো এগিয়েছে অনেকটাই। প্রথম দিনের মতো কাঁপুনি লাগে না এখন আর। রেডিও স্টেশনের ব্যস্ততা, কমিউনিটি রেডিওর কাজের সঙ্গেই, রেডিও স্টেশনের কর্মীদেরও বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনাতেও বসতে হচ্ছে মাঝেমধ্যেই। এরই মধ্যে একদিন প্রচন্ড ভার হয়ে যাওয়া বিরক্ত মাথায় শেখরদার দোকানে চায়ের গ্লাস ধরে ঠেকিয়ে আছি মাথায়, আচমকা পাশে গাড়ির হর্ন। তাকিয়ে দেখি, মলয়দা। কিছু না ভেবেই জিজ্ঞেস করে ফেললাম, “তুমি কি এখন ব্যস্ত নাকি? কোনও ভাড়া আছে?” মলয়দা বলল সেই কথাটাই, যেটা প্রবাদের মতো তারপর কতদিন কতবার যে শুনতে হয়েছে, ইয়ত্তা নেই তার।

— কোনও ভাড়া নাই। বাজার পুরোই খারাপ!

— চলো, ঘুরে আসি তবে।

— কোথায় যাবেন?

— ওই যে আগেরবার যাওয়া হল না… টুশ্যামা।

কত যে আশ্চর্য লুকানো আছে এই ভূমির গভীরে, টুশ্যামা তার নীরব অথচ গভীর একটা উচ্চারণ। ২০১৩ সাল নাগাদও মাটির উপরে সামান্য একটা মন্দিরের চূড়া মতো দেখা যেত। কেউ খুব একটা মাথাই ঘামায়নি এইসব নিয়ে তখন। তার দু’তিন বছরের মধ্যেই বদলে যায় পুরো ছবিটা। কলকাতা থেকে প্রত্নতাত্ত্বিক একটি দল এসে শুরু করে খোঁড়াখুঁড়ি। তারপরই আলোয় বেরিয়ে আসে ইতিহাসের একটা না-জানা অধ্যায়। যদিও সেটা জৈন মন্দির নাকি হিন্দু শিব মন্দির, সেই নিয়ে একটা খচখচানি থেকেই যায় মনের মধ্যে। এই অঞ্চলে জৈন আধিপত্য যে ভাল রকমই ছিল, সেটার স্বীকার ইতিহাসও করে। কাছাকাছির মধ্যে বুধপুর অথবা পাকবিড়রাতেও তো তার উদাহরণ জলজ্যান্ত!

টুশ্যামার মন্দির মুখে মুখে পরিচিত হয়ে গেছে আদিনাথের মন্দির নামে। তবুও, গঠনশৈলীতে পাকবিড়রা মন্দিরের ছাপ দেখা যায় ভীষণভাবেই। মন্দিরের বয়স্ক পুরোহিত যদিও নিশ্চিত এটি মহাদেবের মন্দির বলেই। হাত ধরে মন্দিরের ভিতরে নিয়ে গিয়ে, আশ্চর্য শিবলিঙ্গ দেখান তিনি। মন্দিরের ভিতরে রাখা শিবলিঙ্গের শরীরের মধ্যেই খোদাই করা শিব ঠাকুরের চেহারা। পুরোহিত ঠাকুরের কথা অনুযায়ী, সারা ভারতে এই ধরনের শিবলিঙ্গ খুব বেশি নেই। কত পুরনো হবে? তা বলে উঠতে পারলেও, জানিয়ে দিতে ভোলেন না মহেঞ্জোদারো-হরপ্পাতে যে শিবলিঙ্গ উদ্ধার হয়েছিল, তাও দেখতে ছিল অনেকটা এইরকমই। পরবর্তীতে নিজেও খানিক ঘাঁটাঘাঁটি করে দেখেছি, শিবলিঙ্গের গায়েই খোদাই করা মহাদেবের মূর্তি। হাতে গোনা দু-একটা জায়গা বাদ দিলে, দেখাই যায় না আর কোথাও। তখন আশ্চর্য হয়েছি আরও। এরকম দুষ্প্রাপ্য একটা শিল্প কী অবলীলায় এবং অবহেলায় মাটির নীচে পড়েছিল এতদিন! ঈশ্বরের যেন তাড়াহুড়ো ছিল না কোনও ‘ভক্তের ভগবান’ হয়ে উঠে পুজো পাওয়ার জন্য।

মন্দিরের সামনে কাঁসাই নদী। কাঁসাই নদীর আশেপাশে, বুকের উপর ছড়ানো-ছিটানো প্রাচীন ব্যাসল্ট শিলা। যতদূর মনে হয়, এই পাথরই হয়তো ব্যবহার হয়েছে মন্দির তৈরি করতে। মন্দিরের সামনে ছড়ানো-ছিটানো অনেকগুলো ছোট ছোট স্তুপ বা পিলারের আকৃতির সৌধ। একটু ভালো করে দেখলেই বোঝা যায়, এগুলো আদতে আসল মন্দিরের মিনিয়েচার রূপ। কী ভীষণ নিখুঁত পারদর্শিতা প্রাচীন এইসব শিল্পে! ‘মডেল’ মন্দিরের সামনে ঘাসের উপর বসে থাকি খানিকক্ষণ। ঘন্টা বাজে মন্দিরের ভিতর। ঠাকুরমশাই এসে হাতে দিয়ে যান তুলসী পাতা আর বাতাসা। প্রাচীন ঈশ্বরের নিরিখে প্রসাদ  নেহাতই সাধারণ; তবু আচমকা সেই পরিবেশে সেসব মনে হয় অপার্থিব। বাতাসা ধরা হাত ছুঁয়ে যায় কপাল।

ঠাকুরমশাইয়ের হাতে সময় আছে। খুব গ‌োপন কিছু প্রকাশ্যে আনার মতো, মন্দিরের মাথার দিকে হাত তুলে এবার বললেন, “এই মন্দিরে সম্পূর্ণ সুরক্ষার ভার ওই ওনার কাছে!” কপাল কুঁচকে জিজ্ঞেস করলাম, “মানে? উনি কে?” ঠাকুরমশাই কপালে হাত ঠেকিয়ে, অনেকটা গলা নামিয়ে এনে বললেন, বাবার গলায় যে নাগ থাকেন, সেই তিনি নাকি অধিষ্ঠান করছেন মন্দিরের চূড়ার ওই কলসে! প্রায়ই নাকি শোনা যায় তাঁর ‘হিশ হিশ’ শব্দ! এইসব তথ্যের সত্যি-মিথ্যা যাচাই করা যায় না। পরিবেশটাই এমন, এসব শুনে কেমন যেন বিশ্বাস করতেই ইচ্ছে করে। “কখনও কারোর ক্ষতি করেনি ওই নাগ?” সন্দিহান প্রশ্নেও উত্তেজিত না হয়ে গায়ের নামাবলী আরও একটু ভাল করে জড়িয়ে নেন বয়স্ক ভদ্রলোক। অল্প হেসে উত্তর আসে সহজের সরলতায়, “ঈশ্বর কি কখনও কারোর ক্ষতি করেন?”

 

ভগবান সত্যিই যেমন কারোর ক্ষতি হয়তো কখনো করেন না ঠিকই, কিন্তু বর্তমান সময়ে সেই ভগবানকেই সামনে রেখে আড়াআড়ি ভাগ হয়ে যাওয়াও ভাল চোখে দেখেন কি? যে সময় পুরুলিয়াতে আছি, বেশ বুঝতে পারা যাচ্ছে চোরাগোপ্তা ধর্মীয় বিভাজনের একটা প্রচেষ্টা শুরু হয়েই গেছে। খুব কাছের কিছু মানুষকেও দেখছি, রীতিমতো খোলামেলা সমর্থন করছেন গেরুয়া হিন্দুত্ববাদ। মনে মনে প্রমাদ গুনতে থাকি, এদের মধ্যেই যদি এইরকম ভাবে ডালপালা বিস্তার করতে থাকে এই বিচ্ছিন্নতা, তাহলে কয়েক বছর পর পরিস্থিতি তো ভয়ংকর হতে থাকবে! আরও অনেকেই যে এইরকম ভাবছিলেন, সেটাও বুঝতে পারা যাচ্ছিল ধীরে হলেও। তবুও এই সমস্ত ধর্মীয় বিভাজনের উত্তর যে চোখের সামনে ছিল, সেটা বুঝতে পারিনি অনেকদিন। যে উত্তর দিয়ে যায় আমাদের রোজ সন্ধের ছোট্ট সফর …

 

মাঝেমাঝেই বিকেলের পর বা সন্ধের দিকে কিছু কেনাকাটি থাকলে, অঞ্জনদার সঙ্গে যখন পৌঁছে যেতাম পুঞ্চা বাজারে, তখন ঘুরে আসতাম চরণপাহাড়ি কালীমন্দির থেকে একবার। পুঞ্চা থেকে মানবাজার যেতে ডানদিকের একটা রাস্তা দিয়ে ঢুকে গেলেই, চরণপাহাড়ি কালীমন্দির। তার থেকে খানিকটা এগিয়ে গেলেই পুঞ্চা ব্লক হসপিটাল। মন্দিরটা একটা উঁচু টিলা মতো জায়গার উপরে। বেশ কয়েকটা সিঁড়ি পার হয়ে উপরে ওঠার পর মন্দিরের চাতাল। স্নিগ্ধ রূপের মা কালীর মূর্তি মন্দিরের মধ্যে। পাশেই আর একটা আলাদা মন্দিরে স্থাপিত শিবলিঙ্গ। সন্ধেবেলা শাঁখ, কাঁসর, ঘন্টা আর মন্ত্রপাঠের শব্দে জমজমাট মন্দির চত্বর। পুজো হয়ে গেলে, মাথা বাড়িয়ে নিয়ে নেওয়া শান্তির জল। দূরে দাঁড়িয়ে প্রণাম করি আমিও। প্রণাম করতে করতেই দেখি, সহজ-সাধারণ গ্রামের মানুষদের সঙ্গে কথা বলছেন মন্দিরের পুরোহিত মশাই । পরবর্তীকালে দু-একবার গল্পও হয় বয়স্ক ভদ্রলোকের সঙ্গে। কথা বলতে বলতেই বুঝে ওঠা যায়, কতটা আধুনিক মনের মানুষ ছিলেন তিনি। একবার জিজ্ঞেস করেছিলাম, মেয়েদের আঠেরো আর ছেলেদের একুশ বছরের নীচে তো বিয়ে আইনত নিষিদ্ধ। কিন্তু কেউ যদি মন্দিরে এসে বিয়ে করতে চায়, আপনি তখন কী করেন? খুব স্বাভাবিক ভাবে বলেছিলেন, “বার্থ সার্টিফিকেট না দেখাতে পারলে বিয়ে দিই না। কিন্তু অনেকে ঝাড়খন্ড চলে যায়…” পুজোর পরে গিয়ে দাঁড়াই মন্দিরের পিছনের দিকটায়। খাড়াই খাদ নেমে গেছে নীচের দিকে। সেখানে দাঁড়িয়ে ভীষণ আশ্চর্যের সেই কথাটা কথা বলেছিল অঞ্জনদা।

— এই মন্দিরটা কীভাবে তৈরি হয়েছিল, জানো সেই গল্পটা?

— না তো!

— চলো তোমাকে দেখাচ্ছি

মন্দিরের চাতালে পেতে রাখা একটা ফলকে মন্দির প্রতিষ্ঠাতার নাম। শ্রী জিটি লতিফ। চমকে উঠে জিজ্ঞেস করি, “মুসলিম নাকি?” উত্তরে ভেসে আসে মন ভাল করা একটা গল্প; যে গল্পটা লিফলেট-ব্যানার করে ছড়িয়ে দেওয়া উচিৎ মনে হয় এই আচমকা বদলে দিতে চাওয়া দেশের সব কোণায় কোণায়।

স্থানীয় পুঞ্চা থানার একসময়কার ওসি ছিলেন মুসলিম এই ভদ্রলোক। শোনা যায়, একদিন রাতের বেলা স্বপ্নে তাঁকে দেখা দিয়েছিলেন স্বয়ং মহামায়া মা কালী। পরেরদিন সকালে হাঁটতে বেরিয়ে তিনি পৌঁছে যান স্থানীয় একটি ছোট টিলার মাথায়। যতদূর মনে পড়ছে, শুনেছিলাম সেখানে নাকি তখন ছিল একটা মিলিটারি ক্যাম্প। আশ্চর্যজনকভাবে সেখানে কালো পাথরের উপর তিনি নাকি দেখতে পেয়েছিলেন মহামায়ার পায়ের ছাপ। তখনই আশেপাশের গ্রামের মানুষদের খবর দেওয়া হয়। সকলের মিলিত সিদ্ধান্তেই মন্দির প্রতিষ্ঠা হয় ওই টিলার উপর।

যদিও সন্দেহবাতিক মন এর পিছনেও খুঁজতে চায় ধর্ম ছাড়াও অন্য কোনও মহৎ অসাম্প্রদায়িক উদ্দেশ্য। তবু জিজ্ঞাসাবাদ করেও খুব একটা জানতে পারা যায় না যে, যেই সময় মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়, সেই সময় স্থানীয় অঞ্চলের হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে সৌহার্দের পরিবেশ ঠিক কতটা ছিল? যদি তা খানিকটা কমতির দিকেই থেকে থাকে, তাহলে ওসি সাহেব যে চূড়ান্ত একটা মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছিলেন, তা বলাই বাহুল্য। এখানকার মানুষজন একটু গর্ব করেই বলে থাকেন, এখনও নাকি কালীপুজোর আগে মন্দিরে আরাধনার জন্য যে চাঁদা তোলা হয়, তাতে হিন্দু-মুসলিম সকল সম্প্রদায়ের মানুষই চাঁদা দিয়ে থাকেন নিজের নিজের সাধ্য মতো!

প্রিয় এক দাদা শিখিয়েছিল, ‘ধর্ম’ অর্থাৎ ‘যা ধারণ করে’। চরণপাহাড়ি কালীমন্দির অথবা এখানকার প্রাচীন জৈন মন্দিরে ঘুরতে গিয়ে যখন বসে থাকি অনেকক্ষণ, তখনই একটা সময় বুঝতে পারি ধারণ করা অর্থ ঠিক কী হতে পারে। এই যে বহমান মানবতার স্রোত, এই যে এত হিংসা অশান্তির পরেও বাদবাকি ঝগড়াটা পরের দিনের জন্য মুলতুবি রেখে আজকে রাতে দোস্তি বাঁচিয়ে নেওয়া আবার— এই সব সম্পর্কই তো ধারণ করতে শিখিয়েছে প্রাচীন ধর্মীয় সংস্কৃতি আমাদের। সেখানে এই মালভূমি অঞ্চলেও যে কী করে আধুনিক অযোধ্যার মন্দিরের মতো বিষবাষ্প ঢুকে পড়ল, সেটা ভাবলে খানিকটা আশ্চর্যই হতে হয় বইকি। অশান্তিও তৈরি হয় মনে মনে।

অশান্তি বাড়লে ফিরতে ইচ্ছা করে কোথাও একটা। ঠিক যেমন ফ্ল্যাশব্যাকে দাঁড়িয়ে থাকা পাকবিড়রার দেউলের সামনে সেই প্রথম দিন। বিকেল পেরিয়ে সন্ধের গুনগুন আকাশে। ফিরতেই হবে অগত্যা। শাঁখ বাজছে বাড়িতে বাড়িতে। আর একটা মফসসলি ছাপোষা বাড়ির কথা মনে পড়ছে হঠাৎ। মা’য়ের কথা। জলে ভেজা বেগুনী দেওয়াল। অঞ্জনদার পিছন পিছন বেরিয়ে আসছি। ঠিক তখনই দেখলাম ব্যাপারটা। ঘোমটা মাথায় দু’জন মহিলা হাতে মোমবাতি-ধুপকাঠি নিয়ে ঢুকছেন দেউল স্থানে। ব্যাপারটা কী জিজ্ঞেস করতেই অন্ধকার গাছতলায় বসে থাকা এক বৃদ্ধ মানুষ বললেন, “বাবার থানে সাঁঝের পুজো দিতে হবে না?”

– বাবার থানে?

– ওই যে, ভৈরব বাবার থানে!

হায় রে ধর্ম! মিছেই এত মারামারি, কাটাকাটি তারে নিয়ে! নইলে এখানে কালের নিয়মে জৈন তীর্থঙ্কর কবে যেন হয়ে গেছেন লোকায়ত দেবতা কাল ভৈরব! দেবাদিদেবের আরেক রূপ। নিত্য গ্রামবাসীদের থেকে পুজো পান তাঁরা! মনে পড়ে সাত ফুট লম্বা তীর্থঙ্কর মূর্তির পায়ের সিঁদুরের দাগ। রোদে-জলে ভিজতে ভিজতে কবে যেন গ্রামবাসীদেরই একজন হয়ে গিয়েছেন ঈশ্বর। মানুষের এত কাছাকাছি থাকার কারণেই বুঝি, ঈশ্বরের শরীরের ঔজ্জ্বল্যও কমে না তাই এতটুকুও।

অন্ধকারে বাইক স্টার্ট দিলে, আলোর সামনে লাল ধুলো উড়ে যায় কিছু। বাইক চলতে শুরু করলে অঞ্জনদাকে বলি, “একটু পুঞ্চা বাজারে যাব অঞ্জন দা। কালকের ট্রেনের কোনও টিকিট পাই কিনা দেখি। অনেকদিন বাড়ি যাই না।”

(ক্রমশ)

শুভদীপ চক্রবর্তী
+ posts

পড়াশোনা ও বড় হয়ে ওঠা মফস্বল শহর বাটানগরে। নঙ্গী হাই স্কুল সাক্ষী এইসব দিনের। পরবর্তীতে বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট হাইস্কুলে। অর্থনীতি নিয়ে দীনবন্ধু অ্যান্ড্রুজ কলেজে পড়ার পর জনসংযোগ ও সাংবাদিকতা নিয়ে পড়াশোনা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। কর্মসূত্রে ঘোরাঘুরি গ্রাম বাংলার নানান প্রান্তে। বিশেষ করে পুরুলিয়ায়। পরে কিছুদিন জনসংযোগের কাজ; কিছুদিন সাংবাদিকতা।

প্রথম কবিতার বই 'ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাওয়া সব ঢেউগুলো' ২০১৮ সালে প্রকাশিত হয় সপ্তর্ষি প্রকাশন থেকে। পরের বছর 'নিবিড়' থেকে ব্যক্তিগত গদ্য সংকলন 'যতটুকু দৃশ্যে ছিল'। শখ বলতে খেলা দেখা, সিনেমা দেখা, কাছে বা দূরে যেখানেই হোক ঘুরে বেড়ানো। বিকেল বেলা স্টিমারে চেপে গঙ্গা পারাপার। আলমারিতে বই গোছানো নিয়ে খিটখিটে আজীবন। না-পারার তালিকা লম্বা ভীষণ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *