“পাঠক তৈরি করতে হবে। একেবারে রুট লেভেল থেকে আমাদের ভাবতে হবে।”– চয়নিকা চক্রবর্তী, কর্ণধার, বইচিত্র প্রকাশনা

১. কবে প্রকাশনা শুরু হল ও কীভাবে?

উত্তরঃ এমন অনেক বই আছে যেগুলি পাঠক অবধি পৌঁছানো দরকার। শুধুমাত্র ও একমাত্র ব্যবসায়ীক দৃষ্টিভঙ্গি এক্ষেত্রে উদ্দেশ্য নয়। ভাবনায় ছিল, বইয়ের বিষয় এবং গঠন এমন হওয়া বাঞ্ছনীয়, যাতে পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং বইটা পড়ার পর পাঠক আবার কিনতে আসে বা অন্য পাঠককে উৎসাহিত করেন।

২. কী ধরণের বই আপনারা প্রকাশ করছেন?

উত্তরঃ সমান্তরাল ইতিহাস: তথ্যসমৃদ্ধ একই সঙ্গে সুখপাঠ্য। অনুবাদ সাহিত্য সমসাময়িক ফিকশন ও নন-ফিকশন, ভ্রমণ বৃত্তান্ত রম্য রচনা, শিশুসাহিত্য ও ছবি নিয়ে কাজ।

৩. আগামীর পরিকল্পনা।

উত্তরঃ আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ছবির বই প্রকাশের ইচ্ছা ও ই-বুক করা।

৪. আপনাদের প্রকাশিত প্রথম বই ও তার সলতে পাকানোর গল্প।

উত্তরঃ প্রথম প্রকাশিত বই-
‘নাম গুম যায়ে’
নেতাজি: সত্য মিথের মাঝখানে
:দীপঙ্কর মুখোপাধ্যায়

এই ব‌ইটি প্রকাশিত প্রথম হলেও,প্রথম বইয়ের পরিকল্পনা ছিল ‘আজব দেশে অ্যালিস’: অ্যালিসের দেড়’শ বছরে বাংলায় এর উপর কাজ করা। পরবর্তীকালে দেখা যায় এটিই একমাত্র বাংলায় কাজ দেড়’শ বছর উদযাপনে।

৫. প্রথম কলকাতা বইমেলার অভিজ্ঞতা।

উত্তরঃ কলকাতা বইমেলায় অংশগ্রহণ :
2016 ,2017,2018,2019
এছাড়া বেলুড় বইমেলা, লিলুয়া বইমেলা, স্বপ্ন ভোর-এর বইমেলা
প্রথম অভিজ্ঞতা সবকিছুরই একটু অন্যরকম হয়ে তো থেকেই যায়। কাঠামোগতভাবে সেবার আমরা তাঁবুতে পেয়েছিলাম, যা আর অন্য কোনো বারে হয়নি। বিক্রির দিক থেকেও আমরা হতাশ হইনি। প্রথম বেঞ্চমার্ক হিসেবে আমরা অনেকটা পথই হাঁটতে পেরেছিলাম। সম্বল ছিল মাত্র কয়েকটা বইয়ের টাইটেল।

৬. আপনাদের গুরুত্বপূর্ণ দশটি বইয়ের নাম বলতে বললে কোন দশটি আসবে?

উত্তরঃ আজব দেশে অ্যালিস: অনুবাদ: রাজশ্রী মুখোপাধ্যায় ও সুমিতা সামন্ত
– নাম গুম যায়ে: দীপঙ্কর মুখোপাধ্যায়
– আউতোবিয়োগ্রাফিয়া: অনুবাদ:অর্পিতা মুখোপাধ্যায়
– আত্মজীবনীর মতো:আকিরা: অনুবাদ,ঐত্রেয়ী সরকার
-টকস ইন চায়না: লিওনার্দ এলর্মাস্ট
-চা: ইতিবৃত্ত, অবাধ ও প্রস্তুত প্রণালী: শচীন্দ্রনাথ ঘোষ
সম্পাদনা: প্রসাদ রঞ্জন রায়
-চলচ্চিত্রে তৃতীয় দুনিয়া: ইরান: মানস ঘোষ
-তানভীর মোকাম্মেল: কিছু কাজকর্ম কিছু বেঁচে থাকা: শিলাদিত্য সেন
-মণির পাহাড় (রুশ সাহিত্য)
– দক্ষিণ আফ্রিকার Journal: চয়নিকা চক্রবর্তী

৭. বই পড়ার অভ্যাস বাড়ানোর জন্য প্রকাশকদের শুধু বিজ্ঞাপন ছাড়া বিকল্প পথ ভাবা জরুরি? সেটা কী হতে পারে? এই প্রেক্ষিতে প্রকাশকদের একসাথে কাজ করাটা কতটা জরুরি?

উত্তরঃ অবশ্যই।
– পাঠক তৈরি করতে হবে। যেমন ঠিক ফিল্ম অ্যাপ্রিসিয়েশন কোর্স হয়, ঠিক তেমনই। ‘বই ছুটি’ দু’বছর ধরে কাজ করছে, স্কুলে ও স্কুলের বাইরে, সোশ্যাল মিডিয়ায়। একেবারে রুট লেভেল থেকে আমাদের ভাবতে হবে। আমাদের কাজের ধারা যদি দেখেন, দেখবেন এই কাজ শুরুর প্রথম দিন থেকেই আমরা প্রত্যেকটি প্রকাশকের সহযোগিতা চেয়েছি এবং কয়েকজনের কাছ থেকে পেয়েওছি। যে যার নিজের মতো করে এই কাজে এগিয়ে আসতে হবে। বিশ্বাস করি, একা এই কাজ সম্ভব নয়। যেমন,একটি বই আরেকটি বইয়ের দিকে নিয়ে যায় তেমনই এক পাঠক সন্ধান দেয় আরেক পাঠকের। তাই পাঠকের সংখ্যা বৃদ্ধি করা করা একার পক্ষে কখন‌ই সম্ভব নয়।

+ posts

1 thought on ““পাঠক তৈরি করতে হবে। একেবারে রুট লেভেল থেকে আমাদের ভাবতে হবে।”– চয়নিকা চক্রবর্তী, কর্ণধার, বইচিত্র প্রকাশনা

  1. ঠিকই বলেছেন, পাঠক তৈরী করা খুব দরকার। তার জন্যে যা যা করা দরকার করা উচিত। পাঠক যদি নাই পড়েন বই ছাপিয়ে লাভ টা কি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed