সহজপাঠের শুরুর কথা–বলেছেন শুভাশিস মণ্ডল এবং কৃষ্ণা সেন, কর্ণধার, সহজপাঠ প্রকাশনা

১. কবে প্রকাশনা শুরু হল ও কীভাবে?

যারা ‘সহজপাঠ’ তৈরি করলেন, বই ও পত্রিকা করার অভিজ্ঞতা তাদের আগে থেকেই ছিল। লাভ-ক্ষতির কথা না ভেবে নতুন প্রকাশনায় ঝাঁপ দেওয়া— এটা হয়তো অনেকেই করেন। কিন্তু পাঠকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করা, ধারাবাহিক ভাবে বিষয়ের বিভিন্নতায় বইপ্রকাশ, বইয়ে ভুলত্রুটি যথাসম্ভব কম রাখা, রুচির ব্যাপারে কোনও আপোস না করা— এ ধরণের জেদ গোড়া থেকেই আমাদের মধ্যে কাজ করে এসেছে।

২. কী ধরণের বই আপনারা প্রকাশ করছেন?

একেবারে শুরু থেকেই ‘সহজপাঠ’-এর বইয়ে বিষয়ের বহুরূপতা পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সিরিয়াস বইয়ের প্রকাশই তাদের স্বভাবধর্ম। প্রধানত প্রবন্ধ, আলোচনা, সমীক্ষা, স্মৃতিকথার পাশাপাশি কবিতা, গল্প ও শিশুসাহিত্যের স্বল্প উপস্থিতিও নজরে অাসে। সাহিত্য, ললিতকলা, সিনেমা, পুরাণ, লোকসংস্কৃতি, ইতিহাস, দর্শন, প্রকৃতি, পরিবেশ, সমাজনীতি, রাজনীতি— মূলত এ-সবই সহজপাঠের বিষয়।

৩. আগামীর পরিকল্পনা।

পরিকল্পনা তো অনেক কিছুই ছিল। অন্তত গোটা পনেরো বই প্রকল্পিত। কিন্তু চলতি অতিমারীর ধাক্কা কদ্দিনে সামলে ওঠা যাবে, তার ওপর নির্ভর করছে সমস্ত কিছু। সুতরাং এই মুহূর্তে খুব একটা কিছু আশাবাদী হওয়া যাচ্ছে না।

৪. আপনাদের প্রকাশিত প্রথম বই ও তার সলতে পাকানোর গল্প।

‘সহজপাঠ’ প্রকাশিত প্রথম বইটি ‘শরৎচন্দ্রের পত্রাবলী’, সংকলক : ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। এটি ১৯৪৮ সালের একটি গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের পুনঃপ্রকাশ। আমাদের প্রকাশকাল ডিসেম্বর, ২০১০।

তখন সবে সহজপাঠ তৈরি হয়েছে। কয়েকটি সম্ভাব্য বইয়ের স্ক্রিপ্টও এসে গেছে। এরই মধ্যে দুষ্প্রাপ্য এই বইটি হাতে আসে। মোটেই বৃহদায়তন নয়। পত্রলেখক শরৎচন্দ্র— উদ্দিষ্টদের মধ্যে রয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রমথ চৌধুরী, কেদারনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাজী আবদুল ওদুদ, দিলীপকুমার রায় প্রমুখ। বাংলা সাহিত্যের এত স্মরণীয় মানুষ এই বইয়ে আছেন! ঠিক হল, গোড়াপত্তন হোক এতেই। কাজে লেগে পড়া গেল। টাইপ শেষ। আমাদের একজন প্রুফ দেখতে চলে গেল নিভৃতবাসে— শান্তিনিকেতন।

৫. প্রথম কলকাতা বইমেলার অভিজ্ঞতা।

কলকাতা বইমেলায় দশটা বছর আমরা পার করেছি। যাত্রা শুরুর দিনে কলকাতা বইমেলাই আমাদের প্রথম ‘ইভেন্ট’ ছিল বলা যায়। তবে বাইরের মেলায় আমাদের সরাসরি উপস্থিতি খুবই ক্ষীণ। যদিও মেদিনীপুর, লালবাগ, চাকদহ, গড়িয়া প্রভৃতি মেলায় আমরা অংশ নিয়েছি। তবে অনেক মেলাতেই কোনও-না-কোনও সহ-প্রকাশক আমাদের বই নিয়ে যান।

কলকাতা বইমেলায় প্রথমবারের অভিজ্ঞতা সত্যিই ভোলার নয়। অনেক বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে তখন সবে প্রকাশনা শুরু হয়েছে। আমাদের টাটকা পাঁচটি বই দিয়ে মেলা শুরু করেছিলাম। পরিচিত কিছু সহ-প্রকাশকদের বইও স্টলে ছিল। অনেক বন্ধু পাশে এসে দাঁড়ালেন। পাঠকরা সাগ্রহে সাড়া দিলেন। সব মিলিয়ে এক অন্য রোমাঞ্চ!

৬. আপনাদের গুরুত্বপূর্ণ দশটি বইয়ের নাম বলতে বললে কোন দশটি আসবে?

১) কবিতা সিংহ-র অগ্রন্থিত গদ্য
২) দুদ্দু সা’র পদাবলি— শক্তিনাথ ঝা (স.)
৩) সেই সব দিনরাত্রি : যুগান্তর এবং আরও কিছু— দেবব্রত মুখোপাধ্যায়
৪) ভিন দেশের সিনেমা— নির্মল ধর
৫) বাস্তবোত্তর চলচ্চিত্র এবং আরও কিছু— সুগত সিংহ
৬) শিল্পকথামালা— শুভেন্দু দাশগুপ্ত
৭) দলমার দামাল— অর্ক চৌধুরী
৮) কলকাতা কনকলতা— শান্তি লাহিড়ী
৯) হস্তীর কন্যা— ল্যাডলী মুখোপাধ্যায় (স.)
১০) হাওড়া : ইতিহাস-ঐতিহ্য— শিবেন্দু মান্না

+ posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may have missed