বাবার ইয়াশিকা ক্যামেরা । পর্ব ৩ । একটা উপন্যাসের শুরু । লিখছেন কল্লোল লাহিড়ী

“দ্যাখ যেন মনে হচ্ছে এটা একটা উপন্যাসের শুরু”। জয়াদির হাতে একটা সাদা কালো পোষ্টকার্ড ছবি। আমার দিকেই বাড়ানো। “আমিও কি নেই ছবিটার মধ্যে? নিশ্চই আছি। কোথাও না কোথাও। দ্যাখ…”।  ঊনিশশো বাহাত্তরের শীতের এক সকাল। নেগেটিভের খামের ওপরে বাবার হাতে লেখা লাল কালিতে। নেগেটিভ গুলো নতুন করে প্রিন্ট করিয়েছি আমি। মানে যতগুলো করা যায়। তারমধ্যে এই ছবিটাও আছে। স্বপ্রশ্নে তাকাই। আমাদের বালীর বাসায় সেই সময় তুমি কী করে থাকবে জয়াদি? তখন তো তোমাকে ওরা বহরমপুর জেল থেকে প্রেসিডেন্সি জেলে নিয়ে গেছে। ততদিনে ‘তিমির বিদায়’ জানিয়ে দিয়েছে প্রশাসন। বহরমপুর জেলে তরুণ রাজনৈতিক বন্দী তিমির, গোরাদের হত্যা বারুদের গন্ধের মতো আকাশে বাতাসে ছড়িয়ে পড়েছে। আর বরানগরের গঙ্গার ঘাট তার অলি গলি রাস্তা কালো পিচ আর ব্লিচিং পাওডারে ঢেকে ফেলা হয়েছে। যাতে ছেলে মেয়ে গুলোর তাজা রক্তের গন্ধে ঘুর ঘুর না করে রাস্তার নেড়ি কুকুর। চিল শকুন উৎপাত না বাড়ায়। নৌকার মতো ভাসতে ভাসতে কত ছেলে আর মেয়ে যে হারিয়ে গেছে ওই গঙ্গার জলে কোথাও তো তার কোন পরিসংখ্যান নেই। ব্যাখ্যা নেই। দলিল, নথি, ইতিহাস কিচ্ছু না। ঊনিশশো বাহাত্তর তো একটা সংখ্যা নয়। তার মধ্যে পোরা আছে বারুদের মতো স্মৃতির জঠর। আমার হাত থেকে ছবিটা আবার নিয়ে নেয় জয়াদি। খুব শান্ত ভাবে বলে “তাহলে দেখছিস তো একটা ছবি শুধু আর আমাদের কাছে ছবি হয়ে থাকছে না। একটা সাল। একটা সময়। কতগুলো মানুষের বেঁচে থাকা না থাকার প্রশ্ন। কিছু মানুষের স্বপ্ন দেখার উন্মুখ লড়াই সব কিছু নিয়ে কেমন যেন আমাদের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে”। আর তুমি? তুমি এখানে কোথায়? খুব মিষ্টি হেসে জয়াদি বলেছিল “কেন সময়ের গল্প হয়ে। একটা অন্ধকার সেলের মধ্যে থেকে। আলো না ঢোকা এক পাঁচিলকে টপকে আমি তো তখন তোদের ওই বাড়িটায়। ছোট্ট বারান্দায় অপেক্ষা করছি কবে তারও অনেক আলোকবর্ষ পরে তোর সাথে আমার বন্ধুত্ত্ব হবে। হতে পারে নাকি সেটা? থাকতে পারি না কি আমি? ওই তো তোর মায়ের পাশেই বসে আছি। হয়তো একটু দূরে। দূর থেকে দেখছি আমি। আমাদেরকে কিম্বা আমাকে!” জয়াদি ছবি ‘দেখা’র একটা অন্য জানলা খুলে দিয়েছিল সেদিন আমার কাছে। যে জানলা দিয়ে হাওয়া বাতাস এলে গল্পের শাখা প্রশাখা তড়বড় করে মেলে ওঠে। দেখার অনুশীলন গুলো তখন আর এক তরফা হয় না। ধেয়ে আসে অনেক দিক দিয়ে। অনেকরকম ভাবে।

আমাদের একশো কুড়ি গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোডের বাড়ির ছোট্ট বারান্দায় একটা লম্বা বেঞ্চির ওপর বসে আছে মা, বড় মনি, ঠাম্মার কোলে দাদা আর হাঁদা। মাত্র কয়েকমাস বয়েস তো তখন দাদার। শীতের রোদ এসে পড়েছে ওদের ওপর। সবাইকে খুশি খুশি লাগছে। পেছনে যে চাদরটা টাঙানো হয়েছে তার থেকে বেরোচ্ছে অনেক দিন পাট করে আলমারিতে তুলে রাখা ন্যাপথলিনের গন্ধ। বাবা কি সেদিন একটু তাড়াতাড়ি বাড়ি চলে এসেছিল স্কুল থেকে? নাকি বাড়ি ফিরেই ছবিটা তুলেছিল? অথবা সেদিন ছিল হয়তো ছুটির দিন। উনুনে বসানো ছিল চায়ের কেটলি। সবাই ঘুরে ঘুরে একটু একটু করে চা খাচ্ছিল যে যার ইচ্ছে মতো। তাড়া ছিল না কারোরই। তখনও তো আমি নেই। তারও তিন বছর পর এই বাড়ির ওই বারান্দায়, চেয়ারে, রোদ্দুরে আমার দখল থাকবে। কিন্তু জয়াদির মতো সত্যিই কি নেই আমি তখনও? নিশ্চই আছি। আমার সেই না থাকার গল্প গুলোও যেন হাওয়ায় ঘুরছে সেখানে। ওই রোদটাকে কি আমি দেখিনি কোনদিন? চিনি না বলছো? হাতের ওপর রাখলে দিব্যি তার থেকে শীত শীত গন্ধ বেরোয়। যেমন বেরোয় চৈত্র আর গ্রীষ্মের রোদেও। পাঁচিল থেকে হেলে পড়ে উঠোন আর বারান্দার ঠিক কোনদিকটা কখন সে পড়বে তার একটা হিসেব নিকেষ ছিল। সেইসব জানতো বাড়ির মিনি। আর মোটাসোটা হুলোটাও। কেমন  নাক শুকে শুকে ওরা রোদ্দুরে গিয়ে কুন্ডুলি পাকিয়ে শুতো। উনুনের আঁচে বসানো ভুস ভুস করে ধোঁওয়া ওঠা চায়ের কেটলির জল একটু চা পাতার ওপর ঢাললে লিকার চায়ে কাপ ভর্তি হয়ে যেত। বড় মনি পেছনে পেছনে ঘুরতো “ওরে অতো চা খেলে ক্ষিদে মরে যাবে যে। এরা ছোট থেকেই বাবার মতো মাষ্টার হয়ে গ্যাছে।” বড় মণির দাঁত একটু উঁচু ছিল বলে কথা গুলো কিছুটা লোকে শুনতে পেত আর অনেকটা হারিয়ে যেত হাওয়ার সাথে। দাদা থামের আড়াল থেকে বড়মণিকে ভ্যাঙা্তো আদর করে। তাই দেখে মা চোখ বড় বড় করতো। “এই শিক্ষা হচ্ছে তোমাদের? গুরুজন বলে কথা”। সন্ধ্যে নামলেই ঝুপ করে কারেন্ট অফ হয়ে যেত তখন খুব। পড়ার আর কোন তাড়া থাকতো না। মাসের শেষ। কেরোসিন ‘নেই’ বলা যাবে না। বলতে হবে ‘বাড়ন্ত’। নেই নেই করলে গেরস্থের অকল্যাণ হয়। মা লক্ষ্মী রুষ্ট হন। কাজেই বাড়ির সবচেয়ে যার দরকার তার কাছেই থাকবে একটি মাত্র হ্যারিকেন। আর রান্নাঘরে জ্বলবে লম্ফ। এছাড়া পুরোটাই তো ‘ব্ল্যাক আউট’।

ব্ল্যাক আউট? সেটা আবার কী? আমার প্রশ্নে দাদা বিরক্ত। “ইশ…। ভাইটা কিচ্ছু জানে না মনি। যুদ্ধের সময় কেমন ব্ল্যাক আউট করে দিতো তার গল্প শুনিসনি। সেদিন হাঁদা বলছিল না? বাল্ব গুলোকে পর্যন্ত কালো রঙ করে দিতে হতো। জানলা দরজা দিয়ে একটু আলো বেরোলেই হয়েছে আর কি। বুম। বোমা পড়বে”। দাদা চোখ গোল গোল করে এমন করে বুম আওয়াজ করতো ছোট্ট মিনিটাও ঘুমের মধ্যে আড়মোড়া ভেঙে মুখ তুলে তাকাতো। মনির হাতে তালপাখার হাওয়ার কোন বিরাম থাকতো না। ফিসফিস করে কথা বলতে বলতে একটা সময় দাদা হাঁপিয়ে গেলে মনির গলা জড়িয়ে ধরে বায়না শুরু করতো। “একটা গল্প বলো না মনি”। উঠোনের চৌকো খোলা ছাদ থেকে চাঁদের আলো এসে পড়তো বারান্দায়। তার কিছুটা টুকরো ঘরের মেঝেতে। যেখানে আমরা মাটিতে শতরঞ্চি পেতে শুয়ে আছি। ঠিক সেখানে। মাঝখানে মনি। দুপাশে আমরা দুজন। রান্নাঘর থেকে হিঙ দেওয়া তরকারির গন্ধ ভেসে আসছে। পাশের ঘরে বাবার ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ানোর আওয়াজ। তারই মাঝে মনি কবেকার কোন দূরের দেশের একটা উঠোনের কথা বলতো। জ্যোৎস্নায় ভিজে যাওয়া একটা উঠোন। উঠোনের মাঝখানে একটা তুলসী মঞ্চ। সেখানে টিম টিম করে জ্বলছে সন্ধ্যা প্রদীপ। দূরে ওপারের গ্রামের আজানের ডাক মিশে যাচ্ছে এপাড়ের হিন্দু বাড়ির শাঁখের আওয়াজে। কাঁচা মিঠে আমগাছটায় হাওয়া লেগে সড়সড় করে আওয়াজ হচ্ছে। বুড়ো তক্ষকটা কোথাও লুকিয়ে ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে ডেকে উঠছে গ্যাঁককো…গ্যাঁককো। আমার ভয় লাগে সরে আসি মনির কাছে। মুখ লুকোই আঁচলে। রান্নাঘরের হলুদ বাটার গন্ধ ভেসে আসে কতদিন না দেখা মনির গা থেকে। তারপরের দিন সকালে দাদা এঁকে ফেলে একটা বাড়ি। তার উঠোন। তুলসীমঞ্চ। পুকুরপাড়ে কাঁচা মিঠে আমগাছ। এমনকি বুড়ো তক্ষকটাও। মেজমণির বাড়ি শিবহাটিতে তাকে যে আমরা দেখেছি। ভাত খাওয়ার জন্য ঘুরঘুর করতো উঠোনে। মনি বিশ্বাস করতো দেশ থেকে চলে আসার সময় সেও নাকি চলে এসেছে ওদের সাথে পেছনে পেছনে। তাহলে হরিমতি এলো না কেন? তার ছোট্ট কাজল পরা বাছুরটা? বালীর বাসায় থাকলে কম দুধ খেতাম আমরা? তখন মামার বাড়িতে দিদার কাছে যাওয়ার বায়নাও কমে যেত। হরিনঘাটার দুধ আনতে গেলে মাধব কাকুও মাসের শেষে বলতো না “ধার বেড়ে যাচ্ছে বাবাকে গিয়ে বোলো”। প্রত্যেকদিন বাড়ি এসে বলতাম আমি আর কক্ষোনো যাবো না দুধ আনতে। মনি আবার আমাদের ঠেলে ঠুলে পাঠাতো। তার সেই কবেকার দেশ ছাড়ার গল্প শোনাতো। কারেন্ট অফের রাতে ঘেমে নেয়ে ঘুমিয়ে পড়তাম আমি আর দাদা। কলকাতা ক’তে সংবাদ পরিক্রমা শুনতে শুনতে লোড শেডিং এর রাতে গোটা পরিবার রুটি খেত। রেডিওর ভেতর থেকে ভেসে আসা গলাটায় কোন সুদূর এক দেশের ঘুম না ভাঙা স্বপ্ন থাকতো। তারমধ্যেই রুটি ছিড়ে ছিড়ে মা মুখে পুরে দিতো। আমার মাথার ওপর ঘন হয়ে থাকতো মনির গল্পের সেই না দেখা একটা গোটা ফলসা গাছ।

যদিও আমার বা দাদার জামা খুলে কেউ কোনদিন কাঁটা তারের দাগ দেখতে চায়নি। বাবার দেখতে চেয়েছিল কিনা কেউ জানতে পারিনি। তবে রেওয়াজ ছিল। হাসি ঠাট্টা ইয়ার্কি তামশায় বেরিয়ে আসতো তা প্রকট হয়ে। এমনকি এখনও। এতোদিন পরেও অনেককে সেই নির্মম করুণ ঠাট্টাটা করতে দেখি। “এতো বড় বড় কথা বলছিস কোন মুখে? জামা খুললে তো পিঠে কাঁটা তারের দাগ দেখা যাবে”। সেই কথায় আশে পাশের লোকের হাসি আর উল্লাস দেখলে বোঝাই যাবে না তারা কার ওপরে হাসছে? সামনে যে চুপটি করে মাথা নীচু করে দাঁড়িয়ে আছে ছেলেটির ওপরে? নাকি নিজেদের দেশের নেতা মন্ত্রী সান্ত্রী স্বাধীনতার সময় যারা দেশটাকে দু টুকরো করলো তাদের ওপরে। দাদা বা আমি যখন জন্মাচ্ছি তখন তো পাকিস্তান আর ভারতের স্বাধীনতা তরুণ। বছর চব্বিশ পঁচিশ বয়েস। আর বাংলাদেশ সবে জন্মেছে। তারমধ্যেই এই গোটা ভূখন্ড কতবার যুদ্ধে দেখেছে। যুদ্ধ করেছে। একে অপরের পিঠে ছুরি মেরেছে। নিজেরাই নিঃস্ব হয়েছে নিজেদের আক্রান্ত করে। ফলে এক দেশ থেকে আর এক দেশে আসা উদ্বাস্তু মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। বেড়েছে নানান সমস্যা। খাদ্য সংকট। জায়গার অভাব। তারমধ্যেও বাংলার বাঙাল আর ঘটি নিজেদের অস্তিত্ত্ব টিকিয়ে রেখেছে নিজেদের মতো করে। সেটা খেলার মাঠে ইষ্টবেঙ্গল মোহনবাগান হোক। কি পাতে ইলিশ চিংড়িতে। তবুও তারা পাশাপাশি সহাবস্থান করেছে। খুব অল্প দিনেই একে অপরকে পরিগ্রহণ করেছে খুব সহজেই।

খেলার কথা বলতে গিয়ে মনে পড়লো আরও একটা ঝিরঝিরে বৃষ্টি পড়া বিকেলের গল্প। ময়দানে ইষ্টবেঙ্গল মোহনবাগানের খেলা থাকলেই হাঁদা দুপুরে চায়ের দোকান একটু আগে খুলতো। উনুনে কয়লা দেওয়াই থাকতো। সকালের সেই আঁচ একটু উসকে দিয়েই চায়ের কেটলি বসিয়ে দিত। রেডিওতে তখনও চলছে দুপুরের সঙ্গীতের আসর। অমুক তমুক। অন্যান্য দিনের থেকে তার আওয়াজটা একটূ বাড়ানো। পাড়ার লোকজন অল্প অল্প করে দুপুরের ঘুম থেকে উঠে আলমোড়া ভেঙে জামাটা গলিয়ে উঠে আসছে চায়ের দোকানে। প্রথম রাউন্ডের চা শেষ হতেই খেলা শুরু। ততক্ষণে দোকানের সামনে বেশ ভিড়। পথ চলতি মানুষজনও দাঁড়িয়ে পড়েছে। শুধু কালো কালো ছাতার সারি। কমেন্ট্রির সাথে যারা ঠায় দাঁড়িয়ে শুনছে তারাও ভয়ঙ্কর উত্তেজিত। যেন পারলে এক্ষুনি গিয়ে সেই খেলোয়াড়ের কিম্বা রেফারির বাপ মাকে পর্যন্ত খুন করে আসে। এতোটা পর্যন্ত তো ব্যাপারটা ঠিক ছিল। কিন্তু প্রত্যেক খেলার একটা হারজিত থাকে। সেই সূত্র মেনেই কখনও হারতে হতো ইষ্টবেঙ্গলকে। আবার কখনও মোহনবাগানকে। এরপরে ঠিক আর ওখানে দাঁড়ানো যেত না। দাদা বলতো ‘মিনি কুরুক্ষেত্র’। তার রেশ থেকে যেত পরের দিনের খবরের কাগজে। এমনকি আরও পাঁচ সাত দিন পাড়ার মোড়ে, রাসবাড়ির ঘাটে, আমতলার পুজো মন্ডপে। যদিও আমি একটুও খেলায় আগ্রহী ছিলাম না কোন দিনই। আমার বন্ধুরা যেভাবে খবর কাগজ আসলেই তার পেছনের খেলার পাতায় ঝাঁপিয়ে পড়তো আমি ভুলেও দেখতাম না সেগুলো। আমাকে বেশি টানতো সিনেমার পাতা। বেশি টানতো মতি নন্দীর স্ট্রাইকার, কোনি, শিবার ফিরে আসা। কিন্তু সেতো আরও একটু  বড় হয়ে যাওয়ার পর। মাঠে বল কুড়োনো একটা ছেলের ওপর মোহনবাগান জিতলে বা ইষ্টবেঙ্গল হারলে যে ঢেউ এসে পড়তো সেটা মোটেই সুখকর ছিল না কোন সময়েই। যদিও এই খেলার বিন্দু বিসর্গ আমার ভালো লাগতো না। শুধু মনে পড়তো বিকেলের রাস্তা গুলো শুনশান। হাঁদার দোকান থেকে ভেসে আসছে রেডিওর কমেন্ট্রি। মাঠের উল্লাস। জড়ো হয়ে আছে কালো কালো ছাতার মাথা। ঝিরঝিরে বৃষ্টি পড়ছে আমাদের বালীর বাড়ির চারপাশে। উলটো দিকে তাড়িনী বাবুর চপের দোকানে কাঁচা সর্ষের তেল উনুনে বসানোর গন্ধ।  ওই তো মহাদেব জুটমিলে বিকেলের ভোঁ পড়লো। মা মুছে রাখলো হ্যারিকেনের কাঁচ গুলো যত্ন করে।

আমি কুর্পাস ক্যাম্প দেখিনি। মরিচঝাঁপি না। দন্ডকারণ্যের ভয়াবহতাও না। এইসব কিছুর থেকে আমরা ছিলাম নিরাপদ নিশ্চিন্দিপুরের দূরত্ত্বে। তবুও যে মানুষ গুলো আমাদের চারপাশে ঘিরে ছিল তারা বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছিল উৎপাটনের ঘা। লুকিয়ে রাখলেও মাঝে মাঝে তা বেরিয়ে পড়তো। আর সেগুলো তৎক্ষনাত ঢাকা পড়ে যেত হরেক স্মৃতির মেলায়। মজার গল্পে। কাসুন্দি রোদে রেখে। কিম্বা তরুণ অপেরার আমি সুভাষ বলছি যাত্রা দেখতে দেখতে কেঁদে ভাসিয়ে দিয়ে। এরও অনেক পরে কার্যসূত্রে প্রথম বাংলাদেশ যাওয়ার সুযোগ হল। প্লেনের জানলা দিয়ে যখন প্রথম ঢাকা শহরটা দেখতে পেলাম তখন বন্ধু সহকর্মী দেবালয়কে জিজ্ঞেস করেছিলাম কতদিন পরে দেশে ফিরছিস? আমরা দুজনেই হিসেব করে দেখেছিলাম প্রায় সত্তর বছর অতিক্রম করে। ইমিগ্রেশান ফর্মটা দেওয়ার পর অফিসার আমার দিকে তাকিয়ে ছিলেন। সেটা হয়তো প্রথাবদ্ধ নিয়ম। কিন্তু উনি তাকিয়েই যে প্রশ্নটা আমাকে করলেন তারজন্য একটুও তৈরী ছিলাম না। “আপনি বাপ্পি লাহিড়ীর কেউ হন?” হাসি পেয়েছিল বেমক্কা। সামলে নিয়ে বলেছিলাম। না। লেট রবীন্দ্রনাথ লাহিড়ীর ছেলে হই। উনি দুটো নদী পার করে এই দেশে আসতেন তাঁর মায়ের সাথে দেখা করতে”। অফিসার কি বুঝেছিলেন জানি না। শুনেছিলেন কিনা তাও বুঝতে পারিনি। পাসপোর্ট ভিসার ওপর স্ট্যাম্প পড়েছিল। আমরা ইমিগ্রেশান ক্রস করেছিলাম। মনে মনে আনন্দ হয়েছিল খুব। একটা গোটা ফর্ম যেটা পেয়েছিলাম সেটা সবটা বাংলায় লেখা। আর এই প্রথম আমি কোন ফর্ম পুরোটা বাংলায় লিখে নিজে বাংলায় সই করেছিলাম। অনেক রাতে কবি পারভেজ চৌধুরী আমাকে নিয়ে গিয়েছিলেন শাহবাগে। নতুন করে তখন বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর একটা প্রস্তুতি চলছিল সেই সময়ে। রাজাকারদের ফাঁসির দাবীতে লড়ছিল গোটা প্রজন্ম। শহীদ জননীর পোষ্টারটা ওই অতো রাতেও মশালের আগুনে জ্বলজ্বল করছিল। মেখলা-দেবালয়ের ঠাম্মী তখন মৃত্যু শয্যায়। বাড়ির লোক চেয়ে ছিলেন দেশের মাটি। দেবালয় নিয়ে এসেছিল। মাথায় ছোঁওয়ানো হয়েছিল তাঁর। কয়েকদিন পরেই মারা যান তিনি। কিন্তু সবার ভাগ্যে দেশের মাটি জোটেনি। এক দেশ থেকে উৎপাটিত হয়ে অন্য দেশে তাদের মরতে হয়েছিল। অবহেলায়, অনাদরে, উদ্বৃত্ত হয়ে। খুব কম মানুষের কপালে সুখ জুটেছিল। তাহলে সেইসব সুখ না জোটা মানুষদের কথাই কি আমি লিখতে বসলাম পড়ন্ত বেলায়? খুলে দেখতে চাইলাম ইয়াশিকার পাশে রাখা ঘুমন্ত এ্যালবাম গুলোকে। তাদের জাগিয়ে ঠেলে তুলে বার করে আনলাম যারা আমাদের স্নেহ দিয়ে বড়ো করে তুললো। গল্প বলতে বলতে খাইয়ে দিল। খাবার মাঝে বিষম খেলে ষাট ষাট করে পিঠে হাত বুলিয়ে দিল। মাথায় ফুঁ দিল। জ্বরের সময় রাতের পর রাত জেগে বসে থাকলো জলপট্টি হাতে নিয়ে। তারপর আস্তে আস্তে যারা ছায়া ছায়া হয়ে সরে গেল একদিন। কেউ মনে রাখলো না তাদের। বেমালুম ভুলে গেলাম সব।

প্রথমবার বাংলাদেশ যাওয়ার পরে আমাদের যাঁরা সেখানে নিমন্ত্রণ করেছিলেন তাঁরা জানতে চেয়েছিলেন কার কার সাথে দেখা করতে চাই? অনেকের যেমন আত্মীয় থাকে আমার কোন আত্মীয় ছিল না সেই দেশে। কয়েকজন ফেসবুকের বন্ধু দেখা করতে এসেছিলেন গেস্ট হাউজে। খুব প্রিয় একজন কবি তার কয়েক বছর আগেই মারা গিয়েছিলেন। ‘একুশে ফেব্রুয়ারির অলৌকিক’ প্রভাতে তাঁর সাথে আমার দেখা হয়নি আর। যদিও ইচ্ছে ছিল সেই যখন মাধ্যমিক পড়ছি তখন থেকেই। নেই সেই চিলে কোঠার সেপাইটিও। কিন্তু বছর দুয়েক আগেই শেষ করেছি একটা মারাত্মক উপন্যাস। যে আখ্যান অন্যান্য গুলোর মতোই আমাকে সুস্থির থাকতে দেয়নি। সেই ‘গায়ত্রী সন্ধ্যা’র লেখকের সাথে আমাকে পরিচয় করিয়ে দেবেন পারভেজ ভাই? আমি তাঁকে একবার দেখতে চাই। পারভেজ ভাই বলেছিলেন “সেলিনা আপা? দাঁড়ান ফোন করি”। পারভেজ ভাইয়ের কাছে ছিল এইসব কয়েক সেকেন্ডের ব্যাপার। ঢাকায় সেলিনা আপার বাড়িতে যখন দেখা করতে গিয়েছি তিনি বলেছেন “এই যেমন তুমি আমার সাথে ইন্ডিয়া থেকে দেখা করতে এসেছো কল্লোল ঠিক তেমনি একদিন এই বাড়ির সামনের গলি দিয়ে যাওয়ার সময় একজন কেউ একটা বলে গেল ‘গায়ত্রী সন্ধ্যা’র জন্য আপনার হাজার বছয় আয়ু হোক আপা”। কোন একজন লেখকের এর চেয়ে বড় পুরষ্কার আর কি হতে পারে? আমার চোখের সামনে তখন ভাসছে উত্তাল মহানন্দা। সেই নদীতে প্রচন্ড ঢেউয়ের তরঙ্গে ছোট্ট নৌকায় পুষ্পিতা, আলি আহমেদ, কালো খালা, প্রদীপ্ত, মফিজুল, নসুরুল্লাহ, হাসনা বেগমের সাথে পাঠকও যেন দেশ ছাড়ছে। যেমন করে মানুষগুলো ভয়ে সিঁধিয়ে আছে। যেমন করে তাদের গ্রাম থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে, যেমন করে কালো খালার সামনে মারা হয়েছে তার ছেলে, মেয়ে, স্বামীকে। তেমন করে বর্ষার সেই মহানন্দায় ঝাঁপিয়ে যুঝিয়ে চলেছে নৌকাটা। কোনো রকমে সীমানা পার করে দেবে। তারপর স্টেশন। তারপর রাজশাহি। আখ্যানের কেন্দ্রবিন্দুতে পুষ্পিতা, আলী আহমেদ আর তাদের ছোট্ট ছেলে প্রদীপ্ত। এতোক্ষণে ছোট্ট ছেলেটি বুঝে গেছে তাদের দেশ স্বাধীন হলেও এখন তারা ভয়ে। এখন তারা বিপদে। তার মা রাতের আঁধারে ভিড়ে ঠাসা ট্রেনের মধ্যে জন্ম দিয়েছে তার ভাই প্রতীককে। ঠিক আগে তারা যেমনটা ছিলো, আর তেমনটা থাকতে পারবে না। কে যেন চিৎকার করে বলছে এ আজাদি ঝুঠা হ্যায়।

রাত নামে,  বই পড়া শেষ হয় না। বড়মাকে একটা ফোন করি। আজকাল শরীরটা সব সময় ভালো থাকে না তার। মনেও থাকে না বুড়ির অনেক কিছু। একটু জোরে জোরেই বলি কথা গুলো। একটা গল্পের বই পড়ছি। তোমার কথা একজন লিখেছে। আমি যেন স্পষ্ট দেখতে পাই চোখ বড় বড় হয়ে যায় বড়মার। ধরা কফ গলায় জানতে চায় “কি কথা?” আমি প্রবল উৎসাহে বলতে থাকি সেই যে রাতের আঁধারে তুমি, ঠাম্মা, মণি পার করেছিলে সীমান্ত। সেই যে যারা বলেছিলো গ্রাম ছেড়ে দিতে। সকালে মোজাম্মেল কাকা এসে যখন কাঁদলো। বললো আমরা থাকতে ভয় কি মা? ঠাম্মা যখন বলেছিলো কেন এমন চোরের মতো পালাবো? তোমার কোলে দাদা যখন বারো ঘন্টা দুধ পায়নি।“লিখেছে? এইসব লিখেছে?” সওওব…তোমার কথা…ঠাম্মার কথা…মণির কথা। আরো তোমাদের মতো অনেকের কথা। দুই বাংলার মানুষের কথা। যারা দেশভাগের জন্য ভিটে মাটি হারিয়েছিলে। যাদের জীবনটা কোনোদিনই আর তেমনভাবে ঠিক হলো না। ছানি পড়া চোখের ওপর জেগে রইলো ফলসার গাছ। কাঁচামিঠের বাগান। গোয়ালভরা গাই।ফোনটা কেটে যায়। বড়মার মুখটা স্পষ্ট যেন দেখতে পাই। চোখ ভরা জল কি তার? আর এদিকে ‘গায়ত্রী সন্ধ্যা’য় আলী আহমেদ পুষ্পিতাকে নিয়ে আসে রাজশাহী। সেখানে কলেজে তিনি অধ্যাপনা করবেন। আর তাদের ঘিরে আমরা অতিক্রম করবো সাতচল্লিশের দেশ ভাগ। তেভাগা। বাহান্ননোর ভাষা আন্দোলন। যুক্ত ফ্রন্টের নির্বাচন। ঘুম ভেঙে যায় ফিসফিস শব্দে। কারা যেন কথা বলছে। কালো খালার একমাত্র ছেলে ফজলে গাজী যে বেঁচে ছিলো দেশ স্বাধীনের পরেও। যাকে একমাত্র অবলম্বন করে বেঁচে ছিলেন কালো খালা,  তাকে পাওয়া গেছে ফনি মনসার ঝোপে। গুলি এফোঁড়-ওফোঁড় করে দিয়েছে তার বুক। খুব তাড়াতাড়ি তাকে তুলে আনতে হবে ঝোপ থেকে। কলাপাতায় মুড়ে, কাউকে না দেখিয়ে, স্নান করিয়ে, কফন পড়িয়ে মোনাজত করতে হবে। তেভাগার শহিদ যদি টের পায় পুলিশ, তাহলে বাড়ির মেয়েদের পর্যন্ত ছাড়বে না।

ছাড়েনি নসরুল্লাহ-হাসনা বেগমের বাড়ি। গুন্ডারা যখন পোড়াচ্ছে। জ্বালিয়ে দিচ্ছে সব কিছু কালো খালা তখন জ্বরে অচৈতন্য। ইলা মিত্র তখন পাকিস্তানি পুলিশের গণ ধর্ষনের শিকার। তার মুখে কথা ফোটাতে তার যোনি পথে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে  গরম সেদ্ধ ডিম। তারপর থেকে তিনি আর কোনোদিন সুস্থ হননি। কিন্তু রেখে গেছেন বিপ্লবের এক ইস্তেহার। ভূমিহীন সাঁওতাল চাষীদের ওপর পুলিশ চালিয়েছে অকথ্য অত্যাচার। তবু তারা ইলা মিত্রকে চিনিয়ে দেয়নি। গ্রাম জ্বলেছে। মানুষ জ্বলছে। পুড়ছে নসুরুল্লাহর বাড়ি আর সেই আগুনের তাপ এসে লাগছে আলী আহমেদের গা ভেদ করে আমার গায়ে। কোথাও যেন সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে সেলিনা লিখছেন, আলী আহমেদ ভাবছেন “ মনে হয় এই ধ্বংসতো শেষ নয়, এটা তো শুরুও হতে পারে। ওরা তো বলে গেছে নতুন ঘর উঠিয়ে দেবে। ওর মাথার মধ্যে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে একটা স্লোগান, বাংলা ভাষার রাষ্ট্র চাই…। স্লোগান আলী আহমেদের করোটি মুখর করে তোলে। ও শুনতে পায় কালো খালার বুকফাটা আর্তনাদ, দেখতে পায় নসুরুল্লাহর নিঃশব্দ অশ্রুপাত, হাসনা বেগমের হাহাকার, তরীকুলের বিষণ্ণ মুখ। এই সবের মধ্যে দিয়ে করোটি প্রবলভাবে আলোকিত হয়ে উঠতে থাকে। বুঝতে পারে আলোরও ভাষা আছে, তা শব্দ করতে পারে, কথা বলে। এই ধ্বংস যজ্ঞের সামনে দাঁড়িয়ে আলী আহমেদের সামনে এখন তেমন এক আলোকিত ভুবন।”

 

ঠিক এমন ভাবেই কি সুনীলের পূর্ব পশ্চিমের প্রতাপ তাকিয়ে থাকতো না তার দেশের বাড়ি মালখানগরের দিকে? তাকেও কি সব কিছু উৎপাটিত করে চলে আসতো হলো না এপারে? তার সামনেও কি ঘটলো না দাঙ্গা? স্বাধীনতা। ভারত চিন যুদ্ধ। নকশাল আন্দোলন। একাত্তরের স্বাধীনতা? ওই মহাকাব্যিক উপন্যাসের পরতে পরতেও কি ছিল না মানুষের কি ভীষণ একটা ভুলের কি মারাত্মক পরিনাম? যে পরিনাম আছড়ে পড়ে দুহাজার উনিশেও। কবেকার দেশ ভাগের ঘা যেন উন্মুক্ত করে দেয় দেশেরই সরকার? তার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে পড়ে দেশ ভাগ না দেখা, স্বাধীনতার কথা ভুলতে বসা তরুণেরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা। তারা যেন আবার প্রত্ন খনন করে তুলে নিয়ে আসে সেই কবেকার হারিয়ে যাওয়া বিপ্লবী ভগত সিংকে। মাষ্টারদাকে। প্রীতিলতাকে। ‘সব ইয়াদ রাখা জায়গা’ ঝংকৃত হয়ে ওঠে দিল্লীর পথে। কলকাতায়। গোটা ভারতবর্ষে। একটা গোটা দেশকে যখন দুখন্ড করা হয়েছিল তখন তো জানতে চায়নি সরকার এইভাগে সাধারণের মত আছে কিনা। আজ তাহলে এতো রক্ত। এতো ঘেন্না। এতো হিংসার পরে কেন কোন পরিনামের জন্য পরিচয়পত্র দেখতে চায়। আর সেই পরিচয় কিসের?

এই ভূখন্ডের তিনটে দেশের অধিবাসীরা তো কোনদিন অন্নের সুরক্ষা পেল না। কাজের সুরক্ষা না। বাসস্থান, স্বাস্থ্য কিচ্ছু না। এদের একে অপরের দিকে শুধু লেলিয়ে দেওয়া হল যুদ্ধের রণসজ্জা পরিয়ে। যাদের কপালে জুটলো চরম লাঞ্ছনা। অপমান। আর মৌলবাদী গোষ্ঠীর কাছে মৃত্যুর হুমকি। এমনকি স্বাধীন সার্বভৌম ধর্মনিরপেক্ষ গনতান্ত্রিক ভারতের মানুষকেও দেখিয়ে রাখা হল হিটলারের কনসেনট্রেশান ক্যাম্পের মতো আসামের ডিটেনশান ক্যাম্প। হুমকি দেওয়া হলো রাজ্যে রাজ্যে হবে শাস্তি বিধানের আখড়া। কিন্তু কি শাস্তি সেটা? দেশভাগের যন্ত্রনা তো গোটা ভারতকে পেতে হয়নি। রাতারাতি হারিয়ে যায়নি তো তাদের অনেকের জমি বাড়ি সব কিছু। যখন খুব সুখে ঘুমোচ্ছিল অন্যান্যরা তখন ছুটে মরে বেড়িয়েছে পাঞ্জাবিদের মতো বাঙালীরাও। একবার দেশ ভাগ করে বাঙালীর মেরুদন্ড ভেঙে স্বস্তি হয়নি। এবার তাকে পুরতে চায় গ্যাস চেম্বারের মতো ঘরে। ভরে দিতে চায় ঘেটোয়। ভাতে মেরে একটা জাতকে হয়নি এবার তাদের পাতে মারার পরিকল্পনা। তবে তখনও ইতিহাস চুপ করে থাকেনি। হয়তো ঘটমান বর্তমানেও থাকবে না। গুম করে। আটকে। লোভ আর ভয় দেখিয়ে এক বা একাধিক মানুষের কন্ঠরোধ করা যায়। সহস্রের করা যায় না। মুছে ফেলা যায় না প্রতিরোধের দেওয়াল লিখন।

সামনে এই মুহূর্তে যে ছবিটা চেয়ে রয়েছে সেটা হয়তো ইটিন্ডের ঘাট। বাবার ইয়াশিকারই ছবি। বয়ে চলেছে ইচ্ছামতী। দাঁড়িয়ে আছে নৌকা গুলো খেয়া পারাপারের অপেক্ষায়। এখান থেকে বাবা তার মায়ের সাথে ওপারে দেখা করতে যেত। আগে যেটা ছিল একটা সংযোগ রেখা এখন সেটাই বিয়োগান্তক করুণ পরিনতি। খানিকটা এই ভূখন্ডের ইতিহাসের মতোই। কেউ হয়তো সত্যিই বলেছিলেন, “Partition was difficult to forget, but dangerous to remember”

ঋণ

বাবা তোমাকে…। আর পৃথিবীর সেই সমস্ত মানুষদের যাঁরা এখনো ছবিতে ধরে রাখছেন সময়কে…স্মৃতিকে…গল্পকে…।

 

কল্লোল লাহিড়ীঃ চলচ্চিত্র বিষয়ে অধ্যাপনা, তথ্যচিত্র নির্মাণ, ফিল্ম, টেলিভিশন ধারাবাহিক ও ওয়েব সিরিজের চিত্রনাট্য রচনা এবং তারই ফাঁকে নানা স্বাদের লেখালেখি– এসব নিয়েই কল্লোল লাহিড়ী। তাঁর প্রকাশিত দুটি উপন্যাস– ‘গোরা নকশাল’, ‘ইন্দুবালা ভাতের হোটেল’।

কল্লোল লাহিড়ী
+ posts

চলচ্চিত্র বিষয়ে অধ্যাপনা, তথ্যচিত্র নির্মাণ, ফিল্ম, টেলিভিশন ধারাবাহিক ও ওয়েব সিরিজের চিত্রনাট্য রচনা এবং তারই ফাঁকে নানা স্বাদের লেখালেখি– এসব নিয়েই কল্লোল লাহিড়ী। তাঁর প্রকাশিত দুটি উপন্যাস– ‘গোরা নকশাল’, ‘ইন্দুবালা ভাতের হোটেল’।

1 thought on “বাবার ইয়াশিকা ক্যামেরা । পর্ব ৩ । একটা উপন্যাসের শুরু । লিখছেন কল্লোল লাহিড়ী

  1. অসাধারণ!!!! অপূর্ব লেখনী !!!! যেন চলমান জীবনের গল্প!!! চলচ্চিত্রের জীবন্ত প্রতিলিপি!!!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed