অভিমানভূম। পর্ব ১৭। অব্যক্ত ঐতিহ্য। লিখছেন শুভদীপ চক্রবর্তী

তবু ফুলের কথা বলি না

আমি তো ধুলোমাটির ভাল

 

গাছেদের কাছে যাওয়া হয় না কতদিন? কতদিন শোনা হয় না বাকলের ভাষা? এই যে শুকতারা দেখার লোভে প্রতিদিন হারিয়ে ফেলছি রোহিনী, স্বাতী, বিশাখা, অনুরাধা… পথ হারিয়ে ফেললেও উত্তর-ফাল্গুনীর থেকে সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না কোনও, আর ছোটবেলার ভূগোল বই ততই অর্থহীন হয়ে যাচ্ছে কেবল প্রবাদপ্রতীম কবিতার কাছে।

জেনেছি নিকটবর্তী এবং উজ্জ্বলতম তারাগুলি প্রকৃত প্রস্তাবে সব গ্রহ,

তারা নয়, তাপহীন আলোহীন গ্রহ

 

রাত বাড়ে যত, ঝকঝকে আকাশে তত বেশি উজ্জ্বল হয়ে ওঠে নীলচে সবুজ আলোর দল। আমাদের এই গ্রহের অন্ধকার এক কোণায় প্রাচীন ঘণীভূত লাভা স্তরের উপর পিঠ পেতে দিলে, আরও বেশি মায়াময় হয়ে ওঠে এই তাপহীনতা, আলোহীনতা। এই কার্তিক-নবান্নের দেশে ঝরে পড়তে থাকে হেমন্ত ফসল। ধানের ছড়ায় মিশে চালের গুঁড়ির ছিটা পড়ে গোবর নিকানো দুয়ারে। দমে টান দিয়ে বাধা হয় জোরসে ধামসা। পরখ করে নেওয়া হয় মাদলের বোল। তারায় তারায় রটে যায় সেই সমাগত সুখের দিন— সহরায়! সহরায়!

 

 

যদিও নভেম্বরের হেমন্তের গল্পটা শুরু হয়েছিল প্যাঁচপ্যাঁচে বর্ষায় জুলাইয়ে। বেশ কয়েক বছর হয়ে গেল পুরুলিয়া যাপনের! দুপুর তিনটে পেরিয়ে গেলে জুলাই মাসের গরমের তাত পড়তে শুরু করে। এরকমই একটা দুপুরে এল ইমেলটা— ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের উপর কাজ করার জন্য ফেলোশিপ দেওয়া হচ্ছে। সংস্থার ডিরেক্টর স্যার ফোন করলে, অপর প্রান্ত থেকে ভেসে আসে নিরন্তর প্রশ্রয়, “অ্যাপ্লাই করে দাও!” অগত্যা! অ্যাপ্লাই তো করবো, কিন্তু কোন বিষয়ে?

 

পুঞ্চায় আমাদের কমিউনিটি রেডিও স্টেশনটার ঠিক সামনেই সারা বছর ফুল আর ছায়া নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে একটা অশোক গাছ। তার নীচে বাঁধানো বেদীতে বসে ভেবে দেখলাম, কাজের যা চাপ, তাতে পুরুলিয়া ছাড়া আর অন্য কোনও জায়গা নিয়ে কাজ করা সম্ভব নয়। আর কেনই বা অন্য জায়গার দিকে দেখবো, যখন এটাও জানা যে কী পরিমাণ লুকনো ঐশ্বর্য থরে থরে সাজানো আছে এই মানভূম অঞ্চলের এদিক-সেদিক? এই অঞ্চল, প্রাচীন ভারতীয় নানা শাস্ত্র বা পুরানে যার উল্লেখ পাওয়া যায় ব্রজভূম, শুম্ভভূম, শিখরভূম, রাধা বা মানভূম হিসেবে। যদিও এদের মধ্যে ‘মানভূম’ নামটিই চিরস্থায়ী হয়ে যায়। ভিতরে কোথাও বিশ্বাস ছিল যে, এই যে আদিবাসী মানুষগুলোকে দেখি রোজ চোখের সামনে, তাদের সংস্কৃতি বা ঐতিহ্যের খুব গভীরে ঢুকতে পারিনি আমরা কখনও। তাই সেই চেষ্টা খানিক করা যায় কিনা ভাবতে ভাবতেই দেখলাম সহদেবদা আসছেন সহজাত ধীর লয়ে।

 

সহদেব দা— সহদেব হেমব্রমকে অগত্যা পাকড়াও করে জিজ্ঞেস করা গেল সাঁওতাল সম্প্রদায়ের সবথেকে উল্লেখযোগ্য পরবগুলোর ব্যাপারে। প্রাথমিক কথাবার্তায় উঠে এল ‘বাহা’র মতো পরিচিত উৎসবের কথা। কিন্তু ফুলের পরব বাহা তো হয় বসন্ত কালে, এদিকে জানুয়ারির মধ্যে ফেলোশিপটাই শেষ করতে হবে! আবারও জিজ্ঞেস করলাম, টাইমলাইন ধরে ধরে, “বছরের কোন সময় কোন উল্লেখযোগ্য পরব আছে আপনাদের?” তাতে যা উঠে এল, বোঝা গেল যে কতটা উদাসীন এই সম্প্রদায় নিজেদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ব্যাপারে! না হলে, যে ‘সহরায় পরব’ আদিবাসী সম্প্রদায়ের সব থেকে বড় উৎসব, তার কথা উঠে আসতে এত সময় লাগে? এবার একটা জায়গায় পৌঁছনো গেল, এটা নিয়েই এগোনো যাক অগত্যা।

 

সহদেবদা’র কথা অনুযায়ী প্রাথমিক কনসেপ্ট নোট লিখে পাঠিয়ে দেওয়ার পর, তা গ্রাহ্য হবে কিনা জানা ছিল না। কিন্তু ততদিনে সহরায়ের নেশা পেয়ে বসেছে আমাকে। এবং তখনই এল পরবর্তী সমস্যাগুলো। সহরায় নিয়ে প্রাথমিক পড়াশোনা করতে সেই ভাষার বা সম্প্রদায়ের বিভিন্ন মানুষজনকে যখন জিজ্ঞেস করছি কিংবা স্থানীয় স্কুল বা কলেজের লাইব্রেরীতে গিয়ে সাঁওতালি বিভাগে খোঁজ-খবর করছি, তখন দেখা গেল যে সকলেই এই পরবের ব্যাপারে জানেন, কিন্তু এর পিছনের ইতিহাস বা চলমান ঐতিহ্যের ব্যাপারে কেউই কিছু বলতে পারছেন না। পরবর্তীতে যখন ফেলোশিপের কাজ শেষ পর্যায়ে, তখন যে দু’-তিনটি কৌলীন্যে উজ্জ্বল কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাঁওতালি বিভাগে গিয়েছিলাম ইন্টারভিউ করতে, সেখানেও দেখেছি বিভাগীয় প্রধানদের কী সামান্য ধারণা এই পরব নিয়ে, যা কিনা তাঁদেরই সব থেকে বড় উৎসব! এমনকি বিভিন্ন বইপত্র ঘেঁটেও খুব বেশি কিছু তথ্যই পাওয়া গেল না। বুঝলাম, কাজ খুব সহজ হতে চলছে না একদমই!

 

এই পরিস্থিতিতে নিজের মতো করে একটা সমাধান সূত্র বের করা গেল। অ্যাকাডেমিকসের উপর নির্ভর না করে, ঠিক করলাম পুরোটাই ‘লাইভ ডকুমেন্টারি’ হিসেবে ট্রিট করা যায় যদি? অর্থাৎ যাদের উৎসব, তাদের মাঝখানে পৌঁছে গিয়ে উৎসবকে জানা বা বোঝা। সহদেবদা আর আকাশকে সঙ্গী করে শুরু হল গ্রামে গ্রামে ঘোরা। শুরু হল এক ভিন্নতর উৎসবকে শুধু নয়, এক ভিন্ন মানসিকতাকেও বুঝতে শুরু করা— যে মানসিকতার মূল সুরটা বাঁধা প্রকৃতির সঙ্গে, আনন্দ-উৎসবে নিজেদেরকে এক করে দিয়ে হয়ে ওঠা একটা মৃদু বহুস্বর। মাদলের দ্রিম দ্রিম, হাড়িয়ার নেশার সঙ্গে মিশে গিয়ে নতুন করে চিনতে শেখা এক অন্য ভারতবর্ষকে, যে ভারত সত্যিই অতুল্য!

 

আদিবাসী সম্প্রদায়ের অন্যান্য উৎসবের মতোই সহরায়ও আদ্যন্ত একটি কৃষি উৎসব। তার সঙ্গে এখানে পুজো করা হয় গৃহপালিত বা চাষের কাজে সাহায্য করে যে পশুরা, তাদেরও। প্রচলিত ধারণায় কার্তিক মাসের অমাবস্যার পরের দিন থেকে থেকে শুরু হয় ‘হাতি লেকান সহরায়’; অর্থাৎ হাতির মতো বড় উৎসব সহরায়। নতুন ফসল ঘরে উঠে এসেছে ঘরে। পরবর্তী কৃষি মরশুম শুরু হওয়ার প্রস্তুতি পর্বের আগেই তাই এই উদযাপন। যদিও এখানেও দেখা মেলে সনাতন গ্রামীন সমাজের তীব্র একাত্মতার। সব গ্রামে একই দিনে শুরু নাও হতে পারে সহরায় পরব। নির্ধারিত সময়ের প্রায় একমাস আগে গ্রামের সকল পুরুষেরা গ্রাম-প্রধান বা ‘মাঝি’র নেতৃত্বে একত্রিত হয়ে ঠিক করেন পরব শুরুর দিনক্ষণ। গ্রামের একটি পরিবারও যাতে উৎসবের আলো থেকে বাদ না পড়ে, তার জন্যই এই ব্যবস্থা।

 

সাঁওতালি ভাষা ও সংস্কৃতির উপর নিরলস ভাবে কাজ করেছেন, সেরকম বেশ কিছু গবেষকের মতে ‘সহরায়’ শব্দের অর্থ হল ‘চুক্তির ভিত্তিতে সমর্পণ’। এই ঘটনার ব্যাখ্যা থেকে আমরা আবার পেয়ে যাই হিন্দুদের অন্যতম বৃহৎ উৎসব কালিপুজো বা দীপাবলির এক ভিন্নতর ভাবনা। এই মতে বলা হয় যে, বহিরাগতরা আদিবাসী সাঁওতালদের পবিত্র ভূমিতে আক্রমণ করলে, সাঁওতালরা এক দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর পরাস্ত করেন বহিরাগতদের এবং উভয়পক্ষই একটা সন্ধিতে আসতে ইচ্ছুক হন। এই সন্ধির জন্য প্রস্তুত করা হয় একটা দীর্ঘ চুক্তিপত্রও। মিলিত সভায় যখন একেকটা চুক্তিতে সহমত হচ্ছে উভয়পক্ষই, তখন জ্বালিয়ে দেওয়া হয় একটি করে মাটির প্রদীপ বা দিয়া। সব অশান্তিকে দূরে রেখে টিমটিম করে জ্বলতে থাকে এইসব দিয়া। এর থেকেই দীপাবলি উৎসবের সূচনা বলে বলা হয়েছে এই মতে। বিভিন্ন সহরায় গীতিতেও পাওয়া যায় এই যুদ্ধের উল্লেখ—

 

আর দিশম সীমারে

এহপ হেনা তুপুৎ তাপাম

হায়রে চাঁদোগাতিঞ তিঞদ রফা রুওয়±ড়েম

বয়েস ইঞাঃ আউরি চালাঃ

মিনাঃ গিতিঞ রিলামালা

হায়রে চাঁদোগাতিঞ তিঞদ রফা রুওয়±ড়েম

 

যুদ্ধ বেঁধেছে দেশের সীমায়

বিনতি চরণে ওগো ঈশ্বর, প্রেমিক আমার যেন অক্ষত ফেরে।

শরীরে এখনও আছে যৌবন,

বঁধুয়ার তরে মন উচাটন

বিনতি চরণে ওগো ঈশ্বর, প্রেমিক আমার যেন অক্ষত ফেরে।

 

কিন্তু যুদ্ধ তো শেষ কথা বলে না কখনোই। তাই ভিন্ন মতবাদে উঠে আসে পারস্পরিক বেধে বেধে থাকার গল্প। ‘সহর’ শব্দের অর্থ সমৃদ্ধি এবং ‘আয়’ শব্দের অর্থ উপার্জন। এই উৎসবে গাভী, বলদ, অন্যান্য গৃহপালিত পশু বা কৃষি জমির উপাসনা যেন তাই একটা হুল্লোড়ে মাখা ‘থ্যাংক ইউ’ নোট। প্রকৃতি পাশে না দাঁড়ালে, এই মানুষগুলোও যে হারিয়ে ফেলত ভরসা বা নির্ভরশীলতার প্রাথমিক সাহচর্যটুকুই।

অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে শহর কলকাতায় হেমন্ত দূরঅস্ত হলেও, পুরুলিয়াতে ভোরের বেলা তো বটেই, সন্ধে পার হলেই শিরশিরানি হাওয়াটা টের পাওয়া যায় বেশ। গ্রামের ভিতরের দিকে আরও একটু বেশি। তারই মধ্যে ঘোরাঘুরি চলছে। চলছে শেখাও। মোটামুটি ভাবে পাঁচ দিনের উৎসব সহরায়। প্রতিটি দিনের বিশেষ তাৎপর্য এবং আলাদা আচার-অনুষ্ঠান। প্রথম দিনের নাম উম মাহা। দ্বিতীয় দিন সারডি মাহা। তৃতীয় দিন খুন্টাও মাহা। চতুর্থ দিন জালে মাহা এবং পঞ্চম তথা শেষ দিন গাদয় মাহা।

 

সহরায়ের প্রথম দিন হল ‘উম’। গ্রামের বাইরের একটি খোলা জায়গায় আয়োজন করা হয় প্রথম দিনের পূজার। স্থানটিকে বলা হয় ‘গট’। গ্রামের পুরুষেরা সকালে স্নান করে শুদ্ধ হয়ে উপস্থিত হন এই গটপূজার স্থানে। এই পূজার মূল কান্ডারি হলেন ‘নাইকে’ বা প্রধান পুরোহিত। নাইকের সহকারী হলেন ‘গোডেট’। বেলায় পুজো শুরু হওয়ার আগে গোডেট গ্রামের প্রতিটি পরিবার থেকে চাল এবং ছোট ছোট মুরগী সংগ্রহ করেন। এই সংগৃহীত উপকরণগুলিকে বলা হয় ‘চুরুচ চাওলে’। এরপর তা থেকে তিনটি মুরগী বেছে নেন পূর্বপুরুষ ও দেবতাদের উদ্দেশ্যে বলি দেওয়ার জন্য। পূজা স্থানে শস্যকণা দিয়ে ছোট ছোট ঘর আঁকেন নাইকে। তার মধ্যে দেওয়া হয় চাল ও সিঁদুরের প্রলেপ। এরপর মুরগীগুলিকে বলি দেওয়া হয় জাহের-এরা, মারাংবুরু, মরেকো-টুরুইকো, গোসাই-এরা পরগণা বঙ্গা প্রমুখ দেবতার উদ্দেশ্যে। প্রার্থনা চলে মাঠ ভরা ফসল, গোলা ভরা শস্যের। প্রার্থনা চলে গ্রামের মানুষদের উপর যেন কোনও বিপদের ছায়া না নেমে আসে, তার জন্যেও। এর জন্য পুজো দেওয়া হয় ‘সিমা সারে বঙ্গা’ বা অপদেবতারও। এরপর সংগৃহীত সেই সকল শস্য আর মাংস এক জায়গায় করে অস্থায়ী উনুনে চাপানো হয় খিচুড়ি। অবসরে চলতে থাকে হাড়িয়া পান। দেশি মদের গন্ধ ওড়া হাওয়ার মধ্যে দাঁড়িয়ে ‘কমিউনিটি কিচেন’-এর এত এত বুলি আওড়ানো শহুরে চোখ দিয়ে তখন দেখছি তার কী সহজ-সরল অথচ কার্যকরী রূপান্তর! ডাক পড়ে খেতে বসার। সহনাগরিকদের সঙ্গে বসে পড়ি খোলা মাঠের উপর পাত পেড়ে।

 

যদিও এই উৎসবের প্রথম দু’দিন মহিলাদের কোনও রকম অংশগ্রহন থাকে না। প্রথম দিন দুপুর পেরিয়ে বিকেল হলে, গ্রামবাসীরা গোয়াল থেকে গরুদের বের করে নিয়ে আসেন মাঠে। মাঠের একটি স্থানে রাখা হয় একটি ডিম বা কিছু ধানের অংশ। এরপর সমস্ত গরুকে একসঙ্গে ছেড়ে দেওয়া হয় সেই দিকে। বাজানো হয় তীব্র সপ্তকে ধামসা-মাদল। তাতে উত্তেজিত হয়ে গোরুগুলি ছুটতে শুরু করে দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে। যে গোরুটি ওই ডিম বা ধানের উপর পা ফেলবে, তাকেই নির্ধারণ করা হয় ‘লক্ষ্মী’ বা পবিত্র গরু হিসেবে। অর্থাৎ তার মাধ্যমেই সুখ-সমৃদ্ধি নেমে আসবে গ্রামে। বিশেষ খাতির পান সেই গোরুর মালিকও। উপঢৌকন হিসেবে সেই মালিক এক ঘড়া হাড়িয়া দিয়ে থাকেন গ্রামবাসীদের উদ্দেশ্যে। সন্ধে হলে সেই সমস্ত গরুদের নিয়ে ফেরা হয় ঘরে। এ রাত জাগবার রাত। তাই গাওয়া হয় ‘জাগরনী গান’। প্রথম দিন ঢলে পড়ে দ্বিতীয় দিনের দিকে।

 

দ্বিতীয় দিন, অর্থাৎ সারডি মাহাতে পিতৃপুরুষদের অর্চনার সঙ্গে সঙ্গে পুজো করা হয় গৃহ দেবতা বা কুল দেবতারও। দূর-দূরান্ত থেকে আত্মীয়স্বজন, অতিথিরা আসতে থাকেন ঘরে। নাচে, গানে, মহুয়া-হাড়িয়ার নেশায় জমে ওঠে মহল্লা। এরপর পুজোর চাল এবং বলি দেওয়া মুরগীর মাথা দিয়ে তৈরি করা হয় একটি বিশেষ উপাদান, যার নাম ‘সোরে’। কেবলমাত্র দেবতাকে ভোগ দেওয়ার জন্যই বানানো হয় এটি।

 

সহরায় পরবের সময় বিয়ে হয়ে যাওয়া পরিবারের মেয়েকে স্বামী-সন্তান সহ বাপের বাড়িতে নিমন্ত্রণ জানানোর প্রথা চিরকালীন। সারা বছর পর বাড়িতে ফিরে ঘরের মেয়ের মনের কথা কান্না হয়ে ধরা পড়ে সহরায় গীতিতে—

দাদা মারাং দাদা

±ডি সেরমা বাদ দাদাম নেওতা কিদিঞ

তোওয়া দারে দয় অকায় না রে

আলু ম±ইয়েম রাগ আসে

আলু ম±ইয়েন হমরা

তওয়াদারে তেলকুপি বারনি ঘাটে সেন আকানা

 

ও দাদা, বড় দাদা

কতদিন পরে এনেছো আমাকে ঘরে।

দুধের বৃক্ষ মা কে কেন দেখছি না?

 

দুধের গাছটি মা, গেছে বৈতরণি,

পার হয়ে দূরে; কেঁদো না, ও বোন সোনা।

 

 

কোনও স্বামী যদি স্ত্রীকে ওইদিন তার বাপের বাড়িতে নিয়ে যেতে না পারেন, তবে যুবতী বধূর দুই চোখে আসে কান্নার বান। অভিমানের ঢেউ তুলে বধূ স্বামীকে বলেন—

বারু বারুপারাম খান গেলবার বারু পারাম খান

মারাং দাদায় নেওতা আকাদিঞ

মিত কুতি জিল ল±গিত মিত চুপত ডাকা ল±গিত

মারাং দাদায় নেওতা আকাদিঞ

 

কত কত পাহাড় পেরিয়ে আমার বড় ভাই

নিমন্ত্রন জানিয়ে গেছে আমাদের

বারোটা পাহাড় পেরিয়ে, নিমন্ত্রন জানিয়ে গেছে, তার বাড়িতে যাওয়ার জন্য!

তার বাড়িতে আয়োজন থাকবে ভাত আর একটুকরো মাংস, সামান্য

 

বাপের বাড়ি যাবার আনন্দে মশগুল বধূর চলার সঙ্গে তাল রাখতে পারে না যুবক স্বামী। স্ত্রী তাড়া দিলে কপট রাগ দেখায় সেও, “কোলে তোমার ছেলে, মাথায় হাড়িয়ার হাড়ি। কেমন করে হাঁটব বলো, এসব নিয়ে তাড়াতাড়ি?”

 

রাতের বেলায় চাল গুঁড়োর মধ্যে মাংসের টুকরো মিশিয়ে শালপাতা চাপা দিয়ে ঝলসে নেওয়া হয় আগুনের তাপে। মাংস-পিঠা তৈরি হতে হতে চলতে থাকে নাচ-গানও। তার সঙ্গে অধীর অপেক্ষা, পরের দিনের খুন্টাও মাহার জন্য।

 

তৃতীয় দিন বা খুন্টাও মাহা সহরায় পরবের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ দিন। ‘গরু খুঁটা’ বা কোথাও কোথাও ‘বাঁদনা’ নামেই হিল্লোল ওঠে মানভূমের বুকের কোণায় কোণায়। নিয়ম-আচার শুরু হয় সকাল থেকেই। গ্রাম প্রধান এবং নাইকের থেকে অনুমতি নিয়ে শুরু হয় পূজা কর্ম। ‘গরু খুঁটা’ আসলে গৃহপালিত গরুগুলোকে এবং ‘কাঁড়া খুঁটা’ চাষের কাজে সাহায্যকারী বলদগুলোকে উত্যক্ত করা। আসলে বর্ষাকালে চাষবাসের পর মাঠে ভর্তি ফসল। তাই দীর্ঘদিন অলস হয়ে বসে থাকা ছাড়া উপায় থাকে না পশুগুলোর। তাই শীতকালীন চাষবাস শুরু হবার আগে গতরে একটু তাগদ ফিরিয়ে আনতেই এই পদ্ধতি।

 

এই দিন গরু বা বলদগুলির শিংয়ে তেল-সিঁদুরের প্রলেপ লাগিয়ে সাজিয়ে দেওয়া হয় ধানের শীষ দিয়ে। গান গাইতে গাইতে ছড়িয়ে দেওয়া হয় গায়ে ধান, নরম ঘাস এবং আতপ চাল। এরপর তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হয় গ্রামের পাশের কোনও মাঠ বা খালি জায়গায়, যেখানে আগে থেকেই মাটির মধ্যে গর্ত করে শক্ত করে পুঁতে রাখা হয়েছে একটি শাল গাছের গুঁড়ি বা খুঁটি। সেই গরু বা বলদটাকে সেই খুঁটির সঙ্গে বাঁধবার পর তাকে উত্যক্ত করা শুরু হয় ধামসা-মাদল-বাঁশি বাজিয়ে। তীব্র রোষে সেই খুঁটির চারপাশে জুড়ে তখন ঘুরতে থাকে প্রাণীটা। আরও বেশী উত্যক্ত করবার জন্য তার মুখের কাছে ধরা হয় মৃত কোনও গরু বা বলদের শুকনো চামড়া। রাগে উন্মাদ হয়ে এবার তার সামনের মানুষটিকে শিং দিয়ে আঘাত করতে ছুটে যায় দড়িতে বাঁধা গরু। নিখুঁত দক্ষতায় তখন তার সামনে থেকে সরে গেলে খেলোয়াড়ের মুন্সীয়ানায় চারপাশ থেকে ওঠে সাবাশির কলরব। মোটামুটি তিনবার চলে এই বিপজ্জনক খেলা বা প্রথা। এরপর দড়িতে বাঁধা প্রাণী ক্লান্ত হয়ে হাল ছেড়ে দিলে তাকে উদ্দেশ্য করে গাওয়া হয় ‘ওহিরে গান’। এই গান আসলে এইসব প্রাণীদের সম্মান জানানোর মন্ত্র, যারা সারা বছর সাহায্য করে চাষ বা ক্ষেতের কাজে।

 

এরপর বেলা বেড়ে চললে এইসব প্রাণীগুলোকে পৌঁছে দেওয়া হয় তাদের গোয়ালে এবং নাচ-গানে মেতে ওঠে ছেলেমেয়েরা। উচ্ছ্বাসের পরিমাণ বেড়ে ওঠে আরও, কারণ এই দিন থেকেই উৎসবে অংশগ্রহণ করতে শুরু করে গ্রামের মেয়েরা। সুঠামদেহী সাঁওতাল যুবকের বাজনার তালে তালে এঁকেবেঁকে ওঠে কালো মেয়ের শরীর। তাদের হাতের মধ্যে থাকে অন্য মেয়ের হাত। এক লয়ে পড়া পায়ের তালে তালে লাল ধুলো ঢেকে ফেলে যেন হেমন্তের মানভূমের আকাশ।

 

এই দিন সকালে আমন্ত্রিত মেয়ে বা বোনের স্বামীকে একটি নতুন কাপড় (সাধারণত ধুতি) উপহার দেওয়া হয় মেয়ের বাড়ির তরফে। সম্মান জানিয়ে তাঁকেই অনুরোধ করা হয় শাল গাছের গুঁড়িটাকে দাঁড় করানোর জন্য গর্ত খোঁড়ার কাজ শুরু করতে। গরু খুঁটা অনুষ্ঠানের পর কোনও কোনও গ্রামে শুরু হয় গ্রামের পুরুষদের ব্যক্তিগত কোনও দক্ষতা দেখানোর খেলা। যেমন খুশি তেমন খেলোর মুক্ত মঞ্চ যেন। গ্রাম প্রধানের ডাকে এগিয়ে এসে হাতে লাঠি তুলে নিলে চাবুকের মতো যুবক, যেন বিদ্যুত চমকে ওঠে তার ঘূর্ণিতে। সন্ধে যত রাত্রির দিকে এগিয়ে চলে, উৎসবের রেশ বাড়তে থাকে ততই।

 

উৎসবের চতুর্থ দিন জালে মাহা। আবহ অনেকটা দুর্গাপূজার নবমীর মতো। গ্রামের পথে যেতে যেতে মনে হল, সকালের রোদের ঔজ্জ্বল্য যেন একটু কম! সাধারণত এই দিন গ্রামের যুবকেরা গ্রামের মধ্যেই নাচ-গান করতে করতে এক ঘর থেকে অন্য ঘরে যায় এবং সংগ্রহ করে নুন, ধান, হাড়িয়া ইত্যাদি। আগেকার দিন হলে, এই সমস্ত উপকরণ তাদের জমা দিতে হত যুগ-মাঝির ঘরে এবং তারপর তাঁর অনুমতিতেই সকলে মিলে মেতে উঠতো গ্রামীণ পিকনিকে। যদিও সেই পরম্পরা এখন ফিকে হতে হতে মিলিয়েই যেতে বসেছে প্রায়। তবে এক্ষেত্রে এক্ষুনি যে ‘যুগ-মাঝি’র কথা বলা হল, তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে উৎসবের পঞ্চম দিন, অর্থাৎ গাদয় মাহাতে।

 

সাঁওতালি সম্প্রদায়ের পরম্পরা অনুযায়ী সহরায় পরবের শেষ তিনদিন গ্রামের ছেলে-মেয়েরা স্বাধীন ভাবে মেলামেশা করতেই পারে। কিন্তু এর মধ্যেও ছেলেমেয়েরা যাতে এমন কিছু করে না বসে, যা সাঁওতাল সমাজের পরম্পরা বিরোধী, সেটা দেখাই হল যুগ-মাঝির কাজ। গ্রামের পাঁচজন প্রধান ব্যক্তির মধ্যে থেকেই নির্বাচিত হন এই যুগ-মাঝি।

 

উৎসবের শেষ দিনে যুগ-মাঝি গ্রামের ছেলেমেয়েদের ফিরিয়ে দেন তাদের পরিবারের কাছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্তি ঘোষণা করেন উৎসবের। খোঁপায় বুনোফুল বাঁধা তরুণী চেয়ে থাকে টাউন থেকে কিনে আনা নতুন লাল শার্ট পরা ছেলের দিকে। অপেক্ষা থাকে পরের বছরের। ছলছল চোখ ঢাকতে ঘরে ঢুকেই দরজা বন্ধ করে দেয় সে। ধীর পায়ে সাইকেল ঘোরায় লাল শার্ট ছেলেও…

 

এসবের থেকে চোখ সরিয়ে নিজেকে যখন উঠে পড়ার সময় হয়েছে ভাবি, তখনই গ্রামের মাঝির ঘর থেকে বেরিয়ে এসে ডাক দেয় সহদেবদা। আকাশের দিকে চেয়ে চোখ চোখে চোখে জিজ্ঞেস করতে চাই, “কী ব্যাপার?” আকাশ বলল, “গিয়েই দেখা যাক!”

 

দিনের আলো ফুরিয়ে এসেছে তখন। গ্রাম প্রধানের বাড়ির মাটির দাওয়ায় বসে বোঝা গেল শিরশিরে হাওয়াটা ভালই বিঁধছে গায়ে। গ্রামের প্রধান বেরিয়ে এসে বললেন, প্রসাদ সেবা করতে হবে একটু। “প্রসাদ বলতে?” সহদেবদা আমতা আমতা করে নিজের সহজাত সারল্য এবং স্থিরতায় বললেন, একটু হাড়িয়া নাকি খেয়ে যেতেই হবে। গ্রামের প্রথা। এতদিন গ্রামে আছি, অথচ এই জিনিসটার কোনও অভিজ্ঞতা নেই। এদিকে শরীরে সারাদিনের ক্লান্তি। সামলাতে পারব কিনা কে জানে! অথচ না করাও যায় না! সংশয়ী মন নিয়েই বললাম,  “দিন; তবে খুবই অল্প করে।” তারপর গ্রাম প্রধানের স্ত্রী স্টিলের গ্লাসে যে সাদা পানীয় ঢেলে এগিয়ে দিলেন, হলফ করে বলতে পারি, আমাদের এই বাংলার প্রান্তিক মানুষের হাতের তৈরি সেই পানীয় বিদেশি যে কোনও পানীয়কে বলে বলে হারাতে পারে বেশ কয়েক গোলে।

 

এক ফালি চাঁদ উঠেছে আকাশে। গ্রামের আল বেয়ে বাইকে বেশ কয়েক কিলোমিটার পথ। ফিরতে ফিরতে মনে হল, এতটাও সম্পৃক্ত হয়ে থাকা যায় প্রকৃতির সঙ্গে? এটা তো শুধু সংস্কৃতি বা ঐতিহ্যই নয়, এটা একটা জাতির টিকে থাকা বা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার প্রশ্ন। মনে পড়ল গ্রামের বৃদ্ধ নাইকের কথা— যেদিন এইসব উৎসব-পরবের রং ফিকে হয়ে যাবে, সেদিন আর সাঁওতাল সমাজ বলে কিছু থাকবে না বাবু। কারণ এইসব উৎসব পরবের মধ্যে দিয়েই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সঞ্চারিত হয় সাঁওতালি সমাজের ভাবধারা, পিলচু হারাম পিলচু বুড়হি এবং সৃষ্টির সম্পূর্ণ অনুষঙ্গটুকু। প্রকৃতির মাঝখানে থাকা এই মানুষগুলো আর বিশেষ কিছুই চায় না তো তেমন, শুধু আর শুধুই দু’মুঠো অন্ন ফলাবার জন্য বৃষ্টি আর সাবেক ঐতিহ্যের পরম্পরার অহংকারের চাদরটুকু গায়ে জড়িয়ে থাকা ছাড়া।

 

এক ফালি চাঁদের আলোতেই অন্যরকম লাগছে মাটির বাড়ির দেয়ালে দেয়ালে আঁকা অদ্ভুত সব দেয়ালচিত্র। হেডলাইটের আলো পিছলে যেতেই আবার মলিন চাঁদের আলোয় ফিরে আসছে সেই মোহ। মূলত বাড়ির মহিলারাই এই অপূর্ব দেয়ালচিত্রগুলো এঁকে থাকেন কোনোরকম তথাকথিত প্রশিক্ষণ ছাড়াই। বিন্দুমাত্র কৃত্রিম রংও ব্যবহার হয় না এই ছবিগুলোতে। সে সামর্থ্যই বা কোথায়! তাই রং খুঁজে নিতে হয় প্রকৃতির মধ্যে থেকেই। তবে উৎসবের মরশুমে শুধুমাত্র ঘরবাড়ি সুন্দর দেখানোই যে এর উদ্দেশ্য, তা কিন্তু একদমই নয়। বরং এর অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হল, গত বর্ষায় ঘরবাড়ির যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল তা মেরামত করা এবং আগামী বর্ষার ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা নিজেদের মাথাগোঁজার এটুকু আবাস।

 

একটু থামতে ইচ্ছা হয়। বাইক থামিয়ে সিগারেট খেতে দাঁড়াই। নিজের মনেই সহদেবদা বলে চলে একটা স্বাভাবিক মনখারাপের কথা। এই সব ছবির কিছুই হয়তো আর থাকবে না এই সব উৎসব অনুষ্ঠানগুলোকে সর্বগ্রাসী আধুনিক সংস্কৃতি গিলে ফেললে। থাকবে না লাগড়ে, দং, পাতা বা বাহার মতো আরও নানা রকম প্রকৃতির কোলে বেঁচে থাকা সেরেঞ বা গান অথবা হাতে হাত ধরে ঢেউয়ের মতো বয়ে চলা নাচ। শুনতে শুনতে জোনাকিরাও যপন স্থির হয়ে যায় খানিক। পরব শেষের ক্লান্তির মতো উচ্ছ্বলতা কমে আসে ঝিঁঝিঁপোকাদেরও।

 

ফিরতে ফিরতে দেখি, মাথার উপর কার্তিকের চাঁদ উঠেছে পুরুলিয়ার দূষণহীন পরিষ্কার আকাশে। সহদেবদা এগিয়ে গেছে সামনে। দু’পাশে নেমে গেছে এবড়োখেবড়ো জমি। দূরান্তের নক্ষত্রে মিশে যাচ্ছে কেঁপে কেঁপে ওঠা সলুদ সর্ষের ফুল। এসব যেন পৃথিবীর দূরাগত কোনও রহস্য। আমাদের, সাধারণের নাগালের বাইরের হয়তো এসব বিস্ময় মহাজাগতিক। তাদের কিছুটা হয়তো জানতে পেরেছিল ধূসর পান্ডুলিপি। আর কিছুটা কি, জীবনানন্দ দাশ?

 

তাদের মাটির গল্পতাদের মাঠের গল্প সব শেষ হলে

অনেক তবুও থাকে বাকি

তুমি জানএ- পৃথিবী আজ জানে তা কি!

শুভদীপ চক্রবর্তী
+ posts

পড়াশোনা ও বড় হয়ে ওঠা মফস্বল শহর বাটানগরে। নঙ্গী হাই স্কুল সাক্ষী এইসব দিনের। পরবর্তীতে বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট হাইস্কুলে। অর্থনীতি নিয়ে দীনবন্ধু অ্যান্ড্রুজ কলেজে পড়ার পর জনসংযোগ ও সাংবাদিকতা নিয়ে পড়াশোনা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। কর্মসূত্রে ঘোরাঘুরি গ্রাম বাংলার নানান প্রান্তে। বিশেষ করে পুরুলিয়ায়। পরে কিছুদিন জনসংযোগের কাজ; কিছুদিন সাংবাদিকতা।

প্রথম কবিতার বই 'ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাওয়া সব ঢেউগুলো' ২০১৮ সালে প্রকাশিত হয় সপ্তর্ষি প্রকাশন থেকে। পরের বছর 'নিবিড়' থেকে ব্যক্তিগত গদ্য সংকলন 'যতটুকু দৃশ্যে ছিল'। শখ বলতে খেলা দেখা, সিনেমা দেখা, কাছে বা দূরে যেখানেই হোক ঘুরে বেড়ানো। বিকেল বেলা স্টিমারে চেপে গঙ্গা পারাপার। আলমারিতে বই গোছানো নিয়ে খিটখিটে আজীবন। না-পারার তালিকা লম্বা ভীষণ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *