অভিমানভূম। পর্ব ৩। ভিন্নতর সাংবাদিকতার পাঠ। লিখছেন শুভদীপ চক্রবর্তী

‘বন্ধ চোখে ছিল যত স্বপ্নেরা বাতিল
লোক নিয়েছে কর্মখালি, চোখ নিয়েছে চিল
আকাশে জ্যামিতি আর মাটিতে শিফন
হাইওয়ে ছুটেছে সোজা, দু’দিকে জীবন’

আক্ষরিক অর্থেই দু’দিকে ছুটছে জীবন। ইউনিভার্সিটি থেকে বেরিয়ে মাঝে মাঝে ময়দানে বসে থাকলে একা বিকালে, এই ছুটে চলা নিরন্তর বোধ হয় আরও। দেখি অজস্র ছুটে চলা গাড়ি, বাদুর ঝোলা বাস, রেসকোর্স অথবা টাটা বিল্ডিংয়ের মাথা ঘেঁষে সন্ধে নামছে কীভাবে। এটুকুই আশ্চর্য বাকি আছে হয়তো শহরটায় আর। ছোটদিনে এই অবলীলায় হারিয়ে যাওয়া যেন পুলিশের ঘোড়ার পায়ের নীচ দিয়ে বল গলিয়ে দিয়ে হো হো হেসে লুটিয়ে পড়ার মতোই খামখেয়ালি; সাবলীল! মানে-না-থাকা একা হয়ে যাওয়ার মতো নিঝুম কুয়াশার গান।

সেই প্রথমবার পুরুলিয়া থেকে ফেরার পর মাস কয়েকের জন্য ভুবনেশ্বর। তার আগে-পরে কলকাতায় দু-একটা নিউজপেপারে লেখা কাটাকাটি, পাতা তৈরি। শিক্ষানবীশ যদিও। রোজগার নেই। রোজ রোজ তখন নতুন নতুন বাংলা নিউজ পেপার বা নিউজ চ্যানেল গজিয়ে উঠছে একেকটা। তার কারণটা যদিও ধরা গিয়েছিল বেশ খানিকটা পরে। এরই মধ্যে ওয়েলিংটনের কাছে সেরকমই একটা নিউজপেপারের অফিসে খুচরো ঝামেলা হয়ে গেল একটা। বেশ ভারী, গোল একটা পেপারওয়েট তুলে চিফ এইচআর মহিলাকে শান্ত ভাবে একদিন বলে ফেললাম, “আরেকটা বাজে কথা বললে মেরে মাথা ফাটিয়ে দেব।” বলার পরের দিনেই স্বাভাবিক ভাবে অফিসে আর পা না রাখার চিঠি। ইডেনে সেদিন দেবেন্দ্র বিশুর বলে ৩৮ রানে ফিরে গেছেন সচিন। অন্যদিকে নন্দনে তখন কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব। পরের দিনই গোদারের ছবি দেখানো হবে। যতদূর মনে পড়ছে, সম্ভবত ‘ফিল্ম সোশিয়ালিজম’। গোটা একটা বিজাতীয় ভাষার ছবিতে কোনও সাবটাইটেল থাকবে না নাকি! পরিচালকের মতে, সিনেমার ভাষা সর্বজনীন; সাবটাইটেল দিয়ে বোঝাতে চাওয়া তাই অর্থহীন।

এই অবস্থায় পিঠের ব্যাগে সাসপেন্ড লেটার আর হাতে পাস নিয়ে দেখতে গেলাম গোদার। ভয়ানক দুর্বোধ্য। তার উপর আশেপাশে বেশ নাক-ডাকার ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর। মনে আছে, পাশেই বসে থাকা যে মাঝবয়সী ভদ্রলোকের মাথা মাঝেমাঝেই কাঁধ ঝাঁকিয়ে সরিয়ে দিতে হচ্ছিল, তিনিই বেরনোর সময় নন্দনের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে কাকে যেন চিৎকার করে ফোনে বলছিলেন, “আহ্, এসব ভাবনা! গোদার ছাড়া… তুমি বড় মিস করলে!”

সেখান থেকেই চলে যাব কোন্নগর। দিদিভাইয়ের বাড়ি। ওই অঞ্চলে আমরা কী কী বেলেল্লাপনা করে বেড়াতাম, সেসব এখানে বলার মতো নয়। কিন্তু হিন্দমোটর, কোন্নগর, উত্তরপাড়া, রিষড়া বা শ্রীরামপুর ছিল সেই সময় আমার এক্সিট পয়েন্ট। তীব্র মনখারাপে মুখ গুঁজে লুকিয়ে থাকার বা বেরিয়ে পড়ার জায়গা। সেখানে থাকতে থাকতেই ইন্টারভিউ কলটা এসেছিল কোনও একদিন। কলকাতারই একটা ফুড অ্যান্ড ম্যানিফ্যাকচারিং গুডস্ কোম্পানিতে পাবলিক রিলেশনস্ অফিসারের কাজ। কিন্তু রেজাল্ট আসেনি তখনও, তাই পোস্টটা হোল্ড করা হল। এদিকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার পর কবে যে সাংবাদিকতা বিভাগের রেজাল্ট বেরোবে সেটা কোনও দুঁদে সাংবাদিকও বলতে পারেন না। যতদূর মনে পড়ছে, সেবারও বেশ দেরীই হয়েছিল, এবং রেজাল্ট বেরনোর পর জয়েন করা গিয়েছিল লেকটাউনের অফিসে।

কিন্তু বাংলার অর্থনীতি ধ্বসে পড়তে শুরু করেছে ততদিনে। চিটফান্ডের মতো এক ভয়ানক ঘুনপোকা ভিতরে ভিতরে ফোঁপড়া করে দিয়েছে সম্পূর্ণ আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থাটা। একের পর এক জালি কোম্পানি ধরা পড়তে লাগল, আর বন্ধ হতে লাগল একের পর এক খবরের কাগজ, চ্যানেল। কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল আমাদের অফিসেও। একদিন সত্যি হয়ে ফেরত এল সেটাই। গ্রেফতার হল সংস্থার মালিক। সিজ করা হল চিটফান্ডের বিপুল সম্পত্তি। মাঝখান থেকে কয়েকমাসের খাটনির টাকাটা জলে গেল আমাদেরও। এবং স্বাভাবিক ভাবেই, কাজটাও।

কলকাতায় তখন শীত পড়তে দেরীই করছে বেশ। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি প্রায়। এমন সময় মাইসোর থেকে ইউনিভার্সিটির এক বান্ধবী জানাল, একটা জায়গায় মিডিয়া ম্যানেজার পজিশনে কাউকে একটা দরকার খুব তাড়াতাড়ি। কিন্তু কাজটা একটু গোলমেলে। ওরই রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচিত এক সিনিয়রের সংস্থা। আমি রাজি কিনা জিজ্ঞেস করলে বলে দিলাম, কথা তো বলাই যায়। সেই কথা মতো যোগাযোগ করলাম কসবার অফিসে। একটু গোলমেলে। শহরে কাজ নয়। কাজের জায়গা মূলত মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া। এক কথায় বললে, কাজটার নাম ‘রুরাল মিডিয়া ডেভেলপমেন্ট’। স্বাভাবিক ভাবেই, কাজের ধরণটা এমনই যে সেটা শহরে বসে করা যাবে না। থাকতে হবে সেখানে গিয়ে।

পুরুলিয়া শুনেই ঝলকে চোখে ভেসে এল কয়েক বছর আগের দুটো চোখ, একটা ফিরে আসা, ধুধু মাঠ, লোহার পাড়া আর আগুনের পাশে পাশে কিছু মানুষ। জানিয়ে দিলাম, রাজি! কাজের মূল জায়গাটা পুরুলিয়া হলেও, শুরুতে যেতে হবে ঝাড়গ্রাম। উদ্দেশ্যটা খানিক বলা দরকার, কারণ সময়ের নিরিখে সেটা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা কাজের শুরু। সাঁওতালি ভাষায় একটা সাপ্তাহিক বের করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল সংস্থার তরফে। সেই উদ্দেশ্যেই ডাকা। একদম প্রাথমিক ভাবে আমার কাজ ছিল, রেজিস্ট্রেশন বা সেই সংক্রান্ত অফিসিয়াল কাজকর্মগুলো সামলানো তো বটেই, এবং তার থেকেও দরকারী ভাবে, একটা ‘গ্রুপ অফ রুরাল জার্নালিস্টস্’ বা ‘ফিল্ড রিপোর্টার’ তৈরি করা।

অভিজ্ঞতার নিরিখে, একদমই আনকোরা কাজ। সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতাই বা কতটুকু! নিজের মতো করে পড়াশোনা শুরু করলাম কিছু। জায়গাটার ভূগোল বা সমস্যাগুলো বুঝতে চেষ্টা করলাম বিভিন্ন অনলাইন নিউজপেপার বা জার্নাল থেকে। নোটস্ নিয়ে রাখলাম নিজের সুবিধায়। সেগুলো অন্যভাবে কাজে দিয়েছিল পরে। ততক্ষণে ভীষণ অগোছালো ভাবেই জানুয়ারি মাসের ঠান্ডায় আমি রওয়ানা দিয়ে ফেলেছি ঝাড়গ্রামের দিকে। পরের দিনই ‘আদিবাসী গ্রামীন সাংবাদিক’দের সঙ্গে মোলাকাত হওয়ার কথা। পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া থেকে আসবেন মোটামুটি পঞ্চাশ জনের মতো। ইন্ডাকশন ট্রেনিংয়ে বুঝিয়ে দিতে হবে খবর কী? কোনটা খবর কোনটা খবর নয়? এত সংবাদপত্র থাকতেও কেন একটা আলাদা সাঁওতালি ভাষার পত্রিকার প্রয়োজন হচ্ছে, এইসব। বুঝিয়ে দিতে হবে লেখার ধরণ। ছবির গুরুত্ব। কিন্তু সাঁওতালি ভাষা বুঝবো কেমন করে? সেই মুশকিল আসানের নাম সহদেব হেমব্রম। সহদেবদার সঙ্গে আলাপ সেই প্রথম, এবং তারপর থেকে উলট-সুলট ঝালা হয়ে দীর্ঘদিন।

পরের দিন ট্রেনিংয়ের পর প্রায় চল্লিশটা নতুন নিউজ কপি যোগাড় করা গেল তখনই। একদম স্থানীয় আঞ্চলিক সমস্যাগুলো নিয়েই খবর। শুধু সমস্যাই নয়, খবরে উঠে এসেছে স্থানীয় উৎসব, সংস্কৃতি বা কৃতি কোনও ছাত্র-ছাত্রীর কথাও। আশ্চর্যই হলাম খানিক। এত তাড়াতাড়ি ‘নিউজ’ লিখে ফেলল এরা? একটা মাত্র দিনে কয়েকটা ঘন্টার কথা শুনেই! কিন্তু সংবাদপত্র মানে তো সম্পাদকও লাগবে? সকলের সম্মতিতেই সহদেবদাকেই মনোনীত করা হল সম্পাদক হিসেবে। আর সংবাদপত্রের নাম? ‘জঙ্গলনামা’! ঠিক হল সেই নিউজ কপিগুলো নিয়েই তৈরি হবে ‘জঙ্গলনামা’র প্রথম সংখ্যা।

এখানে বলে রাখা ভাল, ভাষাটার নাম সাঁওতালি হলেও হরফের নাম ‘অলচিকি’। ‘জঙ্গলনামা’ সাঁওতালি সংবাদপত্র হলেও, অলচিকি হরফে হবে না বলেই ঠিক হয়েছিল। কারণ, হরফটা অনেকের কাছেই নতুন। বেশিরভাগই ওই ভাষায় লিখতে বা পড়তে পারেন না এখনও। তাই বাংলা হরফেই হবে ‘জঙ্গলনামা’। এদিকে অভ্র সফটওয়্যারে তখনও সড়গড় নই আমরা কেউই। ভরসা তাই ‘বাংলা ওয়ার্ড’। বেশ সময়সাপেক্ষ এবং জটিল টাইপের পদ্ধতি। কলকাতার খবরের কাগজের অফিসের মতো ইউনিকোডে লেখার সুবিধা নেই বলে একটু অস্বস্তিও হচ্ছিল শুরুতে। কিন্তু অভিযোগ করে কী লাভ! বলা হল, পেজ ডিজাইন করতে সাহায্য করবে অফিসেরই এক সিনিয়র। ময়ূখ ঘোষ।

জলপাইগুড়ির ময়ূখদার মতো নিখাদ ভাল এবং সরল মানুষ খুবই কম দেখেছি আজ অবধি। এবং অসীম ধৈর্য ছেলেটার। নেশা বলতে জঙ্গলে জঙ্গলে ঘুরে বেড়ানো আর মানুষ বাদে সবকিছুর ছবি তোলা। কলকাতায় বসেই প্রাথমিক কাজটা হওয়ার পর ময়ূখ দা ফিরে গেল উত্তরে। আমাকে পাড়ি দিতে হবে পশ্চিম। আনুষ্ঠানিক একটা দিন ঠিক করা হয়েছিল ‘জঙ্গলনামা’ উদ্বোধনের; সেটা আজ আর মনে নেই। তার আগে সম্পাদক সহদেবদার সঙ্গে বসে ফাইনাল প্রুফ আর তারপর প্রিন্টের কাজটা করে ফেলতে হবে। ময়ূখদা দিন কয়েক পরে আসবে পুরুলিয়া। তারপর দু’জনে একসঙ্গে ঝাড়গ্রাম আবার। সেখানেই উদ্বোধন।

অতএব রাতের ট্রেন। আবার সেই চক্রধরপুর প্যাসেঞ্জার। আগেভাগে কাটার জন্য একটা লোয়ার বার্থই পাওয়া গিয়েছিল। মাসটা জানুয়ারি। ট্রেনে উঠে মনে পড়ল, ট্রেন যাবে ফুলেশ্বর উলুবেড়িয়ার উপর দিয়েই। ফুলেশ্বর। আমার মামার বাড়ি। কবেকার একটা পারিবারিক বিবাদের কারণে দীর্ঘদিন আমার যাওয়া হয়নি যেখানে। মামার বাড়ির মানেই একটা পুরনো অ্যালবাম। ঘুরতে যাওয়ার জায়গা বলতে একসময় আমার ছিল ওইটুকুই। মামার বাড়ির সামনেই গঙ্গার উপর ব্যারেজ দিয়ে কেটে বের করা একটা খাল। জলের রং গঙ্গার জলের মতোই। আমার প্রথম সাঁতার শেখাও যেখানে। এবং, যেখানে আমার দাদুর প্রতিষ্ঠা করা কালী মন্দির। ছিমছাম ফুলের গাছে ভরা একটা শ্মশানও। দাদু মারা যাওয়ার পরে কালী মন্দিরের পাশেই তৈরি করা হয়েছিল দাদুর স্মৃতিসৌধ। প্রতি বছর কালীপুজোর দিন প্রদীপ মোমবাতি ফুল-মালা দিয়ে মায়ের মন্দিরের সঙ্গেই সাজিয়ে দেওয়া হত সেটাও। সেসব যেন কোন যুগের কথা বলে মনে হয়! জানালা দিয়ে তাকিয়ে থাকি কখন ফুলেশ্বরের উপর দিয়ে যাবে ট্রেন। তাকিয়ে থাকি, যদি অন্ধকারের ভিতর দিয়েও এক ঝলক দেখা যায় মন্দিরটা। ছোটবেলায় মন্দিরের সামনের মাঠে আমরা ভাইবোনেরা ছুটোছুটি করে খেলে বেড়াবার সময় কোনও ট্রেন গেলে, সকলে মিলে হাত নাড়তাম সেই দিকে। সময় কেমন যেন অবস্থান বদলে দেয়। ভাবি, আমার দিকে কেউ আর হাত নাড়বে এখন?

মন্দিরটা দেখা গেলে, আনমনেই বহুদিন পর কপাল ছুঁলো হাত। মোটা চাদর টেনে নিলাম গায়ে।

পুরুলিয়া স্টেশনের আগে আদ্রায় বেশ খানিকক্ষণ দাঁড়ায় ট্রেনটা। আদ্রা থেকে তারপর ট্রেনের একটা ভাগ চলে যায় বোকারো; অন্য ভাগটা পাড়ি দেয় পুরুলিয়ার দিকে। ঘুম যখন ভাঙল, আদ্রা পেরিয়ে গেছে ততক্ষণে। এতদিন পর যাতায়াতে নতুন লাগছে যেন সব কিছুই। অচেনা নামের স্টেশন। বদলে যাওয়া মানুষের চেহারা। এবং ভয়ঙ্কর রকম ঠান্ডা একটা। বাইরে জমাটবাঁধা কুয়াশা। কুয়াশার আবরণ একটু হালকা যেখানে, সেখানে দূরে কোথাও চোখে পড়ছে ঝাপসা পাহাড় বা টিলা। পাঁচ টাকা এগিয়ে দিয়ে গরম চায়ের ভাঁড় চেপে ধরি হাতে। হঠাৎ সহযাত্রীদের মধ্যে একটা উসখুস ভাব লক্ষ্য করা যায়। জিজ্ঞেস করি, “দাদা পুরুলিয়া স্টেশনটা?” “এই তো আসছে। আপনিও নামবেন নাকি?”

ট্রেন থেকে নেমেই কেঁপে গেলাম আরও। এটা কেমন ঠান্ডা! জ্যাকেটের ভিতরে হাফহাতা সোয়েটার। তাও যেন তীরের মতো বিঁধছে হাওয়া। যেখানে পৌঁছতে হবে সেটা আরও প্রায় পঞ্চাশ বা পঞ্চান্ন কিলোমিটার দূরে। এখানেই এমন ঠান্ডা হলে সেখানে যে কী অবস্থা হবে, সেটা ভাবতে ভাবতেই একটা রিক্সা ধরে পৌঁছে গেলাম পুরুলিয়া বাসস্ট্যান্ড। হাতে কোনও সাড় নেই। আঙুলগুলোকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে আবার গরম চায়ের গ্লাস চেপে ধরি দুই হাতের মধ্যে। মানুষজনের ভাষাটা বাংলা বলে মনে হলেও অদ্ভুত একটা টান। চায়ের দোকানে জিজ্ঞেস করি, “দাদা, মানবাজার পুঞ্চার বাস?” আঙ্গুল তুলে দিকনির্দেশ হয়ে যায়। সেই দিক বরাবর হেঁটে কনডাক্টরকে বলি, “পুঞ্চা নামবো। লৌলাড়া কলেজ। জানলা দেখে দিও।” বরাবর উইন্ডো সিটের লোভ আমার। জানলা দেখেই দেয়। শহর পেরোতেই  বাসের বিজাতীয় হর্নের শব্দে সামনের কুয়াশাও যেন থতমত খেয়ে যায় একটু। জানুয়ারির সকাল। সবুজ জমির উপর থিকথিকে কুয়াশার মেঘ। সারারাতের জার্নির পরে চোখ টেনে ধরে কখন যেন আবার। বাসের ভিতর ভিড়ও বেড়ে চলেছে সমানে। এইসব সহযাত্রীরাও আমার দেশের মানুষ! ভাবতেই অদ্ভুত একটা বোধ কাজ করতে শুরু করে ভিতরে। প্রায় ঘণ্টা দুয়েক চলার পরে আচমকা কন্ডাক্টর চেঁচিয়ে উঠে বলে, “কলেজ! কলেজ নামবেন বলেছিলেন না?” তড়িঘড়ি করে উঠে দাঁড়িয়ে ব্যাগ টেনে নামাই উপরের র‍্যাক থেকে। ভিড় ঠেলেঠুলে বাস থেকে লাফিয়ে নামতেই একরাশ ধুলো ছুঁড়ে দিয়ে গায়ে চলে যায় বাসটা। এবার কোথায় যাব কিছুই বুঝতে পারছি না। বলা হয়েছিল বাস থেকে নেমে স্থানীয় একজনকে ফোন করতে। মানুষটার নাম অঞ্জন মুখার্জি। যে সংস্থায় কাজ করি, সেখানকারই পুরনো কর্মী এবং ‘জঙ্গলনামা’ পত্রিকার বেশ কিছুটা কাজ পুরুলিয়া থেকে দেখাশোনা করেন তিনিও।

অঞ্জনদাকে ফোন করতেই সুঠাম চেহারার একজন যুবক বাইক নিয়ে হাজির হয়ে যায় কিছুক্ষণ পরে। বলে, একটু পিছন দিকে যেতে হবে। বাইকে উঠে বসতেই নামিয়ে দেয় এক কিলোমিটারের মতো পিছনে গিয়ে একটা আশ্রমের মতো জায়গার সামনে। সংস্থার আদি অফিস এইটাই। যিনি সেক্রেটারি স্যার, তাঁর বাড়িও এই অফিসের পাশেই। প্রণাম করি বয়স্ক মানুষটাকে। ব্রেখটের উপর গবেষণা করা, একসময় কলকাতার নামী কলেজের অধ্যাপনা ছেড়ে দিয়ে মানুষটা এই অজপাড়াগ্রামে চলে এসেছিলেন এখানকার শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি করবেন বলে। যে কলেজের সামনে নামানো হয়েছিল, সেই কলেজেরই প্রিন্সিপাল ছিলেন একটা লম্বা সময় ধরে। বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত হলেও উৎসাহ বা উদ্দীপনায় ভাঁটা নেই একটুও।

মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদ করার পর তিনি বললেন, “ঘরদোর সব বুঝে নাও। তুমি আসবে শুনে আমি পরিষ্কার করিয়েই রেখেছি আগে থেকে।” ডাক পারলেন, “গুণা, গুণা!” বেঁটেখাটো কালো রঙের যে মানুষটা এগিয়ে এল, তাঁর নাম গুণধর। চলতি নাম, গুণা। গুণাদাই দেখভাল করেন ওই আশ্রম সংলগ্ন ঘরটার। ভারী ট্রলি ব্যাগটা উঠিয়ে নিতে গেলে আমি বাধা দিই। শুধু ঘরটা খুলে দিতে বলি।

একদম প্রান্তিক এলাকাতে হলেও ঘরের মধ্যে তিনটে সুবিধা আছে। প্রথমতঃ, বাথরুমটা ওয়েস্টার্ন। দ্বিতীয়তঃ, ঘরে একটা টিভির ব্যবস্থা আছে, এবং তৃতীয়টাই হয়ত সব থেকে জরুরী, পাম্প চালিয়ে জল তোলার সুবিধা আছে। দুটো সিঙ্গল বিছানা পাতা ঘরের মধ্যে। দুটো বিছানায় দুটো মোটা কম্বল। আর একটা করে চেয়ার টেবিল। আর কী দরকার! এই তো বেশ! নতুন সংসার হেঁটে-চলে দেখে নিলাম একবার। অঞ্জনদা এল খানিকক্ষণ পরে। জিজ্ঞেস করলাম, “অফিসটা কোনদিকে? অঞ্জনদা বলল, “সেক্রেটারি স্যার বসেন এখানেই। পাশেই অফিস। তবে তোমাকে কাজ করতে হবে ওই কলেজের ওখানে। রেডিও স্টেশনে।”

রেডিও স্টেশন মানে কমিউনিটি রেডিও। নিত্যানন্দ জনবাণী কমিউনিটি রেডিও স্টেশন ভারতে যে দুশোটার মতো কমিউনিটি রেডিও আছে, তার অন্যতম। এবং, সম্ভবত প্রান্তিক এলাকায় এই বাংলার একমাত্র কমিউনিটি রেডিও স্টেশন। কমিউনিটি রেডিও স্টেশন ঠিক কী এবং কীভাবে কাজ করে, সেই কথায় পরে আসতেই হবে। এই পরিসরে আপাতত তার সঙ্গে শুধুই আমার প্রথম মোলাকাত। অঞ্জনদার কথামতো স্নান করে তৈরি হয়ে নেওয়া গেল। ক্ষিদেও পেয়েছে। সকালের খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা আমার ঘর থেকে বেরিয়ে গেট পেরোলেই সামনের জলখাবারের দোকানটায়। অঞ্জনদাই পরিচয় করিয়ে দিল পুরুলিয়ার আইকনিক সমস্ত তেলেভাজার সঙ্গে। কিন্তু তেলেভাজা খাওয়ার অভ্যাস একদমই নেই। সকাল সকাল তো অবশ্যই নয়। বললাম, “এসব অন্য কোনও একদিন খাব নিশ্চই। এখন আপাতত আর কী খাবার আছে তাই দাও।” গরম গরম কচুরি আর মটরের তরকারি এগিয়ে দিলেন দোকানদার। ততদিনে স্মার্টফোন চলে এসেছে। কিন্তু ওই অঞ্চলে নেটওয়ার্ক বেশ খারাপ। তবু সকালের খবর ঘাঁটতে ঘাঁটতে কাঁচের গ্লাসে চলে এল ধোঁয়া ওঠা চা। সেই সঙ্গে অদ্ভুত সেই ভাষায় আড্ডাও জমে উঠেছে সকালের। বেশীরভাগ কথাই বুঝতে পারছি না। তবে মজা পাচ্ছি বেশ। নতুন মুখ দেখে বাকিরাও কথা বলে যাচ্ছেন নিজেদের থেকে এসেই। অঞ্জনদাকে জিজ্ঞেস করলাম, “কখন আসে সবাই অফিসে?” অঞ্জনদা মোবাইলে সময় দেখে বলল, “এখন নটা বাজে তো? তোমাকে দশটা নাগাদ নিয়ে যাব। তারপর কাল থেকে একাই যেতে পারবে।”

দশটা নাগাদ রেডিও স্টেশনে পৌঁছে দেখলাম সেক্রেটারি স্যারও পৌঁছে গেছেন ইতিমধ্যেই। সকলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রাথমিক কাজটুকু সারলেন তিনিই। সহদেবদা এলেন বেশ খানিকক্ষণ পরে। একটা অদ্ভুত ঢিমেতালের দুলকিচালের মানুষ। তারমধ্যেই রেডিও স্টেশনের বাকিদের সঙ্গে আলাপ পরিচয় হয়েছে বেশখানিকটা। যদিও রেডিও স্টেশনের দায়িত্বও মিডিয়া ম্যানেজারের আওতায় পড়বে জানি, তবু সেই মুহূর্তে ‘জঙ্গলনামা’কেই অগ্রাধিকার দিতে হচ্ছে একটু বেশি। তার কারণ, একদম নতুন একটা প্রচেষ্টা। এবং, যেহেতু যেসব সমস্যার কথা সেখানে লেখা হবে, সেগুলো নিয়ে পরবর্তীতে যাওয়া হবে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে সমাধানের জন্য (কলকাতা অফিসের কথা অনুযায়ী যেটাকে আমরা বলতাম ‘উই’ল মুভ উইথ দ্য আর্টিকেলস, টু লেট দ্য গভর্নমেন্ট নো অ্যাবাউট দিস থিংগস বেটার!’), তাই আলাদা একটা গুরুত্ব এখানে থেকেই যায়।

যদিও এখানে একটা প্রশ্ন উঠেই যায় যে, এই ভাষা সরকারি আধিকারিকেরা বুঝবেন কী করে? এবং সেখানেই ‘হিট’ করাটা উদ্দেশ্য ছিল আরও একটা। যে অঞ্চলগুলোতে এই আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যা অর্ধেকেরও বেশি, সেখানে সরকারি কার্যালয়ে তাঁদের নিজের ভাষা সম্পর্কিত এই সুবিধাটুকু পাওয়া তো প্রাথমিক অধিকারের আওতাতেই পড়া উচিত।

সারাদিন কাজ করি রেডিও স্টেশনে সহদেবদা, অঞ্জনদার সঙ্গে বসে। ডিজাইনের সমস্যা হলে ময়ূখদাকে ফোন লাগাই। স্টেশনের ভিতর নেটওয়ার্ক খারাপ। বাইরে এসে তাই দাঁড়াতে হয় বেদী দেওয়া ঝাঁকড়া একটা গাছের নীচে। যেহেতু একদমই নতুন, তাই শুরুর কয়েকদিন দুপুরে আর রাতে খাওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে সেক্রেটারি স্যারের বাড়িতেই। খাওয়া-দাওয়ার পর কাজ বিশেষ থাকে না আর। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জিজ্ঞেস করে জানতে থাকি এলাকার ভূগোলটা। জানতে চাই কতদূর ঠিক সাঁওতাল গ্রামগুলো। রেডিও স্টেশনের সাঁওতালি ভাষায় অনুষ্ঠান করেন যারা, তারা আসতে বলেন তাদের গ্রামে। আমি বলি, “অবশ্যই যাব! থাকছি তো এখানেই।” ‘থাকছি’ শুনে বিশ্বাস করেন না প্রায় কেউই। কারণ, শহর থেকে এসে দীর্ঘকাল কারোরই থাকা হয় না এখানে। আর, কেনই বা থাকবে? কিইবা আছে এখানে? এতদিন পর এখন মাঝেমধ্যে মনে হয়, ভাগ্যিস শুরুর দিকের সেই ক্রাইসিস আমার মধ্যে তৈরি হয়নি!

দুপুরের পর বেশ কয়েকবার বসা হয় কলেজ লাগোয়া চায়ের দোকানে। চায়ের দোকানের মালিক তিন ভাই। এদের গল্পও আসবে নিশ্চই পরের কোনও পর্বে। কখনও কখনও আবার অঞ্জনদার সঙ্গে চলে যাই স্থানীয় নদী বা মন্দির দেখতে। এত অদ্ভুত সব লোককথা ছড়িয়ে আছে এই সব অঞ্চলের কোণায় কোণায়, ভাবি এক্ষুনি একটা ডকুমেন্টেশন শুরু না করলে, এগুলো হারিয়ে যেতে বেশী সময় নেবে না।

এর মধ্যেই ‘জঙ্গলনামা’ উদ্বোধনের দিন এগিয়ে আসে। ফাইনাল প্রিন্টে যাওয়ার আগে টেকনিক্যাল দিকগুলো দেখে নেওয়ার জন্য পৌঁছে যায় ময়ূখদা। বেশ মনে আছে ময়ূখদা যেদিন পৌঁছোয়, সেদিন সম্ভবত রেকর্ড ঠান্ডা পড়েছিল পুরুলিয়াতে। প্রবল ঠান্ডায় কাঁপুনিটা শুরু হয়েছিল বিকেল থেকেই। সন্ধের পর ঘরে ফিরে সেটা বাড়তে লাগল চরম হারে। এমনই কাঁপুনি, দাঁতে দাঁত লেগে যাচ্ছে প্রায়। পায়ে মোজা। জিন্সের প্যান্টের উপর দিয়ে মোটা জামার উপর সোয়েটার, জ্যাকেট পরা গায়ে। তাও কাঁপুনি আটকাচ্ছে না দেখে আমার কম্বলের উপর দিয়েই ময়ূখদা নিজের কম্বলটা দিয়েও জড়িয়ে দিল আমাকে। কিন্তু ঠান্ডা যেন লাগছে ভিতরের হাড় অবধি। চোখ বুজে আসছে, আর চোখ বুজে যেতে যেতেই শুনতে পাচ্ছি ময়ূখদা ফোন করছে কাউকে। “হ্যালো, অঞ্জন? তাড়াতাড়ি একবার এসো। আর হ্যাঁ, শোনো, যেখান থেকে পারো যেভাবেই পারো একটা নিপ নিয়ে এসো রামের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব…”

এরকম আশ্চর্য দাবি মনে হয় অফিসের কারোর থেকে অঞ্জনদা শোনেনি এর আগে। আধ ঘণ্টার মধ্যেই হাজির হয়ে যায়। নীল জ্যাকেটের পকেট থেকে বোতলটা বের করতে করতে বলে, “এসব কী হবে? তোমাদের লাগে নাকি?” ময়ূখদা ছিপি খুলতে খুলতে বলে, “একে বাঁচাতে পারবো না নইলে!” বলেই আমাকে বলে, “মুখ খোলো!” ‘না’ বলার মতো অবস্থাই নেই। মুখ খুলতেই জোর করে নিট রামের বেশ কিছুটা ঢেলে দেয় ভিতরে। বুড়ো সাধুর ম্যাজিকে কাঁপুনিটা কমে আসে কিছুক্ষণ পর। অঞ্জনদা হাসতে হাসতে বলে, “এসব টেকনিক, সত্যি মাইরি!” বাকি রামটা জল ঢেলে শেষ করি আমরা দু’জন। এত ঠান্ডায় সেদিন স্যারের বাড়িতে খেতে যেতে হয়নি ভাগ্যিস! ওই বাড়ি থেকে খাবার পৌঁছে দিয়ে গিয়েছিলেন কেউ। পরের দিন সকালের বাসে পুরুলিয়া টাউন থেকে চলে এসেছিল কাগজে মোড়ানো বড় একটা বান্ডিল। তার ভেতরে দু’হাজার কপি ‘জঙ্গলনামা’ পত্রিকা, নিয়ম করে পরবর্তী তিন বছর ধরে প্রত্যেক সপ্তাহে বুধবার যা প্রকাশিত হয়েছে একটাও ডেট মিস না করে। আদিবাসী ভাষার কোনও পত্রিকার ক্ষেত্রে এমন নজির এদেশে খুব বেশি নেই বলেই এখনও একটা অন্যরকম ভাললাগা কাজ করেই যায়।

এর হপ্তাখানেক বাদেই ঝাড়গ্রাম টাউনে উদ্বোধন হয়ে যায় ‘জঙ্গলনামা’ পত্রিকার। সেদিন জোরে জোরে হলের মধ্যে বেজেছিল ভগবান দাস মাঝির গান:

গাঁও ছোড়াব নাহি
জঙ্গল ছোড়াব নাহি
মা ও মাটি ছোড়াব নাহি
লড়াই ছোড়াব নাহি

দ্বিতীয়বারের জন্য পুরুলিয়া পৌঁছানো আর ‘জঙ্গলনামা’ পত্রিকা প্রকাশের মাঝে ততদিনে অবশ্য ছুঁয়ে এসেছি কাঁসাই নদীর জল। পার হয়ে গেছি এপারওপার নদীর উপরে ফেলা পাথরে পা রেখে রেখে। নত হয়ে দাঁড়িয়েছি প্রাচীন জৈন মন্দির আর তীর্থঙ্করের সামনে। আর দেখে এসেছি একটা নদীর উৎস স্থলও। ‘ঝিরিহিরি বাঁকা লদী বইছে বারোমাস’।

দিন কাটে। এসব আনসান বারোমাস্যার মধ্যে নদীগুলোই কীভাবে যেন নীরব, নির্বিকার, সব কিছু মেনে নেওয়া প্রেমিকার মতো তিরতির বয়ে যায়। বারোমাস। ভাবি, দিনের শেষে তারা শুধু, কার ঘরে যে সামায়?

(ক্রমশ)

শুভদীপ চক্রবর্তী
+ posts

পড়াশোনা ও বড় হয়ে ওঠা মফস্বল শহর বাটানগরে। নঙ্গী হাই স্কুল সাক্ষী এইসব দিনের। পরবর্তীতে বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট হাইস্কুলে। অর্থনীতি নিয়ে দীনবন্ধু অ্যান্ড্রুজ কলেজে পড়ার পর জনসংযোগ ও সাংবাদিকতা নিয়ে পড়াশোনা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। কর্মসূত্রে ঘোরাঘুরি গ্রাম বাংলার নানান প্রান্তে। বিশেষ করে পুরুলিয়ায়। পরে কিছুদিন জনসংযোগের কাজ; কিছুদিন সাংবাদিকতা।

প্রথম কবিতার বই 'ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাওয়া সব ঢেউগুলো' ২০১৮ সালে প্রকাশিত হয় সপ্তর্ষি প্রকাশন থেকে। পরের বছর 'নিবিড়' থেকে ব্যক্তিগত গদ্য সংকলন 'যতটুকু দৃশ্যে ছিল'। শখ বলতে খেলা দেখা, সিনেমা দেখা, কাছে বা দূরে যেখানেই হোক ঘুরে বেড়ানো। বিকেল বেলা স্টিমারে চেপে গঙ্গা পারাপার। আলমারিতে বই গোছানো নিয়ে খিটখিটে আজীবন। না-পারার তালিকা লম্বা ভীষণ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *